নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক... যুবতীর অস্বাভাবিক মৃত্যু
দু-দুটি টানটান রহস্য উপন্যাস
বয়েস মাত্র কুড়ি। অপরূপ সুন্দরী। বিউটি কনটেস্টে প্রথম হওয়া হল না বিচারকদের জালিয়াতিতে। কিন্তু একজন বিচারক সঞ্জিত ভুলতে পারে না গার্গীকে। অন্যদিকে সেই কনটেস্টে টাকার জোর খাটিয়ে যে প্রথম হয়েছিল, সেই নম্রতার স্বামী বিজিতও আটকে পড়ে গার্গীর রূপমোহে।... তারপর? একের-পর-এক অস্বাভাবিক মৃত্যু। প্রথমে সঞ্জিতের স্ত্রী, তারপর সঞ্জিত, তারপর বিজিত।...কেন, কার জন্য?...
অরুণিমার অগাধ টাকা, আমেরিকা প্রবাসী। স্বামী সুব্রত সেল্ফ মেড ম্যান। জীবনে এল মিহির। মিহিরের সঙ্গে এক গোপন শারীরিক সম্পর্কে মেতে উঠল অরুণিমা।...মিহির ফিরে আসে ভারতে। পিছু-পিছু আসে অরুণিমাও। সে মিহিরকে ছাড়তে পারছে না। মিহির বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ওই দিন দুপুরে নিজের বাড়িতে একাকিনী অরুণিমা খুন হয়।...খুনি কে?
রহস্যভেদী শবর দাশগুপ্তের নাম শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের পাঠককুলের তেমন অজানা নয়। শুধুমাত্র অনুমান, মনস্তত্ব বিচারের উপর যুক্তিবুদ্ধিগুলিকে সাজিয়ে রহস্যকাহিনিতে শীর্ষেন্দু এনেছেন এক অভিনব স্বাদ। ‘রূপ’ ও ‘মারীচ’ দুটি ছোট উপন্যাসকে একত্রিত করে রূপ-মারীচ রহস্য তাই হয়ে উঠেছে এক রূদ্ধশ্বাস বই।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
▪️ রূপ খুবই ছোট্ট বই। শুধু দুজনের কথোপকথনের মাধ্যমে খুন এবং খুনের পেছনের পুরো ঘটনা উঠে আসে।
▪️ মারীচ এক্সট্রা মেরিটাল রিলেশন নিয়েই মূলত জটটা। অরুণিমার খুনের ঘটনায় তদন্তে নামে শবর। জানা যায়, ওই নারী একজনের জন্য ইমোশনালি ইমব্যালেন্সড হয়ে পড়েন–এমনকি লোভও দেখান। কিন্তু মিহির তাতে একটুও সায় না দিয়ে বেরিয়ে আসে। আর ঘটনাচক্রে সেদিনই মারা পড়ে অরুণিমা। খুনিকে বের করতেই ব্যক্তি-নির্দিষ্টের জেরা সাজিয়ে এই গল্প।
'রূপ' দৈর্ঘ্যে ছোট। শবর এবং গার্গী মিত্রের মাঝে একটি কথোপকথনকে ঘিরে এগোয় গল্প। কয়েকটি রহস্যময় মৃত্যু ঘিরে সন্দেহ দানা বাঁধে, সবকটি ক্ষেত্রেই যোগসূত্র হয়ে দাঁড়ায়, একটি বছরখানেক পুরনো বিতর্কিত বিউটি প্যাজেন্ট। লেখক 'রূপ' এবং 'মায়া' নিয়ে বেশ কিছু তাত্ত্বিক প্রশ্ন ওঠালেও, স্বল্পদৈর্ঘ্য গল্পটির উপভোগ্যতায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গল্পে শবর থেকেও নেই। মন ভরলো না একেবারেই।
'মারীচ' গল্পের ছকটা বেশ চেনা। মূল চরিত্রের সঙ্গে 'প্রজাপতির মৃত্যু ও পুনর্জন্ম'-এর ভজন আচার্যের হালকা মিল খুজে পেলাম যেন। মোরালিটি এবং পরকিয়ার মাঝে স্পষ্ট সাসপেক্টকে ছাড়িয়ে শবরের সমান্তরাল ইনভেস্টিগেশন।
