ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথা: মৃন্ময়ীর মনটা কি শরতের আকাশ? প্রায়ই মেঘ দেখা যায় তবে সে মেঘ বাতাসে ফুলে ওঠা নৌকার ধবধবে শাদা পালের মতো। আষাঢ়ের অশ্রু ভরা কালো মেঘ না। তাহলে আজকের ঘটনাটা কী? মৃন্ময়ীর মন ভাল নেই কেন? হুমায়ূন আহমেদ তাঁর যাদুর বলপয়েন্ট উনিশ বছরের এক তরুণীর মত ভাল না থাকার ব্যাখ্যা করবেন। আসুন না দেখি উনি কী বলেন। মৃন্মায়ীর মতো মেয়ের মত ভাল না থাকার কারণটা জানা প্রয়োজন না?
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
অভিজাত পরিবারের হালচাল,মধ্যবিত্তের দুঃখ,হাসি, তৃপ্তি আর হুমায়ুনের চরিত্রের চিরচেনা পাগলামী আর সাবলিল উপস্থাপনা এ উপন্যাসকে পাঠকের মনে স্থান করাবে নিঃসন্দেহে।তবে ফিনিশিংটা অনুমান করার মত না।একটু ডিফরেন্ট।
দৃশ্যপটে একজন মেঘবালিকার সন্ধান।নায়িকা মৃন্ময়ী অভিজাত ঘরের মেয়ে।নায়ক মিডিলক্লাস ফ্যামিলির,পেশায় একজন আর্টিস্ট।উল্লেখযোগ্য চরিত্রের মধ্যে আরো আছেনন মৃন্ময়ীর দাদাজান যার কাছে তার পূত্র একটা আস্ত গাধা,মৃন্ময়ীর বইপোকা বাবা যার কাছে বই পড়াটা মাদকসেবনের মতো, বান্ধবী ছন্দা যার একটা মানসিক রোগ আছে,নায়ক জহিরের বোন মীনা যার কাছে কান্না করাটা পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
হুমায়ূন আহমেদের বিষাদ মাখানো অথচ সুন্দর আনন্দময় কোনো এন্ডিং এর বই প্রথম পড়লাম। এই গল্পের 'আলিমুর সাহেব', বহুব্রীহির 'ফরিদ' এর মতো চরিত্রগুলো আমাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। তাদের কথা আমার মনে গেঁথে যায়। আমি তাদের মতো পাগলাটে হতে চাই।
"বাবা-মায়ের কাছে অতি বুদ্ধিমান-বিদ্বান ছেলে-মেয়েরাও গাধা হতে পারে।"
ঠিক কি কারণে উপন্যাসটা ধরেছিলাম তা মনে করতে পারছি না। মনে পড়লে ভালো হত।( ব্যাটা কিংবা বেটি কারণকে) জব্বর একটা ধোলাই দিতাম। আচ্ছারকম শিক্ষা হল নিজের সময়ের অপচয় করার। কাহিনির কোনো বিশেষত্ব নেই। যা খুশি তাই লিখেছেন। এই কান ধরলুম। যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে। আর নয়। আছি গো মা বিপদে!
