এক ছিল সাঁতারু। ছোট্টবেলা থেকে জল তার প্রিয়। জলের সবুজ নির্জনতা ও নৈস্তব্ধ্যের মধ্যেই সে খুঁজে পায় নিজের অস্তিত্ব। জল তাকে দেয় আশ্রয় আর ক্ষতস্থানে প্রলেপ; জোগায় বেঁচে থাকার রসদ। বি.এ. পাশ করেছে সেই সাঁতারু। চাকরি ভাল। কাপ-মেডেলে ঘর ভর্তি। মেয়েরা তাকে চায়। খুব কাছেও এসেছে কেউ-কেউ। কিন্তু নাগাল পায়নি। সে যাকে চায়, তার শরীর হবে জলের মতোই গভীর, আকণ্ঠ অবগাহনের যোগ্য। কখনও অবশ্য দেখা দেয় তার কাঙ্ক্ষিতা জলকন্যা। কিন্তু সে দেখা কতটা চোখের আর কতটা মনের, সে নিজেও জানে না। একদিন জানল। ডাঙ্গায় প্লাবনের মতো জলের ঢল নামিয়ে তার চোখের সামনে দেখা দিল জলকন্যা, সত্যিকারের মানুষী চেহারায়। কী করে, তাই নিয়েই এই বড়দের রূপকথা।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
এক বড় বিসিএস ক্যাডারের সাজেশন দেখে বইটি নীলক্ষেত থেকে কিনে পড়েছিলাম। পড়ে বুঝতে পারছিলাম একাডেমিক ক্যারিয়ার চমৎকার হলেই যে বইয়ের পছন্দ সেরা হবে এমন কোন কথা নেই 😥😥😥।
Okay, first things first - there's absolutely nothing in this story at all.
And once we have established that, now let's talk about the writing. You've read Arundhati Roy? How simple the words seem, yet how carefully each sentence, each word, each syllable has been chosen, to make the magic that is her writing? This is that kind of writing. And Shirshendu has been doing this for the last half century.
There is a painting here in 77 pages-you, my friend, are the fool if you go looking for the forest here. You will miss the tree. Stop. Wait. Look at the tree. Touch it - experience it, breathe in its smell - don't go looking for the forest. Don't go looking for a story, don't go looking for some great enlightenment, don't go looking for a narrative that will stay with you for a lifetime. Not here, not for this one. That's for other novellas.
What lines, folks! What sentences! Savour this one - শুধু বেঁচে থাকতে পারলে, কোনওরকমে কেবলমাত্র বেঁচে থাকতে পারলেও জীবনে কত কী যে হয় ! Or this one - সংসারের সম্পর্কগুলো এমন সব সুক্ষ ভারসাম্যতার ওপর নির্ভর করে যে একটা মাছি বসলেও পাল্লা কেৎরে যায়। Each of these sentences are more finely detailed, and indeed, a bucketload more important than the story within which they sit. And the character sketches are near perfect. Even the more minor, insignificant characters - how well they are etched out! Just that the characters are there - just that, say, Sonali is there, or Chini-bou is there, or Lokkhi-pishi, or Bonani's father are there - matter in the scheme of things.
Ignore the story, my friends. Read the novella. Let the words happen to you. Let the words flow over and across and around you. Let the sentences wrap you around. Let it be. And be around it.
বেঁচে থাকাটা যে কি ভীষণ দরকার,দুঃখ-কষ্টের প্লাবনে ডুবে না যেয়ে প্রাণপণে সাঁতরে যাওয়া যে খুব প্রয়োজন তা-ই লেখক বলেছেন।
তবে কখনো কখনো অলকের মতো দক্ষ সাঁতারু ও হার মানে,ডাংগার জীবনে শুকনো সাঁতরানোর চেয়ে,জলের মধ্যে ডুবে যাওয়াটাই শ্রেয় মনে হয়।ঠিক ওই সময়েই আবির্ভাব হয় বনানীর মতো জলপরীর,যার জন্যে ডাংগার জীবন আর অতটা অপ্রিয় লাগেনা। শীর্ষেন্দুর হাতের কলম পারদর্শী সাঁতারুর মতই সাঁতরে গেছে,ছোট ছোট গভীর স্ট্রোকে পার করেছে এই উপন্যাসিকা।
তবে কি না বাড়ির পবিচারিকা শ্রেণির লোকের সাথে কর্তাস্থানীয় লোকের প্রেম বিষয়ক ব্যাপার আমার বিশেষ পছন্দ নয়।আর সেই পরিচারিকার যে বাহ্যিক পরিবর্তন দেখানো হয়েছে তা যথেষ্ট হাস্যকর।শুধুমাত্র খুব ভালো লেখার গুণেই পড়ে ফেলতে পারলুম।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর অসাধারণ রোমান্টিক গল্প। সূক্ষ ভাবে তুলে ধরেছেন পারিপার্শ্বিক মানুষের রুচি ও পরিবেশের প্রভাব। কখনো কখনো ব্যাতিক্রম ঘটে । অনেক দিন পর মাত্রতিরিক্ত ভাল লাগার উপন্যাস পড়লাম। অসাধারণ উক্তিতে ভরপুর উপন্যাসটি। "বেচে থাকতে পারেই তারাই যাদের বেচে থাকাটা অন্য কেউ চায়। কিন্তু শুধু বেচে থাকতে পারলে, কোনোরকমে কেবল্ মাত্র বেচে থাকতে পারলে ও জীবনে কত কি যে হয়!"
