What do you think?


ইতিকথার পরের কথা
- GenresFiction
260 pages, Hardcover
First published January 1, 1952
About the author
Manik Bandopadhyay
135 books541 followersManik Bandopadhyay (Bengali: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bengali novelist and is considered one of the leading lights of modern Bangla fiction. During a short lifespan of forty-eight years, plagued simultaneously by illness and financial crisis, he produced 36 novels and 177 short-stories. His important works include Padma Nadir Majhi (The Boatman on The River Padma, 1936) and Putul Nacher Itikatha (The Puppet's Tale, 1936), Shahartali (The Suburbia, 1941) and Chatushkone (The Quadrilateral, 1948).
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 4 of 4 reviews
January 5, 2019
এই উপন্যাস, স্বাধীনতার (১৯৪৭) কিছু পরে, কলকাতা থেকে কিছু দূরের এক গ্রামের জীবনযাত্রার সংক্ষিপ্ত চালচিত্র। স্বাধীনতা অমূল্য, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু একথাও অস্বীকার করা যায় না যে ওতে রাতারাতি utopia-র জন্ম হওয়া দূরে থাক, মানুষের জীবনে বিশেষ কোন পরিবর্তন আসেনি, আসার কথাও ছিল না। উপন্যাসের কাহিনী এই রূঢ় বাস্তবকেই স্বরণ করিয়ে দেয়।
স্বল্পদৈর্ঘের হলেও, এই উপন্যাসে সমাবেশ ঘটেছে অজস্র চরিত্রের। আছেন জমিদার জগদীশ আর তাঁর সাঙ্গপাঙ্গ, যারা আইন না ভেঙে শোষণ করতে জানেন। আর সেই শোষণে দিশেহারা প্রজারা। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তারা একটা কিছু করতে চায়। কিন্তু কিছু ক্ষুদ্র, বিক্ষিপ্ত বিদ্রোহের বেশী কিছু করা হয়ে ওঠে না। এই প্রজাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বতন্ত্র হয়ে দেখা দেয়, যেমন হাতুড়ে ডাক্তার নন্দ; যেমন থানায় পুলিশের হাতে ধর্ষিতা হওয়া লক্ষ্মী, যেমন কৈলাস। কৈলাসের বিশেষত্ব বুঝতে হলে উপন্যাস পড়তে হবে। দাগ কাটে জমিদার-নন্দন শুভময়ের অস্তিত্ব সংকট আর তা থেকে মুক্তির আপ্রাণ প্রচেষ্টা। জমিদার বংশের নয়নের মণি হয়ে বেড়ে ওঠার কারণে দম্ভ, যা চাই তা কেড়ে নেওয়ার প্রবণতা তার মজ্জাগত। আবার উচ্চশিক্ষা লাভ করতে গিয়ে সে উদারপন্থী আধুনিকতার হাওয়া এড়াতে পারেনি। এই দুই বিপ্রতীপ ভাবধারার সংঘাতে সে বিপর্যস্ত। সে হয়ত সত্যই মানুষের জন্য কিছু করতে চায় কিন্তু খেটে খাওয়া মানুষ যে তাকে আপন করে নিতে পারে না। এই সব ঘটনাপ্রবাহের সমান্তরালে বয়ে চলে কিছু প্লেটোনিক ভালবাসার ফল্গুধারা। কৈলাস লক্ষ্মীর দ্বিধাজর্জরিত 'অসামাজিক' প্রেম, শুভ আর মায়ার অবুঝ মন কষাকষি।
