জন্ম চট্টগ্রামে। হাইস্কুলের পড়ালেখাও সেখানেই— সেন্ট মেরিজ, মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি ও মুসলিম হাইস্কুল। পরে চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে ঢাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। দৈনিক সংবাদের সাপ্তাহিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ফিচার পাতায় লেখালেখির মাধ্যমে সাহচর্য পেয়েছেন বিজ্ঞান লেখক ও বিজ্ঞান কর্মী আ. মু. জহুরুল হক, আবদুল্লাহ আল-মুতী, শরফুদ্দিন কিংবা এ আর খানের। তাদের অনুপ্রেরণায় নিজেকে বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে ভোরের কাগজে এবং ১৯৯৮ সাল থেকে দৈনিক প্রথম আলোয় বিজ্ঞানবিষয়ক সাপ্তাহিক ফিচার পাতার সম্পাদনা করেছেন। ২০০৩ সালে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদের সঙ্গে থেকে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। বর্তমানে তিনি কমিটির সাধারণ সম্পাদক। গণিতের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রোগ্রামিং প্রসারের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর ‘চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেবো’ নামের প্ল্যাটফর্মটা তরুণদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করছে। গণিত আর বিজ্ঞান নিয়ে লেখার পাশাপাশি যুক্ত রয়েছেন ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির পাঠ্যপুস্তক রচনা ও সম্পাদনায়। বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোয় যুব কর্মসূচি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
বইটা আলোচিত হয়েছে মূলত সমাজে বিদ্যমান কুসংস্কারকে নিয়ে। এই ধাঁচের বই বাংলায় খুব একটা দুর্লভ নয়। কিন্তু তারপরেও এই বইটি অন্যসব থেকে আলাদা। এখানে আলোচিত বিষয়গুলোর প্রায় সবই আমাদের বাংলাদেশের সমাজের মাঝে প্রচলিত সংস্কার কুসংস্কারকে কেন্দ্র করে।
যেমন আমাদের সমাজে কেও খাবার সময় তার হিক্কা-হাঁচি ওঠলে ধারণা করা হয় দূর থেকে কেও বুঝি তার নাম নিয়েছে, আর নামটা খারাপ উদ্দেশ্যে নিয়েছে বলে খাবার সময় এই বাজে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এক শ্রেণির মানুষ আছে এই ব্যাপারটাকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দিচ্ছে। তারা বলছে ট্যালিপ্যাথির মাধ্যমে এই ধরনের ব্যাপার হতেও পারে। একজন অন্যজনের নাম নিলে তরঙ্গ আকারে তা ছড়িয়ে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে পৌঁছায়। :/ কতটা জ্ঞানপাপী হলে এইসব বলে বেড়াতে পারে। কিন্তু মূল সত্য হচ্ছে গলায় খাদ্যনালীর পাশাপাশি শ্বাসনালী অবস্থান করে। খাবার গ্রহণের সময় খাদ্য যদি ভুলে অন্ননালীর পরিবর্তে শ্বাসনালী দিয়ে ঢুকে পড়ে তাহলে এই অবস্থা হয়। খাবার শ্বাসনালী দিয়ে ঢুকলে শ্বাসরোধ হয়, এই অবস্থা কিছুক্ষণ থাকলেই মৃত্যু অবধারিত। এই খারাপ অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য শরীরের এক নিজস্ব অবরোধ, হিক্কা-হাচির মাধ্যমে শ্বাসরোধ অবস্থা থেকে দেহকে রক্ষা করে। অবশ্যই এটা শরীরের খুব ভালো একটা দিক। লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনে মানুষ এই বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। এ নিয়ে অন্য কেও খারাপ উদ্দেশ্যে নাম নিয়েছে তা ভাবার কোনো দরকার নেই।
এই ধরনের অনেকগুলো বিষয় লেখক তার বইতে তুলে এনেছেন। পড়তে মজার।
"মুনির হাসান" স্যারের এই ধরনের একটা বই থাকতে পারে তা ধারণাতে ছিল না। বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির অফিসে আসা যাওয়ার ফলে মুনির হাসান স্যারের সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছিল, যদিও তা খুবই সামান্য। স্যারকে মনে হয়েছিল কনজারভেটিভ। স্যারের গণিতের উপর টুকটাক বই আছে। এই বিষয়ের উপর বই আছে জানতামই না। মুনির হাসান যদি এই ধরনের বই লেখাটা অব্যাহত রাখতেন তাহলে খুবই ভালো লাগতো।
ইদানীং মুনির হাসান খুব ব্যাস্ত, এই সংঘটন ঐ সংঘটন করতে হচ্ছে। বই লেখার সময় নেই বললেই চলে। বইটার ব্যপারে বলা যায় বিলুপ্তপ্রায় একটা বই। ১৯৯৪ সালে এই বইটা লিখেছিলেন। তখনকার সময়ের জন্য কতটা সাহসী কাজ ছিল আর কতটা লেখক কতটা অগ্রগামী ছিলেন, ভাবা যায়?