খুবই স্থূল রসিকতায় ভরা হুমায়ূন আহমেদের যাচ্ছেতাই বইয়ের একটি এটি। সময় কাটানোর জন্য খারাপ না। এর পর তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল টাইপ এন্ডিং। হুমায়ূনপ্রেমী অনেকের কাছেই এই বই ভালো লাগবে, কারণ এন্ডিং টা সুন্দর।
বইয়ের ভালো লাগা লাইন:
বড়লোকদের মাঝে মাঝে বিনয়ী হতে দেখা যায় কিন্তু বড়লোকদের বাড়ির কাজের লোকদের মধ্যে এই জিনিস নেই
অতি বুদ্ধিমতীরা সুখ বের করে নিতে জানে, বোকা মেয়েগুলি বেছে বেছে দুঃখ কুড়ায়।
একজন বাবার কাছে তার অতি বুদ্ধিমান পুত্রও গাধা হতে পারে।
হুমায়ূন আহমেদের বই বলতেই আমরা বুঝি সরল ভালোবাসার জটিল কোলো পরিনতি।।। এই বইয়ের ক্ষেত্রে মোটেই ব্যাপারটা তেমন হয়।।। গল্পটা পড়লে মনে একটা শান্তি শান্তি ভাব জেগে উঠে। কাহিনিতে জটিলতা যে নেই তা না।। রয়েছে তবে খুবই সূক্ষভাবে।।। ভালোবাসার সাথে আবেগের ভালো মিশ্রন রয়েছে বইটিতে।।।
মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই,বইটি আমি আমার বান্ধবীকে উপহার দিয়েছিলাম। বইটি তার অনেক পছন্দ হয়েছিল। পরবর্তীতে সে এই বইটি আবার ক্রয় করে এবং তার পরিচিত একজনকে উপহার দেয়। সেটা আবার আমার চোখের সামনেই ঘটে, তাহলে তো বুজতে পারছেন বইটা খুব ভালো খুব আবেগের।🤗 এইবার বই নিয়ে নিজের কথা বলি- কিছু কিছু মানুষের কাছে জীবন মানে হেসে খেলে দিন অতিবাহিত করা এমন একজন মানুষ -শাহেদুর রহমান,যিনি মৃন্ময়ীর বাবা। মৃন্ময়ীর মধ্যে পাগলামি ছিল কিন্তু বাস্তব জ্ঞানও ছিল কিন্তু তার দাদাজান পুরোই উন্মাদ। জহির একজন বাস্তববাদী মানুষ। সে আমাদের মত সাধারণ মানুষ, যে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছেন নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য। ছন্দা এক মিডিল লোয়ার ক্লাসের মেয়ে,মৃন্ময়ীর বান্ধবী সেও সংগ্রাম করছে নিজে ভালো থাকার জন্য। পারফেক্ট একটা উপন্যাস- ছেলেমানুষী, বাস্তবতা,হাসি,কান্না,মায়া সব যেন কম্বাইন্ড করে একই উপন্যাসে ঢুকানো হয়েছে। এইজন্য হুমায়ূন আহমেদের লেখা, মানুষ গিলে মানুষ বারেবারে পড়ে কারণ তার লেখার ভিতরে মানুষ নিজের জীবনের, আশেপাশের মানুষদের জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়। ভালো লাগার একটি উপন্যাস। নিজে পড়তে পারেন,উপহার হিসেবে দিতে পারেন আপনার কাছের মানুষদের।আশা করি,সবাই খুব উপভোগ করবে উপন্যাসটি। 😊😊
মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই। আসলেই কী মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই? কিন্তু কেনো তাঁর মন ভালো নেই? সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে কাজের বিন্তিকে বললো ঘর আজকে গোছানোর বদলে আরও অগোছালো করে দিতে। বিন্তি বেচারি ভয়ে ভয়ে ভাবছে আপার মাথা কী আসলেই খারাপ হয়েছে?
মৃন্ময়ী মাঝে মাঝে এমন করে অবশ্য। যেমন ঘুম থেকে উঠে মাকে গিয়ে বললো সে পরীক্ষা দেবে না। প্রিপারেশন ভয়াবহ খারাপ। এবং সে ফেল করবে।
মৃন্ময়ীর মায়ের নাম শায়লা। তিনি হাইপার টেনশানের রোগী। কোনো কারণ ছাড়াই তার প্রেশার (সিস্টোলিক) ধুম করে একশ হয়ে যায়। তখন তার ঘাড় ব্যথা করতে থাকে কপালের শিরা দপদপ করতে থাকে। দরজা-জানালা বন্ধ করে তাকে শুয়ে থাকতে হয়। মেয়ের কথা শুনে মায়ের প্রেশার ধুম করে আবার বেড়ে গেল। মৃন্ময়ী নির্বিকার। কারণ সবটাই তাঁর নাটক মাকে ভড়কে দিতে।
