What do you think?
Rate this book


220 pages, Hardcover
First published January 1, 1985
মঞ্জু:
মুখ টিপে হাসি। বলি-এত রোগা হয়ে গেছেন কেন?
-ও এমনিই।
আর কিছু বলে না। আমিও বলি না। দুজনের মধ্যে একটা নিস্তব্ধতার বলয় তৈরি হয়। মানুষে মানুষে কতরকমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ভালবাসার, ঘেন্নার, প্রতিশোধের। এসবের বাইরেও বোধহয় আর একরকমের সম্পর্ক আছে। সেটা কেমন তা স্পষ্ট বোঝা যায় না। কিন্তু আছে। আমি টের পাই।
কেউ কোন কথা বলি না। এত ভীড় মানুষ কাছ ঘেঁষে যাচ্ছে, আসছে। তার মধ্যেই কয়েক মুহুর্তের মুখোমুখি দাড়িয়ে থেকে আমি সম্পর্কটা অনুভব করি। অন্যমনে মুখ টিপে হাসি। নেন্টু একপলক আমার মুখ দেখে। চোখ নামিয়ে নেয় । তারপর মৃদু হাসে।
সোমসুন্দর:
বৃষ্টি মনের আনন্দে পড়ছে তো পড়ছেই। জলে মাটিতে গভীর ভালবাসার শব্দ হয়।
একটা অন্ধকার শো-কেসের পাশে লম্বা একজন ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। চমকে উঠি। নীতু না?
না নীতু নয়। আমি আবার হাঁটি। আপনমনে হাসি। ভয় কি নেন্টু? এ তো জানা কথা যে, আবার পুলিশ আসবে। বার বার সার্চ করবে বাড়ি। তোমাকে নিয়ে যাবে হয়তো বা। বাবু নেই, দিলীপ রয়েছে। তার দলবল ঘুরছে কলকাতায়। নীতুর গুলি ফসকেছে। কিন্তু সেও আসবে। চারিদিকে কোথাও তোমার জন্য কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। খোলা রাস্তায় তোমাকে বেরুতে হবেই। তাতে ভয় কি নেন্টু? এসব তো ঘটেই। এরকম তো হয়।
হয়। জীবন এরকমও হয়। আবার অন্যরকমও হয়। নানা রকমের। আমি আমারটা যাপন করছি। ভয় কি?
চারিদিকে বৃষ্টির ঘেরাটোপ। বোধহয় রাত বারোটা বেজে গেছে। লোকজন নেই, গাড়ি নেই। জলে কলকাতার প্রতিবিম্ব ভেঙ্গে ছড়িয়ে যাচ্ছে। ঠান্ডা হয়ে আসে মাটি। আমার শীত করে। বর্ষাতিটার সব বোতাম নেই। ভিজে যাচ্ছে গা। হু-হু হাওয়া দিচ্ছে। তবু হাঁটতে থাকি। হাঁটতে তো হবেই।
মানুষের আছে স্বস্তিকর বিস্মৃতি। ...পৃথিবীতে ঘটনাগুলির গভীরতা কত কম! সময়ের দমকা হাওয়া আসে, ধুলোবালির মতো সব উড়ে যায়। ভুলোমন মানুষের মত পৃথিবী ঘুরে চলে।