একটি ভাষার মানুষের মুখ নিঃসৃত শব্দই সে ভাষার শব্দসম্ভারের একটি অংশ। মানুষ প্রাত্যহিক কথনে যেমন স্বাভাবিক শব্দ, শব্দগুচ্ছ ও বাক্য ব্যবহার করে তেমনি ক্রোধ-ক্ষোভ প্রতিপক্ষের উপর রাগ প্রকাশের জন্য শব্দকে বিকৃত করে ভিন্ন ধরনের শব্দ-বাক্য ব্যবহার করে থাকে। সে শব্দকে অশ্লীল শব্দ, ইতর শব্দ, গালি, বদকথা, বদবুলি, অকথ্যভাষা, জনবুলি, অপভাষা ইত্যাদি নানা অভিধায় ভাষাবিদগণ অভিহিত করেছেন। তবে শব্দগুলো বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। অর্থাৎ যে শব্দটি slang হিসাবে বেশি পরিচতি তার একটি যথার্থ প্রতিশব্দের আজও সন্ধান মেলেনি। এখানে লক্ষ করলে গালি শব্দটির সাথে অন্যান্য শব্দের পার্থক্য সহজেই অনুমেয় ।
আমার আজকাল একটা বাতিক হইসে, কফির গুড়া চিবায় চিবায় খাই। এর ফলে ঠিকঠাক ঘুম লাগে না, সময়ে অসময়ে এক দুই ঘণ্টা করে ঘুমাই আরকি। তো, কাল ভোর পাঁচটার দিকেও ঘুম লাগতেসিলো না। কিছু করার না পেয়ে কালেকশনের পিডিএফ চ্যাক করা শুরু করে দেই, সেইখানে এই বইয়ের নামে চোখ আটকায় যায়। পড়া শুরু করতে দেরি করি নাই। র্যান্ডমলি একেক পেইজ বাইর করসি, আর কিছু গালি টালি দেখসি। মানসম্মত অভিধান।
আমি মূলত 'আ' আর 'চ' বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া গালিগুলাই এ টু জেড পড়সি, একটাও বাদ দেই নাই( কারণ এই আদ্যক্ষরযুক্ত গালিগুলাই বেশি জনপ্রিয়)। পড়ে অবাক হইসি, প্রচণ্ড রকমের অবাক। দুইটা কারণ আছে এর পিছনে— ১. অনেক গালি, যেইগুলা অহরহ দেই...সেসব আসলে অতি নোংরা নারীবাচক বিশেষণ। এতোটাও নোংরামো থাকবে ভাবি নাই। ২. ভাষার মাতলামো। শুধুমাত্র হ্রস্ব-ই-কারকেই যদি হ্রস্ব-উ-কার দিয়ে রিপ্লেস করা হয়, তাইলেই পুরা শব্দের অর্থ ইউ টার্ন নিয়ে নেয়। গালির ক্ষেত্রে এইটা বেশি হয় ম্যাবি। আমি পড়ার সময়ে প্রথমে লাগসিলো,অভিধান সংকলক ভুলভাল লিখসেন। এইরকম অর্থ চেইঞ্জ হয় কি করে! পরে বাক্যে প্রয়োগ করে দেখি, সত্যিই এই জিনিসই হয়। ভাষা আমরা এতো ব্যবহার করি, কিন্তু এটা নিয়া ভাবি-টাবি কম। ভাবতে গেলে দারুণ এক খেলা খেলা যায়।
এই গালি অভিধান দারুণ এক প্রয়াস, গালিও ভাষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভদ্রতা ঝেড়ে ফেলার সুযোগে(বন্ধু-বান্ধব বা সমবয়সীদের সামনে) আমাদের সবার মুখ থেকেই কম বেশি গালি বাইর হয়। এইগুলা সংরক্ষণ করে রাখা জরুরি ছিল এবং ভবিষ্যতে এই গালি অভিধানকে ভিত্তি করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাও নিশ্চয়ই হবে। এসব গালি সময়কে তোলে ধরে(যেমন আমি দুইশোর মতো গালি পড়ে এইটাই বুঝলাম, বাঙালি পুরুষ খালি নারীকেই হেনস্থা করতে জানে। এইজন্য ম্যাক্সিমাম গালিই খালি মা আর স্ত্রীকেই অপদস্থ করার জন্যই বাংলা ভাষায় নিজের স্থান করে নিছে)।
এইটা সাজেস্ট করার মতো কোনো বই না৷ কিন্তু কোনো গালির অর্থ জানার জন্য আগ্রহী হইলে এই বই খোলে চ্যাক কইরেন আরকি।
বেশ কিছুদিন আগেই পড়েছিলাম।যদিও পড়ায় সফলতা নাই।ডিকশনারী পড়ার থেকে ১০টা GRE word শেখা অনেক অনেক সোজা।
ভাল কথা বেশির ভাগ গালি কেন স্ত্রীবাচক হয়? গালাগালি জিনিসটা আমার খুবই অপছন্দের । মোটামুটি সব সময় চেষ্টা করি মুখ থেকে যেন গালি বের না হয় (জীবনে তাও ৪-৫বার গালি দিয়ে ফেলেছি :( ) কিন্তু গালাগালি যতই অপছন্দ হোক মানুষজন আমাকে গালি দিতে খুবই পছন্দ করে। গালি খাবার কারন হল ধর্মীয় বিশ্বাস। মজার বিষয় হল বাংলা ভাষায় আমার জানাশোনা গালি সবই স্ত্রীবাচক। এইটার কারন টা কি পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা?
ইংরেজি ভাষার 'Slang' নিয়ে প্রায় ৩০০-৩৫০ বছর আগে থেকেই অভিধান প্রকাশ হয়ে আসছে । ইংরেজি গালির বিশ্লেষণ নিয়ে আস্ত একটি ওয়েবসাইটই আছে 'Urban Dictionary' নামে । অভ্র বসু লিখিত 'বাংলা স্ল্যাং সমীক্ষা ও অভিধান' ছাড়া এটিই সম্ভবত বাংলা স্ল্যাং নিয়ে লেখা একমাত্র বই । বইটি যে উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা তাতে লেখক/সংকলক পুরোপুরি সফল ।