বান্ধবী ছন্দাকে টেলিফোন করেও সে এরকম একটা কাজ করলো। এমন ভান করে কথা বললো যেন ভয়ানক কিছু একটা ঘটেছে মৃন্ময়ীর। ছন্দা ছুটতে ছুটতে এসে দেখে মৃন্ময়ী দিব্যি সুস্থ। হুট করে ছন্দাকে দেখতে ইচ্ছে করছিল তাঁর।
মৃন্ময়ীর বাবা শাহেদুর রহমান চৌধুরী পেশায় একজন আর্কিটেক্ট। মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটি থেকে Water body planning–এ Ph.D. করেছেন। তার রেজাল্ট ছিল অসাধারণ। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত Water body planning এর কোনো ডিজাইন করেন নি। ভবিষ্যতে করবেন এ রকম মনে হয় না। পড়াশোনা ছাড়া অন্য কোনো পরিশ্রমের কাজ তিনি করতে পারেন না। তাতে অবশ্যি তার কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
মৃন্ময়ীর দাদা আলিমুর রহমান সাধারণ গেঞ্জি, সুতা এবং রবারের জুতার ব্যবসা করে এত টাকা করেছেন যে তার একমাত্র পুত্রকে জীবিকা নিয়ে কোনো রকম চিন্তা ভাবনায় যেতে হয় নি। অর্থ কী করে মানুষকে অকর্মণ্য করে ফেলে শাহেদুর রহমান তার উদাহরণ। এখন তার সময় কাটে আর্ট কালেক্টর হিসেবে। দেশ-বিদেশের প্রচুর ছবি তিনি জোগাড় করেছেন। আলিমুর রহমান এইজন্য ছেলের উপরে রাগান্বিত। গাধাপুত্রকে নিয়ে তাঁর চিন্তা সে কষ্টের টাকা নষ্ট করে ফেলবে। দাদাজান মৃন্ময়ীদের সাথে থা��েনও না রাগ করে।
শাহেদুর রহমান আঁকা শেখার জন্য জহির নামের এক ছেলেকে সম্প্রতি রেখেছেন। তিনি জহিরের থেকে ছবিও কেনেন। শাহেদুর রহমানের ইচ্ছে নিজের, মেয়ের এবং বাবার একটা করে স্কেচ আঁকাবেন জহিরকে দিয়ে। এমনিতে জহিরের আঁকার হাত বেশ ভালো। কিন্তু শিল্পীদের শিল্পকর্ম ঠিক করে পেটে ভাত জোটাতে পারে না।
জহিরের বোন চার বছর পর ভাইয়ের কাছে বেড়াতে এসেছে জামাই আর মেয়েকে নিয়ে। বোন মিনার আছে জামাইকে নিয়ে নানারকম আদিখ্যেতা। জামাই পাগলী বউ বলা যায় তাঁকে। ভাইয়ের অবস্থা নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা নেই তেমন।
দাদাজানের ছবি আঁকতে জহিরকে তাঁর কাছে পাঠান মৃন্ময়ীর বাবা। একসময় জহিরকে বেশ ভালো লেগে যায় দাদাজানের। ঠিক করেন মৃন্ময়ীর সাথে বিয়ে দেবেন। মৃন্ময়ী কী রাজি হবে? আবার জহিরের বোন মিনা একটা বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে জহিরকে না জানিয়েই। জহির কী কোনো ভয়ানক কিছুর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে? দাদাজানেরও আছে একটা পরিকল্পনা তাঁর সম্পত্তি নিয়ে। কী সেটা?
// পাঠ প্রতিক্রিয়া:
হুমায়ূন আহমেদের মৃন্ময়ী সিরিজের এটি সম্ভবত দ্বিতীয় বই। এবং হুমায়ূন আহমেদের সাবলীল লেখনী বরাবর যেভাবে মুগ্ধ করে এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। পড়তে খারাপ লাগেনি একদমই।
মৃন্ময়ী এখানেও নিজের মতো। কখনো খামখেয়ালি, কখনো স্বভাবসুলভ কোমলতা সব মিলিয়ে মৃন্ময়ীকে দিয়েছে আলাদা রূপ। মৃন্ময়ী বলা যায় বেশ ভালো এই বইয়েও।
বাকি চরিত্রগুলোর মধ্যে দাদাজানকে ভালো লেগেছে ওনার মৃন্ময়ীর প্রতি অত্যাধিক স্নেহ দেখে। ছেলের থেকে তিনি যে বেশ বুদ্ধিমান তা ভালো করেই বোঝা গেছে। তাই তিনি চান না তাঁর টাকাগুলো ছেলে অকাজে খরচ করুক।
জহিরের বোন মিনাকে অবশ্য আমার ভারী বিরক্তিকর চরিত্র লেগেছে। এবং সেইম ন্যাকামি বাস্তব জীবনেও অনেককে করতে দেখেছি। আরে ভাই জামাই কী তোর একারই আছে দুনিয়ায়! জহিরের অবস্থার কথা সে ভাবে না। জামাইকে টিয়া বলে ডাকাডাকি! জহির বেচারাও একদিন বলে ফেললো টিয়াবাবু !
