রফিক আজাদ (English: Rafiq Azad) একজন বাংলাদেশি কবি, মুক্তিযোদ্ধা ও সম্পাদক। তিনি ১৯৪১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার গুণী গ্রামের এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা একাডেমীর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা উত্তরাধিকার এর সম্পাদক ছিলেন। রোববার পত্রিকাতেও রফিক আজাদ নিজের নাম উহ্য রেখে সম্পাদনার কাজ করেছেন। তিনি টাঙ্গাইলের মওলানা মুহম্মদ আলী কলেজের বাংলার লেকচারার ছিলেন। রফিক আজাদ ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা৷ তিনি ১৯৭১ সালে কাদের সিদ্দিকীর সহকারী ছিলেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে- অসম্ভবের পায়ে, সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে, চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া, পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি, প্রেমের কবিতাসমগ্র, বর্ষণে আনন্দে যাও মানূষের কাছে, বিরিশিরি পর্ব, রফিক আজাদ শ্রেষ্ঠকবিতা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তার পুরস্কার ও সম্মাননার মধ্যে- বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১);হুমায়ুন কবির স্মৃতি (লেখক শিবির) পুরস্কার (১৯৭৭);আলাওল পুরস্কার (১৯৮১);কবিতালাপ পুরস্কার (১৯৭৯);ব্যাংক পুরস্কার (১৯৮২);সুহৃদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯);কবি আহসান হাবীব পুরস্কার (১৯৯১);কবি হাসান হাফিজুর রহমান পুরস্কার (১৯৯৬);বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা (১৯৯৭);একুশে পদক, (২০১৩) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
অসাধারণ কাব্য: বিষয়বৈচিত্র্যে, কবির নিজস্ব কন্ঠস্বর নির্মাণে, বহির্লোক থেকে অন্তরলোকে স্বত:স্ফূর্ত উভমুখী বিচরণে।
চিত্রকল্পে কবি বাঙালিয়ানাকে ছাড়িয়ে বিশ্বায়িত হতে পারেননি কিংবা চাননি। যেমন... "আমরা ওদের হাতে পাছে ধরা প'ড়ে যাই সেই ভয়ে তুমি খুব দ্রুত শিমুলবীজের মতো উড়ে এসে আমার শরীরে সেঁটে থাকো।" [ঘড়ির কাঁটার মতো] কবিতায় স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বা বিদেশী বন্দর থাকলেও চিত্রকলার জন্য শিমুলবীজের কাছেই কবির ফিরে আসা।
'কাঁটাতারে ঘেরা জীবন' কিংবা 'রূঢ় বাণিজ্যিক সভ্যতার' অর্থহীনতায় ব্যক্তি কবি সুতোর ওপারে চলে যেতে চাইলেও বিশ্বমানবতার মুখপাত্র কবি কিন্তু আশাবাদী। ..... 'চুনিয়া বিশ্বাস করে : শেষাবধি মানুষেরা হিংসা-দ্বেষ ভুলে পরস্পর সৎপ্রতিবেশী হবে।' [চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া]
"দুঃখ ও কষ্টের মধ্যে পার্থক্য অনেক: বহু রক্তক্ষরণের পর শব্দ দুটির যথার্থ বোঝা যায়। আমার তো অর্ধেক জীবন চলেই গেল নেহাৎ মামুলি এই দুটি শব্দ আর তার মানে খুঁজে পেতে !" রফিক আজাদ মনে হয় বেশি ভালো জিনিস নিয়ে বেশী কথা বললে তার মান কমে যায় তাই চুপ থাকি মন ভালো করার মতো কবিতা।