Jump to ratings and reviews
Rate this book

শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা

Rate this book
কিছুই ভালো যাচ্ছে না মোঃ আবুল কাশেম হাওলাদারের; অন্তত তার এরকমই মনে হচ্ছে অনেক দিন ধ'রে, যদিও তার ভালো যাচ্ছে কী যাচ্ছে না সে-সম্পর্কেও সে নিশ্চিত নয়; যাকে নিশ্চিত হওয়া বলে, তা সে কখনোই হ'তে পারে নি ব'লেই তার মনে হয়, আর এ-সম্পর্কেও সে অনিশ্চিত; দিন দিন তার অনিশ্চয়তা বাড়ছে ব'লেই তার মনে হয়। তার মনে হচ্ছে তার ভালো যাচ্ছে না; কিবতু কত দিন ধ'রে, এবং কী কী ভালো যাচ্ছে না? যদি ঠিক মতো সে বুঝতে পারতো! একেকবার মনে হয় পাঁচ-সাত দিন, আবার মনে হয় চল্লিশ বছর ধ'রেই তার ভালো যাচ্ছে না, এমনকি একশো বছর ধ'রেই ভালো যাছে না, যদিও একশো বছরে সে কখনো পৌঁছোবে না; এ-একটি ব্যাপারেই শুধু সে নিশ্চিত; অনেক সময় সে চল্লিশ বা একশো বছর আর পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছে না, পাঁচ-সাত দিনকেই মনে হচ্ছে চল্লিশ বা একশো বছর, আর চল্লিশ বা একশো বছরকে মনে হচ্ছে পাঁচ-সাত দিন। মোঃ আবুল কাশেম হাওলাদার একজন সফল আমলা, অবসরগ্রহণের অব্যবহিত আগে জীবনের দিকে তাকিয়ে তার মনে হচ্ছে তার পুরো জীবনটাই নিরর্থক গেছে, সে জীবন যাপন করে নি। শ্রাবণের এক ভোরে সে বেরিয়ে পড়ে তার জীবন থেকে, এবং খুঁজে পায় জীবন।

128 pages, Hardcover

First published February 1, 2002

8 people are currently reading
120 people want to read

About the author

Humayun Azad

85 books298 followers
Humayun Azad (Bangla: হুমায়ূন আজাদ) was a Bangladeshi author and scholar. He earned BA degree in Bengali language and literature from University of Dhaka. He obtained his PhD in linguistics from the University of Edinburgh in 1976. He later served as a faculty member of the department of Bengali language and literature at the University of Dhaka. His early career produced works on Bengali linguistics, notably syntax. He was regarded as a leading linguist of the Bangla language.

Towards the end of 1980s, he started to write newspaper column focusing on contemporary socio-political issues. Through his writings of 1990s, he established himself as a freethinker and appeared to be an agnostic. In his works, he openly criticized religious extremism, as well as Islam. In 1992 Professor Azad published the first comprehensive feminist book in Bangla titled Naari (Woman), largely akin to The Second Sex by Simone de Beauvoir in contents and ideas.

The literary career of Humayun Azad started with poetry. However, his poems did not show any notable poetic fervour. On the other hand his literary essays, particularly those based on original research, carried significant value.

He earned a formidable reputation as a newspaper columnist towards the end of 1980s. His articles were merciless attacks on social and political injustice, hypocrisy and corruption. He was uncowed in protesting military rule. He started to write novels in 1990s. His novel Chappanno Hazar Borgomile is a powerful novel written against military dictatorship. Azad's writings indicate his distaste for corrupt politicians, abusive military rulers and fundamentalist Islam. Nevertheless, his prose shows a well-knit and compact style of his own. His formation of a sentence, choice of words and syntax are very characteristic of him. Although he often fell victim to the temptation of using fiction as a vehicle of conspicuous political and philosophical message, he distinguished himself with his unique style and diction.

