বইটি প্রথম পড়েছিলাম প্রায় দুই যুগ আগে। বড় বোনের রহস্যময় আলমিরা থেকে এই বইটি যখন হাতে এলো; তখন আমাদের বাড়িতে ছিল নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়ের স্ক্যাটরা। তাসকা। সেইসব দিনে অজানা অচেনা এক ভেরা চাপলিনা কয়েকশত পৃষ্ঠার বিনিময়ে আমার সামনে তুলে দিলেন এক আশ্চর্য জগত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চিড়িয়াখানায় কর্মরত ভেরা চাপলিনার দৃষ্টি, অনুভব ও অভিজ্ঞতা দিয়ে কিনুলি, মালিশকা, ফোমকা, আর্গো, কুজিয়া, মারিয়াম ও জ্যাকের এমন সব কাহিনি উঠে আসে যা পৃথিবীর অনেক বড় বড় উপন্যাসের কাহিনিকেও হার মানাবে। আজীবন জন্তু জানোয়ারকে ভালোবাসা চাপলিনাকে আমার তাই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী জাদুকরের চেয়ে কম কিছু মনে হয় না।
এদিকে ২০২০ সালের মার্চ মাসের এক দুপুরে সেই বড় বোনের বাসাতেই; বই পড়তে পড়তে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভাতঘুম দিলে ফেললে, সেমি পার্সিয়ান বিড়াল 'ব্রাউনি' এসে আমারই গায়ের ওপর ঘুমিয়ে পড়ে। নির্ভরতায় আক্রান্ত ব্রাউনির ঘন নিঃশ্বাসের তালে তালে আমার ভেতরে যেন চাপলিনার স্মৃতি জেগে ওঠে। আর বাধ্য হয়ে পুরানো বইয়ের আলমিরা থেকে আবার হাতে নেই 'আমাদের চিড়িয়াখানা'।
ব্রাউনি আমার চশমা লুকাতে জানে, কাঁধে হালকা আঁচড় কেটে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে কিংবা থাবা দিয়ে আদর করতেও জানে। অন্যদিকে বারান্দায় লাভ বার্ডগুলো পর্যন্ত কিচিরমিচির করতে করতে ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরতে পারে আমার তর্জনী। ওদের নরম পালক কিংবা কোমল থাবায় আমি কেবলই মমতা খুঁজে পাই।
মজার বিষয় হলো, পৃথিবীতে আমরা মানুষরাই কেবল একে অন্যকে কষ্ট দিয়ে যাই। আমরাই ক্ষমতা রাখি ইচ্ছাকৃতভাবে বেদনা জাগানোর। অথচ, বাড়িতে, বনে কিংবা 'নতুন এলাকা' তে বেড়ে ওঠা হিংস্র পশু, জন্তু- জানোয়ার, পাখিরা ঠিকই জানে ভালোবাসার বিনিময়ে কেবলই ভালোবাসতে হয়...
২য় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়টাতে ভেরা চ্যাপলিনা ছিলেন মস্কোর এক চিড়িয়াখানার পরিচারক। সেই সময়কালের কাহিনী-ই হচ্ছে আমাদের চিড়িয়াখানা। পশুপাখি দের পরিচর্যার পাশাপাশি নবজাতক প্রানীদের লালন পালন আর পোষ মানানোও ছিলো তার কাজের অংশ। দীর্ঘ চাকুরীজীবনে তাকে পালতে হয়েছে সিংহ, নেকড়ে, শিয়াল, বানর, শ্বেতভল্লুক, সিন্ধুঘোটক, চিতাবাঘ, হায়েনা, হরিণ, ভোদর এমনকি রয়েল বেঙ্গল টাইগার। কাউকে সে লালন পালন করেছে চিড়িয়াখানায় রেখেই, কাউকে সে তুলে এনেছে নিজের বাসায়, ফিরিয়ে দিয়ে এসেছে বড় হবার পর। পশুপাখি এবং মানুষের পারষ্পারিক ভালবাসা, মায়া, মমতা, আবেগ আর কষ্টের অসাধারণ এক মিশেলে লিখা হয়েছে প্রতিটি পশু/পাখির উপাখ্যান। হায়েনা, নেকড়ে, চিতাবাঘ, সিংহের মতো হিংস্র প্রানীগুলোও যে মানুষকে এতো তীব্রভাবে ভালোবাসতে পারে বা মানুষের সাথে বিচ্ছেদের কষ্টে অশ্রু জড়াতে পারে সেটা হয়তো এভাবে কখনোই জানা হতো না। পড়তে পড়তে মনে হয় কিনুলি নামক সিংহ বা ফোমকা নামক শ্বেতভালুকের বাচ্চাটাকে আমিই হয়তো প্রতিরাতে আমার বিছানার পাশে ঘুম পাড়িয়ে লালন পালন করে বড় করেছি।
Slucajno se setih ove knjige zbog neke diskusije o knjigama iz detinjstva. U nasem prevodu se zvala "Moji vaspitanici" i mislim da sam je procitala bar 3 puta. U pitanju je nekoliko prica o radnici zoo vrta koja je cuvala mladunce odbacene od strane majki, od kojih je najduza i najupecatljivija ona o lavicu po imenu "Kinuli". Jako sam volela ovu knjizicu iako je na momente bila cak i malko depresivna za nekoga sa jednocifrenim brojem godina. Steta sto ce verovatno biti zaboravljena na nasim prostorima...