বাংলাদেশে এমন কোন বই আর লেখা হয়েছে নাকি জানি না। প্রকাশ হবার অনেক পরে মুনির হাসান স্যারের বইটা হাতে পাই। মনে আছে তখন বাবিজসের অফিস নেয়া ছিল কাটাবন ঢালে। অষ্টব্যাঞ্জন রেস্টুরেন্টের পাশে। সপ্তাহে অন্তত একদিন আড্ডা দিতে যেতাম। তখন আবিষ্কার করি বইটা। স্তূপ করে ফেলে রাখা ছিল। স্যার নিজেও আসতেন মাঝে মাঝে। এখনকার চাইতে তখন উনার ব্যাস্ততা কম ছিল তাই দেখা পাওয়া যেত মাঝে সাঝে। আগে শুধু ধারণা ছিল স্যার গণিত আর জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়েই ছুটোছুটি করেন, লিখেন। উনার ঝুরিতে যে এমন কিছু আছে জানতামও না। বিজ্ঞান আর গণিতেই বুদ হয়ে ছিলাম। অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে লিখা এটা পড়ার পর মুনির হাসান স্যারের উপরে উদ্ভুত ধরণের এক মুগ্ধতা কাজ করা শুরু হয়েছিল। যেটা কখনো বলা হয় নি। শুধু একবার বলেছিলাম আরও লিখছেন না কেন প্রতিদিনের এমন টপিক গুলো নিয়ে! এই ধরণের লেখা তো আমাদের দরকার। উনি মৃদু হেসে বলেছিলেন, তোমাদের মধ্যে থেকে কেও এসে শুরু করবে বলে।
সম্ভবত বইটি লেখা হয়েছে 1992 বা ১৯৯৩ এর দিকে অর্থাৎ তখন আমার জন্ম হয়নি বা বয়স এক বছরের নিচে । ভাবতে অবাক লাগে এত বছর আগেই একজন মানুষ কুসংষ্কার থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন । আবাক হওয়ার পেছেনে একটি কারণ একবিংশ শতাব্দীতে একজন প্রকৌশল বিষয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রের মুখে যদি শুনতে হয় " ভাই ওই মেয়ের চুল নিয়ে দিয়েন আমাকে তারপর দেখবেন সে খালি আপনার পিছে ঘুরব ,আপনাকে ছাড়া আর কাওকেই চিনবে না " ।
বই পড়তে পড়তে যে দুটি কাজ বার বার করেছি তার প্রথমটি ছিল লেখকের উইকিপিডিয়া পেজ এ ঢূ মারা । কিন্তু দূর্ভাগ্য বসত তার ব্যাপারে কোন তথ্য নেই । দ্বিতীয়টি ছিল , প্রতিটি পেজ পড়ার সাথে আর আমাকে যিনি বই টি রেকমেণ্ড করেছিলেন তাকে ধন্যবাদ দেওয়া । Emtiaj Hasan ,পারসোনালি তাকে না চিনলেও গুডস রিডস এ এসে তার সাথে পরিচয় । আমি মাঝে মাঝে তার বই পড়া দেখি অবাক হয়ে যাই । তিনি বইটি অনেক আগে রেকমেন্ড করেছিলেন কিন্তু ব্যস্ততার কারনে পড়া হয়নি । ধন্যবাদ ভাই এমন জিনিস রেকমেন্ড না করলে আমার জ়ীবন বৃথা যেত ।
মুক্তি আসে যুক্তির পথ ধরে । ১৯৭২ সালে অবজারভারে প্রকাশিত জ্যোতির্বিদ এম এ জব্বারের নামক একজন জ্যোতির্বিদ ফেব্রুয়ারীর রাতের আকাশের তারা পর্যবেক্ষণের একটি গাইড লিখেছিলেন । চুয়াল্লিশ বছর আগে আমাদের সমাজে রাতের আকাশের তারা দেখার মত এত চমৎকার, পরিশীলিত ও অনুসন্ধিৎসু ছিল (এতটাই প্রবল যে পত্রিকায় গাইড প্রকাশিত হয়!) । তাহলে চার দশকে আমরা ঠিক কতটুকু নীচে নামলাম যে দৈনিক পত্রিকায় রাশিফল প্রকাশিত হয়, চাঁদে সাঈদীকে দেখা যায় আর তারা দেখার গাইড দৈনিক থেকে বিজ্ঞান সাময়িকীতে নির্বাসিত হয়? বর্তমান সময়ে যুক্তির কথা বলতে গেলে ভয় লাগে , তেড়ে আসে নাস্তিক বলে । জ়ীবনের ভয়ে আমি নিজে মাঝে মাঝে কনফিউজড হয়ে যায় ।মাঝে মাঝে মনে হয় আমার জানা সকল বিঞ্জান বইয়ের কথা ভুল হয়ত তাদের ওই বস্তা পচা চটি সমগ্রই ঠিক ।