On August 11, 2004, Professor Azad was found dead in his apartment in Munich, Germany, where he had arrived a week earlier to conduct research on the nineteenth century German romantic poet Heinrich Heine. He was buried in Rarhikhal, his village home in Bangladesh.

In 2012, the Government of Bangladesh honored him with Ekushey Padak posthumously. Besides this, he was honored with Bangla Academy Award in 1986.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
14 (31%)
4 stars
19 (43%)
3 stars
9 (20%)
2 stars
1 (2%)
1 star
1 (2%)
Displaying 1 - 10 of 10 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,669 reviews440 followers
January 6, 2023
"উপন্যাস নয়, আস্ত এক বিষণ্ণ সুন্দর কবিতা পাঠ করলাম" একথা ২০০৫ সালে উপন্যাসটা পড়ার সময় মনে হয়েছিলো। তখন বয়স ছিলো ১৭। সদ্য কলেজে ভর্তি হয়েছি। আবুল কাশেম নামক বিশেষত্বহীন এক মধ্যবয়সী মানুষের সংকট বুঝতে পেরেছিলাম খানিকটা। কিন্তু ২০২২ এ যখন এ বই আবার হাতে তুলে নিলাম তখন আমি নিজেই মৃদু অথচ নিশ্চিত পদক্ষেপে মধ্যবয়সের দিকে এগিয়ে চলেছি। এখন আমি নিজেই পরিণত হচ্ছি আরেকজন আবুল কাশেমে।

আবুল কাশেম এক বৃষ্টিভেজা রাতে জেগে ওঠে,নিজেকে তার অচেনা মনে হয়, নিজের সারাজীবনের দিকে তাকিয়ে শৈশব ব্যতীত সুন্দর কিছুই সে আবিষ্কার করতে পারে না। কিশোর বয়সের সব স্বপ্ন, সব উচ্ছ্বাস বড় হওয়ার পথে কখন মিলিয়ে গেছে তা সে বুঝতে পারেনি। অথচ এমন হওয়ার কথা ছিলো না(কারোই থাকে না), অথচ এমনটা ঘটে (যেমন ঘটে সবার ক্ষেত্রে), সে প্রবল স্মৃতিকাতরতায় আক্রান্ত হয় (যেমনটা সবাই হয়।)
তার শৈশব,কৈশোর এসে হানা দিতে থাকে তার স্মৃতিতে।
এই বইয়ের কাহিনিতে বিশেষত্ব নেই। বিশেষত্ব আছে আজাদের তীব্র, মোহময়, জাদুকরী গদ্যশৈলীতে। শ্রাবণের বৃষ্টির মতো অবিরল শব্দের পর শব্দ বুনে তিনি সৃষ্টি করেছেন ঘোরলাগা এক কৈশোরের, যেখানে সবই সুন্দর। "কিশোর যে দিকে তাকায় সেদিকেই সুন্দর।"

"কিন্তু তার ভেতর বেজে চলে এক মন্ত্র, ঢেউ ও সুরের মন্ত্র, তার ইন্দ্রজালে কিশোর হয়ে উঠেছে স্বাপ্নিক, একমাত্র স্বাপ্নিক পৃথিবীর, তার ভেতরে খেলা করছে স্বপ্নের পর স্বপ্ন, ঘুমের ভেতরে বাস করছে সে, তার ভেতরে ভোর হচ্ছে, পাখি ডাকছে, গাছের পাতায় পাতায় ঘাসের শিখায় শিখায় শিশির পড়ছে রুপোর ফোঁটার মতো । কেঁপে কেঁপে উঠছে কিশোর; সুখে ভ'রে যাচ্ছে; তার রক্তমাংস চোখ ত্বক ঠোঁটে সুখ, সে কোনো অসুখ জানে না, কোনো জ্বর জানে না, তার পৃথিবীতে কোনো ব্যাধি নেই, তার আকাশ ভ'রে আছে সুখে, মেঘে মেঘে সুখ, বজ্রের গর্জনে সুখ, বৃষ্টির শব্দে সুখ, খেজুর ডালের আন্দোলনে সুখ; তার বুকে কোনো কীটের কামড় নেই, হাহাকার নেই, যন্ত্রণা নেই, কোনো দীর্ঘশ্বাস নেই, রাতভর জেগে থাকা নেই। সে সুস্থ, তাকে ঘিরে আছে সুস্থতা; সে ওই ঘাসের সবুজের মতো সুস্থ, ধানের ছড়ার মতো সুস্থ, পুকুরের সরপুঁটির মতো সুস্থ, আর সুন্দর।


