Disclaimer: I read the novella in the original Bangla, but cannot find a listing for that version on this website.
"স্বামী মরল, ছেলে মরল, শনিচরী কি দুঃখে মরেছিল? দুঃখে মানুষ মরে না। প্রচণ্ড শোকের পরও মানুষ ক্রমে স্নান করে, খায়। লঙ্কা চারা খাচ্ছে দেখলে ছাগল তাড়ায়। মানুষ সব করে। কিন্তু না খেতে পেলে মানুষ মরে যায়। শনিচরী এত শোকে যখন মরেনি, বিখনির শোকে মরবে না। দুঃখ আছে খুব, কিন্তু কাঁদবে না শনিচরী। পয়সা, চাল, নতুন কাপড় না পেলে কাঁদাটা বাজে বিলাসিতা।"
শনিচরীর জীবন তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছিলো যে গরিব অছ্যুত মানুষ শত দুঃখেও কান্নার অধিকারের থেকে বঞ্চিত থাকে| তাঁর স্বামী-ছেলে মারা গেলো, বৌমা-নাতি পালিয়ে গেলো, কিন্তু সে কাঁদার একটুও অবসর পেলো না| প্রৌঢ় কালে একা হয়ে গেলে, তাঁর জীবনের নিদারুন দুঃখের থেকে সে প্রথম বার একটু স্বস্তি পেলো- তাঁর সহেলি বিখনির রূপে| তাঁরা স্বতন্ত্র দুজন প্রৌঢ়া স্ত্রী ছোট হলেও একটা সুখের সংসার বাঁধলো|
অন্য দিকে মালিক-মহাজনরা নিজেদের আত্মীয়র মৃত্যু তে ঘটা করে আয়োজন করেন, অথচ জীবিত অবস্থায় তাদের চিকিৎসাও করান না, তাদের নিধন হলে চোখের জল ও ফেলেন না| এ কাজের জন্যেও তারা রুদালি ডাকেন|
যে রাজপূত সমাজ অন্ত্যজ শ্রেণীর স্ত্রীদেরকে গ্রাস করে রান্ডি হতে বাধ্য করে, তাদেরই মৃত্যু ক্রিয়ায় সেই বেশ্যাদের নিয়ে শনিচরী ও বিখনি রুদালি কাঁদতে যায়| হয়তো বা এই নিঠুর সংসারের কাছ থেকে কিছুটা আত্মসত্তা ও অধিকার ছিনিয়ে নিতে|
গল্পটি প্রত্যাশিত ভাবেই অসাধারণ ছিল| মহাস্বেতা দেবী আমার চিরকালের প্রিয় লেখিকা|