বাবা বলতেন-গানটাকে পেশা করিস না, লোকে সম্মান করবে না। তার চেয়ে দিন চলে যাওয়ার মতো কোনো একটা চাকরি করবি আর নিজে গান গাইবি।
অাশ্চর্য মানুষ! নিজে নিজে ঘরে ব’সে গান গাইবে ছেলে, সে-জন্য ছোটোবেলা থেকে ছেলেকে একটানা গান শেখালেন। কত সংগীত শিক্ষকের কাছে পাঠালেন। নিজে রবীন্দ্র সংগীত, হিমাংশু দত্তের গান শেখালেন। খেয়াল শেখার ব্যবস্থা করে দিলেন। আর কত ধরনের গান। কৈশোর ও যৌবন চলে গেলো গান শিখতে শিখতে। অথচ বাবা ব’লে বসলেন-গানটাকে পেশা করিস না, লোকে সম্মান করবে না।
বিচিত্রবিধ কিছু প্রবন্ধের সমন্বয়ে এই বই।আত্মকথা, প্রথম দিকের কিছু অংশে।মিডিয়ার মিথ্যাচার,বিতর্ক নিয়ে সুমনের উষ্মা প্রকাশ পেয়েছে ওখানে। হেমন্ত মুখোপাধায় ও পণ্ডিত অবিশংকরের দুটো সাক্ষাৎকার ,লেনার্ড কোহেন,রবিঠাকুর নিয়ে সুমনের নিজের কথা আছে বইতে। একটা মজার অংশ উল্লেখ করি, সুমনের পিতার অনুরোধে হেমন্ত মুখোপাধায় এলেন তাদের বাড়িতে। আত্মীয় স্বজন নিয়ে গানের জলসা চলছে।ছেলেবুড়ো সবাই উপস্থিত। "বাবার অনুরোধে হেমন্তবাবু রবীন্দ্রনাথের একটি গান শোনালেন।আমার জ্যাঠতুতো দাদার ছেলেটি তখন নেহাতই শিশু।বাবা কিজ্ঞেস করলেন,--'কিরে, এই লোকটাকে চিনিস?' ছোট্ট সঞ্জয় মাথা দুলিয়ে বলল --'হ্যাঁ, হেমন্ত।' সক্কলের হাসি।হেমন্তবাবুরও । বাবা গম্ভীর মুখে রসিকতা করে বললেন--'দেখেছ হেমন্ত,এজন্যই গানের লাইনে থাকিনি।নাতিরাও নাম ধ'রে ডাকে।"