বড় হয়ে উঠতে উঠতে কখন এই সুন্দরগুলো হারিয়ে যায়? কখন আর বৃষ্টির শব্দ কানে ঢোকে না? কখন মানুষগুলো যন্ত্র হয়ে যায়? আমরা বুঝতে পারি না। ছোটবেলার তুমুল অর্থহীন সৌন্দর্য ভুলে সফল হওয়ার পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবন থেকে সরলতা হারিয়ে যায়, সৌন্দর্য হারিয়ে যায়, অনুভূতি হারিয়ে যায়। টাকা থাকে, সফলতা থাকে; শুধু জীবনটাই থাকে না। আবুল কাশেম শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবার অপার্থিব সৌন্দর্য দেখে জীবনের দিকে আরেকবার ফিরে তাকাতে পেরেছে। যারা চলতে চলতে জীবনকে হারিয়ে ফেলেছে তারাও আরেকবার জীবনকে ভালোবাসুক, আরেকবার বলুক,"জীবন বড় সুন্দর, ভ্রাতা; জীবন বড় সুন্দর,ভগ্নি।"

(৯ সেপ্টেম্বর,২০২২)
Profile Image for Yeasin Reza.
515 reviews87 followers
March 28, 2023
আজাদের তীক্ষ্ণ ছড়ির মতো অথচ অপূর্ব কাব্যিক গদ্যে লেখা এই উপন্যাস অতীতের বিহ্বল সৌন্দর্যের প্রতি এক অনন্য ট্রিবিউট। উপন্যাসটি ভালো না খারাপ তা বলার জন্য অনেক বিজ্ঞজন আছেন। আমি বরং এই উপন্যাস পাঠের অনুভব ব্যক্ত করতে উদ্ধৃত করছি আমার কৈশোর মাতানো প্রিয় গায়ক Enrique Iglesias এর 'Dónde Están Corazón?' গানটির লিরিক্সের ইংরাজি অনুবাদের অংশ।

Where did the past go that won't return?
Where did your smile go that made me fly?
Where did the key to our excitement go?
Where did the shine of your heart go?

And it goes, like everything.
It goes like the river's water towards the sea.

And it goes, like everything. It goes....

The time that passed and I didn't
know how to see the hours that
don't want to come back.

Where are they, where are they, heart?

Where are the kisses that we knew
how to give?
Where did the past go that won't return?

Where are the days when we knew how to love?
Where are the breeze that came from the sea?

Where are they, where are they, heart??
Profile Image for Shishir.
189 reviews41 followers
July 24, 2025
"আবুল কাশেম দেখতে পায় বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে কিশোর ।

বিকেল, চারদিক নীরব, নিস্তব্ধ, হিজল গাছের পাতাগুলোও পুকুরের পানির মতো স্থির হয়ে আছে; ঘাটে ঘোলা জলে ভাসছে কিশোরের ছোটো নৌকোটি কিশোর দড়ি খুলে নৌকোয় উঠলো, নৌকো ঘিরে আনন্দের মতো ছোটো ছোটো ঢেউ কাঁপতে লাগলো, সে গিয়ে বসলো পাছায়, বৈঠায় ধীরে ধীরে চাপ দিয়ে কিশোর এগোচ্ছে উত্তরের ধানক্ষেতের দিকে।