স্বল্পদৈর্ঘের হলেও, এই উপন্যাসে সমাবেশ ঘটেছে অজস্র চরিত্রের। আছেন জমিদার জগদীশ আর তাঁর সাঙ্গপাঙ্গ, যারা আইন না ভেঙে শোষণ করতে জানেন। আর সেই শোষণে দিশেহারা প্রজারা। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তারা একটা কিছু করতে চায়। কিন্তু কিছু ক্ষুদ্র, বিক্ষিপ্ত বিদ্রোহের বেশী কিছু করা হয়ে ওঠে না। এই প্রজাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বতন্ত্র হয়ে দেখা দেয়, যেমন হাতুড়ে ডাক্তার নন্দ; যেমন থানায় পুলিশের হাতে ধর্ষিতা হওয়া লক্ষ্মী, যেমন কৈলাস। কৈলাসের বিশেষত্ব বুঝতে হলে উপন্যাস পড়তে হবে। দাগ কাটে জমিদার-নন্দন শুভময়ের অস্তিত্ব সংকট আর তা থেকে মুক্তির আপ্রাণ প্রচেষ্টা। জমিদার বংশের নয়নের মণি হয়ে বেড়ে ওঠার কারণে দম্ভ, যা চাই তা কেড়ে নেওয়ার প্রবণতা তার মজ্জাগত। আবার উচ্চশিক্ষা লাভ করতে গিয়ে সে উদারপন্থী আধুনিকতার হাওয়া এড়াতে পারেনি। এই দুই বিপ্রতীপ ভাবধারার সংঘাতে সে বিপর্যস্ত। সে হয়ত সত্যই মানুষের জন্য কিছু করতে চায় কিন্তু খেটে খাওয়া মানুষ যে তাকে আপন করে নিতে পারে না। এই সব ঘটনাপ্রবাহের সমান্তরালে বয়ে চলে কিছু প্লেটোনিক ভালবাসার ফল্গুধারা। কৈলাস লক্ষ্মীর দ্বিধাজর্জরিত 'অসামাজিক' প্রেম, শুভ আর মায়ার অবুঝ মন কষাকষি।
April 29, 2025
মানিক বন্দোপাধ্যায় বিবর্তমান সময়পটে আর গ্রাম-শহরের বহুকৌণিক জগতে চলাচল করে বিশ্লেষনমূলক বাস্তববাদী উপন্যাস ধারার সার্থক প্রবর্তনা ঘটান। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, জীবনাভিজ্ঞতা, ফ্রয়েড-মার্কসের মিথষ্ক্রিয়ায় অন্তর্গঠিত হয়েছে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিল্পীসত্তা। একজন ঔপন্যাসিক হিসেবে তিনি মানুষের মনের বিচিত্র রুপ-রুপান্তরকে যেমন বিশ্লেষন করেছেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে, তেমনি খুঁজেছেন মানুষের সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্কের জটিলতা, সন্ধান করেছেন ইতিহাস সময়ের ঘাত-প্রতিঘাতে মানবস্বভাবের বদলে যাওয়া স্বরুপকে।
'ইতিকথার পরের কথা' উপন্যাসটির আঙ্গিক বা ফর্ম খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে লিখিত না হলেও এর গঠনকৌশলে সমাজবাস্তবতা, সময়ের চারিত্র্য ও বহু মানবচরিত্রের উপস্থিতি জটিল কাঠামোর রুপ নিয়েছে। তবে তা গল্পরসকে ব্যাহত করে নয়, একটি গ্রামাঞ্চলের গল্পই তিনি বলতে চেয়েছেন যেখানে স্বাধীনতা পাওয়ার পর মানুষগুলোর কর্মতৎপরতায় শুভ ও অশুভের দ্বান্দ্বিকতা রয়েছে, রয়েছে নরনারীর বিচিত্র সম্পর্কজাল ও নিম্নবিত্তের লড়াকু নারীচরিত্রের সংগ্রামী ও শক্তিশালী ভূমিকা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানিকের উপন্যাসে সমাজের নিম্নবিত্ত ও নির্বিত্ত শ্রেনীর প্রতিনিধিত্ব করে নারীরা। তাঁর উপন্যাসের প্লট সর্বদাই থাকে টানটান ও তর্ক-বিতর্কের অন্তর্বুনন। এই উপন্যাসটিও তার ব্যতিক্রম নয়।
উপন্যাস গড়ে উঠে ব্যক্তি ও মানুষের সময়ধারান্বিত সম্পর্কসূত্র ও রুপান্তরের কথামালা নিয়ে, যেখানে প্রতিবিম্বিত হয় দেশকাল ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন স্তরের উঠানামা, পরস্পরের অন্তর্লীন জটিলতা। 'ইতিকথার পরের কথা'য় এই অন্তর্লীন জটিলতা সময়ের হাত ধরে আবর্তিত হয়েছে লেখকের মার্কসীয় বিশ্ববীক্ষার দীপ হাতে নিয়ে। তিনি '৪৭ এর দেশভাগের অব্যবহিত পরের স্বাধীন ভারতের মানুষগুলোর দেশগঠনের স্বপ্নকল্পনা ও কর্মকান্ডের প্রেক্ষাপটে উন্মোচন করেন শ্রেনীচরিত্র, মানবমনের জটিলতা ও রাজনৈতিক ভ্রষ্টাচার ইত্যাদি ইতিনেচিবাচক দিকগুলোকে।
