সেলিম আল দীনের প্রায় লেখাই তন্ময় হয়ে বিস্ময় নিয়ে পড়তে হয়। নিমজ্জনের ক্ষেত্রেও একই কথা। আমার কেন যে মনে হয় বাঙালি পাঠক কুলের মাঝে সেলিম আল দীনের যতটা প্রভাব থাকা দরকার ছিল তেমনটা নেই। সে যা হোক। উনি আমার মতে বাঙলার সেরা রচনাকারদের মধ্যে একজন। কাব্যিক ঢংয়ে উনার মতো গদ্য লেখা আর পরাবাস্তবতার যে আলোছায়া উনি তৈরি করতে পারেন সেটার সমকক্ষ কাওকে আর মনে হয় না। যদিও হুমায়ূন আজাদের অনেক লেখা আলোছায়া তৈরির ব্যাপার আছে। কিন্তু সেগুল অনেক খানি ওয়েস্টার্ন ঘেঁষা লাগে। সেলিম আল দীনে সেই ক্ষেত্রে পুর্ন বাঙালিত্বর ছোয়ায় পরিপূর্ণ মনে হয়। 'নিমজ্জন' সেই ঘরনার লেখার একটি চমৎকার উদাহরণ।
নিমজ্জন বিশ্বমানবের, গল্পহীন গল্পময়তার কাব্য। সবসময়েই এটি আজকের। এটি পাঠ করবার জন্য একটা প্রস্তুতি প্রয়োজন হয় পাঠকের। সেলিম আল দীন বহুপ্রজ যেমন নন, তেমনি সকলের লেখকও তিনি নন। তাঁর পাঠক প্রস্তুত হয়ে, অনেক পড়ে, নিজেকে তৈরি করে নিয়ে পড়তে আসেন সেলিম আল দীনকে। নিমজ্জন-এর জন্য লেখকের একটা প্রস্তুতি ছিল। বোঝা যায়। আমরা দুর্ভাগা, তাই তাঁকে অকালে হারিয়েছি। নইলে এই এক নিমজ্জন-ই আমাদেরকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করে দেবার পথ তৈয়ার কেরে দিয়েছিল।