প্রকাশকের নিবেদন ‘কুহক’ উপন্যাসটি লেখকের সায়েন্স ফিকশন সমগ্রে প্রথম গ্রন্থভুক্ত হয়। আলাদাভাবে বই হিসেবে এতোদিন বের হয় নি। গতবছরই অনেক পাঠক এই উপন্যাসটি আলাদা গ্রন্থাকারে পেতে চেয়েছিলেন। সেবার পারি নি। আশা করি এবার ক্ষমাপার্থী হতে পারি।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
উপভোগ্য একটা সাইকোলজিক্যাল জনরার বই। অতিরিক্ত এক্সরে রশ্মির কারণে এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির এক অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে যায়। মানুষের মনোজগতে বিচরণের ক্ষমতা অর্জন করে সে। এরপর যা যা ঘটে সেটা নিয়েই গল্প।
বরাবরের মতই হুমায়ুন আহমেদের লেখায় মজা পেয়েছি। বইটাতে একটা বিষণ্ন ভাব ছিল। মাঝেমধ্যে সূক্ষ্ম হিউমারের ছোঁয়াও আছে। শেষটা অপ্রত্যাশিত ছিল কিছুটা। সর্বপরি বেশ ভালো লাগল। এক বসায় শেষ করার মত বই।
আমার সবসময়ই মনে হয় হুমায়ুন আহমেদ জীবনমুখী সামাজিক ঔপন্যাসিক না হয়ে শুধু থ্রিলার বই লিখলেও যে দুর্দান্ত একজন বিশ্বমানের লেখক হতেন এই বইটা তার প্রমাণ। আমার পড়া অন্যতম সবচেয়ে ইউনিক একটা হুমায়ুন-উপন্যাস, টানটান উত্তেজনার পিওর প্যারানরমাল সাসপেন্স থ্রিলার হিসেবে যেটা পুরোপুরি সফল। বইয়ের শুরুতে কিছুটা সায়েন্সফিকশন এলিমেন্ট থাকলেও পরবর্তিতে কাহিনী বলতে গেলে পুরোপুরিই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারে পরিণত হয়, সেই সাথে যুক্ত হয় শ্বাসরুদ্ধকর সাসপেন্স। যেকোন নন-হুমায়ুন পাঠককেও আমি এই বইটা পড়তে রেকমেন্ড করব, যদি তার এক্স-ফাইলসীয় রোমাঞ্চ গল্প ভাল লাগে। বহুবছর আগে পড়েছি, ভাবছি আবার রিভাইজ দিতে হবে।
সাইকোলজিক্যাল ও প্যারানরমাল জিনিসপত্র নিয়ে লেখাটা আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে কঠিনতম কাজ। মানুষের মনস্তত্ত্বের এপার ওপার ঘুরে তাকে নিয়ে গ্ৰহনযোগ্য কিছু লেখা এবং সেই লেখার ছাপ পাঠকের মনের অজান্তেই যারা ফেলতে পারেন তারা আমার মতে নিঃসন্দেহে এই পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী জাদুকর। অনায়াসে তারা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা অংশে ঢুকে তাদের জাদুর ছাপ ফেলে যান,আর এই পুরো বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয় ততটা কিন্তু হেলাফেলাযোগ্য নয়।
এক্ষেত্রে হুমায়ূন আহমেদ বলা যায় কিছু কিছু লেখার ক্ষেত্রে লেটার মার্কস পেয়েছন আবার কিছু ক্ষেত্রে টেনে টুনে পাস ।
দেবী,নিষাদ,বৃহন্নলা,আমি ও কয়েকটি প্রজাপতি,যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ এরকম আরো শত শত লেখা পড়লেই মনে হবে এই লোকটা শুধুমাত্র প্রকাশকদের চাহিদা আর বছর বছর বই বের করার এক অদ্ভুত রোগ না থাকলে বোধহয় এরকমই আরো লেখার পসরা সাজিয়ে গুছিয়ে পাঠকদের তুলে দিতে পারতেন।
যাই হোক ধান ভানতে শিবের গীত গাইবো না এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে প্রতিবার দু তিন কলম লিখতে বসলেও সেই ইতিহাস রচনা হয়েই যায় সুতরাং অল্প কথায় কাজ করার ইচ্ছে ক্ষান্ত দিয়ে অগত্যা মনে যা আসে তাই লিখে ফেলি। আশাকরি আমার এই মুদ্রাদোষ কারোর জন্য চক্ষুশূল হওয়ার কারন হবে না।
মে মাসের দিকেই চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর নামের বইখানা পড়েছিলাম যার বিষয়বস্তু ছিল দেবী ধরনীতে আসার সময়কালে ভুলক্রমে মহাদেবের দেওয়া ভেট হারিয়ে ফেলেন ফলাফল মর্তে সবাই বুঝতে পারছে এর ওর মনের কথা ।একটা বিরাট ক্যাচালের মধ্যে যখন পুরো মর্ত্যবাসী ঠিক তখুনি সব ভোলবাজির মত পাল্টে ঠিক হয়ে গেল,