সে তার নৌকোটিকে বায় একঝোপ কচুরিপানার মতো; কচুরিপানা যখন ভেসে ভেসে যায় তখন যেমন কোনো শব্দ হয় না, মনে হয় সবুজ নীরবতা ভেসে ভেসে যাচ্ছে, সেও তার নৌকো বাইছে নিঃশব্দে, শুধু বৈঠা দিয়ে পানি কাটার ঝিলিকের মতো নরম শব্দটি উঠছে, আর কোনো শব্দ নেই । এই নিঃশব্দতা সুখ দেয় কিশোরকে "।


- এই নিঃশব্দতা পাঠককেও নাড়া দেয়। বৈঠা দিয়ে পানি কাটার শব্দটা আসলেই ঝিলিকের মত নরম। অপূর্ব লাগলো বইটা পড়ে।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,482 reviews565 followers
October 21, 2016
অবসর নিয়েছেন ঝানু আমলা আবুল ওরফে কাশেম হাওলাদার কিন্তু এই অবসর যেন গলার কাঁটার মতো বেঁধে আছে তার কাছে,কোনো ভাবেই ভালো থাকতে পারছেন না তিনি। জীবনের আনন্দের উৎসসব যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়ে তৈরি করছে নিত্যনতুন সংকট
।আবুল সাহেবের প্রকাশ্য বন্ধু আর গোপন শত্রু মারা গিয়েছে বয়সের ফাঁদে পড়ে, এবার বুঝি আবুল ও যায় এমন কুডাক ডেকে ওঠে মন। এমন ই এক সময় শ্রাবণের কোনোএক রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন আবুল সাহেব (বুদ্ধ হবার জন্য না, হুদাই)। সেদিন শ্রাবণের বৃষ্টিতে ভিজে নিজেকে করেন শুদ্ধতম আর বাড়ি ফিরে আসার সময় নিয়ে আসেন দু'টি রক্তজবা! (আমলার ফুলের ওপর হামলা)। একজন আমলা রাতদুপুরে বৃষ্টিতে ভিজে ফুল নিয়ে বাসায় উপস্থিত হলে তা সবার মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এদিকে,আমলা আবুল জীবন কে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শেখে, তার মনে পড়ে কৈশরে সে কত চমৎকার সময় কাটিয়েছে, প্রকৃতির কতো নিবিড়ে ছিলো তার অবস্থান,তার মনে হতে থাকে "নদী আমাদের জীবনের অংশ,মেঘ আমাদের জীবনের অংশ,ঝিঁঝির ডাক আমাদের জীবনের অংশ। " এ ধরনের নানা ভাবনা ছিলো চোখে পড়ার মতো, সেই সাথে পুরো উপন্যাসের বর্ণনা ভঙ্গি যেনো চিত্রময়রূপ, যেনো অনেকটা কাব্যিক যা উপন্যাসে এনে দিয়েছে এক অভিনবত্ব -পাঠক কে একেবারে ধরে রাখবে (যারা চিত্রময়রূপ কাব্য পছন্দ করেন)। বিগত জীবনের নানা ভাবনা তাকে বিব্রত করে তার স্ত্রীর কাছে, হতাশ করে তার ছেলে, তাকে ম্যাড ভাবে তার মেয়ে। এক আমলার শ্রাবণের রাতে হামলা আর আত্মসমালোচনা ই এ উপন্যাসের ভিত্তিমূল।আমি ৩ তারকা দিচ্ছি।



