সে এক কল্পকথার রূপকথার রাজ্য। পার্বত্য ত্রিপুরায়, লুসাই পাহাড়ের উৎসস্থলের কোথাও যার তিনদিকে পাহাড় আর একদিকে প্রমত্তা নদী! যেখানে নারীরাই সর্বময় কর্ত্রী । তারা আসামের কামরূপ-কামাখ্যার গহীন থেকে শিখে আসত তুকতাক, ডাকিনী বিদ্যা, সর্পবিদ্যা আর বশীকরণ। আর সময় হলেই বেরিয়ে পড়ত ভাটি অঞ্চলের দিকে যুবাপুরুষ শিকারে! তাদের তন্ত্র-মন্ত্রে পুরুষেরা ভুলে যেত নিজেদের আদি ঠিকানা, পরিবার, স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের । ভেসে যেত নতুন আবাহনে মাদকাচ্ছন্নের মত।
এ গল্পের নায়ক হেকমত বা হেকুও এ রকম ভেসে গিয়েছিল এক তরুণীর ডাকে । ঘর বেঁধেছিল কোঁচার মুল্লুকে, সর্পবিদ্যা শিখে হয়েছিল গুণীন। লড়াই করেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কালনাগিনী সাপ, কামরূপ-কামাখ্যার প্রধানমন্ত্রী, আর নিজের ভাগ্যের সাথে।
কবি ও লোকবিজ্ঞানী আশরাফ সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত দীর্ঘ গবেষণার ফল - গুণীন । বিশিষ্ট আদিবাসী-সংস্কৃতি বিশারদ মরহুম কবি আবদুস সাত্তার আর নৃতত্ত্ববিদ ভেরিয়ার এলউইনের নৃতত্ত্ব গবেষণা এ উপন্যাসটিকে ঋদ্ধ করেছে । এই উপন্যাসের নায়ক হেকমত বা হেকু গুণীনের সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতা এবং পর্যালোচনার ফলাফল এই উপন্যাস, যার প্রতি পরতে রয়েছে এক অজানা আর মায়ারাজ্যের অভিনব উপস্থাপনা।