আজ যদি কেউ বিপ্লবের কথা বলে, বলে বিপ্লবী হতে। তাহলে অনেকে হয়তো বলবে বিপ্লব, সে তো পুরাতন ঘুনেধরা এক চেতনা। আজও কিছু কমিউনিষ্টদের মুখের বুলির সাথে আজও অনেক দৈন্যতার সাথে বিপ্লব শব্দটা নিঃশ্বাস ফেলছে। পুঁজিবাদের ক্রমবর্ধমান হুংকারে অরচিরেই বিপ্লব অবশিষ্ট নিঃশ্বাসগুলো বাতাসে মিলিয়ে যাবে।
কিন্তু মানুষের দেহের ভাইরাস যেমন দিন দিন নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তোলে তেমনি বিপ্লবও অন্য চেহারায় দানবের রূপ ধারন করে, খুব কম মানুষই সেই চেহারার আড়ালের বিপ্লবকে দেখতে পায়।
কখনো বিপ্লব হয় জাতির নামে, কখনো হয় ধর্মের নামে, কিছু তরুণ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেয় মহাসড়কে। বিপ্লব তৃপ্তির ঢেকুর তোলে। আসলে বিপ্লবের চেহারাটা বার বার পরিবর্তন হলেও হৃদপিণ্ডের পরিবর্তন হয়না।
সেই বিপ্লবের স্রোতে ভেসে যাওয়া এক তরুণের নাম অতনু সেন। সাতচল্লিশের দেশভাগের পর মেধাবী অতনু চাইলে পড়াশোনা শেষ করে সাধারণ একটা চাকুরী নিয়ে বাবার মত হয়তো সাধারণ সুখের স্বপ্ন নিয়ে বৃদ্ধ হতে পারতো। কিন্তু বিপ্লব তাকে ঘর থেকে নিয়ে যায় বহুদূরে।
কখনো নিয়ে যায় কোন ধর্ষিত মেয়ের কাছে, যে বিশ্বাস করতে শুরু করে সে অপবিত্র, নোংরা পাড়ায় তাঁর উপযুক্ত স্থান। আবার কখনো কোন অর্থব মায়ের কাছে, যে মা ঘরে আগুন লাগলে সেই আগুনকে অগ্রাহ্য করে নিজের সন্তানকে নিয়ে ছুটে যায় অথচ মাঝপথে দেখে সে ভুল করে তুলে এনেছে একটা পাশবালিশ। তাঁর একমাত্র সন্তান ততক্ষনে সাদা ছাই।
যে জীবনে বিপ্লবে সাথে উদোম নৃত্য সেরে অতনু খুঁজে পায়না বিপ্লবের মানে। ব্যক্তিগত জীবনে নেমে আসে চরম হতাশা। স্ত্রীর অর্থে পেটের অন্ন সংস্থান করতে হয়। প্রিয় বন্ধু প্রকাশকে হত্যা করা। ছুরি আঘাতে তাকে মনে হয় শুধু একটা মাংসপিন্ড। তবু বিপ্লবের মানে জানা হয়না অতনুর।
একদিন বিপ্লবের নতুন রক্তের হিংস্র চেহারায় ভয় পেয়ে স্ত্রী দুলু অতনুকে নিতে পালিয়ে যায় অন্যখানে। স্ত্রীর ভালোবাসা, ছেলেমেয়ের স্পর্শ ভাল লাগতে শুরু করে অতনুর। তবু বিপ্লব পিছু ছাড়ে না। অতনুকে এসে বলে, তুমি ওদের ছেড়ে দিলে, কে দেখবে ওদের?