শিকার এক পাগলা নেশা। জীবন বাজি রেখে ভয়ঙ্কর সব জানোয়ারের বিরুদ্ধে অ্যাডভেঞ্চার; আলো আর আঁধার, জীবন আর মৃত্যু – ব্যবধান শুধু মুহূর্তের। পাগলা নেশাই বটে। নীরব জঙ্গলে খেপা হাতির বৃংহতি, গাঢ় আঁধারে রক্ত হিম করা সিংহের গর্জন, লেগুনের মাঝখানে গুন্ডা জলহাতির বেপরোয়া আক্রমণ, অতল জলের নিচে অদৃশ্য কুমীরের ক্ষুধিত আহবান, আহত বুনো মোষের মরণপণ চার্জ, আর রক্তলোলুপ লেপার্ডের উদ্যত থাবা – এর কোনকিছুই দমাতে পারেনি অসম সাহসী গাই মালদুনকে। প্রতিটি কাহিনী সত্য ঘটনার নিখুঁত বর্ণনা।
বইটি গাই মালদুনের বহুল প্রশংসিত 'লেপার্ডস ইন দা নাইট' গ্রন্থ থেকে নেওয়া। কৃষি এবং শিকার সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে মালদুন আফ্রিকার নায়াসাল্যান্ডে অনেকদিন চাকুরি করেন। সেই সময়টাতে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আফ্রিকার বন্য-প্রাণী শিকারের রোমাঞ্চকর সব কাহিনী নিয়ে এই বই। বইয়ের সবগুলো গল্পই বাস্তব ঘটনা।
কৃষি এবং শিকার সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে মালদুন আফ্রিকার নায়াসাল্যান্ডে অনেকদিন চাকুরি করেন। সেই সময়টাতে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আফ্রিকার বন্য-প্রাণী শিকারের রোমাঞ্চকর সব কাহিনী নিয়ে এই বই। বইয়ের সবগুলো গল্পই বাস্তব কাহিনী থেকে নেওয়া।
'মৃত্যুনীল আতঙ্ক' আফ্রিকার তৎকালীন নিয়াসাল্যান্ড (বর্তমান মালাউই) এ কর্মরত গাই মালদুনের শিকার কাহিনীর বঙ্গানুবাদ। রূপান্তরে নাসির আহমেদ বেনু। মোট দশটি কাহিনী আছে বইটিতে। প্রতিটি কাহিনীই স্বতন্ত্র, কোনো না কোনো নতুন তথ্য আছে।
অতল জলের ড্রাগন আফ্রিকার জলাশয়ের আতঙ্ক কুমীরদের নিয়ে লেখা। জাল পেতে হাতুড়ি আর কুড়াল মেরে কুমীর শিকারের কাহিনী আছে, যেটা আগে জানা ছিলোনা। জলে নেমে যে সরাসরি হাতুড়ি কুড়াল মেরে মাথা ফাটিয়ে কুমীর শিকার করা হয় তা জানতাম না।
হাতি শিকারের একদিন সাধারণ হাতি শিকারের কাহিনী। অভয়ারণ্যের রাহুমুক্তিও হাতি শিকারের, তবে রিজার্ভ ফরেস্টে অবৈধ পোচিং নিয়ে। শেষটা তৃপ্তির। পোচার হেডম্যান (গ্রামপ্রধান) তার কৃতকর্মের ফলভোগ করে শেষমেশ হাতির দাঁতে ছিন্নভিন্ন মাংসের টুকরোয় পরিণত হয়ে।
ভয়ঙ্কর বুনোমোষ আফ্রিকান কেপ বাফেলোদের নিয়ে লেখা। এবং আর দশজন শিকারীর মতই (কারমাজো বেল, আত্তিলিও গত্তি, মারভিন স্মিথ) গাই মালদুন বুনোমহিষের হিংস্রতার কথা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর মতে - "বনে যেকোনো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যে কোন জন্তুর মুখোমুখি হতে আমার এতটুকু দ্বিধা নেই। কিন্তু মোষের বেলায় আমি একটু ভেবেচিন্তেই কাজ করব।"
কাহিনীটাতে একটি বুনো মহিষের কথা আছে যাকে মারতে নয় নয়টা বুলেট খরচ হয়েছিলো। সলিড বুলেটের বদলে সফট নোজ বুলেট ব্যবহার করে আরেকটুর জন্য মরতে বসেছিলেন মালদুন।
বেবুন দমনে বিশেষ অভিযান - এ আছে বেবুনদের পরিবারব্যবস্থা, আচার আচরণ, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ফসলের খেতে আক্রমণ, গ্রামবাসীদের সাথে সংঘর্ষ, জাল দিয়ে বেবুন শিকার সহ বিভিন্ন তথ্য। একইভাবে কালোঙ্গা লেগুনে অসুর বধ - ফসলের খেতে আক্রমণকারী দৈত্যাকার জলহস্তী বধের কাহিনী - তাও আবার হ্রদের মাঝে ক্যানুতে চড়ে। এ দুটি কাহিনী আমাদের আফ্রিকার কম আলোচিত প্রাণী - বেবুন ও হিপোদের বিষয়ে কিছু ইনসাইট দেয়।
অদৃশ্য সিংহের কবলে - গোয়ালে আক্রমণ করে গরুবাছুর ধরে নিয়ে যাওয়া একপাল সিংহ শিকারের কাহিনী। আফ্রিকায় সিংহের ভয়ে গ্রামকে গ্রাম শ্মশানের মত নীরব হয়ে যাওয়ার উদাহরণ আছে। লেখক নিজেই আঁধার রাতে অদৃশ্য একাধিক সিংহের পাল্লায় পড়ে মরতে বসেছিলেন।
চিতাবাঘ শিকারের দুটি কাহিনী - দুঃস্বপ্ন- যেখানে গাই মালদুনকে জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা দিয়েছিলো এক ছ ফুট দীর্ঘ ছোট চিতাবাঘ। এতটাই হিংস্র ও বেপরোয়া ছিল সেই বাঘটি - মালদুনের ভাষায় - 'তবে এখনোও সেই চিতাবাঘটিকে দেখে কোনো কোনো রাতে চমকে উঠি আমি - দুঃস্বপ্নে।"
টাইটুলার গল্প 'মৃত্যুনীল আতঙ্ক' বিশালাকৃতির (প্রায় নয় ফুট) এক গোখেকো চিতাবাঘ শিকারের কাহিনী।
বইয়ের শেষ কাহিনীটা দাঁতালো বন্য শূকর শিকার নিয়ে। ফসলের খেত ধ্বংস করতে বেবুনের পরই এর অবস্থান। বুনো মহিষকে হিংস্রতা আর চিতাবাঘকে ধূর্ততার মেডেল দেওয়ার পর বুনো শূকরকে বেপরোয়া সাহসিকতার মেডেল দিয়েছেন গাই মালদুন।
বইটি বর্তমানে খুবই দুর্লভ। ভালোই খোঁজাখুঁজি করে একটা লুজ বাঁধাইয়ের কপি পেলাম। রেটিং ৫/৫। কারণ সরল অনুবাদ ও কাহিনীগুলোর নতুনত্ব।