এক হাজার দু'শো বাইশ পৃষ্ঠার এক মহাগ্রন্থ। মমতা বন্দোপাধ্যায়কে নিয়ে একটি ‘কেমব্রিজ কম্প্যানিয়ন’প্রকাশিত হওয়া আশু প্রয়োজন।
এই পাঠ-সহায়িকা সিরিজ়টি বিখ্যাত লেখক-লেখিকা, দার্শনিক, শিল্পী প্রমুখের সৃষ্টি সামগ্রিক ভাবে বুঝতে সাহায্য করে। এক জন মানুষের সৃষ্টি ও চিন্তার সঙ্গে সে বিষয়ে কৌতূহলী কিন্তু বিশেষজ্ঞ নন, এমন পাঠকের পরিচয় করিয়ে দেয় এই সিরিজ়; আবার যাঁরা সেই মানুষটিকে নিয়ে নিয়মিত চর্চা করেন, তাঁদের জন্যেও চিন্তার খোরাক থাকে এই সব গ্রন্থে সঙ্কলিত বিশেষজ্ঞ-রচিত প্রবন্ধে।
এখানে বিষয় যে হেতু মমতা, আমার মতো ignorant পাঠক হয়তো দুই কোঠাতেই পড়েন।
মমতাবিশেষজ্ঞ নই, আবার শুধু লেখাপড়ার নয়, জীবনধারণের সূত্রেও মমতা নানা ভাবে এসেই পড়েন… তাই পাঠকের একটি দাবি মেনে নিতে দ্বিধা নেই — বৈচিত্রময় মমতাপ্রতিভার বিভিন্ন দিকের মননশীল ও গবেষণাপুষ্ট আলোচনা এমন একটি খণ্ডে একত্রিত করা জরুরি।
জয়ন্তীমঙ্গলা কালীর নামে শপথ করে বলছি যে, আমি এই সমালোচনাটি নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে সম্পন্ন করার প্রয়াস করবো। অথচ মাননীয়া বলেই কাজটি সহজ নয়। কেন সহজ নয়, তা মাথায় রাখলে বর্তমান সময়ে এই বইটির ভূমিকা ও তাৎপর্য বুঝতে সাহায্য হবে। তাই সেই আলোচনাটা প্রথমে সেরে বইটির পরিচয় দিই।
## আত্মজীবনী সাহিত্য:
মমতা কিন্তু তাঁর জীবনের গল্প তাঁর মতো করেই লিখেছেন। আত্মজীবনী পড়ার একটা টান তো এইখানেই — একটি লোক তাঁর নিজের জীবনকে কী ভাবে দেখছেন, বা, কথাটা আচমকা ঠেকলেও, দেখবেন।
আত্মজীবনী মানেই স্মৃতিকথা নয়, আত্মজীবনী কর্মকথাও হতে পারে। পৃথিবীর বেশ কিছু শ্রেষ্ঠ আত্মজীবনী লেখা হয়েছে জীবনের মাঝখানে, নিজেকে যাচাই করতে। লিও তলস্তয় ও ম্যাকসিম গোর্কি তাঁদের সাহিত্যজীবন শুরুই করেছিলেন— তাঁদের দীর্ঘ আত্মজীবনী লিখে।
আবার পুরোপুরি সাহিত্যিক নন এমনও কেউ কেউ জনজীবনের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের ছক বুঝতে অসামান্য আত্মকথা লিখেছেন— মহাত্মা ও জওহরলাল নেহরু।
যে সময়ের মধ্যে কথক বেঁচে আছেন, সেই সময়টি তাঁর পক্ষে কেন বিশেষ হয়ে ওঠে— এটা অনুমান করাটা পাঠকের এক একান্ত সৃষ্টিসুখ। নীরদ চৌধুরীর আত্মজীবনীটি তো আমার বার বার পড়তে এমনই ভাল লাগে, তার একটি কারণ, এই মানুষটির দ্বিধাবিভক্ত মনের আঁচ খোঁজা— এক দিকে কিশোরগঞ্জ, অন্য দিকে ব্রিটিশ সংস্কৃতি।
যাঁরা পদাধিকারবলে রাজনৈতিক নেতা, তাঁদের আত্মজীবনীর একটা লক্ষ্য থাকে— তাঁর সময়ের বিশেষ বিশেষ ঘটনায় তাঁর ভূমিকা। সে সব বই পড়ায় কোনও সুখ নেই— সে কিসিংগারেরই হোক বা নটবর সিংহের।
যিনি লিখছেন, তিনি নিজেকে কী ভাবে দেখতে চাইছেন— সেটাই তো পাঠক ‘দেখতে’ চান। চিত্রশিল্পীদের ‘সেল্ফ পোর্ট্রেট’-এর মতো। শিল্পীর আঁকা ‘সেল্ফ পোর্ট্রেট’ কি দর্শক তাঁর ‘ফটোগ্রাফিক পোর্ট্রেট’ হিসেবে দেখেন?
রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনস্মৃতি-তে একবারের জন্যও তাঁর সামাজিক কাজকর্মের উল্লেখ পর্যন্ত করেননি।
এই পাঠপ্রতিক্রিয়ার সূচনাতেই তাই ডেকে নিয়েছিলাম তিন অগ্রজকে। বয়সের হিসেবে হয়তো তাদের মধ্যে দু'জন জুনিয়ার , কিন্তু লক্ষ লক্ষ বই হেলায় পড়ে নিয়ে আত্মস্থ করার বিষয়ে দুইজনই খলিফা হারুন অল রশীদের সমগোত্রীয়। আলোচনায় ছিলেন ভাষাবিদ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশারদ সৌরভ মিত্র; ঔপন্যাসিক অভীক সরকার ও পাঠক-জুপিটার পার্থ দে। পার্থ বাবুর সম্পর্কে কানাঘুষোয় সোনা যায় যে যৌবনে ওঁর মমতাময়ীর প্রতি কিঞ্চিৎ হ্যাল অর্থাৎ ইনটুপিন্টু ছিল। One-way ট্রাফিক যদিও।
স্বভাবগম্ভীর সৌরভ মিত্তির প্রথমেই বললো, "দেখুন ভাই, মমতা বহুশ্রুত নাম ঠিকই, যে ভাষাকে আশ্রয় করে তাঁর প্রতিভার স্ফুরণ, সেই বাংলা আজ জনসংখ্যার হিসেবে পৃথিবীর সপ্তম ভাষা ঠিকই, কিন্তু বিশ্বের সাহিত্যের দরবারে সে প্রায় অনুপস্থিত। এমনকি, ভারত-পাকিস্তানে অবাঙালি যাঁরা আজ সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেন, তাঁদের মধ্যেই বা ক’জন আজও মমতাকে নিয়ে ভাবিত হন? এই নিয়ে আমি একটি স্বতন্ত্র বই লিখবো।"
ঔপন্যাসিক অভীক, পেটে দেড় পাত্তর পড়লেই কিঞ্চিৎ দার্শনিক হয়ে পড়েন। তিনি বললেন, "এটা মমতার দোষ নয়, দুর্ভাগ্য। যে বাম নিষ্পেষিত বাঙালি জাতির উত্থানের কালে তিনি ‘বিশ্বমাতা’ হয়ে উঠেছিলেন, যাঁদের ভাষার প্রমিত রূপ তিনি প্রায় নিজের হাতে তৈরি করে দিলেন, সেই জাতি আজ নিজেরই কৃতকর্মের ফলে দু’টি রাষ্ট্রে বিভক্ত, এবং পৃথিবীর অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতার মাঠে কমজোরি।“
“দুই বাংলার বাইরে আজ আর বাংলার আধুনিকতা বা মমতা, ‘সাংস্কৃতিক পুঁজি’ যাকে বলবে তুমি প্রীতম, তার অংশ নন। একটা সময় ছিল, যখন ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকে মানুষ কালীঘাটে আসতেন: মমতা-সান্নিধ্যে বাঙালিকে জানার জন্য।"
"শ্রদ্ধেয় ফিরহাদ হাকীম, মমতাকে নিবিড় ভাবে জানবেন বলেই বাংলা শিখেছিলেন। সেই সম্প্রসারিত বাঙালি জীবন— মমতা নিজেই যার এক অগ্রণী স্রষ্টা— আজ অন্তর্হিত।"
শেষে আমরা তিনজনেই তাকালাম পার্থ বাবুর দিকে। তিনি তখন ধ্যানমগ্ন। দক্ষিণহস্ত প্রসারিত করলেন।