"সেই দুপুরে যখন ছাদ থেকে রেলিং টপকে পড়ে যাচ্ছিল তখনই বিভ্রম ভেঙে অলক বিদ্যুতের গতিতে গিয়ে ওকে প্রায় শূন্য থেকে চয়ন করে আনে।" এই লাইনটা বড় স্বস্তি দিয়েছে আমায়। গল্পের বেশিরভাগ লাইনের অর্থগুলোই কী গভীর! শেষটাও বেশ লেগেছে। "বনানী বলল, যাবে না? সাঁতারু ডাঙার প্লাবনে প্রায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃদু হেসে বলল, যেতে দিলে কই?" সুন্দর ❤️
চরিত্রচিত্রণ যেমন দুর্দান্ত লেগেছে কাহিনী বিন্যাসও ছিল চমৎকার। আর লাল কালিতে লেখকের মানব জমিনে বিচরণকারীদের বিভিন্ন হেয়ালি, পাপপুণ্যতা চিহ্নিত করাটা লেখাকে আরও সুন্দর করে তুলেছে।
সাদামাটা একটি কাহিনী নিয়ে একেবেকে এগিয়েছে উপন্যাসটি। অলক নামের সাঁতারু ছেলেটি যে কিনা সব সময় জলেকেই পছন্দ করে ঘর সংসার মা বাবা বোন এদের সাথে যার কোনো ঘনিষ্টতা নেই।
অলকের বাবা এটাকে জেনারেশন গ্যাপ বলেই মনে করেন। কিন্তু মার মন্তব্য ছেলেকে বুঝতেই পারেন না তার বাবা। মা মাঝে মাঝে বুঝেন আবার বুঝেন না, তার কাছে কেমন যে অস্থির লাগে। নিজের ছেলেকে বুঝতে না পারা নিশ্চয়ই একটা অস্থিরতার বিষয়।
মেয়েদের সাথে অলকের সম্পর্ক সহজ ও স্বাভাবিক। বিভিন্ন মিট- এ মেয়ে সাঁতারুদের সাথে দেখা হয়, আলাপ বা আড্ডা হয়। অলক যার আশেপাশে অসংখ্য মেয়ে ঘুরে কিন্ত অলক তাদের চায় না। অনেক মেয়ের সাথে অলকের ঘনিষ্ঠতা হয় কিন্ত তাদের সাথে গভীর হয়ে তার ভিতরে হাহাকার থেকে যায়, সে এই সকল শরীরে জলের ছোঁয়া খুঁজে তার কেবলই মনে হয় জলের মত শরীর নেই কেন কোনো মেয়ের?
মাঝে মাঝে সে সাঁতার কাটাতে গিয়ে জলকন্যার দেখা পায়! সত্যি কি জলকন্যা নাকি সব তার কল্পনা!..
এদিকে বনানী অনেক ঘুরে ঘুরে অনেক জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করার পর এসে পৌছায় অলকেরই দাদুর বাড়িতে।এখানেই তার জরাজীর্ণ দেহের পরিবর্তন ঘটে তার জীবনের পরিবর্তন ঘটে। কিভাবে অসংখ্য মেয়ে চাওয়া অলকের সাথে তার জীবন জড়িয়ে যা সেটা নাহয় আপনারা পড়েই বুঝবেন। -অবনী
I expected this to be a magical realist novella, but it turned out to be a surrealist one. I have been acquainted with the children's fiction of Shirshendu Mukhopadhyay, some of which are brilliant. But I have read only a few of his work for adults and I loved this one. The mermaid here is symbolic, or an imaginary muse similar in lines to Hardy's 'The Well Beloved'. The story recounts a swimmer's journey to find his mermaid. Would like to check out more works like this.