গল্পের প্লটটা আমার মৃন্ময়ীর প্রথমটার মতো অতটা আকর্ষনীয় মনে হয়নি। আমার কাছে মোটামুটি লেগেছে। তবুও খারাপ নয় এইটুকু বলা যায়।
বইয়ের নামঃ "মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই" লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪/৫
লেখকের কিছু ছোট উপন্যাস আছে যেগুলো পড়লে মনে হয় প্রকাশকের চাপে পড়ে -কিছু একটা লিখতে হয় তাই লিখেছেন। সেগুলো পড়ে পাঠকের কিছু সময় হয়তো ভালো কাটবে, কিন্তু মনে কোনো দাগ ফেলতে পারবে না। মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই সেরকমই একটা বই লেগেছে আমার কাছে। তেমন কোনো কাহিনি নেই, চরিত্রগুলোও লেখকের বিভিন্ন চরিত্রের পুনরাবৃত্তি। অতি আবেগ, অতি পাগলামি মাখা এক কাহিনি।
এখানেও মৃন্ময়ী বিশাল বড়লোকের মেয়ে। তার বাবা ভীষণ জ্ঞানী, পড়ালেখা করা ছাড়া তেমন কাজকর্ম করেন না। মা সারাক্ষণ অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে থাকেন। মৃন্ময়ীর বাবার আছে আর্টের প্রতি দারুন ঝোঁক, এভাবেই পরিচয় হয় পেইন্টার জহিরের সাথে। জহিরকে বলা হয় মৃন্ময়ীর দাদার পোট্রের্ট আঁকতে। মূলত সব ধন-সম্পদের মালিক মৃন্ময়ীর দাদা। তিনি এখন থাকেন তার সাভারের খামারবাড়িতে। তার ছেলে অর্থাৎ মৃন্ময়ীর বাবার উপর তার ভীষণ রাগ, তবে মৃন্ময়ী কে তিনি বেশ পছন্দ করেন। এগুলোই মূল চরিত্র পাশাপাশি জহিরের বোন মীনা, মৃন্ময়ীর বান্ধবী ছন্দা ও তার বাবা, বাড়ির ম্যানেজার ফরিদ, কাজের মেয়ে বিন্তি - এই চরিত্রগুলোর বর্ণনাও উঠে এসেছে।
এ ধরণের বইয়ে একটা ফাতরা ক্যারেক্টার থাকাই যথেষ্ট ছিল। সেখানে মৃন্ময়ীর দাদা, তার মা, মৃন্ময়ী নিজে, জহিরের বোন মিনা, তার স্বামী সবুজ/টিয়া, এতগুলো ফাতরা/আহ্লাদি ক্যারেক্টার না থাকাটাই ভাল হত। যারা আজ চিত্রার বিয়ে বইটি পড়েছেন, যারা একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন ওই বইয়ের প্লট খানিকটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লেখা। সেই অসহায় মিথ্যাবাদী বোন, চুরির অভ্যাস, নির্দিষ্ট সময়ে কারও টেলিফোন ইত্যাদি। হুমায়ূন আহমেদ আমার অন্যতম প্রিয় লেখক। তার বইতে সচরাচর আমি এক তারা দেই না। এই বইতে দিতে বাধ্য হলাম।
পুরোটাই ঠিক ছিলো, কিন্তু শেষটুকুয় এসে কেমন যেন মনে হলো দুম করে তুলির এক অসাবধান আঁচড়ে পুরো ডিটেইলড ছবিটার ইতি টেনে দেয়া হয়েছে। এতে ব্যাপারটা যাতে দাঁড়িয়েছে তাকে খাপছাড়া বললে রূঢ় হয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু কোমলতর কোনো বিশেষণ খুঁজে পাচ্ছি না বলে সেটাই ব্যবহার করতে হচ্ছে আপাতত। আমি যন্ত্রমানববিশেষ, আমি খানিক কটু কথা বললে বিশেষ কোনো ক্ষতি নেই!