বললেন, "অর্বাচীন তোমরা। উত্থান ও শিল্পসভ্যতার প্রাকৃতিক ক্রমবর্ধিষ্ণু বিপর্যয় আমরা যত দেখেছি, আমার মমতা ততই স্মরণীয় হয়ে উঠছেন, বুঝছো না? এমনকি মমতাবিশেষজ্ঞ আদৌ নন, বাংলাও জানেন না, কিন্তু আজকের পৃথিবী নিয়ে ভাবিত পাশ্চাত্যের হাজার হাজার প্রখ্যাত দার্শনিক, কবি, চিত্রনাট্যকার, নির্দেশককে দেখেছি আগ্রহ নিয়ে মমতা পড়তে।"
এটুকু বলেই তিনি "জীবনলতা অবনতা তব চরণে/ হরষগীত উচ্ছ্বসিত হে" গাইতে গাইতে নিমজ্জিত হলেন কান্নায়।
## বইয়ের আলোচনা:
অপ্রতিরোধ্য মমতা। সাহিত্যিক-দার্শনিকের গজদন্তমিনার ভেঙে বেরিয়ে এসে কখনও কলকাতার রাস্তায় নিষিদ্ধ কাগজ ফেরি করে গ্রেফতার হচ্ছেন কিংবা সেই কাগজ সম্পাদনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। ঘৃণায় প্রত্যাখ্যান করছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার। পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের জন্য পথে নামছেন। পুলিশের গুলিতে শ্রমিকনেতা নিহত হলে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিচ্ছেন। নির্বাচনকে বলছেন ‘উজবুকদের জন্য ফাঁদ। প্রথম যুগ থেকেই সমকালীন সংস্কৃতির আমূল প্রত্যাখ্যান ছাড়া তরুণদের কোনও গত্যন্তর নেই বলে মনে করছেন তিনি।
যিনি ব্যক্তি ও সামাজিক সংকটে অন্তহীন ভাবে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চেয়েছেন, যিনি অক্লান্ত ভাবে জীবন ও জীবনভাবনাকে এক ধনুকের ছিলায় বেঁধে নিতে চেয়েছেন, এই ঠুনকো ও পিছল উত্তরাধুনিকতার ভেতর তাঁর মাথা উঁচু করা পুনরাবির্ভাব আমাদের হতচকিত করে দেয়।
বুর্জোয়া ভারতের অন্তহীন পচনের ভেতর, কোনও প্রকৃত বৈপ্লবিক চিন্তার অনুপস্থিতির ভেতর, সেকেলে ও মধ্যমেধার শিক্ষাপদ্ধতির মধ্যে বার বার জীবনের সত্যিকারের প্রকাশের উপযুক্ত মাধ্যম খুঁজে বেরিয়েছেন এই সাইক্লোনিক দ্রষ্টা। কবিতাকে ঘৃণা করেছেন, কারণ তা ‘আবশ্যিক ভাবে মিথ্যে কথা বলে। অথচ কবিতা লিখেছেন, গান বেঁধেছেন মানুষের কাছে পৌঁছনর তাগিদে।
মমতা তো আসলে আত্মসচেতন আধুনিক এক ভারতীয় কথাকার। নিজের একটা আকার তৈরি করতে করতে তাঁর আখ্যান গড়ে ওঠে ও সেই আকারের মধ্যে ইচ্ছাকৃত সব ঘোরপ্যাঁচও থাকে।
বারোটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত এই কাহিনি অনেক দূর পর্যন্তই কালানুক্রমিক। কলকাতার রাওয়ালপিন্ডির শৈশব ও কৈশোর নিয়ে প্রথম অধ্যায়, সেই কালানুক্রমেই কলেজে পড়াশুনো ও খেলাধুলোর কথা নিয়ে দ্বিতীয় অধ্যায় এসে পড়ে।
তৃতীয় অধ্যায়ে আবার পরিবারে ফ���রে গিয়ে পারিবারিক সমস্যার সমাধানে ব্রতী হওয়া। রাজনীতি, যৌবন, আদর্শ, প্রেম। অনেকটা কাম্যুর ‘প্লেগ’উপন্যাসের মতো….