প্রফেসর পিওতর মান্তেইফেলের সুযোগ্যা ছাত্রী ভেরা চাপলিনা। চিড়িয়াখানায় সেবিকা/পরিচারিকা হিসাবে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন জীবজন্তুর শৈশব, আচরণ, অনুভূতি ইত্যাদি নিয়ে তাঁর ও সহকর্মীদের অভিজ্ঞতার বিবরণ - "আমাদের চিড়িয়াখানা"।
বিশেষ করে বলা যায় সিংহী শাবক কিনুলির কথা। খুবই বিখ্যাত এই সিংহীকে একদম চোখ ফোটা থেকে স্বাবলম্বী হওয়া পর্যন্ত পেলেপুষে বড় করেছেন ভেরা চাপলিনা, তাও আবার নিজ বাসাতেই, নানা বাঁধাধরা সত্ত্বেও।
এছাড়া নেকড়েদের হাতে বড় হওয়া কুকুরছানা কুসকা, বানর মালিশকা, বানরছানা মুসিক, শ্বেত ভালুকের ছানা ফোমকা, ভোঁদড়ছানা নায়া ও সার্কাসের চিতা লুকসের গল্পও আছে। অধিকাংশই বড় হয়েছে চাপলিনা ও তাঁর সহকর্মীদের আদর যত্ন মায়ামমতায়। কিছুক্ষেত্রে দেখা গেছে খুবই অযাচিত কোনে প্রাণী এসে একদম বিরুদ্ধমতের আরেকটি প্রাণীর জীবন বাঁচিয়েছে। যেমন মা বিড়াল মুরকা লালন পালন করেছিলো উগালোককে, যে কিনা একটি শেয়াল! একইসাথে দেখেছি কিভাবে সম্পূর্ণ আলাদা দুটি প্রাণী অসম্ভব দোস্তি হয়। যেমন ভালুক মারিয়াম ও তার কুকুর বন্ধু জ্যাক।
প্রাণীজগতের এরকম খুটিনাটি অনেক ঘরের খবর জানতে গিয়ে বুঝতে পেরেছি আসলেই তাদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা কতটা সীমাবদ্ধ।
সিন্ধুঘোটকের ছানা নিউরকার দুষ্টুমি, মস্তবড় ধূর্ত হাতি শাংগো ও তার আদরের পরিবার, পোষা হরিণ লোসকা ও তার করুণ মৃত্যু, কখনোই চিড়িয়াখানার কাছে মাথা নত না করা রয়েল বেঙ্গল টাইগার রাজি, ভদ্র সিংহ মেনেলিক, বন্ধুসুলভ নেকড়ে আর্গো ও ষাটটি বছর চিড়িয়াখানায় কাটিয়ে দেয়া নিকিতা ইভানোভিচের শকুন বন্ধু কুজিয়া - এদের কাহিনীও পড়ার মতই।
নিকোলায়েভনার টিকটিকি রহস্য অথবা ইভানোভিচের পালিত রাজহাঁসের বাচ্চা ভাসকার কাহিনী, নিউশা মাসী ও নীল মেয়ে টিয়ের গল্প কিংবা জীববিজ্ঞানের ছাত্রী গালিয়ার সাথে তোতাদের বন্ধুত্বের কাহিনী পড়তে পড়তে জানা যায় বুঝার সুযোগ পেলে প্রাণীজগতও কত অনুভূতিপ্রবণ, কতটা রঙিন।
বইটি দুটি খন্ডে বিভক্ত। 'আমার সঙ্গীসাথী' ও 'চিড়িয়াখানার পশুপাখি'। অধিকাংশই শিশু পশুপাখিকে নিয়ে। শৈশবে মানুষের সংস্পর্শ কিভাবে তাদের চরিত্রে পরিবর্তন এনেছে তার একটা গ্রাফ পাওয়া যায় কাহিনীগুলো পড়লে। মোট ৩০ টা কাহিনী বলা আছে।
প্রগতি প্রকাশের পুরনো বইটি বর্তমানে প্রিন্ট আউট। পৃষ্ঠা কোয়ালিটি খুবই ভালো। হাতে নিলে মনে হয় শুধু কাগজের বই নয়, আরো বেশি কিছু। রেটিং ৪.৫/৫।
Some amusing anecdotes are incorporated in this book filled with stories about some of the animals that lived at the Moscow Zoo during the 1930s and 1940s. Unfortunately much appears to have been lost in the translation of this book from the original Russian text, and the selection and abridgment of the tales. As a result they come across to some extent as stilted when compared to similar stories in books originating from American and European zoos during the same time period (such as those written by Belle Benchley of the San Diego Zoo and William Bridges of the Bronx Zoo to cite two authors who wrote about the care of the animals at their respective zoos), and lacking in information about the animal (its species and wild origins or relatives), the rationale for decisions, and the husbandry practices and procedures that were followed by the author.
Childhood favourite, especially after I found out that this wasn't a magical fairytale about living with a lion in the middle of Moscow, but that it was reality! Lots of small bits that I loved, especially how Chaplina talked about her work in the zoo.
হার্ড কভার মলাটের এই বইটি আমি পড়েছিলাম ২০ বছর আগে। সবকিছু তেমন স্পষ্ট মনে নেই কিন্তু কিনুলীর কথা ঠিকই মনে আছে। বইটি আবারও পড়ার খুব ইচ্ছে, যদি কারও কাছে থাকে আমাকে পড়ার জন্য ধার দিলে কৃতজ্ঞ থাকব। আর যদি কারও জানা থাকে কোথায় কিনতে পাওয়া যাবে সেটাও জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।