হুমায়ূন সাহেবের অন্য সব বইয়ের মতো অপেক্ষা করতেছিলাম একটা ট্রাজেডি দিয়ে গল্প শেষ হবে। হুমায়ূন সাহেব এইবার আমাকে অবাক করে দিয়ে এইরকম বেশি বাড়াবাড়ি কিছু করলো না। করলে হয়তো ৫* পাইতো😪
দিনশেষে যা বুঝলাম, হুমায়ূন আহমেদ যেসকল বইয়ে গ্রামের পরিবেশ কিংবা একান্নবর্তী গরিব পরিবার, কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের আনন্দ, দুঃখ, হতাশা, বিষন্নতা নিয়ে গল্প ফেঁদেছেন সেগুলা আমার কাছে বেশি বাস্তবসম্মত আর হৃদয়স্পর্শী লেগেছে।
আর যখন তিনি সমাজের উচ্চাভিলাষী, অভিজাত শ্রেণীদের নিয়ে লিখেছেন তা সাংঘাতিক কৃত্তিম আর বিরক্তিকর লেগেছে। এটার সঠিক কারণ যে কী তা আমার জানা নেই। তবে জা���ার খুব আগ্রহ!
বড়লোকি মানুষদের উদ্ভট সব কান্ডকারখানা নিয়ে এই বইটা। যেখানে মৃন্ময়ীর দাদা বিশাল বড়লোক। এত বড়লোক যে সে নিজেও তার পরিমাণ জানে না। আর যেহেতু সে বড়লোক তাই হুমায়ূন লেখনী হিসবে তার কান্ডকালাপ হতে হবে মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন মানুষের মতন। আর আইরনী হচ্ছে, তারা দাদা আসলেই দিনদিন মানসিক ভাবে ভারসাম্য হীন হচ্ছিলেন। মানে জাস্ট ইমেজিন, এক বিশাল বড় লোক, তার একমাত্র ছেলেকে পচ্ছন্দ করে না তাই তাকে সবসময় চিঠিতে গাধা লিখে পাঠায়। এরপর তার ছেলেকে জব্দ করতে, তাকে কোন সম্পওি না দিয়ে তাদের বাসায় কাজ করে যে মেয়ে তার নামে বাড়ি লিখে দিতে যায়। মৃণ্ময়ীর বাবার আকাঁ ছবির প্রতি অনুরাগ থাকায় সে একজন আর্টিস্টকে পাঠায় তার দাদার কাছে তার ছবি আঁকতে, তো দাদা সেই আর্টিস্টের বোনের নামে সম্পওি লিখে দিতে চায়... মানেএএএএএএএ বড়লোকদের সব বড়লোকি সমস্যা। বই পড়তেছিলাম আর পদে পদে ফাস্ট্রেটেড হচ্ছিলাম। আর্টিস্ট ছোকড়ার সাথে মৃন্ময়ীর বিয়ে হয়... কিন্তু প্রেম ট্রেম যে কখন হয় জানিনা! এক লাফে গুটি ৯৯ ঘরে যাকে বলে।
আচ্ছা একটা প্রশ্ন, হুমায়ূন আহমেদের শতকরা ৯৫ শতাংশ বইয়ে একটা জিনিস খেয়াল করেছি। তার সৃস্টি অতি রূপবতী মেয়েগুলা তাদের স্বপ্নে সবসময় দেখে, তারা সম্পূর্ণ নগ্ম হয়ে অনেক অনেক মানুষের সামনে দাড়িয়ে আছে। তারা ঘুম ভাঙার পর এই স্বপ্নের কথা আবার খুব কমফোর্টেবল ভাবে সবাইকে বলেও বেড়ায় -,-
এটা আবার কেমন স্বপ্ন! নাকি এখানে লেখক মেটাফোরিক্যালি নাইকাদের বেহায়াপনা, অতিরঞ্জিত আচরণ, নেকামী গুলাকে স্বপ্নের মাঝে সিম্বলিক রুপে রিপ্রেজেন্ট করেন। কি জানি কী 😵💫
প্রথমে আমার ধারণা ছিল মৃন্ময়ী বইটির দ্বিতীয় কিস্তি হবে মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই—আগের বইটিতে স্পষ্ট কোনো সমাপ্তি না থাকায় ভেবেছিলাম, হয়তো বাকি অংশ এই বইতেই পাব। কিন্তু আমার সেই ধারণা একেবারে ভুল প্রমাণিত হলো। লেখক এই বইটি সাজিয়েছেন সম্পূর্ণ নতুন চরিত্র ও নতুন পরিবেশ নিয়ে। তাতে বিরক্ত হইনি; বরং নতুন গল্প কোন পথে এগোয় তা দেখার একটা আলাদা আগ্রহ তৈরি হলো।