'ইতিকথার পরের কথা' উপন্যাসটির আঙ্গিক বা ফর্ম খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে লিখিত না হলেও এর গঠনকৌশলে সমাজবাস্তবতা, সময়ের চারিত্র্য ও বহু মানবচরিত্রের উপস্থিতি জটিল কাঠামোর রুপ নিয়েছে। তবে তা গল্পরসকে ব্যাহত করে নয়, একটি গ্রামাঞ্চলের গল্পই তিনি বলতে চেয়েছেন যেখানে স্বাধীনতা পাওয়ার পর মানুষগুলোর কর্মতৎপরতায় শুভ ও অশুভের দ্বান্দ্বিকতা রয়েছে, রয়েছে নরনারীর বিচিত্র সম্পর্কজাল ও নিম্নবিত্তের লড়াকু নারীচরিত্রের সংগ্রামী ও শক্তিশালী ভূমিকা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানিকের উপন্যাসে সমাজের নিম্নবিত্ত ও নির্বিত্ত শ্রেনীর প্রতিনিধিত্ব করে নারীরা। তাঁর উপন্যাসের প্লট সর্বদাই থাকে টানটান ও তর্ক-বিতর্কের অন্তর্বুনন। এই উপন্যাসটিও তার ব্যতিক্রম নয়।
উপন্যাস গড়ে উঠে ব্যক্তি ও মানুষের সময়ধারান্বিত সম্পর্কসূত্র ও রুপান্তরের কথামালা নিয়ে, যেখানে প্রতিবিম্বিত হয় দেশকাল ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন স্তরের উঠানামা, পরস্পরের অন্তর্লীন জটিলতা। 'ইতিকথার পরের কথা'য় এই অন্তর্লীন জটিলতা সময়ের হাত ধরে আবর্তিত হয়েছে লেখকের মার্কসীয় বিশ্ববীক্ষার দীপ হাতে নিয়ে। তিনি '৪৭ এর দেশভাগের অব্যবহিত পরের স্বাধীন ভারতের মানুষগুলোর দেশগঠনের স্বপ্নকল্পনা ও কর্মকান্ডের প্রেক্ষাপটে উন্মোচন করেন শ্রেনীচরিত্র, মানবমনের জটিলতা ও রাজনৈতিক ভ্রষ্টাচার ইত্যাদি ইতিনেচিবাচক দিকগুলোকে।
December 28, 2022
গল্পের ছোট পরিসরে শুরু থেকেই আগমন হয়েছে নানান চরিত্রের, এসব চরিত্রের বেশিরভাগের মধ্যকার পারস্পারিক সম্পর্ক ও দুরবস্থা এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে তাদের আলাদা করে এখন আর মনে পড়ছে না। শুরুতে এই ব্যপারটায় বিরক্ত হলেও এখন বুঝতে পারছি যে, আমাদের দেশের গরিব মানুষেরা একে অপরের চেয়ে তেমন আলাদা নয়, একে অপরের সাথে তাদের মিলই যেন অনেক বেশি।
গল্পে আলাদাভাবে মনে রাখার মত কিছু চরিত্র আছে। জমিদারপুত্র শুভময়, ধর্ষিতা লক্ষ্মী, গ্রাম্য ডাক্তার নন্দ এবং অতিসাধারন চাকুরে কৈলাস। এদের সবার লক্ষ্য সাধারন মানুষের মুক্তি, অর্থনৈতিক মুক্তি।
শুভ বিলেত থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে এসে তার অর্জিত জ্ঞান দিয়ে নিজের ও দেশের বঞ্চিত মানুষের জন্য কিছু করার উপায় খুঁজতে খুঁজতে দিশেহারা। সে চায় তার গ্রামের সাধারন মানুষজনের কাছে যেতে, তাদেরকে আরও ভালভাবে বুঝতে। গ্রামের মানুষজনকে এই বুঝতে যাওয়ায় লক্ষ্মী হয় শুভর সহায়ক। কিন্তু একটা ব্যপার শুভ বারবার ভুলে যায় যে, নেতৃত্ব দিতে হলে মাথা ঠিক থাকা চাই, সুস্থ জীবন চাই। জীবনে যদি আনন্দ না থাকে, অবসর না থাকে, পেটের চিন্তাতেই দিন কেটে যায়- তাহলে নতুন কিছু সৃষ্টি কি মানুষ করতে পারে?