আসেন, কিছু সমালোচনা করি। হুমায়ুন আজাদ আমলাদের জীবনের ওপর হামলা করে আগেও লিখেছেন সে হিশেবে আমলা নিয়ে লেখা পুরনো কনসেপ্ট তবে এসব বিষয় নিয়ে তিনি কত্তো জোশ জোশ লেখা লিখেছিলেন তার স্বাক্ষর আগের লেখনীতে থাকলেও এবার ছিলো পুরোপুরি অনুপস্থিত কেননা হুমায়ুন ভক্তরা তার থেকে প্রথাবিরোধী লেখা পাবেন ব��েই পড়েন সাধারণ মানের লেখা পড়লে নিঃসন্দেহে হতাশা সৃষ্টি করে পাঠক মনে। তবে সার্বিক বিবেচনায় ভালোই লেগেছে -এ টুকুই বলবো।
Profile Image for Nazrul Islam.
31 reviews1 follower
May 18, 2018
এতদিন শুধু ফ্লয়েডের সাইকেডেলিয়াতে ডুবতাম, ভাসতাম। অথচ এই বৈশাখের বৃষ্টিতে পড়া 'শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা ' যেন আমার মস্তিষ্কে ব্র্যান্ড নিউ সাইকেডেলিক ঝড় বইয়ে দিয়েছে । গ্রামের বাড়িতে যখন অনেকদিন পর বৃষ্টি আসতো তখন বিভিন্ন নালা দিয়ে ঘোরের মত করে পানি গড়িয়ে নামতো ,আমাদের কাছেই তাই ছিল নদী ,সাগর সব আর আমরা আশে পাশে হালকা যাই পেতাম ভাসিয়ে দিতাম আর পিছন পিছন মোহবিষ্ট হয়ে ছুটতাম। শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা পড়তে তেমনি একই ধরনের আরামদায়ক অবশ অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে এবং এই ধরনের সাইকেডেলিক অনুভূতি এর আগে কোন লেখায় পাই নি। পাঠককে অলসভাবে মোহগ্রস্থ করে যেন পর্দায় সমাজ,পরিবার , সম্পর্কগুলোর শরীরের ভিতরে জমে থাকা বিষাক্ত, নোংরা চর্বি গুলোকে বের করে ঘেটে ঘেটে দেখানো এবং পোড়ানো হয়েছে কাব্যিকভাবে -পিছনে আর্তনাদ করে বেজেছে সেলো। কাশেম এবং তার জগত এর ইলুশন আর রক্তিম , সতেজ জবার রক্তের নদী, গন্ধরাজের গন্ধের সাথে আমরা হয়ে যাই কাশেম , আমরাও কাশেমের পুকুরের সাঁতার কাটতে হয়তো চাই বা চাইবো কখনো, আমরাও রক্তজবা বুকে নিয়ে বসে থাকবো আর আর কাশেমের কথা ভাববো , আরো সহস্র রিকার্সিভ কাশেম এবং আর জবার ছবি তৈরি করবো । কীইবা করার আছে এই অসীম রূপধারী হয়তো-সসীম খাঁচায় রজনীগন্ধার চাঁড়া বাড়িতে যাওয়ার আকুতি ছাড়া! বইটির প্রচ্ছদ ১০ এ ১০ মানের।
Profile Image for M.Nobi.
5 reviews
April 12, 2021
দারুণ একটা বই। জীবনকে আরেকবার নতুন করে বুঝতে সাহায্য করবে। মানুষ তার ক্যারিয়ার, প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়াতে গিয়ে কিংবা নিজের, সমাজের অথবা আত্মীয়-স্বজনের চাহিদা মেটাতে গিয়ে কিভাবে নিজের সুকুমার প্রবৃত্তিগুলো থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়- তার সুন্দর এবং জীবন্ত ছবি অংকিত আছে এই বইয়ে। বইয়ের মূল চরিত্র জীবন মৃত্যুর খুব কাছাকাছি আসার পর হঠাত একদিন অনুভব করতে পারে এই সত্য। বুঝতে পারে- সে আসলে যে জীবন যাপন করছে, তা আসলে নিজের জীবন নয়। আর এই ভুল জীবন যাপিত করতে যেয়ে ভুলেই গেছে কি তার প্রিয়, কি সে ভালোবাসতো, কিসে তার সুখ। সে ভুলে গেছে তার ছেলে মেয়ের সাথে কেমন সম্পর্ক! কিংবা স্ত্রীর সাথেই বা কেমন।

ভাবতে গিয়ে চোখ খুলে দিয়েছে তার সহধর্মিনিরও, যেও কি-না এই জীবন কেই নিজের এবং সুখের ভেবে ভুল করে আসছে এত্তোগুলো বছর। আসলেই কি আমরা আমাদের জীবন যাপন করতে পারছি? সত্যিকারের নিজেদের জীবন! যে জীবন টা জোনাকি দেখার মতো সুন্দর! কিংবা সুন্দর গন্ধরাজের ঘ্রানের মতো!

