"সর্বহারা" নন্দিত একটি রচনা নজরুলের। তিনি সমাজের কালে অধ্যায় গুলো কলমের কালিতে লিপিবদ্ধ করেছেন মহাকাব্য করে। তার কবিতাতে প্রথম মাটি, শ্রমিক, চাষা, দারিদ্র্যের দুঃখ গীত হয়ে ফুটে উঠেছে। তাদের ব্যথায় তিনি কাতরান। তাদরে কথা বলতে কী যদি তাকে কারাবরণ করতে হয়, তিনি তাও মেনে নিতে চান। কৃষকরে রক্ত দিয়ে যারা হলি খেলে তাদের তিনি বলেন,
"আজ কোথায় বা সে গান গেল ভাই কোথায় সে কৃষাণ?
ও ভাই, মোদের রক্ত জল হয়ে আজ ভরতেছে বোতল।"
আজ চারদিকে হতে ধনিক বণিক শোষণকারী জাত
ও ভাই জোঁকের মতন শুষছে রক্ত, কাড়ছে থালার ভাত
মোর বুকে মরছে খোকা, নাইকো আমার হাত
আজ সতী মেয়ের বসন কেড়ে খেলছে খেলা খল।"
কবি কৃষকদের জাগতে বলেছেন তার প্রতি উচ্চারণ করা বাক্যে। তাদের শোণিত অস্ত্র ক্ষুধার জ্বালা মিটাবে। অত্যাচারীর বুকে শেঁল বেঁধে স্বাধীনতা কেঁড়র নিতে তিনি আহবান করেছেন। শ্রমিকদের জেগে উঠে সভ্যতা বাঁচাতে আহবান করেছেন। তাদের হাতে সুনির্মিত হবে আগামীর ইতিহাস। হাতুড়ি, শাবল দিয়ে গাঁথবে তারা আগামীর ভীত।
জেলেদের জীবনসংগ্রামের তিনি রং তুলির আছড়ে গড়েছে অমর কথা। তিনি বলেন,
"আজ সবার গায়ে লাগছে ব্যথা
সবাই আজি কইছে কথা রে
আমরা এমনি মরা, কইনে কিছু
মড়ার লাথি খেলে
এবার উঠব রে সব ঠেলে।"
এই সমাজ ছাত্রদের দিয়ে গড়া। তাই তিনি ছাত্রসমাজের বন্দনা করতে ভুলে যাননি। তাদের এগিয়ে আসার আহবান করেছেন সকল কাজে। তারা যেন ধূমকেতুর মতো লক্ষ্যে পৌঁছাবে সমাজ বিনিমার্ণে।
"সর্বহারা" বিদ্রোহী মূলক বই বলা চলে কাজী নজরুল ইসলামের। কিন্তু তিনি যে দার্শনিকতার কথা বলতে চেয়েছেন তা যেন তার লেখার মাঝে অনুপস্থিত। কোথায় যেনো বিদ্রোহের সুর তিনি কবিতা গুলোতে জাগাতে পারেন নি। চাষা-ভুখাদের নিয়ে যে গীত তিনি গাইতে চেয়েছেন তা সহজ না হয়ে কঠিন হয়ে উঠে। "বিদ্রোহী" কবিতার মাঝে যে জ্বালা আর ভেঙে গড়ার প্রত্যাশা তৈরী হয় এতে যেনো তা অদেখা।