সোজাসাপটা বললে, বনফুলের 'জঙ্গম' একটি আধুনিক মহাকাব্য। বিশাল তার পটভূমি; বাংলার মহানগর থেকে বিহারের গ্রাম পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। চরিত্রগুলো বিপুল ও বিচিত্র, অভিমুখী ও অপসারী। উৎকেন্দ্রিকতার বেড়াজালের মধ্যে 'শংকর' পৌরাণিক চরিত্র না হয়েও মঙ্গলময় ভূমিকায় অবতীর্ণ। সে মেধাবী তরুণ লেখক, উচ্চবর্গের তুলনায় নিম্নবর্গের মধ্যে বিচরণে বেশি স্বচ্ছন্দ; পরিশীলিত নাগরিক হয়েও অসংস্কৃত গ্রাম্যতাকে স্বীকৃতি দেয়ার মতো স্বাভাবিক। খুব সহজ ছিল না তার কাম থেকে প্রেমে উত্তরণ। সাহিত্যসৃষ্টির ব্যর্থতাকে জীবনের সার্থকতায় সে ব্রতী হয় আত্মসংস্কারে। তাকে ঘিরেই এই বিপুলায়তন উপন্যাস। জঙ্গম ও স্থাবর, সত্তা ও স্মৃতি যেন একই পাখির দুই অভিন্ন ডানার উড়াল।
Banaful/Banaphool (Bengali: বনফুল) (literally meaning The Wild Flower in Bengali) is the pen name of the Bengali author, playwright and poet, Balai Chand Mukhopadhyay (Bengali: বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়).
He was born in Manihari village of Purnia district (now Katihar District), Bihar on 19 July 1899. He was the son of Satyacharan Mukhopadhyay, a practicing physician at the village and Mrinalini Devi. He was admitted to the Sahebgunge Railway school in the year 1914. Mukhopādhyāy started a hand-written magazine named "Bikash" where his writings of the first few days were published. When one of his poem was published in a well- known magazine named Malancha, he was warned by the then head-master of the school as he feared that Balāi Chānd's literary work may spoil his education. So, Balāi adopted his pen name Banaful (the wild flower in Bengali) to hide his work from his tutor. He passed Matriculation examination in 1918 and completed his study at Hazaribag College. Then he was admitted in the Medical College and Hospital, Kolkata. During this time, he was married to Lilavati, who was studying I.A. at Bethune College, Calcutta. But before completing his medical education in Calcutta, he was transferred to Patna Medical College and Hospital due to an issued Government order. Here he was emoployed as a physician after completion of his medical education. Then he worked as a physician at Azimgaunge Hospital. He practiced Pathology at Bhagalpur. In 1968, he sold his house at Bhagalpur and settled at Salt Lake, Calcutta. This great writer took his last breath on 9 February 1979.
শঙ্কর কলকাতায় হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে । বাবার চিঠি পেয়ে বাড়িতে এসেছিলো । বাড়িতে এসে জানতে পারে বাবা তার বিয়ে ঠিক করেছে । এর আগেও তার বাবা তাকে বেশ কয়েকবার বিয়ের জন্য জোরাজুরি করলেও শঙ্করকে রাজি করাতে পারে নি । কিন্তু এইবার শঙ্কর কলকাতা থেকে যখন আসে তখন থেকেই তার মন কতগুলো কারণে বিষিয়ে ছিলো । তার জীবনে সবচাইতে বড় ট্রাজেডি হলো যতবার ই জীবনের গতি কে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে ততবার ই সে ব্যর্থ হয়েছে । ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর সে ঠিক করেছিলো আজীবন অবিবাহিত থেকে দেশসেবা করবে । এই উন্মাদনা বেশিদিন ছিলো না ; এরপর আই এস সি এবং বি এস সি পড়ে তার মনে হলো সংসারে না জড়িয়ে বিজ্ঞানের সেবা করলেই প্রকৃত দেশসেবা হবে কিন্তু এসব মফস্বলীয় কল্পনা কলকাতায় পড়তে এসে একেবারে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে । কলকাতায় এসে সে লক্ষ্য করলো তার মন অনিবার্য টানে যে দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে তা বিজ্ঞান নয় – সাহিত্য ।শঙ্কর আরো আবিষ্কার করলো নারী-সঙ্গ-বর্জিত জীবন আর যেই যাপন করতে পারুক না কেন তার পক্ষে অসম্ভব । তার খুব কাছের বন্ধু উৎপল বিয়ে করে শ্বশুরের টাকায় যেদিন বিলেতে পড়তে যাচ্ছে সেদিন ওকে স্টেশনে এগিয়ে দিতে গিয়ে তার রিনির সাথে দেখা হয়। রিনিকে তার ভালো লাগে । সে ঠিক করে রিনি কে বিয়ে করবে কিন্তু কোন একটা কারণে রিনির সাথে তার বিয়েটা হয় না । এরপর তার সাথে এক রূপোপজীবিনীর ঘনিষ্ঠতা হয় কিন্তু শেষতক সেই মেয়েটিও তাকে ত্যাগ করে কিংবা হয়তো সমাজের ভয়ে দূরে সরে যায় । শেষ পর্যন্ত শঙ্করের এমন একজনের সাথে বিয়ে হলো যাকে সে আগে কখনোই দেখে নি । একেই হয়তো মানুষ ভাগ্য বলে কিংবা দুর্ভাগ্য । জঙ্গম এমন এক উপন্যাস যেটার রিভিউ দেওয়াটা আসলেই এক মুশকিলের ব্যাপার ।এতো আর অল্প কয়েকটা পাত্র পাত্রীর কথা নয় । লেখক এর মধ্যে সবার জীবন বৃত্তান্ত ও তাদের মানসিক অবস্থার একটা চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছেন । এখানে সবার গল্পই সবার থেকে আলাদা , অন্যরকম । কখনো শঙ্কর তার পিতার কাছ থেকে আর টাকা পয়সা না দেবার হুমকি শুনে হন্য হয়ে চাকুরী খুঁজছে ,কখনো শঙ্করের বন্ধু ভন্টু আপ্রাণ চেষ্টা করছে তার একান্নবর্তী বিশাল পরিবারকে সামলিয়ে কোন মতে টিকে থাকবার ,আবার ওদিকে জ্যোতিষ করালীচরণ প্রচুর মদ খেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে টেল অব টু সিটিজের সংলাপ মনে করার চেষ্টা করছে , আর এদিকে ভন্টুর বন্ধু মৃন্ময় শুধুমাত্র তার আগের পালিয়ে যাওয়া স্ত্রী কে খোঁজার সুবিধা হওয়ার জন্যই পুলিশের কন্যাকে বিয়ে করে এখন পুলিশের চাকরি করছে ……………… ‘’জঙ্গম’’ এসকল পাত্রপাত্রীদের নিজের জীবনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার আপ্রাণ প্রচেষ্টার একটি স্থির ফলাফল ।
এটার প্রথম খন্ড টা পড়লাম। বইটা দেখে ভাবলাম যে কোনো গল্প গ্রন্থ হবে বোধহয়। সেজন্য না পড়ে এতোদিন ফেলে রেখেছিলাম। কিন্ত শুরু করে দেখি উপন্যাস। বনফুলের আমার পড়া প্রথম উপন্যাস এটা। এই বইটার যে দিকটা আমার সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে তা হলো যৌনতার এতো মার্জিত উপস্থাপন।
