দহনকাল, যে পথে জেমস জয়েস হাঁটতেন, মৃদু মায়াময় হেমন্তের দিনগুলো- এইসব শিরোনাম থেকে আভাস মেলে জীবনের বিচিত্র বিষয় নিয়ে মুক্ত গদ্যের বই এটি । শিক্ষিত আধুনিক নিঃসঙ্গ ব্যক্তির দিনযাপনের আলো-আঁধারময় নানা চিত্র কথাসাহিত্যের রসে ভিজিয়ে পরিবেশিত হয়েছে ছোট ছোট লেখায়।
আহমাদ মোস্তফা কামালের জন্ম মানিকগঞ্জে। তার বাবার নাম মুহাম্মদ আহমাদুল হক এবং মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা আহমেদ। পাঁচ ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। মানিকগঞ্জের পাটগ্রাম অনাথ বন্ধু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে এসএসসি, ১৯৮৮ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯২ সালে স্নাতক, ১৯৯৩ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে এম ফিল এবং ২০১০ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পেশাগত জীবনের শুরু থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি।
লেখালেখির শুরু '৯০ দশকের গোড়া থেকেই। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘দ্বিতীয় মানুষ’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে, এরপর আরো ছ’টি গল্পগ্রন্থ, ছ’টি উপন্যাস ও চারটি প্রবন্ধগ্রন্থ বেরিয়েছে। তাঁর চতুর্থ গল্পগ্রন্থ ‘ঘরভরতি মানুষ অথবা নৈঃশব্দ্য’ ২০০৭ সালে লাভ করেছে মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রথম আলো বর্ষসেরা বই’ পুরস্কার, দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অন্ধ জাদুকর’ ভূষিত হয়েছে ‘এইচএসবিসি-কালি ও কলম পুরস্কার ২০০৯’-এ, তাঁর তৃতীয় উপন্যাস ‘কান্নাপর্ব’ ২০১২ সালের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে লাভ করেছে ‘জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩’।
১.অরুণ মিত্র অনেক বছর আগেই লিখেছেন, "আমি মুখোশ খুলে রেখেছি এখন আমি তোমাদের জন্য নই।" আহমাদ মোস্তফা কামাল উল্টো মুখোশ খুলে রেখে পাঠকের সামনে হাজির হয়ে অকপটে লিখেছেন এই মুক্তগদ্যের বই। মনে হয় একটা মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থলে উঁকি দিয়ে দেখছি।এতো সহজ, নিরাভরণ, হৃদয় নিংড়ানো লেখা। লেখক বরাবরই সহজ ও স্পষ্টভাবে তার বক্তব্য লেখায় ব্যক্ত করে থাকেন। এ সারল্য অনেক সময় তার গল্প উপন্যাসের গভীরতা কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এ বইয়ের জন্য এমন অনাড়ম্বর ও সোজা গদ্যভাষাই দরকার ছিলো। লেখকের মা, বাবা, ভাই, শৈশব ও কৈশোরের গ্রাম, হেমন্ত ও বর্ষার স্মৃতি, পুরনো বই, ঘাস, পাখি, প্রিয় লেখকদের দিনলিপি, জীবনদর্শন -এসব নিয়েই "একদিন সবকিছু গল্প হয়ে যায়।"
লেখকের জীবনে মৃত্যু বারবার হানা দিয়েছে।কৈশোরে বাবাকে হারিয়েছেন, নিজের ভিটেমাটি পদ্মার ভাঙনে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে, তার প্রিয় মা মারা গেছেন রোগে ভুগে, মায়ের মৃত্যুর কয়েকদিন আগে মারা গেছেন বড়বোন, অসুখে পড়ে অকালমৃত হয়েছেন তার পিঠাপিঠি ভাই। এতোসব গভীর বেদনা লুকিয়ে রেখে লেখক তার "অনুপম-সজীব-নির্বিকল্প" গদ্যে যখন গল্প বলে যান তা মুগ্ধ হয়ে পড়া ছাড়া উপায় কি?