💠 জীবন বড় অদ্ভুত… সুন্দর! ততক্ষণ, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি জীবনকে জানতে চাইবেন। সুখ, শান্তি আসলে কোথাও পাওয়া যায় না। জীবনের আনাচ-কানাচে, এই গলি সেই মোড় করে করে তা খুঁজতে হয়। আর এই খুঁজতে পারাটাই হলো বেঁচে থাকার আসল পথ্য।
লেখক "শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়" তাঁর বই "সাঁতারু ও জলকন্যা" বইতে হয়তো এই বার্তাই রেখে গেছেন।
সেই ছোটবেলা থেকেই 'অলকের' মা কেমন যেন ছেলেকে একটু ভয়ও পেতেন। ঠিক ভয় না, ভয় মিশ্রিত সহানুভূতি কাজ করতো তার ভেতরে। আর বাবার কাছে মনে হতো বিষয়টা আসলে জেনারেশন গ্যাপ। কারণটা হচ্ছে অলক খুবই শান্ত শিষ্ট ছেলে। অনেক সময় স্বাভাবিক কথারও জবাব দিতো না। হয়তো চার পাঁচটা কথা জিজ্ঞেস করলে সে একটা উত্তর দিতো, তাও সেটা মাথা নাড়িয়ে বা হু, না বলে৷ শত মারের আঘাতেও রাও করে না। মার খেয়ে সে তারপরই পুকুরে চলে যেত, চলতো সেখানে তার ডুব সাঁতার। তখন তাকে দেখে একটুও মনে হতো না যে সে কিছুক্ষণ আগেই মায়ের হাতে বিনাকারণে মার খেয়েছে।
অলক খুব জল পছন্দ করে। সারাদিন সে সাঁতার করে বেড়ায়। আসলে সে ডাঙায় জলের সেই সুখ শান্তি, জলে নিস্তব্ধতা পায় না। সে জলকে আশ্রয় এবং ক্ষতস্থানের প্রলেপদানকরী হিসেবে মনে করে। তার কাছে মনে হয় জলের সংস্পর্শে সে খুব শান্তিতে থাকতে পারে। জল তাকে তার গভীরে ধারণ করে অলকের গভীরের ক্ষত মুছে দেয়। অলকের স্বভাবও এখন প্রায় জলের মতোই। শীতল…!
উল্টোদিকে আমরা পাবো 'বনানী'কে। যার বর্তামন অবস্থা খুবই নাজুক। শীর্ণকায় এক কিশোরী সে। ঐ নামেই যা কিশোরী। আদতে দেখতে অন্য কিছু মনে হয়। এককালে হয়তো হাড়সর্বস্ব ঐ দেহের চামড়ার রংটা সাদা ছিলো। এখন আর তা বোঝার জো নেই। দেহের নানা অংশে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। কঙ্কালসার দেহ। ন্যাড়া মাথা। বনানীর বর্তমান আবাসস্থল গ্রামের জমিদার দাসশর্মাদের বাড়ীর গোয়াল ঘরে। এই বয়সেও যদি কেউ বিছানা ভিজিয়ে ফেলে তাহলে আর কার কি করার থাকে।
বনানীর মা মারা যায় সেই ছোটবেলাতেই। মায়ের মৃত্যুর পর তার বোন, মানে বনানীর মাসী কে বিয়ে করে ঘরে আনেন বনানীর বাবা। এনেছে বনানীর সুখের জন্য। হয়েছিলও প্রথম প্রথম, কিন্তু তারপরেই সব কেমন যেন উল্টে গেলো। বাধ্য হয়ে বনানীকে এই দাসশর্রমাদের বাড়িতে ঝিয়ের কাজে লাগিয়ে দিয়ে যায় বনানীর বাবা।
বাবার যাওয়া আসার পথ এই বাড়ির সামনে দিয়েই। বাবার যাওয়ার যখন সময় হয় তখন বনানী একছুটে বাড়ির গেটের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। বাবা আসে, ছলছল চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। কী করবে বলুন? নাই তো কিছু বনানীর বাবার। নিতান্তই গরীব মানুষ। মেয়েকে শুধু বলতেন "তোর তো মরার জন্যই জন্ম হয়েছে"...