এই বইয়ের মৃন্ময়ীকে আমার একটু বেখেয়াল আর নাজুক স্বভাবের মনে হয়েছে। সকালে পুরো রুমের অগোছালো ভাব, বান্ধবীকে খবর দিয়ে আনিয়ে আবার নির্বিকারভাবে পড়তে বসা সব মিলিয়ে চরিত্রটা বেশ ছেলেমানুষী ধরনের। তবে যেহেতু এখানে মৃন্ময়ী কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী, এ নরম অস্থির ভাবটাও চরিত্রের সাথে মানিয়ে যায়।
শাহেদুর রহমান ও আলিমুর রহমানের চিঠি চালাচালি আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। ‘গাধা’ শব্দে ভর্তি সেই চিঠিগুলো পড়ে সত্যিই অনেক হাসি পেয়েছে। আর্টিস্ট জহিরের সাথে মৃন্ময়ীর বিয়ে হবে এটা পড়তে পড়তে আগেই আন্দাজ করেছিলাম, এবং শেষমেশ তাই হলো। ফজলু সুস্থ হয়ে উঠলে জহির হয়তো তার বোন মীনার সাথে ফজলুর বিয়ে দেবে এমনটা ভেবেছিলাম, কিন্তু মদীনা তো ততদিনে নক্ষত্র হয়ে গেছে।
শেষদিকে টুনটুনির বিয়েতে মৃন্ময়ী যখন টুনটুনির সব বান্ধবীকে হিরের নাকফুল উপহার দিল, তখন এক মুহূর্তের জন্য ছন্দার কথা মনে পড়ে গেল!
অনেকদিন পর হুমায়ূন আহমেদের এমন একটি বই পড়লাম যার সুন্দর একটি এন্ডিং রয়েছে। তবে আমার মনে হয়েছেএই বইটির নাম যেন উল্টো হওয়া উচিত ছিল। বরং এই গল্পটাই বেশি ‘মৃন্ময়ী’; আর প্রথম বইটিই যেন বেশি মানানসই ‘মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই’ নামে।
হুমায়ূন আহমেদের বই আর সুন্দরী/রূপবতী মেয়ে- একে অপরের পরিপূরক। মৃণ্ময়ীর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বইটা পড়তে পড়তে আমার নানী আপুর কথা ভাবছিলাম। তাকে নানী বলা নিষেধ, আপু বলে ডাকতে হয়। আমরা তাই আপু ডাকি। আপু মারাত্মক সুন্দরী। বাচ্চাকাল পেরুতে না পেরুতেই আপুর আব্বু ধরে বিয়ে দিয়ে দিছেন আমার নানা ভাইয়ের সাথে। বয়সের পার্থক্য ছিল বিশাল। আপুর আব্বুকে ঠিক বিত্তশালী বলা যায় না। তবে নানা ভাইয়ের চেয়ে অবস্থা হাজার গুণে ভালো ছিল। আপু তাই বেশিরভাগ সময় খিটখিটে মেজাজে থাকে। কখনও কখনও এতো ভালো ব্যবহার করে যে ভুলেই যাই একটু আগে সে কীভাবে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছিল। ছোটবেলার যেহেতু প্রায় পুরোটা নানুবাড়িতে কেটেছে সেহেতু আপুর ভয়ে তটস্থ থাকতাম সবসময় আবার মানুষটাকে অপছন্দও করতে পারতাম না। কিন্তু বড় হবার পর যখন দেখেছি আর বুঝেছি আম্মুকে কতটা কষ্ট পেতে হয়েছে/হচ্ছে তখন থেকে মানুষটাকে প্রচণ্ড রকম অপছন্দ করি। সেই সাথে হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের এরকম চরিত্রগুলোকেও।
বইয়ের শেষটা সুন্দর। হুমায়ূন আহমেদের বইয়ে হ্যাপি এন্ডিং বেশ বিরল। তাই চার তারকা দেয়া।
আহামরি কিছু না। এই বইয়ের চরিত্ররা অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত কাজ করে। আসলে বাস্তব জীবনে আমরাও তো কতো অদ্ভুত কাজ করি।
তবে মাঝেমধ্যে এমন আহামরি কিছু না ধরনের বই ও ছোট খাট কোনো কারণে ভালো লেগে যায়। এই বইয়ের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
