যতদূর মনে পড়ে এটা আমার তাসলিমা নাসরিন এর পড়া প্রথম বই। পুরাটা বই একটা monologue style এ লেখা। আমার monologue বেশ ভালোই লাগে কিন্তু এই বইতে কেন জানি খুব একপাক্ষিক বা খাপছাড়া লাগলো। কারণটা আমি বুঝায় বলি। আমরা যখন নিজেরা নিজেদের মনে কথা বলি, তখনো কারনে অকারণে self doubt, guilt, empathy, re-evaluation, এইসব ব্যাপার কাজ করে। ঝুমুর এর মনে অনেক অনেক resentment, সঙ্গত কারনেই এই resentment কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর আগা মাথা ধরা যায় না। যেমন তার বাবাকে প্রমাণ করার জন্য যে তাকেও কেউ ভালবাসতে পারে, সে বিয়েটা করলো, কিন্তু সে মনে মনে ভেবে নিলো তার বাবা কি ভাবছে। আসলেও তার বাবা এটা ভাবছে যে এই হারুন ছেলেটাও তাকে ছেড়ে চলে যাবে নাকি অন্য কোন parental logic এ সে বিয়ে করতে বললো কিনা তার কোন বালাই নাই। সে যা ভেবেছে তাই ঠিক। এই এতো এতো resentment ভরা monologue পড়ে মনে হয় যে এই ঝুমুর মেয়েটা কি narcissist নাকি, নাকি apathetic? সে একটা narrative দাড় করায় সবার ব্যাপারে, এবং তার narrative এর ওপর ভিত্তি করে পাঠক বুঝবে কে ভালো, এর কে খারাপ! অথচ বাস্তবে মানুষ অনেক জটিল, মানুষের সম্পর্ক অনেক জটিল। আমি বুঝলাম না তার শাশুড়িকে এতো নেগেটিভলি কেন সে নেয় যেখানে সে নিজেই অনেক ক্ষেত্রে তার সময়ের শিকার, তার শাশুড়ি এর আলাদা কিছু না।
যাই হোক, আমি আসলে বইটাকে appreciate করি, লেখিকাকেও appreciate করি। করি কেননা, যে সময়ে এই লেখা লেখা হয়েছে সেই সময়ে একটা মেয়ের ও যে শারীরিক, মানসিক ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে এটা সমাজ বুঝে উঠতে পেরেছিল কিনা আমার সন্দেহ হয়। আমার আরও সন্দেহ হয় যে এখনো হয়ত আমরা একই জায়গায় মানসিকভাবে বাস করি। নাসরিন যে এই বিষয় নিয়ে বড় পরিসরে লিখেছে, সেই প্রচেষ্টা আমি appreciate করি। হয়ত এই একঘেয়ে monologue লিখে সে এই বোটকা দম বন্ধকরা জীবনের অনুভূতি দিতে চেয়েছে পাঠককে? আরও ভাবি যে জোতটাই অসহ্য লাগুক না কেন ঝুমুর এর পরকীয়া, এরম প্রতারণা তো মানুষ করে সমাজে, পরিস্থিতির শিকার হয়ে করে, কারনে করে, অকারণে করে, তখন তারা নিজে নিজেকে কি বলে? সেটার একটা expression এই বইয়ে পাওয়া যায়। এই আর কি, এই বই নিয়ে এর চেয়ে আর বেশি কিছু বলার নাই।
বাঙ্গালী নারী বলে মনে হল এই লেখকের একটা বই পড়া প্রয়োজন, ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি এর বই পড়া পাপ! মা পড়তে দিত না অথচ মায়ের বই এর সেলফে এই লেখকের বই থাকতো। ব্যাপারটা কি বুঝার জন্যে আজ পড়লাম।