এই কথাটাই মনে ধারণ করেই বনানী চলতে থাকে। তার এখন একটাই চাওয়া, মাথার উপর একটুখানি ছাঁদ আর একটু খাবার…
এদিকে অলক পরিপূর্ণ যুবক। জল তাকে এখনো পর্যন্ত অনেক অর্জণ উপহার দিয়েছে। বাবা ছেলের মাঝে জেনারেশন গ্যাপ থাকলেও দাদা নাতীতে সেই গ্যাপ থাকে না। তাই তো অলক দাদুর এলাকার আশেপাশে আসলেই ওবাড়িতে আসবেই, খাওয়া দাওয়া করবে, কিছুক্ষণ অন্তত সময় কাঁটিয়ে যাবে।
যুবক হওয়া সময়টা পর্যন্ত অলকের শীতল জীবনটা অনেক প্রমিলা রসে আস্বাদিত হয়েছে, কিন্তু কখনো সে রসে পূর্ণ করতে পারেনি অলকের জীবনটাকে। অলক তাদের মাঝে জলের গভীরতার সন্ধান করে বেড়ায়। কিন্তু নাহ, কিচ্ছু পায় না। ঐ তুলতুলে কায়া পর্যন্তই তাদের ব্যাপ্তি। অলকের ডাঙ্গা থেকে জলেই ভালো। সুন্দরবনের মোহনায় অলক রাতের অন্ধকারে সাঁতার কাটতে গিয়ে এক 'জলকন্যা'র দেখা পায়। এছাড়া আর অলকের কিইবা করার আছে, কিন্তু স্বপ্নরাজ্যের সেই জলকন্যার দেখা কী অলক পাবে?
দাসশর্রমাদের বাড়ির নতুন বৌয়ের কাছে বনানী পড়তে শিখেছে, সে এখন বঙ্কিমচন্দ্রের বই পড়তে পারে। নতুন বৌয়ের দেয়া ওষুধে বনানীর শরীরে স্বচ্ছতা ফিরে আসছে। মাথায় চুল গজিয়েছে। কিন্তু এখানেও বেশিদিন আর থাকা গেলো না। বাড়িতে লেগে গেছে গন্ডগোল।
তখন বনানী জোয়ারে ভাসতে ভাসতে গিয়ে ঠেকে এক কুটিরে। আর সেই কুটিরটি তার সবকিছু আবার এলোমেলো করে দেয়। তখন লেখকের এই কথাটি বড্ড বেশি ভালো লাগে…
…'বেঁচে থাকতে পারে তারাই যাদের বেঁচে থাকাটা অন্য কেউ চায়। যাদের ভালোবাসার লোক আছে'...।
এভাবেই চলতে থাকে "সাঁতারু ও জলকন্যার" ডুব সাঁতারের খেলা। সেই খেলাতে মিশে যায় বা ভেসে যায় অলককের বাবা মা, সহ আশেপাশের সবাই।
💠 'আনন্দ পাবলিশার্স' থেকে প্রকাশীত 'শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়'এর "সাঁতারু ও জলকন্যা" বইটি রোমান্টিক জনরায় ফেললেও তার সাথে উঠে এসেছে পরিবেশের সুন্দর বর্ণনা এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ফুটে উঠেছে সেটা হলো 'মনস্তাত্ত্বিক' বিশ্লেষণ। লেখকের সাহিত্য মান নিয়ে কথা বলার দুঃসাহস আমার নেই।
দুই প্রান্তের দুই রকমের আবেগকে এক সুতায় গাঁথা তাও আবার খুব সহজ এবং প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণনা করে যাওয়া এতো শুধু এক সাহিত্যিককেই মানায়। আবেগ, প্রেম, দুঃখ, ভালো লাগা, সংসার এসবকিছু যাদের হাতের কলমের তলায় পিষ্ট করতে করতে চতুষ্কোণ শুভ্র ঐ পৃষ্ঠাকে ভরিয়ে তুলতে সক্ষম হয় তারাইতো যোগ্য সাহিত্যিক।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় , তার বিশেষ লেখনি শক্তি দ্বারা আমাদের বাঙালিদের মানসপটে বিশেষ জায়গা দখল করে রয়েছেন। দূরবীণ, পার্থিব, মানবজমিন ইত্যাদি জনপ্রিয় উপন্যাসের তিনিই অন্যতম স্রষ্টা। বাংলা সাহিত্যের অপ্রতিদ্বন্দ্বী একজন লেখক। আজকে তারই ধারাবাহিকতায় আমার হাতে রয়েছে তার “সাঁতারু ও জলকন্যা” নামের অনন্য উপন্যাসটি। তো আগেই বলে নেই, বইটি মূলত বলতে গেলে বড়দের একটি প্রেমের উপন্যাস।