Shukurbek Beyshenaliev (Шукурбек Бейшеналиев) was a Soviet writer of Kyrgyz origin. He wrote numerous stories about the lives of his fellow Kyrgyz people. One of his best-known works is The Horned Lamb, an award-winning children's book that was translated into English and Bengali, among other languages
ছোট্টো একটা বই, ছোট্টোদের জন্যেই। ছোট্টো ছোট্টো টুকরো ঘটনার ভেতর দিয়ে মেষচারক শিশুর পরিণত জীবনের প্রথম সাক্ষাৎলাভের গল্প। ছাপচিত্রে (বা তার আদলে আঁকা) অলঙ্করণ খুব পছন্দ হয়েছে।
জলবায়ুর বৈভিন্ন্যের কারণে কিছু রুশ বিশেষ্যের সরাসরি বাংলা প্রতিশব্দ পাওয়া যায় না এ ধরনের গল্পগুলোয়। যেমন আজিজ যখন বাবার কাছে গাছ চেনা শুরু করে, তখন গল্পে আমরা ফার, বার্চ আর জুনিপার পাই। এ গাছগুলো বাংলাভাষী অঞ্চলে জন্মায় না, তাই হয়তো এগুলোর পরিভাষীকরণ হয়নি। কিন্তু বাংলাভাষী অঞ্চলের আশেপাশে এগুলো তৎসম বা তদ্ভব নাম নিয়ে আছে। যেমন ফার হচ্ছে তালীশ, বার্চ ভোজপাতা, জুনিপার হপুষা। রুশ ভাষায় লেখা কিরগিজিস্তানের গল্প বাংলা অনুবাদে পড়তে গিয়ে সম্ভাব্য ক্ষুদে পাঠককে গাছের নাম ইংরেজিতে শিখতে বাধ্য হতে হচ্ছে, এ গ্লানিটুকু আমাদের অনুবাদকমহলকেই বহন করতে হবে। ননী ভৌমিক আমার অতি প্রিয় অনুবাদক, তাঁর কাজের ত্রুটি ধরার যোগ্যতা বা অভিপ্রায় আমার নেই, পর্যবেক্ষণটুকু তুলে ধরলাম শুধু।
চিঙ্গিস আইৎমাতভের পর কিরগিজস্তানের যে লেখকটি আমাদের মন কাড়ে তিনি শুকুরবেক বেইশেনালিয়েভ। তাঁর লেখা পড়লে আরেকজনের নাম আমাদের মনে পড়বেই - তিনি তুর্কমেনিস্তানের কায়ুম তাংগ্রিকুলিয়েভ। কায়ুমের 'সোনার পেয়ালা'র মতো অতো মায়াময় না হলেও শুকুরবেকের 'শিংওয়ালা ভেড়া' (আজিজের রাখালি'র মূল নাম)আমাদের মনকে কিরগিজিয়ার পাহাড়, জলপ্রপাত, চারণভূমি, বন, হ্রদের পাড়ে ঠিকই নিয়ে যায়। মেষপালক বেকির-আকে, তার স্ত্রী, তাদের পুত্র আজিজ, আজিজের দোস্ত সুলতান কাউকে আমাদের অচেনা মনে হয় না। ল. ইলিনার আঁকা মনকাড়া ছবি আর শুকুরবেকের গল্প মিলিয়ে এই বইটাকে মোটে ৫টা তারা দেয়া খুব কম হয়ে যায়।
ইশ! বাচ্চাদের সামনে নতুন একটা সংস্কৃতিকে তুলে ধরার কী সুন্দর একটা উপকরণ, এই বইটা!
কিরগিজিস্তানের প্রেক্ষাপটে, ছোট্ট ছেলে আজিজের ছোট্ট গল্প, 'আজিজের রাখালি'। মূল ভাষায় অবশ্য নাম ছিল 'ভেড়ার শিঙ'।
কিরগিজিস্তানের পাহাড়ি এক গ্রামে বাবা-মা'র সাথে থাকে আজিজ নামের এক ছোট্ট ছেলে। বাবা ভেড়া পোষে, আর তা থেকেই আসে তাদের পরিবারের সব আয়। আজিজ একদিন বায়না করলো, সে-ও তার বাবার মতো ভেড়ার যত্ন নেওয়া শিখতে চায়। আজিজ তো ছোট, কাজকর্মে এখনো বড়দের মতো দক্ষ না। তাই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো একটা বাচ্চা ভেড়া পালার। সে কাজ করতে গিয়ে মজার সব বিপত্তি ঘটতে লাগলো। এই সব নিয়েই, ছোট্ট আজিজের দায়িত্ব নিতে শেখার গল্প, আজিজের রাখালি।
সোভিয়েত আমলে প্রগতি (রাদুগা) প্রকাশন থেকে নানান ভাষায় অনুবাদ হয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তো রাশান বই। আমাদের এখনকার চেনা অনেক স্বাধীন দেশ-ই তখন ছিল তখনকার রাশিয়া, অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ। এই যেমন কিরগিজিস্তান। তাই সোভিয়েত-শাসিত অঞ্চল হিসেবে সেখানকার সংস্কৃতিকে, পরিবেশকে বাইরের পৃথিবীর কাছে তুলে ধরার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল এই বইটিকে।
বইটা তা করতে পেরেছেও বটে! প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে ভেতর, সবখানে ইলাস্ট্রেশনে পষ্ট দেখা যাচ্ছে কিরগিজ পোশাক। অলঙ্কার। ঘরের গড়ন। পাহাড়। হলুউউদ চারণভূমি। বইটা এক নিমেষে যেন পাঠককে নিয়ে যাবে আজিজের দেশে। আশপাশে সব জুনিপার, ফার, বার্চ গাছ। খাবারের মেন্যুতে আছে আজ কুর্দাক, কাল মান্তি, পরশু বেশবারমাক।
পড়ে আক্ষেপ হতে পারে, বইটা অতো তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে গেল কেন। তবে চিন্তা নেই, খুঁজতে গেলে কিরগিজ গল্প নিশ্চয়ই মিলবে।
বইটি বাংলাদেশে প্রকাশ করেছে পেন্ডুলাম। দাম ১৩৫ টাকা, অথবা ১৬০ রুপি।
মেষপালক বেকির-আকে, তার স্ত্রী ও পুত্র আজিজের রাখালি জীবন আমাকে যেভাবে বিমোহিত করে রেখেছিল ; ঠিক তেমনিভাবে লেখক কিরগিজিয়ার পাহাড়, জলপ্রপাত, তরণভূমিতে সময় সফর করিয়ে আনার সময়ও তেমনই বিমোহিত হয়েছিলাম। এই বিমোহিত হওয়া সফরে লেখকের অসাধারণ লেখার পাশাপাশি অন্যতম যানবাহন ছিল বিখ্যাত আর্টিস্ট- ল. ইলিনার আঁকা অসাধারণ কিছু ছবি।
কী দারুণ জীবন আজিজের! এমন মুক্তবিহঙ্গের মতো জীবনের স্বপ্ন কতদিনের! প্রাণবন্ত বর্ণনায় চোখের সামনে ভেসে ওঠে দেবশিশুর মতো ছোট ছোট পা ফেলে পাহাড় দাবড়ে বেড়ানো কোঁকড়াচুলো আজিজ, প্রকৃতি। মমতায় মোড়া একটা বই।