জাপানি রহস্য-সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে কেইগো হিগাশিনো অবিস্মরণীয় এক নাম। তাঁর বিশেষত্ব কেবল জটিল প্লট কিংবা চমকপ্রদ টুইস্ট নির্মাণে নয়, বরং প্রচলিত ক্রাইম থ্রিলার বা ডিটেকটিভ ফিকশনের কাঠামো ভেঙ্গে মানব মনের গভীরে প্রোথিত আবেগকে তিনি লেখার উপজীব্য করেছেন বারংবার।
হয়তো সেই কারণেই বাংলাভাষী পাঠকের কাছে হিগাশিনোর আলাদা আবেদন তৈরী হয়েছে। বাংলা ভাষায় তাঁর একাধিক উপন্যাস অনূদিত ও ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ায় নতুন প্রজন্মের থ্রিলার পাঠকদের কাছে ‘জাপানি থ্রিলার’ বলতেই হিগাশিনোর নাম প্রায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলে আসে। তাঁর গল্পে বুদ্ধিবৃত্তিক ধাঁধাঁর উপস্থিতি যেমন আছে, তেমনি আছে সামাজিক সম্পর্ক, পারিবারিক দায়বদ্ধতা, নিঃসঙ্গতা ও আত্মত্যাগের সূক্ষ্ম উপস্থিতি। তাই সাংস্কৃতিক দূরত্ব সত্ত্বেও আবেগগুলো আমাদের দেশীয় পাঠকের কাছে অপরিচিত লাগে না—বরং অনেক ক্ষেত্রে আশ্চর্য রকম আপন মনে হয়।
সুদূর জাপান থেকে বাংলাদেশী থ্রিলারপ্রেমীদের হৃদয়, কেইগো হিগাশিনোর এই দীর্ঘ যাত্রাই প্রমাণ করে একটা ভালো থ্রিলার গল্পের কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা হয় না। হিগাশিনোর তৈরী করা চরিত্র, উপন্যাসের পটভূমি সেন্ট পার্সেন্ট জাপানিজ হতে পারে, কিন্তু তার যে থ্রিলিং অনুভূতি সেটুকু সর্বজনীন।
ম্যাগাজিন হিসাবে 'সাসপেন্স' যেহেতু থ্রিলারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠার ব্রত নিয়েছে, আমাদের দ্বিতীয় সংখ্যায় আমরা তাই কেইগো হিগাশিনোকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি। প্রিয় পাঠক, সাসপেন্স'র দ্বিতীয় সংখ্যার মাধ্যমে বাংলা ভাষাভাষী সকল পাঠকদের আরো একবার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি জাপানিজ রহস্য সাহিত্যের সেই মহান শিল্পীর সঙ্গে, যিনি ডিটেকটিভ ফিকশনকে কেবল রহস্য সমাধানের ফ্রেমে আটকে না রেখে পরিণত করেছিলেন অনুভবের শিল্পে।
....................................
সূচিপত্র:
* গল্প→
১. হাওয়া রাতে- মাহরীন ফেরদৌস ২. রিক্ত কণিকা- মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী ৩. ঘ্রাণ- উদয় রহমান ৪. দ্য বুক অফ ইউরিয়েল- আলী ওয়াহাব সৌহার্দ্য ৫. প্রতিবিম্ববান- এনামুল রেজা ৬. কুলফির বিষ- মাহমুদুর রহমান ৭. মব- নাজিম উদ দৌলা
* অনুবাদ→
১. নাইট অফ ডিসগাইজ- কেইগো হিগাশিনো অনুবাদ- আশিকুর রহমান
প্রথম সংখ্যার মতো এই সংখ্যা টাও ভালো হয়েছে তবে দ্বিতীয় সংখ্যায় মৌলিক গল্প গুলো বেশি ভালো লাগে নি শুধুমাত্র নাজীমদ্দৌলার "মব" গল্পটা ছাড়া।এজন্যই রেটিং টা ৪ দিয়েছি।
আর হিগাশিনোর ছয়টা গল্পের মধ্যে চারটাই বেশ ভালো, একটা এভারেজ আর আরেকটা বাজে।তবে এই সংখ্যার সবচেয়ে সেরা জিনিস হলো কুদরতে জাহান এবং ওয়াসি আহমেদের দুইটা ফিচার।এক কথায় সেরা দুইটা আর্টিকেল।অনেক কিছু জানতে পেরেছি দুইটা ফিচার পড়ে। ওভার অল দারুণ একটা সংখ্যা পেলাম আবার ও।