তিনটি অংশ আছে এই বইতে। কোন প্রেক্ষাপটে শাহবাগে গণজাগরণের জন্ম, অতঃপর কিভাবে শাহবাগের গণজাগরণের উত্থান ও তার সামনে পেছনের নানা ঘটনা এবং সবশেষে শাহবাগের অ্যাকশনের রিঅ্যাকশন হিসেবে হেফাজতের অবস্থান - এই তিনটি ভাগে গোটা বইটিকে বিভক্ত করেছেন লেখক। প্রথম ভাগে গণজাগরণের জন্মের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলতে গিয়ে লেখক চমৎকারভাবে বর্তমান প্রজন্ম, তাদের মত প্রকাশের ও প্রতিবাদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পরের পর্ব তথা গণজাগরণ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে গিয়ে সামগ্রিকভাবে গণজাগরণকে নিজের মত করে বিশ্লেষণ করেছেন লেখক। গণজাগরণের সাথে সম্পর্কিত এমন কোন ইস্যু নেই যার উল্লেখ এই পর্বে নেই। আর সবশেষে হেফাজত টপিকে আলোচনার জন্য লেখক যদিও শাহবাগের অ্যাঙ্গেলকে ব্যবহারের দাবি করেছেন, তারপরও আমি মনে করি তার লেখায় এবং বিভিন্ন স্ট্যাটাস, নোট ও ব্লগের লেখার যে ভাষা ছিল, তার মাধ্যমে মূলত হেফাজতের আঙ্গেলেই হেফাজতকে দেখার চেষ্টার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। (Jannatul Naym Pieal এর ভাষ্যে)
শাহবাগ বা হেফাজত ইস্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বই। রাজনীতির গুটি হিসেবে ব্যবহার হওয়া এই দুই পক্ষের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে জিয়া হাসানের পর্যালোচনা যথেষ্ট কৌতুহল উদ্দীপক। শাহবাগকে দূর থেকেও লেখক যেভাবে সূক্ষভাবে দেখেছেন বুঝেছেন তা আমনজনতার চিন্তার খোরাক জাগাবে। তাই আজ থেকেও অনেকদিন পর এই লেখার চিন্তার জায়গাটা বহাল থাকবে।
মতবাদে বিভক্ত বাংলাদেশের শহুরে,রাজনীতি বিমূখী শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙ্গালীর বাংলাদেশী চেতনার 'শাহবাগ' এবং তার দৃষ্টিতে আশরাফ-আতরাফ গ্রামীণ বাঙ্গালী মুসলমানিত্বের শিকড়ের ধারা বহনকারী ধর্মীয় সত্ত্বার 'হেফাজতে ইসলামে'র যে ঐতিহাসিক আদর্শিক দ্বন্দ্ব। সরকার, নির্বাচন, জামাত, কিংবা বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ ও ট্রাইব্যুনালের মত ইস্যুগুলোর ঘটন-অঘটনের পথ ধরে যুদ্ধাপরাধ কিংবা আস্তিক-নাস্তিকতার আবরণে তার যে সর্বশেষ সংঘাত তারই রাজপথের মঞ্চায়ন হল শাহবাগ থেকে হেফাজত । লেখক সেই সময়ের ধারাবাহিকতায় নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছেন সেই বিশেষণকেই ।
বর্তমান বাংলাদেশকে বুঝতে হলে শাহবাগকে বোঝা দরকার। আর এই বোঝাপড়ার জন্যে জিয়া হাসানের এই বইটা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও লেখক এখানে নিরপেক্ষতা দেখায়নি, তারপরেও সেই সময়কে বোঝার জন্যে তার লেখা সাহায্য করবে।
এতদিন পর্যন্ত শাহবাগ মুভমেন্টকে যেভাবে দেখে এসেছি লেখক এই বইয়ে তার বিপরীত দিকটা তুলে ধরেছেন তার যুক্তি ব্যাখ্যাসহ। অনেকাংশে হয়তো একমত হতে পারি নি আবার কিছু পয়েন্ট ভ্যালিড। আর কোনকিছু সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হলে তো সবার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কেই জানতে হবে। আমার মতের সাথে অমিল হলেও।