তরুন যুবককে এফআরএস বাহিনী ধরে নিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছে মঙ্গলের উপগ্রহ ০০০টুইনে। ডঃ গভীর দৃষ্টি নিয়ে দেখছেন তরুনকে। ছেলেটা অদ্ভূত সাহসী। অদ্ভূত সব কান্ড করে বসছে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও ভয় পাচ্ছে না একটুও।
তার শরীরে ঢোকানো হবে পেজ-১৮ ভাইরাস। সারা পৃথিবীর মালিক হতে গোপনে কাজ করে যাচ্ছেন মিঃ ক্লিন। কারজটা সফল হলে পৃথিবীকে নরক বানিয়ে দেবে এই নরপিশাচ। প্রবল এক ভালবাসায় মিহির হাসানকে খুঁজতে থাকে নীলা। যদিও সে জানে তাকে আর পাওয়া যাবে না। তারপরও গভীর ভালবাসার মোহে দিগ্বদিক ছুটতে থাকে সে। দুর নক্ষত্রের অতল শূন্য গহ্বরে চিরকালের জন্য হারিয়ে যাচ্ছে তার প্রিয় মানুষটি। নীলা বুঝতে পারে শুধু মিহিরকেই নয়, অসম্ভব ক্ষমতাশালী একটি চক্র ধ্বংস করতে যাচ্ছে গোটা পৃথিবীটাকেই। কি করতে পারে সে?
মহাশূন্যে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার মুহূর্তে মিহিরের মনে হয় নীলাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বল হয় নি, নীলা আমি তোমাকে ভালবাসি......
এনক্লোজার ২৮: এক সাদামাটা কাহিনীর ভেতরের টানাপোড়েন এনক্লোজার ২৮ বইটি যেন এক ঝটকায় ৪০১২ সালের পৃথিবী ভ্রমণ করিয়ে আনে, যেখানে ক্ষমতার রাশ সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার হাতে। তবে এই শাসন চলে রক্তমাংসের মানুষের বদলে, এক ভয়ংকর রোবটিক বাহিনী এফ আর এস-এর মাধ্যমে, যারা ড্রাগস আর কেমিক্যালের জালে বেঁধে রেখেছে পুরো বিশ্বকে। এই পটভূমিতেই শুরু হয় এক সাধারণ বাংলাদেশি যুবক, মিহির হাসান-এর অসাধারণ যাত্রা।
বাংলাদেশের এক পল্লি অঞ্চলের এই যুবককে একদিন হঠাৎ তুলে নিয়ে যায় এফ আর এস। তার গন্তব্য মহাকাশের এক গবেষণা, যার পরিণতি নিশ্চিত মৃত্যু—যা এই গল্পের মূল পটভূমি।
অন্যদিকে, নীলা, মেডিকেলের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী, যে মিহিরকে গভীর ভালোবাসে। প্রিয় মানুষটির এমন ভয়াবহ পরিণতি জেনে সে তাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে গল্প কেবল নীলা আর মিহিরের ব্যক্তিগত সংগ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর পেছনে লুকিয়ে আছে গোয়েন্দা সংস্থা প্রধান মি. ক্লিন-এর এক ভয়ানক বিশ্ব-পরিকল্পনা। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন জাগে—নীলা ও মিহির কি কেবল নিজেদের রক্ষা করতে পারবে, নাকি তাদের হাতেই রয়েছে গোটা পৃথিবীর ভাগ্য?
পর্যালোচনা সত্যি বলতে, এনক্লোজার ২৮ কোনো জটিল বা multi-dimensional গল্প নয়। গল্পের পটভূমি সরলরেখায় এগিয়ে চলে। যারা অপ্রত্যাশিত টুইস্ট বা চমকে দেওয়া সারপ্রাইজ ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই গল্পে নয়। কাহিনীর গাঁথুনি মাঝে মাঝে সামান্য খাপছাড়া বা আলগা মনে হতে পারে, কিন্তু একবার পড়তে শুরু করলে শেষ না করে ওঠা কঠিন।
বইটি আপনাকে গভীর চিন্তাভাবনা করার কোন খোরাক দেবে না, বরং এটি একটি হালকা ধাঁচের পাঠ, যা মূল উদেশ্য বিনোদন। আপনার হাতে যদি কিছু অলস সময় থাকে এবং একটি কল্পবিজ্ঞান নির্ভর অ্যাডভেঞ্চার পড়তে চান, তখন এনক্লোজার ২৮ হাতে নিয়ে দেখতে পারেন।