যেখানে দেখানো হয় একজন বালিকা কিভাবে তার কিশোরী বয়সে পরিণত হয় এবং তার মধ্যে কিভাবে প্রেম জাগ্রত হয় এসবকিছু। বইটি পড়ে পড়ে আপনি এতটাই মুগ্ধ হবেন যে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। বইয়ের সাইজ দেখে নিশ্চয়ই আপনারা আন্দাজ করতে পারতেছেন যে বইটি পড়তে ঠিক আমার কতক্ষণ লা��তে পারে।আপনি যদি উপন্যাস প্রেমী হয়ে থাকেন তবে এই বইটি পড়তে আপনার সর্বোচ্চ আড়াই ঘন্টা সময় লাগবে। আমি তো এক বসাইতেই এটা শেষ করে তারপর উঠেছি। তো যাইহোক এখন যদি কাহিনী সংক্ষেপ এ আসি তাহলে আমি বলবো, বইটিতে উপন্যাসের যে বৈশিষ্ট্য আছে তার সবকিছুই আছে।এখানেও অনেকগুলো চরিত্র রয়েছে।যাদের মধ্যে হলো যিনি গল্পের নায়ক অর্থাৎ,অলক। তার দুই বোন মধুরা এবং প্রিয়াঙ্গি। যারা কিনা দুইজনেই যথেষ্ট মেধাবী এবং খুবই ভালো গুণে কিংবা প্রতিভার অধিকারিনী।রয়েছে অলকের পিতা সত্যকাম এবং মাতা মনীষা। এই গল্পে সত্যকাম এবং মনীষা দুইজনেই কালচারাল লাইনের লোক।কেউ নাটকের সাথে যুক্ত আবার কেউ নৃত্যনাট্যের সাথে যুক্ত। আরো চরিত্রের মধ্যে রয়েছে সুছন্দা,সোনালীসহ আরো অনেকে এবং গল্পের নায়িকা বামুনের মেয়ে বনানী। উপন্যাসের কাহিনির সূত্রপাত হয় অলক নামে এক সাঁতারু ছেলেকে নিয়ে। যে কিনা জলের মাঝে ঐশ্বর্যের সন্ধান পায়। জলে খুঁজে পায় নিজের অস্তিত্ব। জল তার খুবই প্রিয়। বি,এ পাশ করা সেই সাঁতারু ভাল চাকরি করে, কাপ-মেডেলে ঠাঁসা তার ঘর।ঘর সংসার মা বাবা বোন এদের সাথে যার কোনো ঘনিষ্টতা নেই। অলকের বাবা এটাকে জেনারেশন গ্যাপ বলেই মনে করেন। কিন্তু মার মন্তব্য ছেলেকে বুঝতেই পারেন না তার বাবা। মা মাঝে মাঝে বুঝেন আবার বুঝেন না, তার কাছে কেমন যে অস্থির লাগে। নিজের ছেলেকে বুঝতে না পারা নিশ্চয়ই একটা অস্থিরতার বিষয়। মেয়েদের সাথে অলকের সম্পর্ক সহজ ও স্বাভাবিক। বিভিন্ন মিট- এ মেয়ে সাঁতারুদের সাথে দেখা হয়, আলাপ বা আড্ডা হয়। অলক যার আশেপাশে অসংখ্য মেয়ে ঘুরে কিন্ত অলক তাদের চায় না। মেয়েরা তাকে আপন করে পেতে চায়। কিন্তু তার নাগাল পায় না কোনভাবেই। সে যাকে চায় তার শরীর হবে জলের মত গভীর। যেখানে আকণ্ঠ ডুবে যাওয়া যায়। মাঝেমধ্যে সে দেখতে পায় জলকন্যাকে। কিন্তু সেটা কতটা বাস্তব, কতটা কল্পনা সে নিজেও জানে না। হঠাৎ একদিন ডাঙ্গায় যেন সত্যি সত্যি দেখা পেল জলকন্যার। সত্যিকারের মানুষ রূপে। যে কিনা গল্পের নায়িকা বনানী। আগেই বলেছি বনানী বামুনের মেয়ে ,তবে বনানীর মায়ের মৃত্যুর পর বনানীর বাবা আবার বিয়ে করেন।সেই সৎ মা প্রথম প্রথম তাকে দেখতে পারলেও যখন তার নিজের সন্তান হলো তখন বনানীকে আর দেখতে পারতো না।