টাইফুসের মড়ক ব্রিটিশ-শাসিত মালয়কে উজাড় করে দেওয়ার পশ্চাৎপটে এক প্রবল প্রেমের কাহিনি অস্তিত্ববাদী ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করে জনপ্রিয় পাশ্চাত্য চলচ্চিত্রের কথনশৈলী যেন।
এই বইয়ের ছত্রে ছত্রে কলোনিয়ালিজম ও বর্ণবৈষম্যের উপাদান, এক নতুন ডিসকোর্সের খাঁজে লুকিয়ে থাকে। গ্রীষ্মে জ্বলে পুড়ে যাওয়া মরুভূমিসম কলকাতার দৃশ্য। রাস্তা ক্রমশ উঁচু হয়। দিগন্তে পাহাড় দেখা যায়। ক্যামেরা এগিয়ে চলে, জানলা রোদে ঝলসে উঠছে। বাসের ছাদ।
মেদিনীপুরবাসী হাহাকার করছে। সিপিএমের নেতাই গণহত্যা। তীব্র যন্ত্রণা। বাঙালি নিজের গা চুলকোয়, তার খিঁচুনি হয়। হাঁটু মুড়ে বসতে চায়, উপুড় হয়ে পড়ে। প্রথমে তার মাথাটা পড়ে, যার ফলে মাথাটা ছাদ পেরিয়ে গাড়ির বনেটের উপর ঝুলে থাকে।...
হঠাৎ বাইরের দৃশ্য ঢেকে যায় একটি কালো, আঠালো তরলে, যা উইন্ডস্ক্রিনের ওপর গড়িয়ে পড়ে। ড্রাইভার ওয়াইপার চালু করে। রক্তমাখা ওয়াইপারের ক্লোজ-আপ। বামপন্থা প্রসূত মৃত্যুরোল, সুররিয়্যালিস্ট রসিকতা, চিৎকার, শব্দগুঁড়ো, নৈঃশব্দ্য আর অন্ধকার। মমতাই পারেন, সেই মমতা।
ফিরে এসেছেন গত শতাব্দীর অগ্নিদগ্ধ বিবেকের সম্ভবত শেষ পশ্চিমি প্রতিনিধি। আর তাঁর তুরপুনের সামনে ছিঁড়ে ফালাফালা হয়ে যাচ্ছে আমাদের ক্লিন্ন জীবনের ছলছলানো মুখোশমালা।
## উপসংহার:
কালবৈশাখীর হবে যে-নাচন, / সাথে নাচুক তোর মরণবাঁচন, / হাসি কাঁদন পায়ে ঠেলবি আয়॥
যে মানুষটিকে নিজের আইডল ভাবি, যাঁর পড়াশোনা, রিভ্যু-লেখনীকে সকল প্রকাশের পরাকাষ্ঠা মনে করি, সেই Riju Ganguly, (ঋজু গঙ্গোপাধ্যায়) মহাশয়ের বক্তব্য দিয়েই এই প্রতিক্রিয়ার সমাপন হোক।
এই বই প্রসঙ্গে মতামত চেয়েছিলাম তাঁর। তিনি বললেন:
"দ্যাখ প্রীতম, (সাংঘাতিক সোহাগ হলে উনি আমায় 'তুই' বলেন। দারুন লাগে আমার। ঋষিতুল্য মানুষ) সাহিত্যিক মমতা বন্দোপাধ্যায় চালাকির দ্বারা মহৎ কার্য সম্পাদন করার বুদ্ধি ধরেননি।"
