‘সন্ধের পরে’ জীবন সায়াহ্নে পৌঁছনো সেই নারীর উপাখ্যান, হিমবাহের মতোই যাঁর জীবনের বেশির ভাগ অংশ ঢাকা ছিল নানান ভূমিকার তুষার জলে। চিরটাকাল তিনি ছিলেন কারও আদর-করার পুতুল, কারও রাঁধুনী, কারওবা আয়া। কিন্তু যেখানে তিনি এই খণ্ড পরিচয়ে চিহ্নিত নন, নন কারও বিধবা স্ত্রী, কারও মা কিংবা শাশুড়ী, অথবা নন কারও ঠাকুমা, যেখানে তিনি ফুটে উঠতে পারতেন তাঁর একান্ত নিজস্বতায়– ব্যক্তির আপন স্বরূপে, সেইখানটিতে কোনোদিন কারও ডাক পৌঁছয়নি। সে-ডাক একদিন পৌঁছলো। মৃদু, তবু ভয়ঙ্কর। দিন শেষে রযে-রাঙামুকুল সঙ্গোপনে হল মঞ্জরিত, নিঃসন্দেহে তা প্রেমেরই মঞ্জরী। কিন্তু, এই বয়সে, ঠিককেমন রূপ সেই প্রেমের? শান্ত, সংযত, ভিন্নগোত্রের এক অসাধারণ কাহিনীর মধ্য দিয়ে জীবনের উপান্তে পৌঁছে-যাওয়া দুজন নারী-পুরুষের দুর্লভ সম্পর্কের ভিত্তিতে এ-প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজেছেন বুদ্ধদেব গুহ, পাশাপাশি এঁকেছেন যুগের হাওয়ায় গা-ভাসানো আধুনিক জীবনযাত্রার আবর্ত কুটিল এক নিখুঁত ছবি।
Buddhadeb Guha (Bengali: বুদ্ধদেব গুহ) is a popular Bengali fiction writer. He studied at the well-known St Xavier's College of the University of Calcutta.
His novels and short stories are characterized by their dreamy abstractness and romantic appeal. His essays reveal the soul of a true wanderer providing some of the most beautiful renditions of travel in Bengal. His love for forests and nature provide the background for many of his novels.
A highly successful chartered accountant by profession, and an accomplished musician, Guha is very urbane in his lifestyle. He was one of the first to create characters representing easy-going, upper middle-class modern Bengali families, whom readers could identify with, and that gave him instant popularity.
He is the recipient of many awards including Ananda Puraskar, 1976; Shiromani Puraskar; and Sharat Puraskar.
The Library of Congress has over fifty titles by him. His most famous novel, according to many, is Madhukori. It is considered a milestone in Bengali literature. He is also the creator of Rijuda, an imaginary character who moves about in jungles with his sidekick Rudra. The jungles that he wrote about were mainly in Eastern India.
কোনরকম কোন এক্সপেক্টেশন ছাড়াই বইটা পড়তে নিয়েছিলাম, তাই বলেই কি না জানিনা। বইটা খুবই ভালো লেগেছে। প্রায় জীবন সায়হ্ণে পৌঁছে যাওয়া একজন নারীর জীবনে একটা অদ্ভুত রিয়েলাইজেশন যখন হয় যে, তিনি আসলে সারা জীবন অন্য মানুষের জন্যই জীবন যাপন করে এসেছেন। কখনোই নিজেকে নিয়ে ভাবেননি, নিজের যে একটা আলাদা সত্ত্বা আছে তা কখনো অনুভব করার সময়, সুযোগ পাননি। কখনো স্ত্রী কখনো মা বা কখনো ঠাকুরমা হয়েই জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। বুড়ো বয়সে এসে হঠাৎ করেই একজন মানুষের আগমনে জীবনে একটা আরামদায়ক উষ্ণতা টের পেতে শুরু করেন। শুরু করে প্রিয় গান গাওয়া, অর্গান বাজানো। গল্প করা বা চিঠি লেখা। ছেলে, বউ, নাতি কে নিয়ে গৎবাঁধা রুটিনড জীবনে আসে ঢেউ। সব মিলিয়ে বইটা যেমন খুব সুন্দর, তেমনি বেশ মন খারাপ করাও। পুরোটা বই এই নানান জায়গায় লেখকের নানান রকম কথা কয়েকটি চরিত্রকে দিয়ে যেভাবে বের করে আনা হয়েছে, তা আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। আমার নিজেরও হয়তো একটা রিএলাইজেশন আসলো, যে একটা বয়সে গিয়ে হয়তো মানুষ আফসোস করে যে কেন একটু ভালোভাবে বাঁচলাম না। তাই যতদিন পর্যন্ত সময় আছে এবং সুযোগ আছে ততদিন আরেকটু বেশি করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করাই যায়।
আজ থেকে ৪০-৪৫ বছর আগে মানে নব্বই দশকেরও আগে, মানুষ মনে করত দুনিয়েটা রসাতলে গেছে। জাল মানুষ, জাল জিনিসপত্র দিয়ে সব জায়গা ভর্তি হয়ে আছে। পৃথিবী ভর্তি নির্গুণদের জয় জয়কার। এর চেয়ে আমাদের সময়টা কত ভালো ছিল। এরপর যারা নব্বই দশক নিয়ে গর্ব করে তারা নব্বই দশককে অনেক গ্লোরিফাই করে কথাবার্তা বলে। তাদের মতে আজকের দিনের দুনিয়াটা রসাতলে গেছে তো গেছে, বাকি আর কিছুই নেই। তাদের পরে আমরা যখন বড় হবো, চল্লিশ-পঞ্চাশের কোঠায় যাব তখন আমাদের মুখ দিয়েও একই কথা বেরোবে। জেনারেশন গ্যাপ ব্যাপারটা প্রত্যেক জেনারেশনে কম-বেশি একই দেখা যাচ্ছে।
সন্ধের পরের গল্প মূলত পঞ্চাশোর্ধ একজন মানুষকে কেন্দ্র করে। স্বামী মরে যাওয়ার পর ছেলে ভৃগু, ছেলের বউ গিগি আর নাতী টুটুকে ঘিরেই নলিনীর জীবন। রান্নাঘর আর সংসার সামলানোর বাইরে কোনোদিকেই ফুরসত মেলে না তার। ছকে বাঁধা জীবনে হঠাৎ আগমন শুভাশিস বাবুর; গিগির মামা। নলিনীর একান্ত নিজস্বতা বলে কিছু একটা যে আছে সে দরজায় কড়া নাড়লেন শুভাশিস। এতো বসন্ত পেরিয়ে যখন বসন্ত আর নতুন কোনো অর্থ বহন করে না ঠিক সে অসময়ে কারো কড়ার শব্দ আমূলে নাড়িয়ে দিয়ে গেলো নলিনীকে।
জীবন সায়হ্নে এসে, সন্ধের পরে, যে প্রেমের কোনো তাৎপর্য নেই, পরিণতি কী সে প্রেমের?