এমনকি তাকে ইঁদুরের বিষ খাইয়েও মেরে ফেলতে চেয়েছিলো যদিও বাবার হাসপাতালে নেওয়ার সুবাধে সেই যাত্রায় বনানী মরতে মরতেও বেঁচে যায়। বনানী তখন ছিলো খুবই রোগা এবং অসুস্থ টাইপের।তো আস্তে আস্তে এক পর্যায়ে সৎ মায়ের অত্যাচারে বনানী বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হয়।কয়দিন এর বাড়ি থাকে তো কয়দিন ওর বাড়ি । এভাবে বনানী অনেক ঘুরে ঘুরে অনেক জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করার পর সবশেষে এসে পৌছায় গল্পের নায়ক অর্থাৎ অলকেরই দাদুর বাড়িতে। এখানেই তার জরাজীর্ণ দেহের পরিবর্তন ঘটে তার জীবনের পরিবর্তন ঘটে। এখানেই তার মনমানিসকতা চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন ঘটে। সে এখানেই নিজের তেরো বছরের জরাজীর্ণ পরিস্থিতি থেকে ১৫বছর বয়সের লাবণ্যময়ী যুবতী হিসাবে দিনে দিনে গড়ে উঠে। অথচ দুই বছর আগেও কিনা যাকে কেউ বলতো না যে তার বয়স এখন ১৩। যে কিনা সব সময় কথায় কথায় বলতো, ম্রা যাওয়ার জন্যই তার জন্ম হয়েছে। এই ২বছরের বনানীর আমূল পরিবর্তন হয়, সে নিজেও ভাবে যে “শুধু বেঁচে থাকতে পারলে,কোনরকমেও কেবলমাত্র বেঁচে থাকতে পারলে যে জীবনে অনেক কিছুই হয়।’’ এভাবেই বনানী এবং অলক দুইজনের মনের সম্পর্ক হয়। বইটিতে দুটি উপন্যাসের কথাও বলা হয়েছে ।যেগুলো হলো , শরৎচন্দ্রের পল্লী সমাজ এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোটদের জন্য লেখা বই রাজসিংহ। যদি আপনারা এই বইগুলোর রিভিউ দেখতে চান তবে কমেন্ট করে জানান। আপনাদের কমেন্ট পেলে তবেই রিভিউ করবো। এই বইয়ে পাওয়া আমার সবচেয়ে প্রিয় লাইন হলো শেষ পৃষ্ঠায় পাওয়া একটা লাইন।তা হলো- “শুধু বেঁচে থাকাটাও ভীষণ ভালো। শুধু যদি বেঁচে থাকা যায় তাহলেও কতো কী হয়।” তো বইটি ভারতীয় লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অর্থাৎ যদিও সেটা বর্তমান ময়মনসিংহ । বইটি আনন্দ পাবলিশার্সের একেবারে অরিজিনাল প্রিন্ট। বইটি আমি ১৮০টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। আপনারা যদি অল্প সময়ে খুবই বাস্তবমুখী একটি উপন্যাস পড়তে চান তবে আমি আপনাদের কে এই বইটি পড়ার জন্য অবশ্যই অনুরোধ করবো।
নিত্যনতুন বইয়ের রিভিউ পড়তে, এই গ্রুপে নিজে জয়েন হউন সাথে বন্ধুদের জয়েন করুন। Copyright: Ananda Mohan Host: AM Club
এই বইয়ের গল্পের মূল কাঠামোটা আহামরি কিছু না। খুবই গতানুগতিক, কিছুটা গ্রিক সাহিত্যের উপাদান আছে- এই। একবার যদি শুধু পড়ার জন্য পড়েন, মনে হবে এ আর এমন কি! আমি নিজেই বইটা যখন প্রথম সেই কলেজজীবনে পড়ি, খুব যে আহামরি লেগেছিল তা নয়। কিন্তু প্রচ্ছদটা মনে ছিলো, কেমন গভীর মন ঠান্ডা করা একটা সবুজ রঙ ছিলো। আর মনে হয়েছিলো, বইটা আরেকবার পড়তে হবে। তার পর অন্য