শিশুসাহিত্য শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন রবীন্দ্রনাথ, আর ‘ছড়াসাহিত্য’ শব্দটি প্রথম আসে রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর কলমে।
১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে (১৩০১ বঙ্গাব্দ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘মেয়েলি ছড়া’ প্রবন্ধে লিখেছিলেন : ‘ভালো করিয়া দেখিতে গেলে শিশুর মতো পুরাতন আর কিছুই নাই। দেশ কাল শিক্ষা প্রথা অনুসারে বয়স্ক মানবের কত নতুন পরিবর্তন হইয়াছে, কিন্তু শিশু শতসহস্র বছর পূর্বে যেমন ছিল আজোও তেমনি আছে। সেই অপরিবর্তনীয় পুরাতন বারংবার মানবের ঘরে শিশুমূর্তি ধরিয়া জন্মগ্রহণ করিতেছে, অথচ সর্বপ্রথম দিন সে যেমন নবীন তেমন সুকুমার যেমন মূঢ় যেমন মধুর ছিল আজও ঠিক তেমনি আছে।
এই নবীন চিরত্বের ধারণ এই যে, শিশু প্রকৃতির সৃজন। কিন্তু বয়স্ক মানুষ বহুল পরিমাণে মানুষের নিজকৃত রচনা। তেমনি ছড়াগুলিও শিশুসাহিত্য; তাহারা মানবমনে আপনি জন্মিয়াছে!’
মমতা বন্দোপাধ্যায় কবিতা লিখছেন বহুদিন ধরেই। তিনি ছোটদের একটি বইয়ের ভূমিকায় লিখেছিলেন: ‘ছোটরা আমার খুব প্রিয়। শিশুদের আমি নিজের মতো করে ভালবাসি। তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ, তারাই দেশের সম্পদ, তারাই বাংলা মায়ের যত মত, তত পথের আলোকবর্তিকা। ওদের কিছু কথা আমার মনকে দোলা দিয়েছে’।
আজব ছড়া সেই ভাবনারই ফসল। এই বইয়ের প্রত্যেকটি কবিতা মনকে নাড়া দেয়। ভাবতে বাধ্য করে।
কাব্যসৃষ্টির জন্য কবির অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধি থাকা দরকার। অভিজ্ঞতা ব্যতীত কল্পনার বিস্তার কিংবা বৈচিত্র্য থাকা সম্ভবপর নয়। সব শিল্পী মাধ্যমনির্ভর। মাধ্যমকে বশে না আনতে পারা পর্যন্ত সে মাধ্যমে সৃষ্টি অসম্ভব। কবির আত্মপ্রস্তুতির জন্য তাই মাধ্যমচর্চা একান্ত প্রয়োজন। এইটাই হলো কাব্যিক মননশীলতার অপরিহার্য অঙ্গ।
বাংলা কবিতায় ইদানিং যাঁরা বুৎপত্তি দেখিয়েছেন , তাঁদের সম্মিলিত ভাবরূপের পরাকাষ্ঠা দেখি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মধ্যে। মহাপ্রতিভাধর এই নারীর সৃজনশীলতার দীর্ঘ জীবন অনুসন্ধান করলে বলাই যেতে পারে যে উনি অনন্যা। ঐক্যের মধ্যে উনি দেখিয়েছেন বৈচিত্রকে ,করেছেন একের মধ্যে বহুর সাধনা।
"আজব ছড়া" বইটি সত্যি আজীব! বড় হয়ে যাচ্ছি যে বইটা যেন পরদে পরদে মনে করিয়ে দিচ্ছে! সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতে হবে, তেল মাখিয়ে কালো করার জন্য কেউ অপেক্ষা করবে, এমন কিছুই এখন হয় না! সবাই সবার মত মানুষ হচ্ছে প্রকৃতির মাঝে।
বইটির একটি জায়গায় আছে, গীতা -বাইবেল-কোরান সবার মাঝেই মহান গ্রন্থসাহেব আর ত্রিপিটক সবই মোদের সোপান।
সবার চেয়ে মানুষ বড় মানুষ হওয়া নয়কো সহজ মানুষ যদি হতে হয় এসো গড়ি জীবন জাহাজ!
অর্থপূর্ণতা যেন হৃদয়ে মাঝে থাকা দেয়াল সরিয়ে দেয়। এই কেমন মানুষ আমরা, যাহার মাঝে মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার প্রবণতা নেয়। এই সুবিশাল আকাশে "মমতা ব্যানার্জী" যেন এক খুদে জাদুকর মানুষ তৈরীর কারখানায়। তাহার বইয়ের মাঝে যেন ছোটরা নিজেদের খুঁজে পায়, বাঁচার উৎসাহ পায়। পায় জীবনে এগিয়ে চলার মূলমন্ত্র