৭-৮ দিন লাগিয়ে তিনখন্ড বই শেষ করলাম।স্থাবর শেষ করে খুব ভালো লেগেছিল। ভেবেছিলাম জঙ্গম তার সিকুয়েল টাইপ কিছু হবে।কিন্তু এটাতো সম্পূর্ণ সামাজিক উপন্যাস। অসংখ্য চরিত্র আছে বইতে।শংকর,ভনটু,বউদিদি,করালীচরণ বকশি,পাগলা মোস্তাক,অরিজিনাল(দশরথ)প্রোটোটাইপ(লক্ষণবাবু)বেলা মল্লিক,মিষ্টিদিদি,সোনাদিদি,রিনিদিদি,মিসেস স্যানিয়াল,চুনচুন,মুক্তো,যতীন হাজরা,প্রফেসর গুপ্ত,প্রফেসর মিত্র,,উৎপল,সুরমা.....হাজারটা চরিত্রের সমাহার এই অলমোস্ট মহাকাব্য! প্রধান চরিত্র শংকর।তাকে ঘিরেই এই কাহিনী।বইয়ের প্রত্যেকটা চরিত্রের সাথে তার জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে মোলাকাত হয়েছে।সবাই তার জীবনকে পূর্ণতা দান করেছে,শিক্ষা নিয়েছে সকলেরনকাছ থেকে।কিন্তু তাই বলে শিক্ষা কাজে লাগিয়েছে এমন নয়।নারী চরিত্রের কাছে এলেই তার আদর্শ আর শিক্ষাটা কেন জানি ঢিমেতালে চলে। একদিকে দিয়ে তার চরিত্রটাকে পুরোটাই ধোঁয়াশা মনে হলো।কোনো কিছুতেই তার স্থিরতা নেই।নিজের মনকে নিজে এতোটাই বিশ্লেষণ করে যে তার আত্মবিশ্বাসও কম! আদর্শ আদর্শ করে গেলো পুরো বই,কিন্তু খুব একটা প্রতিফলন তো দেখলাম না। কোনো কোনো জায়গায় বরং একটু বোকাই মনেহলো। একবার গান্ধীজির চরকা কেটে দেশ উদ্ধার করবে,আবার বিজ্ঞানী হয়ে বৈজ্ঞানিক হয়ে দেশের উপকার করতে চায়।এদিকে আবার জলজ্যান্ত কবিও বটে।নিরবচ্ছিন্ন সাহিত্যসাধনাও করতে চায়। কিন্তু পত্রিকার সম্পাদক হয়েও মন ভরে না। শেষমেশ উৎপলের উৎসাহে গ্রামে যায় গ্রামের চেহারা পালটে দেবে বলে, তাতেও যে খুব একটা কাজ এমন নয়! সবমিলিয়ে ভালো লাগেনি শংকরের জীবনবোধ।
ভনটু চরিত্রটা বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছিল। চাম লদ,চাম গ্যানঢঅ, খুজবুজ অদ্ভুত শব্দাবলীর আবিষ্কর্তা সে! সংসারী না হয়েও দাদার বিশাল সংসারের চাপে পড়েও তার মুখের হাসি মলিন হয়না। সবচেয়ে মজা লেগেছে তার বাবাকে ‘বাকু' আর বউদিদিকে ‘মিস্টার বিডডিকার' ডাকা।। উৎপলকে প্রথম দুখন্ডে তেমন চেনা না গেলেও শেষখণ্ডে এসে যে ঝলক পেয়েছি তাতে বেশ লেগেছে। তার মধ্যে বেশ তেজ ছিল নিজেকে নিয়ে। মনযোগ দিয়ে কিছুতে লেগে থাকলে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করতে পারতো সে।কিন্তু সেও শংকরের মতো অস্থিরমতি মানুষ।
বিরক্তিকর চরিত্র লেগেছে মৃন্ময়কে। প্রাক্তন পত্নীকে খোঁজার জন্যে নতুন একটা মেয়েকে বিয়ে করে তাকে কষ্ট দেবার কি দরকার ছিল? পুলিশের চাকরি কি নিজের যোগ্যতায় পাওয়া যেত না? বেলা মল্লিকের কাহিনীও বুঝিলাম না শেষটায়। সে যদি বিলেত গিয়েই থাকে,পুরুষের ছদ্মবেশে ফিরে এলো কেন তা পরিষ্কার নয়।
সব মিলিয়ে প্রায় একহাজার পাতার বিশাল কলেবরের বই শেষ করেছি।প্রথম দুইখন্ড বেশ উপভোগ্য লেগেছে। শেষখন্ড অত ভালো লাগেনি। হয়তো আমার ধৈর্যের ভান্ডার ফুরিয়ে গিয়েছিল বলে!
This entire review has been hidden because of spoilers.
এই বইকে পাঁচ তারকা না দিয়ে উপায় নেই। বইটা ধরে পড়া শুরু করে মাঝে থামি নাই, একবারে শেষ করলাম। তিনদিন লাগলো, মাঝখানে একদিন দাঁত মাজতে ভুলে গেছি আর একদিন স্নান করতে! ফেসবুক ব্যবহার করিনি। খাওয়া ঠিক ছিল কারণ হাইপোগ্লাইসেমিয়া নিয়ে পড়তে গেলে তা এবজর্ব হয় না আমার। খারাপের ভিতর এই তিনদিনে স্লিপ প্যাটার্ন চেঞ্জ হয়ে গেছে! Nevertheless, I will give 5 out of 5। কুন্তলা এটা কি করলো? অন্ধবিশ্বাসের উপর গৌরব করে আত্মবলিদান দিয়ে দিল অথচ সে গ্রাজুয়েশন করা একটি মেয়ে। কলেজ লাইফে ভনটুর মত আমারও অনিক নাম্মী এক বন্ধু ছিল যে কথার মাঝে মাঝেই নতুন নতুন ওয়ার্ড তৈরি করতো যা ছিল আনন্দাশ্রু উদ্রেককারী। মায়া দিদি,সোনা দিদি,রিনি, বেলা,মুক্তো, মিস স্যানালের বোন এদের সবার জন্য খারাপ লাগছে।এই কারণে শঙ্কর থেকে মৃন্ময়কে ভাল লেগেছে।