এই বইটা ছিলো আমার! :D আর আমি ছিলাম একটা গরু, গাধা, চারপেয়ে জানোয়ার। কী এক ঝোঁকে, কী এক ফালতু বইয়ের সঙ্গে.. ক্লাস থ্রি কী ফোরে, বদলে নিয়েছিলাম এক ক্লাসমেটের সঙ্গে। পুরো দিনের মুডটাই বদলে গেলো রে ভাই, এত্তোদিন পর, সোভিয়েত বুকসাইটে, বইটা দেখে! ^_^
প্রগতি বা রাদুগার এক একটা বই মানে আমাদের এক এক টুকরো নিখাদ, নিটোল ছেলেবেলা...
বদলে কিচ্ছুটি না পাওয়ার কথা জেনেও, বেগার খেটে, ইবুক আর পিডিএফ ফরম্যাটে সেই ছেলেবেলার ঘ্রাণ আজ যে বা যারা ফিরিয়ে দিচ্ছেন এভাবে, তাঁদের জন্য আজন্ম কৃতজ্ঞতা!
কয়েকটা গল্প ভালো ছিল। বাকিগুলো সব চালিয়ে যাবার মত। তবে interesting ব্যাপার হলো কিছু কিছু গল্পের theme আমাদের বাংলা লোককাহিনীতেও বিদ্যমান। যেমন- রাখালের তিনটি বর লাভ: হাড়ি থেকে আপনাআপনি খাবার বেরিয়ে আসে, গাধা হাসলে মুখ থেকে মুক্ত ঝড়ে এবং লাঠিকে আদেশ দিলে বেদম পিটাতে থাকে। পরে রাখালের সেগুলো হারিয়ে যাওয়া ও পুনরায় ফিরে পাওয়া। এরকম একটা কাহিনী পেলাম এই বইটিতেও। আরও কিছু গল্পতে বেশ দূর হলেও কিছু মিলও রয়েছে আমাদের রূপকথার সাথে। সব রূপকথাই কি একটি সাধারণ উৎস হতে উৎসারিত?
এই বইটা রাদুগা থেকে বের হয়েছে মনেই হয় না। কেন? প্রগতি/রাদুগা/মীর থেকে এতো ছাপার ভুল আর বানান ভুলওয়ালা বই আর একটাও পড়িনি। অনুবাদে গল্পগুলো আর গল্প থাকেনি ধারাভাষ্যটাইপ হয়েছে। ভাষা নিম্নমানের। আরও বিরক্তিকর হচ্ছে গল্পকে সংক্ষিপ্ত করতে করতে এমন করা হয়েছে যে, কিছু কিছু জায়গায় গল্পটা আর পরিষ্কার হয়নি। লোককাহিনীতে মূল গল্পের চেয়ে তার আনুষঙ্গিক ব্যাপারগুলো বেশি মূল্যবান। কারণ, ওখান থেকেই ঐ জনগোষ্ঠীর রীতি-আচার-জীবন-সংস্কৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যায়। এই সংক্ষিপ্তকরণের ফলে সেটা আর সম্ভব হয়নি। এই সংকলনের কিছু গল্পের অন্য ভার্সান গণচীনের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীদের মুখে শোনা যায়। গল্প সংক্ষিপ্তকরণের ফলে এই বইয়ের ভিত্তিতে উভয় ভার্সানের তুলনা করাটা আর সম্ভব হলী না।
বইটা ১৯৯০ সালে তাশখন্দ থেকে প্রকাশিত। ততদিনে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভবশিঙ্গা বাজতে শুরু করেছে। রাদুগারও তাই। এজন্য একটা যেনতেনপ্রকারেণ জিনিস বাজারে ছেড়ে দিয়েছিল।