সুডোকু হচ্ছে সংখ্যাপ্রেমীদের খেলা। যারা পাজল সলভ করতে পছন্দ করে তাদের জন্য সুডোকু হচ্ছে এক ধরনের বুদ্ধিদীপ্ত গাণিতিক ধাঁধা। নিজের চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে, যুক্তি খাটিয়ে ও বুদ্ধি দিয়ে সমাধান করতে হয় সুডোকু। সুডোকু নিয়ে এখন বিশ্বকাপ হচ্ছে। আমাদের তরুণ মেধাবীদের উৎসাহিত করতে এবং সুডোকু বিশ্বকাপের পথ দেখাতে আমার এই ছোট্ট প্রচেষ্টা ‘সুডোকুর অ আ ক খ’। মাসিক গণিত ম্যাগাজিন ‘পাই জিরো টু ইনফিনিটি’তে ধারাবাহিকভাবে হরেক রকমের সুডোকু প্রকাশের পর পাঠক ও সুডোকুপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসেই আশি পৃষ্ঠার এই ছোট্ট বইয়ে পনেরটি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের সুডোকু তুলে ধরা হয়েছে। সাথে প্র্যাকটিস করার জন্য রয়েছে ৪৫টি সুডোকু।
যা যা থাকছে অধ্যায় ১ সুডোকুর ইতিহাস অধ্যায় ২ সুডোকু (ক্লাসিক) সমাধানের কৌশল অধ্যায় ৩ হরেক রকমের সুডোকু • বর্ণমালা সুডোকু • বাংলা সুডোকু • রোমান সুডোকু • বাইনারী সুডোকু • জোড় সুডোকু • বিজোড় সুডোকু • জোড়-বিজোড় সুডোকু • কর্ণ সুডোকু • কর্ণ-জোড় সুডোকু • কর্ণ-বিজোড় সুডোকু • অনিয়মিত সুডোকু • হাইপার সুডোকু • নকশা-কাটা সুডোকু • সামুরাই সুডোকু
বইটা প্রকাশ হবার আগেই পড়ে ফেলেছিলাম। জিরো টু ইনফিনিটি প্রকাশনা থেকে বের হয়েছে বইটি। বই প্রেসে দেবার আগে 'ছাপাখানার ভূত' তাড়ানোর জন্য একাধিক লোককে দিয়ে পড়িয়ে নেয়া হয়। আমি যেহেতু জিরো টু ইনফিনিটির সাথে যুক্ত তাই আগেই পড়ে ফেলার সুযোগ পেয়েছিলাম।
বইটা যখন পিডিএফ আঁকারে পড়ি তখন তেমন ওজনের মনে হয়নি। তবে প্রথম দিকটা, মানে সুডোকুর ইতিহাসটা খুবই দারুণ লিখেছেন। বইয়ের বেশীরভাগটাই শুধু সুডোকু দিয়ে ভরা, তাই অনেকটা দৈনিক পত্রিকায় ছাপা সুডোকুর মতো হয়ে যায়, বই হিসেবে ওজনদার মনে হয় না। কিন্তু বইটা যখন ছাপা হয়ে দুই মলাটে চলে আসে তখন হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করে খুবই ভাল লাগে। ছিমছাম সুন্দর ছোট একটা বই শুধুই সুডোকুর উপর লেখা। নানান কিসিমের সুডোকু। অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য দারুণ হবে।
বইয়ের রেটিং এক কম দিয়েছি কটা কারণে। প্রথমত একটা ভালো মানের গণিত সাময়িকীর সহ-সম্পাদকের কাছে ন্যূনতম যে মানের বই আশা করা উচিৎ সেটা ঐ মানের হয়নি। বইয়ের ভেতর কিছু বাহুল্য আছে। যেমন অনেকগুলো সুডোকুর মাঝে আছে জোড় ও বিজোড় সুডোকু। সেখানে জোড় সংখ্যা কী, বিজোড় সংখ্যা কী তা নিয়ে সেট গঠন পদ্ধতি (Builder Method) সহ আরও কিছু তাত্ত্বিক আলোচনা করা হয়েছে। যা পাঠের ঐ পরিস্থিতিতে বিষয়ের সাথে যায় না। অবশ্যই এই আলোচনাটা দারুণ, কিন্তু তা উপযুক্ত জায়গায় করা হয়নি। আর পাঠক মাত্রেরই অনুভূতি ১০০ পৃষ্ঠার একটা বইয়ে ৫/৬ টা প্রসঙ্গ বহির্ভূত কিছু থাকলে ঐ বইটাকে 'বোরিং' ক্যাটাগরিতে ফেলে দেয়া যায়। এই জিনিসগুলো কেটে দিলে বইটা আরও প্রাঞ্জল হতো। বই হতে হবে স্টেট-কাট, বাহুল্যতা বিবর্জিত।
বাহুল্যতা বিবর্জিত লেখা কেমন হবে তার একটা উজ্জ্বল উদাহরণ হচ্ছে বিজ্ঞান লেখক ইমতিয়াজ আহমেদ। বইটার মাঝে আলোচনা কিংবা সমালোচনা তেমন কিছুই করা যাবে না, বইটাতে লেখা কম। বই নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তো অন্তত লেখা থাকা লাগবে। বইটা নিয়ে আরো কিছু বলার ছিল। বইটা এখন হাতে নেই, মুখস্ত বলতে পারছি না।
সর্বোপরি স্বল্প মূল্যে একটা টপিকের উপর ছোট ছোট নাদুস নুদুস বই প্রকাশ করাটা খুবই দারুণ উদ্যোগ। ছোট একটা বইয়ে একটা মাত্র টপিক নিয়ে আলোচনা, এরকম সংস্কৃতির বইয়ের বহুল প্রসার লাভ করুক। লেখকের পরবর্তী বই আরও ভাল হবে এই আশা, এবং লেখক কাওসার ফারহাদের প্রতি অন্তর থেকে অনেক অনেক শুভকামনা।