আবুল কাশেম তো এই সত্যের মুখোমুখি আসতে পেরেছে। কিন্তু আমার মনে হয়, বেশির ভাগ মানুষই মারা যায় এই ভুল জীবনকে সত্য ভাবতে ভাবতেই। নিজের জীবনকে ভুল পোষাকে ঢেকে রাখতে রাখতেই!
Profile Image for Khaled Tamim.
53 reviews3 followers
February 7, 2018
বইটাতে আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই।মিডলাইফ ক্রাইসিস?নাকি ঘুণে খাওয়া আমলাতন্ত্রের প্রতি তীব্র কটাক্ষ?সবকিছু ছাপিয়ে কাশেম সাহেবের একান্ত নিজস্ব একটা জগতের পরিচয় পাওয়া যায়।জীবনের অনেকগুলো শ্রাবণ আমলাতন্ত্রের জটিলতা আর ব্যস্ততায় পার হয়ে যাবার পর এক শ্রাবণের বৃষ্টিতে কাশেম সাহেব জীবনের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন।বুকপকেটে দুটো রক্তজবা নিয়ে।
হুমায়ূন আজাদের সুদৃঢ় লেখনি বইটাকে দিয়েছে অন্য মাত্রা।
Profile Image for Mosharaf Hossain.
128 reviews99 followers
October 23, 2016
হতাশার ছাদরে হারিয়ে যেতে থাকে আবুল কাশেম। জীবনকে কোন ভাবেই আঁকড়ে ধরতে পারছিলো না সে। তার কি হয়েছে, এই প্রশ্নের উত্তর সে জানেনা। সে খুঁজতে চেষ্টা করে, কিন্তু জানেনা কার কাছে উত্তর খুঁজবে। হুমায়ুন আজাদের অসাধারণ আরো একটা লেখনি। শব্দ দিয়ে আঘাত করেছেন ঘুনে ধরা সমাজের নানা স্তরে। অসাধারণ বই।
Profile Image for Pathok Bolchi.
97 reviews5 followers
October 5, 2023
কয়েকদিন আগের কোনো এক বিষন্ন বিকালে হঠাৎ আমার মধ্যে 'কিছু একটা' হয়। আমার মনে হচ্ছিল, আমাকে কেউ খেয়ে ফেলবে। কারো চিন্তা কিংবা আমার তৈরি করা কোনো কিছুর চিন্তা আমাকে চেটেপুটে খেয়ে ফেলবে সেজন্য আমাকে পালাতে হবে শহর থেকে, মানুষ থেকে কিন্তু বাংলাদেশের রাজধানী থেকে কিন্তু সেটা পসিবল না। আমি রাস্তায় চলন্ত একটা বাস থামিয়ে, উঠে পড়ি। কোথায় সেই বাসের গন্তব্য আমার ঠিক জানা ছিল না। আমি জানার চেষ্টা করিও নি। এক সময় বাসের কনটাক্টার এসে টাকা চাইলে তাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি বাসটি শাহবাগ রুটের। আমি ঘণ্টা দুই পর তীব্র বৃষ্টির মধ্যে বাস থেকে শাহবাগ নামি। অভ্যাস মত আমার পরিচিত ঢাবির চারজন ফেন্ডকে ফোন দেই।তারা প্রকৃতির নিয়ম মত আমাকে ইগনোর করে। আমার তখন কোথাও যাওয়ার থাকে না। আমি হাঁটতে থাকি। হাঁটতে হাঁটতে বইয়ের দু নম্বর কারখানা নীলক্ষেতে পৌঁছায়। আসলে আমি নীলক্ষেতে বই কিনতে তেমন যায় না।কিন্তু নীলক্ষেত আমাকে ডাকছিল কেমন করে জানি। আমি যেতে না চাইলেও সেদিন নীলক্ষেত যেন রক্তমাংসের মানুষ হয়ে আমাকে ডাকছিল।

