Nasreen Jahan (Bangla: নাসরীন জাহান), (1966) is a modern Bangladeshi author and literary editor. She became famous with the publication of her award-winning novel উড়ুক্কু in 1993 which was later translated as The Woman Who Flew.
She has distinguished herself with her poetic prose and psychological approach to human behavior. She is capable of handling intricate human mind with dexterity. She is prone to focus on man-woman relationship in the backdrop of social fabric and examine its intricacies. Nasreen Jahan has candidly treated sex as a theme and went ahead of time by reflecting on homosexuality her short stories and novels. Her writing separately exhibits realism, surrealism, also magic realism. Her works are never erotic in nature.
'তিথিডোর' এর মতন 'ক্রুশকাঠে কন্যা'ও পঞ্চকন্যার কাহিনি, তবে পাঁচজনের মধ্যে প্রধান চরিত্র একজনই, এখানে স্বাতীর স্থান দখল করেছে ক্রুশকাঠের কন্যা নীলুফার, সংগ্রামী জীবন আর দ্বিধাগ্রস্ত ভালোবাসা যার আজন্ম সঙ্গী। ভালবাসায় উষ্ণ থেকেও হিম নিঃসঙ্গতা আর পরিবারের কলরবের মাঝে থেকেও প্রগাঢ় নৈঃশব্দ্য নীলুফারের জীবনকে প্রতিনিয়ত পেরেকের ফলায় বিদ্ধ করে এক নিষ্ঠুর ক্রুশকাঠে। নাসরীন জাহান তার বিস্তৃত গদ্যক্ষমতা, তীক্ষ্ণ সংবেদনশীলতা আর পুরোপুরি বুদ্ধদেব বসু সুলভ ঘনঘন আত্মগত বর্ণনায় তার নিজের লেখনি পরিয়ে দিয়েছেন নীলুফারের গলায়, স্বতোৎসারিত ভাষণে যা হয়ে উঠেছে অনবদ্য।
পরপর পাঁচ কন্যা জন্মদানের পর নীলুফারের মাকে পশুর হিংস্রতায় ছেড়ে যায় তার বাবা, এখানেই স্বাতীর বাবা রাজেনবাবুর সাথে তার পার্থক্য। সহায়সম্বলহীন মা তখন আশ্রয় নেয় বিদেশফেরত, অবিবাহিত, দুঃসম্পর্কীয় মামা শওকত এর কাছে। ফলে পাঁচকন্যা পায় একটা ঠাঁই, অন্নের নিশ্চয়তা। জীবন এগিয়ে চলে, বড় আপা সায়রা আর দিলারার বিয়ে হয়, কিন্তু এরপর মারা যায় মা। অকূল পাথারে পড়ে নীলুফার ও তার দুই ছোটবোন- শায়লা, আফসানা। গার্মেন্টস, পত্রিকা, কর্পোরেশন- একের পর এক চাকরিতে থিতু হতে থাকে নীলুফার, শায়লা গার্মেন্টস আন্দোলনে নিজেকে তৈরি করে মালিকপক্ষের চাপে পিষ্ট মেয়েগুলোর মুখপাত্র রূপে।
স্বাতীর মতই স্বপ্নময়, ভাবালু, কল্পনাবিলাসী চরিত্র নীলুফার। জীবনসংগ্রাম তাকে বাস্তবতার মুখোমুখি করলেও তার প্রেম ও স্বপ্নের সুতো ছিঁড়ে দেয় নি। একইসাথে তিনজন পুরুষের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও প্রেমের টান- দুই পরস্পরবিরোধী সত্তা নীলুফারের মধ্যে গেঁথে দিয়েছেন লেখক।
শায়েদ তার প্রেমিক কিন্তু তার সাথে সম্পর্ক যেন একেবারেই সাংসারিক, প্রেমের উষ্ণতার চেয়ে জীবনের তপ্ততা যেখানে মুখ্য। অন্যদিকে, কৈশোরের প্রথম প্রেমানুভূতির উন্মেষ যার কাছে, সেই রঞ্জন নীলুফারের জন্য 'এক স্বপ্নের নাম, তাকে তুলে রাখা নতুন বই'। তাই নীলুফারকে তুলনা করা যায় অনেকটা 'শেষের কবিতা'র অমিতের সাথে, কেতকী যার কাছে ঘটিতোলা জল, প্রতিদিন ব্যবহারের, শায়েদও নীলোফারের কাছে ঠিক তেমনি। অন্যদিকে, অমিতের কাছে লাবণ্য ছিল মনের দিঘি যাতে সাঁতরে আসা যায় যখন তখন, একইভাবে রঞ্জন নীলুফারের মনের কোণে টলটলে কোন দিঘি, যে তার অবচেতন মনে নিস্তরঙ্গ ঢেউ তুলে যায় সর্বক্ষণ। এদিকে, পত্রিকা অফিসের আরিফের সাথে ঠিক প্রেম নয়, অনেকটা দায়িত্বের সম্পর্ক, অফিসের বদ্ধ হাওয়ার মাঝে সে নীলুফারের কাছে এক পশলা খোলা হাওয়া।
যেহেতু এটা এক নারীর আত্মকথন, তাই এখানে এসেছে নারীর অনেক ব্যক্তিগত মুহূর্ত আর ভাবনার সজীব বিবরণ। এসেছে নারীদৃষ্টিতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কলুষিত রূপ, যাদের ভাবলে শীতপ্রেমী নীলুফারের হৃদয়ে নামে শীত, সেই কৈশোরে যার দ্বারা শরীরের জড়তা কেটে গিয়েছিল, তা থেকে শুরু করে বোন দিলারার জামাই পর্যন্ত পুরুষদের কথা ভাবলে নীলুফারের হৃদয়ে শীতগাছের পাতার মতন ঝরে যায় সকল শ্রদ্ধা, ভালবাসা। তবে নীলুফার শুধু এই ধরণের পুরুষ নয়, বরং যারা নারীর বেঁচে থাকার নিবেদন ও সংগ্রামের চেয়ে সতীত্ব রক্ষাকে প্রাধান্য দেয়, সে সকল নারীদেরও ঘেন্না করে। তাই, সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া তার মা, যখন শওকত মামার সাথে প্রথাবিরুদ্ধ কাজ করলেও সংসার ও মনের বিরুদ্ধে কোন কাজ করে না, তখন নীলু একে বাহবাই দেয়। কারণ, তার কাছে বড় হয়ে ওঠে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক নারীর অনবরত লড়াই।
সুলেখা বন্দ্যোপাধ্যায়, আলোর বাইরে কিন্তু ঝলমলে একটি চরিত্র, নিঃসঙ্গতায় তিনি যেন নীলুফারের প্রতিবিম্ব। তার কাছে নীলুফার এবং শায়েদের সাধারণ যাওয়া-আসা পরবর্তীতে নেয় এক বৈপ্লবিক মোড়, শায়েদ ক্রমশ সুলেখার দিকে ঝুঁকে পড়ে। শায়েদকে প্রায়ই অবহেলা করে রঞ্জনকে লোভের স্থান দেবার জন্য এই প্রতিদান যেন পায় নীলুফার! তাই, সুলেখার মাধ্যমে নীলু একটা চাকরি পেলেও একসময় সে তা ছেড়ে দেয়, এভাবেই সে বন্ধনমুক্ত হয়, তার লড়াই আর সংগ্রাম অপেক্ষা করে অন্যতর কোন বদলের, যে লড়াই জীবনের, যে সংগ্রাম সম্পর্কের..