বইটা পড়ে অনেক হেসেছি। কিন্তু বইয়ের শেষ দিকে এসে বুকে একটা ধাক্কার মতো লাগলো। অনেকটা কষ্ট হলো। "সন্ধ্যে হবার আগে জহির জানতেও পারলো না যে মীনা মারা গেছে" এই লাইনটা পড়ে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। এটা কি! ভাই জহির এর কাছে নিজের মেয়ে টুনটুনিকে রেখে সে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো। অদ্ভুত কর্মকান্ডে ভরপুর একটা বইয়ের শেষে যে এমন কিছু অপেক্ষা করছে ভাবনাতেও আসেনি।
জহির ও মৃন্ময়ীকে ভালো লেগেছে। আলিমুর রহমান কেও। জহির আলিমুর রহমানের যে ছবিটা এঁকেছিলো সেই ছবিটা আমার দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে। এইতো। আর কিছু না।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Character আলিমুর রহমান শুধু কে ভালো লাগছে। জহির, An emotionally unavailable Husband যে মানুষ রুপি রোবট 🤖 । মৃন্ময়ীর বান্ধবী এমন এক জনের সাথে বিয়ে দিয়েছে যার বউ মারা গেসে বাচ্চা মেয়ে আছে এবং বাচ্চা নানির কাছে থাকবে, বাচ্চা পালন করতে হবে না like wow😳 মেয়েদের কি এতোই বোঝা লাগে কিছু মা-বাবার কাছে যে যেই ভাবেই হোক বিয়ে দিয়ে বিদায় দিলেই বেঁচে যায় 😒😢। আর বোনটা কেমন husband r*pe case এ ফেঁসে গেছে তাকে টাকা দিয়ে ই পাঠিয়ে দিয়েছে helping a criminal and shaming other women by saying একটা বাজে ধরনের মেয়ে office এ কাজ করতো। আসলে এটাই বাস্তব this is heartbreaking reality. 😞
This entire review has been hidden because of spoilers.
সাধারণ একটি উপন্যাস, প্রেমের ছোয়া তেমন একটি নেই বললেই চলে ৷ এই উপন্যাসে বিশেষ কোনো দিক খুজে পাইনি। মৃম্ময়ী একজন শিল্পপতির মেয়ে, যে কিনা স্বভাবগত ভাবেই বিভিন্ন উদ্ভট আচরণ করে। চন্দ্রা মৃম্ময়ীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। আর জহির একজন আর্টিস্ট, নিজের বানানো আর্ট বিক্রি করে জীবিকা চালায়। উপন্যাসের কিছু কথা ভালো লেগেছে, এর মধ্যে একটিঃ " বুদ্ধিমতি মেয়েরা নিজে থেকে সুখ খুজে নিতে পারে, আর বোকা মেয়েরা খুজে খুজে দুঃখ নিয়ে আসে "
বইটার কাহিনী খুব একটা কিছু না, ঘুরে ফিরে বড়লোক বাপের রূপবতী কন্যা ( এমন কাহিনী হুমায়ুন আহমেদ এর অহরহ পড়ে আছে )
যাই হোক ! বিত্তবানদের রসিকতা বলা যায় । আর হ্যাঁ এন্ডিং টা ভালো শুধুমাত্র এই কারনেই মানুষ এই বই পছন্দ করবে আবার আরেকটা বিষয় হলো, বইটা পড়ে মজা সময় কাটানোর মতো I
BHAI ATA KI CHILO! I SCREAMED SO LOUD TUNTUNIR MAMI?MRINOYI?!?!?!? THEY GOT MARRIED?!!??!LIKE😭😭😭😭😭😭 BHAIIII BEST BOOK I HAVE READ IN AWHILE😭😭😭 LITERELLY IN SHOCK AND WILL BE IN SHOCK FOR THE NEXT FEW HOURS LIKE LOVE LOVE LOVE THIS BOOK😭💌
This entire review has been hidden because of spoilers.