এক সময় যখন বইটা পড়লাম, এতো মুগ্ধ হলাম, এটা শীর্ষেন্দুর ক্ল্যাসিক বইগুলোর মধ্যে ঢুকে পড়লো। বই তো আর পালটায় নি। তাহলে কি বদলে গেলো, যে আমি মাঝারি, বিরক্তিকর একটা বইকে নতুন করে নিজের পাঠকের মণিকোঠায় জায়গা দিলাম? এখানেই হলো লেখকের ম্যাজিক। এই ম্যাজিক হয়তো আপনি একবারে নাও ধরতে পারেন। কিন্তু কোন এক সময়, অলস পাঠের দিনে এটা পড়ে হারানো গুপ্তধন পাওয়ার মতো অনুভূতি হতেই পারে। যাহোক, যে ম্যাজিক এর কথা বলছিলাম, তা হলো শীর্ষেন্দুর জাদুকরী লেখনী। সে লেখার এমনই শক্তি, মামুলি কোন গল্পকেও অন্য স্তরে নিয়ে যায়। এই বই আমি পড়ি আর ভাবি, কত সৌভাগ্য এই বই মাতৃভাষায় পড়তে পারছি। শীর্ষেন্দুর লেখার গুণে ছোট এই বইটির ছোট ছোট চরিত্রগুলোও স্বমহিমায় উজ্জ্বল। সোনালি পিসি, দাদু, দিদিমা, নতুন বৌদি সবাই যে কি আপন হয়ে যায়। আর মূল দুই চরিত্র দুই দিক দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে কেমন একজায়গায় এসে মুখোমুখি হয়ে যায়। তাতে দুই চরিত্রেই কী অভিঘাত যে পরে, এই গল্প। এই গল্প আসলে জাদুর, রুপকথার। শীর্ষেন্দু বড়দের জন্য রুপকথা লিখেছেন। যেখানে এই বুড়ি পৃথিবীর ক্লেদাক্ত, পংকিল, জঞ্জালপূর্ণ জায়গায় আমরা দাড়িয়ে আছি, কোনরকমে শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করছি, কোনভাবে বেচে আছি। "কিন্তু, বেচে থাকলে, শুধুমাত্র বেচে থাকলেও যে কত চমৎকার ব্যাপার হয়!" সাতারুর সাথে একদিন জলকন্যার দেখা হয়। আমরাও রুপকথার গল্প পড়ে আশায় বুক বাধি, হয়তো আমাদের জন্যও গভীর, ঠান্ডা জলের মতো জলকন্যা আছে কোথাও। অথবা সাতারু অপেক্ষা করে আছে, যেও গভীর জলের জলকন্যা খুঁজে যাচ্ছে। "বড়দের জন্য রুপকথা যা কিনা বেচে থাকতে সাহস দেয়।" এই এক লাইন লিখলেই হতো রিভিউতে। কিন্তু এটা আমার অন্যতম প্রিয় বই। এই জন্য বিস্তারিত লিখলাম। সবার হয়তো এতো ভালো লাগবে না এই বই, না লাগতেই পারে। আমারও যেমন প্রথমবার পড়ে অতো ভালো লাগে নি। কিন্তু এক সময় ঠিকই এই বইয়ের জাদু আমাকে গ্রাস করেছে। আশা করি, যোগ্য ও ধৈর্যশীল পাঠক এই বইয়ের জাদু ধরতে পারবেন।
জলের ভিতরের সজীব নির্জনতা, নিস্তব্ধতা, স্থিরতা এ-সব কিছুই গভীর এক প্রভাব ফেলেছিলো অলকের মধ্যে। জলের ভিতরে যে সুগভীর ধীরতা সেখানে সে খুঁজে পেতো নিজেকে, নিজের সত্তাকে, মাঝেমাঝে সেই জলেই ��ে খুঁজে পেতো এক জলকন্যাকে কিন্তু সেই পাওয়া যে কতটা চোখের আর কতটা মনের সেটাই সে স্থীর করতে পারতো নাহ। জলের সেই জলকন্যা কে ডাঙার নারীর দের সাথে মিলিয়ে তুলতে পারতো নাহ, নারীর মধ্যে অলক শুধু শরীর নয় শরীরের বাইরে অন্য কিছু খুঁজে ফিরতো, যা-হবে ঠিক জলের মতোই গভীর যেখানে ডুব দিয়েই সে আকণ্ঠ অবগাহন করতে পারবে। অবনীর কাছে বেঁচে থাকাটা একসময় তুচ্ছ মনে হতো- বেঁচে থাকতে পারে তারাই