২.বইটা পড়তে পড়তে বারবার মনে হচ্ছিলো -এই যে লেখক এতো অকপটে নিজের হাসি, কান্না, ত্রুটি, ব্যর্থতা; নিজের অলৌকিক আনন্দ ও অনুভবের কথা বলে যাচ্ছেন, এই তুলনারহিত সারল্য তিনি পেলেন কীভাবে? বোঝা যায় এ সারল্য অনেক সাধনার ফসল। সহজে যেমন তিনি নিজের ভালোলাগার বর্ণনা দেন, তেমনি অনেক নির্মম সত্যও বলে যান।যেমন-
" এখন বুঝে গেছি, আমার বেঁচে থাকার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। চলে গেলেও সবকিছু চলবে,কিছুই থেমে থাকবে না আমার জন্য। এখন ঘুমের মধ্যে একটা নিঃশব্দ মৃত্যু ছাড়া আর কিছু চাওয়ার নেই আমার।"
বইটা পড়তে পড়তে আমার আরেকটু সরল,নত ও অকপট হতে ইচ্ছা করেছে। জীবনকে আরেকটু ভালোবাসতে ইচ্ছা করেছে। এটাই অনেক বড় পাওয়া।
গল্প আসলে কি? আমাদের জীবন অথবা পারিপার্শ্বিকে কত শত ঘটনার প্রবাহ।সবই কি গল্প হয়? একটা ঘটনা তখনই গল্প হয় যখন একজন সংবেদনশীল গল্পকার সেই ঘটনার অন্তরালে সামঞ্জস্যপূর্ণ শাশ্বত একটি পূর্ণ চিত্র খাড়া করেন।
আহমাদ মোস্তফা কামাল পরম যত্নে উনার জীবনের গহীনতর স্মৃতি,বেদনা,বোধ আর অনুভূতির ধীরে ধীরে গল্প হয়ে যাবার গল্প এই বইয়ে আমাদের শুনিয়েছেন। জীবনের একেকটি পর্বের এভাবে গল্পে পরিণত হবার গল্প তিনি শুনিয়েছেন পরম আন্তরিকতা ও অসম্ভব মায়াময় এক গদ্যের সাথে। পড়তে পড়তে একটা সময় আমি মানসচক্ষে নিজের জীবনকেও গল্পে রুপান্তরিত হতে দেখি কিন্তু আহা আমার কাছে সেইসব গল্প শুনাবার মতো জাদুর কলম কই?!
জীবনের কিছু অনুভূতি আছে যা ভাষায় অপ্রকাশযোগ্য। কাফকার মতে তা প্রকাশ করলে হয় দুর্বল অনুবাদ। এজন্য নীরবতার কাছে সমর্পিত হওয়ায় স্বস্তিদায়ক মনে হয়।
আহমদ মোস্তফা কামাল এই নীরবতাকে মোটামুটি শক্তিশালী ভাষায় অনুবাদ করতে সক্ষম হয়েছেন। আমাদের নীরবতাকে ভাষা দিয়েছেন আমাদের অব্যক্ত অনুভূতিমালা প্রকাশের মাধ্যমে। আর সেই ভাষায় প্রকাশটা হয়ে ওঠেছে আমাদের সকলের আত্মজীবনী আর স্মৃতিকথা। যা আমাদের নস্টালজিক করেছে।
ডায়েরি কথা, মা আর পরিবারের কথা, কৈশোরপর্ব, অশ্রুজল, সম্পর্ক, প্রিয়জন, ব্যক্তিগত লাইব্রেরি, দহন, ঋতুবৈচিত্র্য, বৃষ্টি, বিমূঢ়তা, ব্যক্তিগত-সামাজিক-রাজনৈতিক সম্পর্ক, নির্জনতা আর সবকিছু একদিন গল্প হয়ে যাওয়ার বেদনাবিধুর স্মৃতি কথায় ১৬টা মুক্তগদ্যে লেখা মহান এই বই 'একদিন সবকিছু গল্প হয়ে যায়' আমার পছন্দের বইয়ের তালিকায় থাকবে।
সরলভাবে জটিল অথচ পরিচিত অনুভূতিমালা প্রকাশের সক্ষমতা যার আছে সেই তো মহত্তত শিল্পী। যারা পাঠকের খুবই ঘনিষ্ঠ। যাদের লেখা পড়ে ফিকশন আর নন-ফিকশনের ফারাক বোঝা দুঃসাধ্য।
কিছু কিছু বই থাকে পড়ার সময় বারবার দেখতে ইচ্ছা করে আর কত পেইজ বাকি। এই বইগুলো আবার দুই রকম হয়, এক ধরনের থাকে যেগুলো শেষ হলেই বাঁচি, শেষ হচ্ছেনা কেনো!, আরেক ধরনের হলো ইশ! এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাচ্ছে কেনো বইটা! এই বইটা হলো দ্বিতীয় ক্যাটাগরির বই।
এই ক্যাটাগরির বইগুলো আমার শেষ করতে ইচ্ছা করেনা। পড়লেই তো শেষ। তাই আস্তে আস্তে পড়তে ইচ্ছা হয় খুব।