হঠাৎ করে একটা বইয়ের নাম আমাকে এত বেশি আকর্ষিত করে যে আমি বইটা থেকে চোখ ফিরাইতে পারি নি। তখন আমার ইয়ারফোনে বাজছিল পিংক ফ্লয়েডের 'Hey you'- এর,
Hey you with you ear against the wall
Waiting for someone to call out
Would you touch me?
Hey you, would you help me to carry the stone?
Open your heart, I'm coming home'
কী মিষ্টি নাম বইয়ের নাম, 'শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা'। তারপর দেখি বইটির লেখক আমার ফেভারিট কবি, হুমায়ূন আজাদ। আমি বইটি হাতে নিয়ে দেখি বৃষ্টির মত নরম, জবার মতন রক্তাক্ত, শ্রাবণের মতন মন খারাপের। বিষম একা একটি মানুষের গল্প এই বইটি।পড়ার পর দেখি একটা আমি নিজেই ফিকশনের ক্যারেক্টর আবুল কাসেম।

শ্রাবণের এক ভোরে আবুল কাসেম বেরিয়ে পড়ে তার জীবন থেকে এবং জীবনের মানে খুঁজতে থাকে এবং এক সময় তার নিজের জীবনকে সে খুঁজে পায়ও। হুমায়ুন আজাদ প্রথাগত ধ্যানধারা সচেতনভাবে পরিহার করতেন যা তার উপন্যাস কিংবা কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য। একা একজন মানুষ এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে তার সব আছে পরিবার আছে, টাকা আছে, ক্ষমতা আছে কিন্তু সে একা। সবাই তার সামনে খুবই ফেইক এবং সে নিজেও সবার সামনে। কিন্তু তার সাহস আছে খোসল ঝেড়ে ফেলার কিন্তু অন্যদের নেই। আবুল কাসেমকে সবাই ইউস করে কিন্তু কেউ তার আপন হতে চায় না।

হুমায়ূন আজাদ আমাকে বারবার মুগ্ধ করে। আমার মৌলিক চাওয়া ইচ্ছে স্বপ্নকে তার মতো করে কেউ পোর্টেট করে নি। আজ থেকে 'শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা ' বইটি প্রিয় হয়ে থাকবে।
Profile Image for S M Shahrukh.
127 reviews67 followers
May 12, 2017
হুমায়ুন আজাদের লেখা 'শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা', তাঁর লেখা আমার পড়া প্রথম বই। প্রথাব���রোধী লেখক হিসেবে তার খ্যাতি, তা তিনি বটে। তবে এই উপন্যাসে অন্তত তাকে বেশি আবেগতাড়িত মনে হয়েছে, তাঁর লেখা গোছানো মনে হয়নি, গ্রামের চিত্রকল্প উপভোগ্য কিন্তু বেশি দীর্ঘ ও পুনরাবৃত্তির দোষে দুষ্ট। আমলাদের উপর আক্রমণ অনেকের কাছে অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে কিন্তু বাস্তবতা তাঁর পক্ষে আছে, স্বামী-স্ত্রীর কথোপকথন খুবই enlightening। এখানে মিড-লাইফ ক্রাইসিস ফুটে উঠেছে, মানুষের জীবনের এই সময়ে মৃত্যু-চিন্তার স্বাভাবিকতা এসেছে- জীবনের এ-পর্যায়ে মানুষ বোঝে যে, জীবনের ফেলে আসা পথ সামনের পথের থেকে অনেক দীর্ঘ, তা থেকে এক রকম বিষণ্ণতা আসে, আসে জীবনকে ফিরে দ্যাখার আকাঙ্ক্ষা, তা থেকে অনেক বিপত্তি ঘটতে পারে বৈকি।
Displaying 1 - 10 of 10 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.