একজন সাধু ব্যক্তি পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এখানে ঘোরেন,ওখানে ঘোরেন। লোকজনের সাথে কথা বলেন। মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেন।
পথে ঘুরতে ঘুরতে একদিন দেখলেন,একটা কুকুরের প্রায় মরো মরো অবস্থায় পড়ে আছে। কুকুরটা পানির পিপাসায় বড়ই কাতর।
কাছেই ছিল একটা পানির কুয়ো। কিন্তু সেখান থেকে পানি তোলার কোন ব্যবস্থা ছিল না। লোকটা সঙ্গে সঙ্গে মাথার পাগড়ি খুলে ফেললেন। পাগড়ির সাথে টুপি বেঁধে সেটা নামিয়ে দিলেন কুয়োর মধ্যে। এতে সামান্য একটু পানি উঠল।
ঐ পানি পান করিয়ে তিনি কুকুরটার জীবন রক্ষা করলেন। একজন তাকে জিজ্ঞেস করলেন,ভাই,এই সামান্য অবলা জীব টি কে বাঁচানোর জন্য আপনি টুপি পাগড়ি নষ্ট করে ফেললেন। লোকটি সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলেন, যার জীবন আছে তার প্রতি দয়া দেখানো উচিত। প্রকৃতি-রাজ্যে কত বিচিত্র প্রাণী - তাদের সকলের জন্যই আমাদের ভালোবাসা থাকা প্রয়োজন। হৃদয় ছাড়া একজন মানুষ কখনো বড় হতে পারে না।
এই বইটাতে অনেক গুলো গল্প আছে। সব কয়টা-ই নীতি গল্প। প্রতিটা গল্প শেষ করার পর,সুন্দর একটা ভালো লাগা কাজ করে। আকারে ও ছোট,ফলে চট চট শেষ হয়ে যায়, এতে আনন্দের মাত্রা আরো বাড়ে। ইচ্ছে করে একটানা এরকম আরো শ'খানেক গল্প পড়ে ফেলি। এছাড়া,কোন ঘটনার সাথে হালকা রিলেট করতে পারলে মনে হয়, ইশ,ঐসময় এই ভুল টা করা উচিত হয়নি। কেমন একটা ছোট বেলাই ফিরে যাওয়া; ভুল করে ফেলার পর,মায়ের বকুনি খাওয়ার ভয়! হাহাহা...
তবে এই বয়সে এসে যখন গোপাল ভাঁড়, নাসিরুদ্দিন হোজ্জা,শেখ সাদী'র গল্পগুলো পড়ি বড্ড মন খারাপ হয়, ছোট বেলার কথা ভেবে। ঐ সময়টাতে এসব বই বড় দরকার ছিল। পাই নি! তাই,অসময়ে পড়ে, পাপস্খলনের চেষ্টা।
শেখ সাদীর কাব্য থেকে গল্পে রূপান্তর করা হয়েছে। ছোট্ট একখানা বই মাত্র ৪৮ পৃষ্ঠার। মূলত এটি কিশোর সাহিত্য হিশেবে উপস্থাপিত হলেও প্রতিটি গল্পের ভারিত্ব ছিলো অসাধারণ, প্রতিটি গল্পের শেষেই জীবন পরিবর্তনকারী ম্যাসেজ ছিলো। ৫ তারকা না দিলেই নয়।
শেখ_সাদির_গল্প কিছু ছোট গল্প নিয়ে ৪৮ পৃষ্ঠার বই এটি। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা সামান্য হতে পারে কিন্তু গল্প গুলো এবং তার সাথে উপদেশ গুলো কখনোই সামন্য হবে না। অসাধারণ গল্প প্রতিটি। উপদেশ গুলো নতুন করে মানুষ হতে সাহায্য করবে। বইটির ভূমিকা পড়ে জানতে পেরেছি অরিজিনাল গল্প গুলো ছিল কাব্য রুপে। কাব্যরুপে পড়ার খুব ইচ্ছে করছে। যাহোক রেটিং ৫/৫। যেই সব বাচ্চারা মোটামুটি ভাবে পড়তে পারে তাদের জন্য এই বইটি হতে পারে মহামূল্যবান উপহার।