বইয়ে উঠে এসেছে লেখকের জীবনের শৈশব, কৈশোর, বাবা মার স্মৃতি, লেখক হওয়ার স্মৃতি, নিজের ভেতরে জমাট বাধা দুঃখের কথা, এক ফোঁটা বৃষ্টির কথা, জীবনের অসারতার কথা, নির্জনতার কথা, একাকীত্বের কথা, সংসারের কথা, সম্পর্কের কথা, বর্ষার কথা, তার গ্রামের কথা আরও কত কথা! সবই তার নিজের জীবনের কথা।
মিষ্টি একটা বই। যে বই বারবার পড়া যায়। মন খারাপ থাকলে, যে কারনে মন খারাপ তার সাথে মিলে যায় এমন একটা টপিক হয়তো এই বইয়ে পেয়ে যেতেও পারেন, তখন পড়লে মন যে ভালো হয়ে যাবে তা না, তবে একটা অদ্ভুত melancholy তে মন ছেয়ে যাবে।
বইয়ের ভালো না লাগা কিছু বিষয়: লেখক কেমন যেন পেসিমিস্টিক মানুষ। অলস মানুষ। আমি এধরনের মানুষকে দেখতে পারি না। জীবনের যা কিছু সুন্দর, জীবনে যা কিছু উত্তেজনার, জীবনে যা কিছু অর্জনের, জীবনে যা কিছু ছোঁয়ার ব্যাকুলতা রাখে, সব কিছুকেই ধরতে চাওয়ার মাঝে, ছুঁতে চাওয়ার মাঝে, নিজের করতে চাওয়ার মাঝে জীবনের একটা তৃপ্তি আছে, পূর্ণতা আছ। দুঃখের মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে না, দুঃখকে বুকে ধারণ করে না, দুঃখের সমুদ্রে জীবনের তরী ভাসিয়ে দিয়ে অর্জনের নেশায় উল্লসিত একজন মানুষ হতে পারাটাও জীবনের একটা স্বার্থকতা। কিন্তু লেখক কেমন যেন দুঃখের মাঝে প্রতিবারই ডুব দিতে চেয়েছেন, জীবনের ঐশ্বর্যকে শুধু দেখতে চেয়েছেন, পরখ করতে চান নাই [যেমন অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও লেখক ভেনিসের ওই মহিলার সাথে কথা বলল না] (এটা অবশ্য আমার ধারণা, আমার বোঝার ভুলও হতে পারে)।
আলিফকে ধন্যবাদ এই বই মেলায় এতো সুন্দর একটা বই উপহার দেওয়ার জন্য।
এটাকে আহমাদ মোস্তফা কামালের জার্নাল অথবা ডায়েরি বলা যায়। যদিও তিনি পরিচয় দিয়েছেন মুক্তগদ্য হিসেবে। সে যাই হোক, পুরোটা জুড়েই মিলেছে তার প্রচুর স্মৃতিচারণ ও নানান রকম ভাবনা। স্মৃতিচারণে আবার বড় অংশ জুড়ে আছে তার মমতাময়ী মায়ের কথা এবং নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়া গ্রামের কথা। সেই গ্রামে কাটানো ছোটবেলার দিনগুলোর কথা যখন বর্ণনা করেন তা আমাকে টেনে নিয়ে যায় আমার ছেলেবেলায়। ভিন্ন সময়, ভিন্ন প্রেক্ষাপট এক্ষেত্রে কোনো বাধাই নয়। উনার লিখাতে রোমন্থন করি ফেলে আসা নিজের শৈশব, কৈশোর। সমস্ত বই জুড়েই আবেগের ছড়াছড়ি। সেই আবেগ ছুয়ে গিয়েছে আমাকে। বহুদিন মনে রাখার মতো বই নিঃসন্দেহে।
একদিন যা শব্দবর্ণগন্ধময় বর্তমান ছিলো তা একটা সময় পরে গিয়ে গল্প হয়ে যায়। যে গল্পের ভেতর দিয়ে পিছুডাকে ফেলে আশা অতীত। সেই অতীতের পায়ের শব্দ আমাদের বিচলিত করে। নিজেকে বয়ে চলা প্রতিটা মানুষ একসময় নিজেকে প্রশ্ন করে, কার কিংবা কিসের জন্য এই জীবনকে বয়ে চলা? ভ্রম হয় এই ভেবে যে ফেলে আসা সেই দিনগুলো কী তবে সেই বর্ণালি দিন নাকি সমানের দিনগুলো… আমরা জীবনে হরেকরকম গল্প বয়ে চলি আর আহমাদ মোস্তফা কামাল সেই গল্পের কিছু কিছু তার ঝুলি থেকে বের করে তার পাঠকদের সামনে রেখেছেন। যেখানে আনন্দ, হাসি, কান্না, দুঃখ কষ্ট সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। আর তার সহজ গদ্য যেন স্বচ্ছ জলের নীচে সূর্যের আলোয় প্রতিফলিত হওয়া স্বর্ণাভ বালুচর। এত সহজ এবং সাবলীল ভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে না জানি কতবার ভাঙতে হয়েছে নিজেকে এবং তার নিজের লেখাকে। আমরা তো জানি সব কিছু সহজে বলা যায় না কিংবা চাইলেও সহজে সকলের সামনে উপস্থাপন করতে পারি না। উপস্থিত হয় বলার পথে নানা ধরনের জটিলতার। কিন্তু সেইসব জটিলতা যেন উধাও করে দিয়ে তিনি বলে চলেছেন উদ্বাস্তু জীবনের কথা, ফেলে আসা পদ্মার পাড়ের কথা, সোনালু ফুলের কথা। যে জানলার এপাশ থেকে দেখা যায় না এক চিলতে আকাশও, সেই জানলার এপাশে বসে বসে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে লেখকের লেখার সাথে। ঐ যে 'শব্দবর্ণগন্ধময়' এই শব্দটার মানে হয়তো একসময় জানলেও বর্তমানে নাগরিক ফাঁদে পড়ে ভুলে গিয়েছি। ঋতু আসে আর ঋতু যায় অদ্ভুদ বিষণ্ণতায় তাকিয়ে থাকি সবকিছুর দিকে। তবুও গল্পের সৃষ্টি হয়, এমন না বলা গল্পগুলো বলা হয়ে ওঠে না আমাদের। আর যারা বলেন তারা হয়ে ওঠেন সবচেয়ে সুন্দর এবং পবিত্র গল্পকার। যার এমন সুন্দর কয়েকটা গল্পের জন্য আমরা অপেক্ষা করি দীর্ঘসময় ধরে। আর সেই অপেক্ষা গল্পের মধ্যেও একদিন সবকিছু গল্প হয়ে যায়…
এই বইটাকে এক উপমায় "Pocket Full of Sunshine" বলা চলে। শতকষ্টের মাঝেও ছোট ছোট অনেক বিষয় থেকে আনন্দ খুঁজে নেয়ার পাঁয়তারা পুরো বই জুড়ে। ফ্ল্যাপে লেখা অনুযায়ী এগুলোকে ফিকশন-ননফিকশনের সংজ্ঞায় বাঁধা যাবে না ঠিক, তবে কোনোটাই আপনাকে হতাশ করবে না। জীবন সম্পর্কে লেখকের উপলব্ধিগুলি অনুসরণ করলে আমরাও সুন্দর করে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির একটা ট্রেড অফ করে নিতে পারবো আশা করি। সুখপাঠ্য এই বইটি পড়বার আমন্ত্রণ রইল।
" বাড়িই নেই , ফিরবো কোথায় ? আমার তাই আর ফেরা হয় না কোথাও । বাতাসে ভেসে বেড়ানো শিমুল তুলোর মতো - যা কোথাও থামে না এক মুহূর্তের জন্যও -আমিও ভেসে বেড়াই অনির্দিষ্টকাল ধরে , বিরামহীন , দিকচিহ্নবিহীন ! "
" নিজের ভেতরে উপলব্ধি করেছি এক দ্বৈতসত্তাকে , একজন নিজেকে প্রকাশ করতে চায় অথচ প্রকাশের ভাষা তার জানা নেই , আরেকজন নিজকে আড়াল করতে চায় অথচ আড়াল করার পদ্ধতি তার অজানা । "
বই পড়লাম নাকি নিজেকে পড়লাম ভাবছি। সারাক্ষণ একটা শূন্যতা, দহন, পিছুটান, আকুলতা খেলে গিয়েছে মনের ভেতর। এত আপন, চেনা আর আমার একান্ত অব্যক্ত সব অনুভূতিতে ঠাসা বইয়ের প্রতিটা অধ্যায়! বই পড়ার সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক ব্যাপার আমার কাছে এটাই। অন্যের লেখনীতে নিজেকে খুঁজে পাওয়া। দিন যত যাচ্ছে নিজেকে হারিয়ে কিংবা হারায়ে একপ্রকার ভগ্নাংশই মনে হয়। এরই মধ্যে এমন মুক্তগদ্য নিজেকে যেন নিজের সামনে এনে দাঁড় করায়। লেখকের ভাষায় ঠিক যেন দর্পণ। অকপটে যেন লেখক আমারই হয়ে স্মৃতিঘর চষে বেড়িয়েছেন। কখনও মায়াময় অতীত আগলে ব্যাকুল হয়েছেন, দীর্ঘশ্বাস ঝেড়েছেন বর্তমানের নাগরিক যান্ত্রিকতায়।
ছোট্ট করে শুধু এটুকুই বলতে পারি, পুরোনো দিনে মজে থাকা কাঙাল ভগ্ন হৃদয় একটা নির্মোহ আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে এই বইটির ভেতর। জীবনানন্দ, তারাপদ রায়, সুনীল-দের পর আবারও কারও লেখা এতটা আপন অনুভব হলো।