যাদের বেঁচে থাকাটা কেউ চায়, যাদের কেউ একজন আছে, ভালোবাসার লোক। তার তো কেউ নেই, কেউ তার বেঁচে থাকটা প্রার্থনাও করে নাহ। কিন্তু হঠাৎ সেই অবনীর মধ্যে একটা পরিবর্তন আসলো নিজেকে নিয়ে, নিজের ভিতরের নারী সত্তা- সে যে নারী তার ভিতরেও যে নারী মনের কিছু চাহিদা আছে, তার উপলব্ধি সেদিনই প্রথম হয়েছিলো। তখন তার নিজের মধ্যে এক পাপ পাপ বোধ হচ্ছিল, কাউকে তার ভালো লেগেছে, কারো জন্য তার হৃদ-কম্পন শুরু হচ্ছে সেটাই ছিলো তার পাপ বোধের কারণ। বেঁচে থাকা নিয়েও অবনীর ধারণা পাল্টে যায়- তার মনে হয় শুধু বেঁচে থাকাটাও ভিষণ ভালো, যদি শুধু বেঁচে থাকাও যায় তবু যে কত কিছু জীবনে পাওয়া যায়।
"আধুনিক মনোভাবাসম্পন্ন সংস্কারমুক্ত " মানুষগুলার আধুনিক বিড়ম্বনা দেখে দুঃখ কম মজা পেয়েছি বেশি। আরও বেশি বেশি আধুনিক হও -.-
"একদিন স্টেশনে বটকেষ্টকে দেখলুম যে। চোখ নেই, নাক নেই, হাত নেই, পা নেই, শুধু মুখ আর নাকের জায়গায় দুটো ফুটো। ও কি মানুষ? একটা মাংসের ঢেলা। তবু বেঁচে আছে তো? ভয় হল, বাঁচা কত শক্ত। শুধু বেঁচে থাকাই কত শক্ত। ইচ্ছে যায় না বলো বেঁচে থাকতে? বটকেষ্টরও যদি ইচ্ছে যায় তো আমার দোষ কী?"
"শুধু বেঁচে থাকতে পারলে, কোনওরকমে কেবলমাত্র বেঁচে থাকতে পারলেও জীবনে কত কী যে হয়!" বানিতে বনানী...এমন সরল সুন্দর একটা চরিত্র!
"শুধু মাত্র বেঁচে থাকতে পারলে,কোনরকমে কেবল মাত্র বেঁচে থাকতে পারলেও জীবনে কত কি যে হয়"
রোমান্টিক গল্প। সূক্ষ ভাবে তুলে ধরেছেন পারিপার্শ্বিক মানুষের রুচি ও পরিবেশের প্রভাব। কখনো কখনো ব্যাতিক্রম ঘটে । অনেক দিন পর মাত্রতিরিক্ত ভাল লাগার উপন্যাস পড়লাম। সাদামাটা একটি কাহিনী নিয়ে একেবেকে এগিয়েছে উপন্যাসটি। সরল সুন্দর আর স্বাভাবিক জীবনের প্রতিচ্ছবিটি আপাতদৃষ্টিতে ছন্দহীন মনে হলেও তা নদীর জলের ছন্দের মত বহমান । গল্পে গ্রাম্য জনজীবন থেকে শহরের জীবনযাপনের সহজ জীবনধারাটাই ফুটিয়ে তুলে ধরার চেষ্টাটি করেছেন লেখক ।
বইটা চমৎকার লেগেছিল আমার। অবশ্য প্রথম পড়ায় কিছু বুঝতে সক্ষম হইনি,দ্বিতীয় বার পড়ে বইয়ের আসল স্বাদটা পেয়েছিলাম। বইটা ছোট বলে বড্ড আফসোস হয়। শীর্ষেন্দু বাবু বরাবরই চমৎকার।এই বইয়ের ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম ঘটে নি,অসাধারণ লিখনি।
সরল সুন্দর আর স্বাভাবিক জীবনের প্রতিচ্ছবিটি আপাতদৃষ্টিতে ছন্দহীন মনে হলেও তা নদীর জলের ছন্দের মত বহমান । গল্পে গ্রাম্য জনজীবন থেকে শহরের জীবনযাপনের সহজ জীবনধারাটাই ফুটিয়ে তুলে ধরার চেষ্টাটি করেছেন লেখক ।
আমার উপন্যাসের রুচি মনে হয় খুব একটা যে ভাল তা নয়। সেজন্যই হয়তো 3.5 রেটিং-এর উপন্যাসটি অখাদ্য মনে হয়েছে। অনেক কষ্টে উপন্যাসের শেষ অবধি পৌঁছতে পেরেছি, তবে রিভিউ লেখার বোঝা নিতে পারছি না। আমি এই উপন্যাসের মোহ মুক্ত হতে চাই।