একজন কমান্ডোকে ট্রেনিং দেওয়া হয় এমনভাবে যাতে সে দুনিয়ার এমন কোন কঠিন বাধা নেই যা সে উতরাতে পারে না। কঠোর নিয়মানুবর্তিতা, অমানুষিক পরিশ্রম, অবর্ণণীয় শারীরিক নির্যাতন সহ্য করে তৈরি হয় একজন কমান্ডো। বাঙালী এক যুবক কখনোও নেমেছে উত্তাল সমুদ্রে, কখনোও অসীম নিলাকাশ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে নিচে। কখনোও বা তুষারাবৃত পর্বত শৃঙ্গে লড়েছে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা। নিজের চামড়া পোড়ার গন্ধে কখনোও চমকে উঠেছে, কুলকুচি করেছে বিষ্ঠাময় দূর্ঘন্ধযুক্ত পানি দিয়ে। ক্ষুধার তাড়নায় খেয়েছে কুকুরের মাংস। সে এক কঠিন বিচিত্র অভিজ্ঞতা।
তদানিন্তন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২য় কমান্ডো ব্যাটালিয়নের ক্যাপ্টেন আনোয়ার হোসেন ছিলেন এক লড়াকু দুঃসাহসী অফিসার। হেল কমান্ডো মূলত তারই সৈনিক জীবন নিয়ে রচিত বই। কমান্ডো ট্রেনিং শেষে ৭১ এর মার্চে এদিকে যখন স্বাধীনতায় উত্তাল দেশ তখনিই তাকে এক মুভি থিয়েটার থেকে পাকিস্তান সরকার গ্রেফতার করে বন্দী করে রাখে, তার সঙ্গী বাঙালী বহু অফিসার বন্দীদশা থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি পালাতে পারছেন না। যখনই যোগারযন্ত করে ফেলেন তখনই কোন না কোন বাধা এসে পড়ে তার সামনে। এত এত ট্রেনিং, নিজের অর্ধ জীবন লাগিয়ে কমান্ডো হলেন সেটা যদি নিজের মাতৃভূমির জন্য ব্যয় করতে না পারেন তাহলে জীবন স্বার্থক হল কই?
তাই এই বই শুধু সৈনিক জীবন নিয়েই রচিত নয় বরং দেশপ্রেমে আসক্ত এক গভীর জীবনেরও। বইতে জানার আছে অনেক কিছু। সেনাবাহিনীর ভিতরের অবস্থা, দুঃস জীবন আর রোমাঞ্চকর সব ট্রেইনিং এ ভরপুর এক বই। মেজর আনোয়ার হোসেন আপনাকে নিয়ে যাবে এক রোমাঞ্চকর অভিযানে। না পড়লে মিস!