বুদ্ধদেব গুহ'র লেখা প্রথম পড়লাম। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ে বইটা। প্রচ্ছদ সুন্দর, নান্দনিক। সেই ১৯৯৪ সালের মুদ্রণ। আগ্রহ হওয়ায় কিনে ফেলি। পড়ে ভালোই লাগলো। বুদ্ধদেব গুহ'র লেখা বেশ সুন্দর। অন্যান্য বইগুলোও পড়ার ইচ্ছা হচ্ছে এখন।
"ভালোবাসা এমনই জিনিষ যে, তাকে তো আগে থেকে বোঝা যায় না। তার উপরে আস্তরণ একটা থাকেই। যতই পাতলা হোক। সেই আস্তরণের ভিতরে লাল, হলুদ, খয়েরী শুকনো পাতার নিচের সাংঘাতিক সাপের মতোই নীরবে লুকিয়ে থাকে ভালোবাসা। সেই আস্তরণ কোথাও প্রীতির, কোথাও করুণার, কোথাও সহমর্মিতার অথবা সমবেদনারও। সেই আস্তরণ হঠাৎ সরে গেলেই ভালোবাসা চোখ ধাঁধিয়ে বুক কাঁপিয়ে ভূমিকম্প তোলে। শরীরও কম কিছু নয়।"
"আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমস্যা নিউক্লিয়ার বোমা নয়। তা হচ্ছে একে অন্যকে না বোঝার সমস্যা।"
"জীবনে অপচয় কিছুমাত্রই হয় না। সঞ্চয় অথবা অপচয় এই দুয়ের কোনটাই আমাদের নিজেদের হাতে নেই।"
"দীর্ঘ আয়ু সাধারণ মানুষের পক্ষে বড়ই অভিশাপের। জীবনের সঙ্গে যতদিন হাসিমুখে দেওয়া নেওয়ার সম্পর্ক রাখা যায়, তা রেখে সকাল সকাল চলে যাওয়াই ভালো। বিকেলের আকাশের কথা আগে থাকতে কেউই বলতে পারেন না।"
"ভালোবাসার প্রকাশ একেকজনের একেকরকম। সেই রকমটা বুঝতে বুঝতেই ফিরে যাবার সময় হয়ে যায়। একে অন্যকে বোঝা সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে না।"
"তীব্রভাবে যাকিছুই চাওয়া যায় তা পাওয়ার আনন্দের চেয়েও সেই পাওয়ার জন্য প্রতীক্ষার মধ্যে যে গভীর সংযম তার আনন্দ অনেকই বেশি।"
"জীবন যে ঘড়ির জন্যে নয়, জীবনের জন্যেই যে ঘড়ি, এ কথাটাই বা বোঝে বা উপলব্ধি করে ক'জন? জানলেও, সেই জানা নির্ভর জীবনকে পাওয়ার সাহসই বা আছে ক'জনের?"
"চোখ থাকা আর দেখা বোধহয় সত্যিই সমার্থক নয়। চোখে তো কত কিছুই পড়ে। তার কতটুকুই বা সত্যি সত্যি দেখে মানুষ।"
"অভ্যেস, দাম্পত্য, অপত্য এই সব বোধের অনেক প্রাচীন, উর্বর নরম মাটিতে যে সব ফুল ফোটে, ফুটে এসেছে হাজার হাজার বছর ধরে এই পৃথিবীতে তাদের হঠাৎ ঝড়ে আন্দোলিত করা যায়। নিশ্চয়ই। কিন্তু ঝরানো যায় না। সংসারের, অভ্যাসের শিকড় বড় গভীরে যায়।"
জেনারেশন গ্যাপ ব্যাপারটা প্রত্যেক জেনারেশনে কম-বেশি একই দেখা যাচ্ছে এবং এই বইয়ের মূল ফোকাস সেখানেই।
জীবন সায়হ্নে এসে নালিনীর জীবনের কাহিনী নিয়ে এই বই। রান্নাঘর আর সংসার সামলানোর বাইরে কোনোদিকেই ফুরসত মেলে না তার। ছকে বাঁধা জীবন তার কিন্তু এর মাঝে হঠাৎ আগমন ঘটে শুভাশিস বাবুর। যিনি নালিনীর জীবনে এসে আমূল এক পরিবর্তন এর আভাস দিয়ে যান।
Enjoyed reading this novel. Very soothing. Shows the contention arising from ever changing times/generations, family values, and flavors of human relations.