জোছনাকুমারী কি সত্যিই এক ডাইনি, যাকে কেন্দ্র করে অদ্ভূত সব গল্প ছড়িয়ে আছে সীমান্তগ্রাম গড়বন্দীপুরের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে? জোছনাকুমারী কি দ্বৈতসত্তাময়ী এক বাস্তব যুবতী, যে বীণা হয়েও ফতিমা, হিন্দু হয়েও মুসলমান? জোছনাকুমারী কি কবিগানের এক কাল্পনিক নায়িকা, যার নামে পালাগান বাঁধে প্রেমিক কবিয়াল, আর সে-গান শোনাতে গেলে চোখের জলে গলা যায় বুজে? জোছনাকুমারী কি সত্যিই এক জোছনাকুমারী? মায়া দিয়ে গড়া যার শরীর, যাকে ধরতে-ছুঁতে পারে না কেউ? মাঝেমাঝে মানুষের মধ্যে নেমে এসে সে পরীক্ষা করে মানুষের স্নেহ-মমতা-দয়া আর ভালোবাসা, আর প্রতিবারই ফিরে যায় দুই চক্ষে অশ্রু নিয়ে? দুই বাংলার সীমান্তবর্তী এক গ্রামের পটভূমিকায় এক অসাধারণ জীবনকাহিনী শুনিয়েছেন ‘পূর্ব-পশ্চিম’-এর স্রষ্টা । মানুষের তৈরি মানচিত্র যে কত কৃত্রিম, দুই বাংলার মানুষের হাসি-কান্না-কাম-লোভ যে অভিন্ন, খড়ির দাগের দু’-প্রান্তেই যে অবিচ্ছেদ্য জীবনপ্রবাহ ছড়ানো, আরও একবার তুলে ধরলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এই হৃদয়স্পর্শী উপন্যাসে।
ভারতীয় কবি জয় গোস্বামী (ইংরেজি: Joy Goswami নভেম্বর ১০, ১৯৫৪) বাংলা ভাষার আধুনিক কবি এবং উত্তর-জীবনানন্দ পর্বের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি হিসাবে পরিগণিত।
জয় গোস্বামীর জন্ম কলকাতা শহরে। ছোটবেলায় তাঁর পরিবার রানাঘাটে চলে আসে, তখন থেকেই স্থায়ী নিবাস সেখানে। পিতা রাজনীতি করতেন, তাঁর হাতেই জয় গোস্বামীর কবিতা লেখার হাতে খড়ি। ছয় বছর বয়সে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। মা শিক্ষকতা করে তাঁকে লালন পালন করেন।
জয় গোস্বামীর প্রথাগত লেখা পড়ার পরিসমাপ্তি ঘটে একাদশ শ্রেণীতে থাকার সময়। সাময়িকী ও সাহিত্য পত্রিকায় তিনি কবিতা লিখতেন। এভাবে অনেক দিন কাটার পর দেশ পত্রিকায় তাঁর কবিতা ছাপা হয়। এর পরপরই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন পরে তাঁর প্রথম কাব্য সংকলন ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালে তিনি ঘুমিয়েছ, ঝাউপাতা কাব্যগ্রন্থের জন্য আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। ২০০০ সালের আগস্ট মাসে তিনি পাগলী তোমার সঙ্গে কাব্য সংকলনের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।