কৈলাস ও লক্ষ্মীর মিথস্ক্রিয়াও চোখে পড়ার মত। এত তীব্র কামনা নিয়েও শুধুমাত্র নিজেদের আদর্শ ঠিক রাখার জন্য তাদের ত্যাগ প্রশংসনীয়।
৩.৮
গল্পে আলাদাভাবে মনে রাখার মত কিছু চরিত্র আছে। জমিদারপুত্র শুভময়, ধর্ষিতা লক্ষ্মী, গ্রাম্য ডাক্তার নন্দ এবং অতিসাধারন চাকুরে কৈলাস। এদের সবার লক্ষ্য সাধারন মানুষের মুক্তি, অর্থনৈতিক মুক্তি।
শুভ বিলেত থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে এসে তার অর্জিত জ্ঞান দিয়ে নিজের ও দেশের বঞ্চিত মানুষের জন্য কিছু করার উপায় খুঁজতে খুঁজতে দিশেহারা। সে চায় তার গ্রামের সাধারন মানুষজনের কাছে যেতে, তাদেরকে আরও ভালভাবে বুঝতে। গ্রামের মানুষজনকে এই বুঝতে যাওয়ায় লক্ষ্মী হয় শুভর সহায়ক। কিন্তু একটা ব্যপার শুভ বারবার ভুলে যায় যে, নেতৃত্ব দিতে হলে মাথা ঠিক থাকা চাই, সুস্থ জীবন চাই। জীবনে যদি আনন্দ না থাকে, অবসর না থাকে, পেটের চিন্তাতেই দিন কেটে যায়- তাহলে নতুন কিছু সৃষ্টি কি মানুষ করতে পারে?
কৈলাস ও লক্ষ্মীর মিথস্ক্রিয়াও চোখে পড়ার মত। এত তীব্র কামনা নিয়েও শুধুমাত্র নিজেদের আদর্শ ঠিক রাখার জন্য তাদের ত্যাগ প্রশংসনীয়।
৩.৮
April 9, 2020
বিলেত থেকে সম্প্রতি বৈজ্ঞানিক হয়ে অনেক উচ্চাশা নিয়ে শুভ দেশে ফিরে আসে । ঠিক করে তার পড়াশোনা কাজে লাগিয়ে এমন কিছু একটা করবে যা দেশের মানুষের জীবন পাল্টে দিবে । শুরু টা করবে তাদের গ্রাম থেকেই । কিন্তু চাই বললেই তো সব করা যায় না।
শুভর বাবা জগদীশ গ্রামের একজন অত্যাচারী জমিদার হিসেবে কম খ্যাতি অর্জন করেন নি । সুতরাং শুভর এই বদলে দিবো , সব ঠিক করে দিবো টাইপ কথাবার্তায় গ্রামের মানুষের মন ভিজে না। পিতার অপকর্মের ফল শুভকেও ভোগ করতে হয় । শুভর জীবন সম্পর্কে ধারনা আস্তেধীরে পাল্টে যেতে থাকে ।
দিশেহারা হয়ে গ্রামের পরিচিত মানুষদের কাছে সে পরামর্শের জন্য যায় । তাদের পরামর্শে শুভর আদৌ উপকার হয় কি!
ইতিকথার পরের কথাটা সত্যি সত্যিই কেউ জানে কি ?
শুভর বাবা জগদীশ গ্রামের একজন অত্যাচারী জমিদার হিসেবে কম খ্যাতি অর্জন করেন নি । সুতরাং শুভর এই বদলে দিবো , সব ঠিক করে দিবো টাইপ কথাবার্তায় গ্রামের মানুষের মন ভিজে না। পিতার অপকর্মের ফল শুভকেও ভোগ করতে হয় । শুভর জীবন সম্পর্কে ধারনা আস্তেধীরে পাল্টে যেতে থাকে ।
দিশেহারা হয়ে গ্রামের পরিচিত মানুষদের কাছে সে পরামর্শের জন্য যায় । তাদের পরামর্শে শুভর আদৌ উপকার হয় কি!
ইতিকথার পরের কথাটা সত্যি সত্যিই কেউ জানে কি ?
Displaying 1 - 4 of 4 reviews