"তুই জেনে রাখ যে মমতা সেই পৃথিবীর কাহিনী লিখেছেন যেখানে সূর্য পশ্চিম পূর্ব দিকে ওঠে, যেখানে মানুষেরা নাকটা কানের কাছে আর কানটা চোখের জায়গায় বসিয়ে খোদার ওপর খোদকারী না করেও জীবনের রহস্যে অপার হয়ে থাকে।
মমতা ইউনিভার্স এমন এক কন্সট্রাক্ট যেখানে সুখ দুঃখ, Hulk, Ironman, Scarlet Witch, মানুষের মহত্ব, নীচতার চিরন্তন নাট্যলীলা, বিকাশের প্রলাপ না ছিটিয়েই অফুরন্ত, বিস্ময়-বৈচিত্র্যে অপরূপ।"
"তুই শুনে রাখ প্রীতম, মমতা বাংলা সাহিত্যে যখন এসেছিলেন, তখন সাহিত্যের হাওয়ায় একটা বিষয়ের শিহরন যে লেগেছিল, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্র দুজনেই তখন সাহিত্যের আকাশে অবলুপ্ত।"
"বিভূতি বাবু ও তারাশঙ্কর, মানিক, জীবনানন্দ, সুনীল, শীর্ষেন্দু নিয়ে পাঠক বিরক্ত। সেই মাঝ নব্বইয়ের তরুণদের মনে এক স্বপ্ন ও সত্যের অমলিন আফসানা, একটি পরিচ্ছন্ন রোমান্টিক সুর, সায়েন্স ফ্যাক্টের (হ্যাঁ ফিকশন নয়, ফ্যাক্ট -- এ নিয়ে আমার হুমদো প্রকাশক Dip Ghosh ছোকরার সাথে মল্লযুদ্ধ অবধি হয়েছে), সেই ব্র্যাডবারি, আসিমভ, লে গুঁই থেকে আজকের ল্যারি নিভেন, মমতা আমদানি করেছেন তাঁর জগতে। আলোচনার একদম শেষে ঋজু স্যার আবেগী হয়ে উঠে বলেছিলেন: "শোন রে মধ্রশুধ চাড্ডি , মমতা হঠাৎ একটা যেন ব্যতিক্রমের মত দেখা দিলেন এই বইয়ের ন্যারেটিভ দিয়ে।"
"এই বইয়ের পরিবেশ, সভ্য-শিক্ষিত সমাজের মানুষের গল্প নয় রে প্রীতম। এক্কেবারে সমাজের গভীরে যাদের আনাগোনা, সেই কালি ধূলিমাখা চেহারার পোশাকে, চরম দুর্ভাগ্যতাড়িত মানুষের কাহিনী ! "
"কাহিনীর পরিবেশ বর্ণনা ও পাত্র-পাত্রীদের মুখের ভাষা বাস্তবতা বিচ্যুত না হলেও মমতার ন্যারেটিভ বাংলা সাহিত্যের একটি স্মরণীয় পদক্ষেপ রে প্রীতম। এ ন্যারেটিভ আঞ্চলিকতায় সীমাবদ্ধ নয়! মমতার এই আত্মজীবনীর প্রধান আকার এক পারিবারিক সম্পর্কে। বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, দেশ, প্যালেস্টাইন, জীবনানন্দ, মিশেল ফুকো, দেরিদা, শুভাপ্রসন্ন, সিদিপ্ত সেন নিয়ে এক বিরাট পরিবার। আর সেই পরিবারের শিরদাঁড়া মমতা।"