রহস্য গল্প হিসেবে ছিমছাম। আসামির পরিচয় বিরক্তিকর না হলেও, চিত্তাকর্ষক নয়। শবর আছে বটে, তবে লেখক তার অন্য দিকগুলো দেখাতে অক্ষম। বেশ কিছু উপন্যাসেই মনে হচ্ছে শবরের আরো কিছু দিক খতিয়ে দেখতে পারলে মন্দ হয় না। সাথে একটা রোমান্সের আভাসও দিলেন লেখক তবে সেটার মাঝে আখেরে গভীর কিছুই পাওয়া গেল না।
রূপ এবং মারীচ নামের দুটি রহস্য গল্প (বড়ো) রয়েছে এই সুমুদ্রিত বইটিতে। "এবার শবর"-এর পর থেকে আমরা গোয়েন্দা শবর দাশগুপ্তকে সহজেই কল্পনা করে নিতে পারি, তবে প্রথম গল্পটায় সেটা সহজে হয়েছে (যেহেতু গোটা গল্পটাই দাঁড়িয়ে রয়েছে শবরের সঙ্গে এক প্রধান চরিত্রের কথোপকথনের ওপরে)। দ্বিতীয় গল্পে শবরের পাশাপাশি অনেক কথা এবং অপ্রয়োজনীয় জায়গা খেয়েছে অন্য দুই চরিত্র, তাই সেটা আমার অতো ভালোও লাগেনি।
সামগ্রিক ভাবে এটাই বলার যে কলকাতার বুকে ঘটে যাওয়া (প্রাপ্তবয়স্ক) অপরাধ-এর মীমাংসা করার জন্যে আমরা এখন গোয়েন্দা শবর দাশগুপ্তের দিকেই তাকিয়ে থাকতে শুরু করেছি। তাহলে লেখক এবার আমাদের একটা সত্যিকারের বড়ো উপন্যাস কবে দেবেন, যাতে অপরাধের জটিল জাল ছিন্ন হবে শবরের কাজে ও কথায়?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর "শবর দাশগুপ্ত" চরিত্রর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হল, বাংলাসাহিত্যে গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পীদের সৃষ্টির পাশাপাশি যারা এই শতাব্দীতে সাহিত্যের এই রহস্য-রোমাঞ্চ শাখায় নতুন করে রক্তসঞ্চার করেছেন তার মধ্যে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় অন্যতম এক কথায় কাহিনিটি অনেক রোমাঞ্চকর।
রুপ খুব ছোট গল্প । দেখানোর তেমন কোন মুন্সিয়ানা ছিল না । রেটিং - ২/৫ মারীচ গল্পটা বেশ ভালো । তবে আহামরি কিছু নয় । ৩/৫
তবে একটা জিনিস লক্ষ করলাম শবরের সবগুলো গল্পই পরকীয়া আর সেক্স নিয়ে । বুঝালাম না । পরকীয়া আর সেক্স ছাড়া কি থ্রিলার গল্প হয় না ? নাকি পরকীয়া ছাড়া খুন হয় না ? পুলিশের ইনভেস্টিগেশন হয় না অন্য মার্ডার গুলো নিয়ে ?
শীর্ষেন্দু যে হ্যাডলি চেজের খুব ভক্ত ছিলেন তা বোঝা যাচ্ছে । অনেক স্পাই থ্রিলার বই পড়লেও চেজের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন নাই ।
'রূপ' আর 'মারীচ' দুটো শবর কাহিনী একসাথে আছে এখানে।প্রথমটি পনেরো পাতার, এবং দুটির মধ্যে আমার অনেক ভালো লেগেছে।অন্যটি প্রপার মার্ডার মিস্ট্রি, তবে অতো মনোগ্রাহী নয়।
Rup & Marich are two separate mystery narratives that follow a common theme of forbidden or illicit relationships. Shabar Dasgupta tries to solve the mysterious deaths or murders through an interrogative style and that's how the playwright is set out. The author puts so much focus on the illicit relationships and sexual aspects that the revelation of the culprits becomes merely irrelevant.