Mihir Sengupta is an Indian writer of Bengali origin, best known for his 2005 autobiography Bishaad Brikkho (Tree of Sorrow). It describes the 1947 partition as seen by the author, who was uprooted from his native Barisal in present-day Bangladesh and ended up in Calcutta as a refugee. Bishaad Brikkho is regarded as an important literary document of the 1947 partition and won the Ananda Puroshkar literary prize. His current residence is in the West Bengal state of India.
'মুখে প্রচন্ড ধূমায়িত পাইপ। মোটাকাটের ক্যাপস্টান টোব্যাকো, সুবতুল দেহ, মাথাভরতি চুল, উচ্চতা গড়পড়তা বাঙালির মাত্রা ছাড়িয়ে। মুখমন্ডলে অস্পষ্ট মঙ্গোলীয় আভাস। প্রশ্ন করলে বলে, জাউড়া হালায়। কেউ স্বীকার যায় না। তমো কই বাঙালি হালায় ব্যাকটিই জাউড়া। এই দেখ না তোমার নাক রোমান, আমার মঙ্গোল আর যে বন্ধু তোমার আমার মিলন ঘটাইয়া দিছিল ১৯৮৮-তে আর এখন মহম্মদপুরে বইয়া বাত্তেলা মারতে আছেন বাঙালি শুদ্ধাচারের, তাঁর নাক, চক্ষু, গাত্রবর্ণ, অঙ্গবিন্যাস শাস্ত্রমতে আর্য। কথার প্রত্যুত্তরে জবাব দেবার ছিল না কিছুই। কিন্তু কী সরল সহজ সত্য উদ্ঘাটন।'
"উনি যখন ছিলেন আহা, সবাই ছিল ঘরজুড়ে ছাত্রছাত্রী বন্ধুরা সব আড্ডা দিতেন একসুরে। দিলদরিয়ার দরাজ বুকে সবার ছিল সমান ঠাই। ডাক্তার বা মন্ত্রি সেপাই, সবাই ছিল ওনার ভাই। আর কিছু লোক থাকত দূরে, নাকটা বেটে তালগাছে; উনি যখন গেলেন চলে, এলেন তারা বেশ কাছে বকবকিয়ে বললো তারা উনি ছিলেন মহাত্মা অন্তরঙ্গ বন্ধু আমার কি তোমাদের বলবতা মানুষ হাটে, মানুষ মাঠে, মানুষ কাটে মানুষকে- মানুষ এবং চতুষ্পদে খুব কিছু নেই তফাৎ যে উনি ছিলেন নিপাট মানুষ হুশ ও মানের সন্ধিতে বক্তারা সব কীটপতঙ্গ, জীবন কাটে ফন্দীতে।"
মিহির সেনগুপ্তের 'অন্তরঙ্গ ইলিয়াস' অসাধারণ এক স্মৃতিকথা। মিহিরের চোখে আমাদের ইলিয়াসের রসিক রূপ দেখে হাসতে হাসতে বইটা প্রায় শেষ, তখন শুরু হলো ভয়াবহ বিষণ্ণ এক পরিস্থিতি। ইলিয়াসের ক্যান্সার চিকিৎসার সেই দিনগুলি সহ্য করার মত নয়, মনকে দুমড়ে মুচড়ে দেয়। ইলিয়াসের সাথে মিহির সেনগুপ্তের পরিচয়, অভিজিৎ সেনকে নিয়ে ইলিয়াসের আগ্রহ, তাদের আড্ডাবাজি, একসাথে মদ খেয়ে টাল হওয়া, স্বৈরাচার এরশাদ হটানোর আন্দোলন দেখা, ইলিয়াসের পুরান ঢাকাইয়া কথা; সব মিলিয়ে অনবদ্য এক অভিজ্ঞতা। অসুস্থ ইলিয়াস মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এপিক উপন্যাস লেখা ইচ্ছার কথা এবং সেই প্লট নিয়ে গল্প করেছেন। এই সময়ে তাকে আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে আনন্দ পুরস্কার দেয়া হয়, ইলিয়াস সেটা কোনো মতেই নিতে রাজি হন না। কিন্তু মিহির,অভিজিৎ অনেক জোর করে শেষমেশ রাজি করান।
রহু চন্ডালের অভিজিৎ সেনের সাথে ইলিয়াসের প্রথমবার দেখা হবার ঘটনায় মিহির লেখেন, 'তারিখটা বোধহয় ১৫ই এপ্রিল। প্রায় ২৫/২৬ দিন হয়ে গেছে ইলিয়াসের পা কাটা হয়েছে। বার দুয়েক ‘কেমো’ নেওয়া হয়েছে। দুপুরের একটু পর পর, ঠিক বিকেল নয়, অভিজিৎকে নিয়ে ওর পার্ক সার্কাসের অবস্থানে গেলাম। এই প্রথম সাক্ষাৎ দুজনের। আমি বললাম,আজ কাকে নিয়ে এসেছি দেখো। তোমার চণ্ডালকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছি। তুমি একদম উত্তেজিত হবে না। যেমন ঠেসান দিয়ে আছ, তেমনি থাকবে। অভিজিৎ এসে ওর খাটের উপরই বসল। দুজনে দুজনের হাত ধরাধরি করে মুখোমুখি। আমার কাজ শেষ। সমবয়স্ক দুজন গভীর মানুষ, মুগ্ধ চোখে, একে অন্যের দিকে তাকিয়ে আছে। মুখে কোনো শব্দ নেই। কেউ কাউকে কুশলবার্তা পর্যন্ত জিজ্ঞেস করতে পারছেনা। ঐ সময়টুকুকে আমার অনন্ত মুহূর্ত বলে মনে হচ্ছিল। আমি লেখক সাহিত্যিক নই, আমার অনুভূতি, বোধ, বিচার সবকিছুই খুব মোটা দাগের, আর দশজন সাধারণের মত। তথাপি ওদের তৎকালিক নিঃশব্দ আনন্দের নিস্তরঙ্গ স্রোত যেন আমাকেও স্পর্শ করছিল। তা এত স্নিগ্ধ এবং ক্লান্তিহর যে মানুষ জীবনে খুব বেশিবার তাতে অবগাহন করতে পারে না এবং অসম্ভব জেনেও কিছু কিছু অনুভবকে শাশ্বত করে রাখতে চায় তারপর ওরা দুজনে কথা বলতে শুরু করলে আমার মনে হোলো যেন নিস্তরঙ্গ স্রোতে ঢেউ উঠল এবং বুঝলাম আরও বহু বহুদিন আগেই ওদের সাক্ষাৎ হওয়া জরুরি ছিল। '
এই বইতে লেখক ইলিয়াসকে পাওয়া যাবে না, তবে ব্যক্তি ইলিয়াসকে নিয়ে আগ্রহীদের জন্য উপযুক্ত এ্কটি বই। ইলিয়াসের জীবনের শেষ পাঁচ-ছয় বছরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিহিরের স্মৃতির লেখনীতে ব্যক্তি ইলিয়াসের আপোষহীনতা, আড্ডাপ্রিয়তা, সরলতা এসব ব্যাপার উঠে এসেছে।
ইলিয়াসের একজন অসম্ভব গুণমুগদ্ধ হওয়ায় লেখনীর দুর্বলতা সত্ত্বেও বইটি বেশ ভালো লেগে গেল।