হুমায়ূনের এই লেখার আর সমরেশের সেই লেখার প্রেক্ষাপট একদমই ভিন্ন যদিও কিন্তু তারপরও আমার এই মনের কথা বুঝতে পারাটা অংশের সাথে প্লটখানা একই লেগেছে।
মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার জন্য মনের কথা বুঝতে পেরেই যে লঙ্কাকান্ড বেঁধেছিল আর এখানে তো নিশানাথ বাবু দিনের পর দিন এর ওর মাথার মধ্যে চলতে থাকা আলো ঝলমল পরিস্থিতির সাথে সাথে বুঝতে পারছিলেন তার ভেতরকার যত পঙ্কিলতা অন্যায় অশুভ তৎপরতা। আপাতদৃষ্টিতে কারো বিনা অনুমতিতে তার মাথায় ঢুকে ব্যক্তিগত ভাবনাগুলো পড়া গর্হিত কাজ কিন্তু এই অবাঞ্চিত ক্ষমতার সাথে সাথে নিশানাথ মশাই পেয়েছেন আরেক ঐশ্বরিক ক্ষমতা। নিজের শরীরের সাথে প্রাণান্তকর যুদ্ধের পরও সেই কালের কালো ছায়া সরিয়ে দিতেন মনের থেকে।নিজে শ্রান্ত ক্লান্ত হয়ে ভোগ করেছেন অসহনীয় যন্ত্রনা কিন্তু বিনিময়ে কাছের লোকের জন্য দিয়েছেন অফুরন্ত শান্তি স্বস্তি ভালোবাসা।
কারো মনে মাথায় ঘুরপাক খাওয়া কষ্ট যন্ত্রণা অভিমান অনুযোগ দেখার সৌভাগ্য আমাদের ঈশ্বর দেননি।মানবচরিত্র এতটাই বিচিত্র যে এই কথা বুঝে ফেলার উপায়টি থাকলে কারো উপকার করার থেকে ক্ষতিটাই করে ফেলতাম বেশি বোধহয়।জগতে সবাই তো আর নিশানাথ হন না।☺
"একজনের মাথার ভেতর প্রবেশ করবার সঙ্গে সব পরিষ্কার বোঝা যায়। একজন মানুষের মানসিকতা কেমন? ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইটের বিশাল বিশাল ইমারত। সেইসব ইমারতে বিচিত্র সব প্যাটার্ন। অদ্ভুত সব নকশা। একজন মানুষের মানসিকতা বদলানোর মানে হচ্ছে ঐ সব নকশায় পরিবর্তন আসা। যার জন্য পুরো ইমারতটাকেই ভেঙে নতুন করে বানানো দরকার হয়ে পড়ে। নিশানাথ বাবু তা পারলেন। তবে তাঁর অসম্ভব কষ্ট হতে লাগলো। মনে হলো যেন শরীর অবশ হয়ে আসছে। ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ছেন। এর মধ্যেও কিছু কিছু পরিবর্তনের চেষ্টা করলেন। কাজটা কঠিন,তবে পুরোপুরি অসম্ভব নয়। তার কারণ মানসিকতা পরিবর্তনের ব্যাপারটা কীভাবে করতে হয় তা তিনি জানেন। কেউ তাঁকে শিখিয়ে দেয় নি।তবু তিনি জানেন। কী করে জানেন সেও এক রহস্য।"
জাদুকরদের থট রিডিং করতে তো অনেক দেখা যায়,তবে এই ঘটনা কতটা সত্য আর কতটা মিথ্যার টাটির ভঙ্গুর বেড়া দিয়ে আটকানো তা কমবেশি আমরা সবাই জানি। কেমন হবে যদি একজন মানুষের মাথার ভিতরে ঢুকে আপনি সব পড়তে পারেন? সেটা কেমন দাঁড়াবে যদি এলোমেলো করে দিতে পারেন তার সব ভাবনা, অনুভূতিকে বদলে চিন্তাধারার প্যাটার্ন বদলে দিতে পারেন.... ভণ্ডুল করে দিতে পারেন কোনো কূটচাল বা জাগিয়ে তুলতে পারেন চামড়ার নিচে লুকানো অমানুষটার গিরগিটি স্বভাব?
ধনাঢ্য ছাত্র মহসিনের ছেলেমেয়েকে পড়িয়ে শেষ বয়সের দিনগুলো কাটাচ্ছিলেন নিশানাথ বাবু। সাইনাসের সমস্যা দেখাতে গেলে ডাক্তার তাকে বলে এক্স-রে করতে। এক্স-রে মেশিনের গণ্ডগোলে মাথার ভিতর দিয়ে চলে যায় দশ হাজার রেম। এমন অবস্থায় একজন মানুষের মৃত্যু হওয়াটা স্বাভাবিক হলেও, ভাগ্যগুণে বেঁচে যান নিশানাথ মাস্টার। তবে বদলে যায় তার জীবনের গতিপথ। শরীরে রেডিয়েশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে শুরু করলেও মানুষের মনের ভিতর ঢুকে যাবার মতো অদ্ভুত ক্ষমতা লাভ করেন তিনি। তারপর কী হয়? এটুকু জানতে হলে পড়তে হবে "কুহক" এর অদ্ভুত মায়াময় আখ্যান।
অনেকের কাছে হুমায়ূন আহমেদ বললেই হিমু, বাদশাহ নামদার, জোছনা ও জননীর গল্প,শঙ্খনীল কারাগার,বহুব্রীহি বা কোথাও কেউ নেই এর মতো বইয়ের কথা ফুটে ওঠে। কিন্তু আমি সবসময়ই হুমায়ূন আহমেদের কিছু লেখাকে একটু অন্য লেন্সে দেখি। উনার লেখা প্যারাসাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, প্যারানরমাল আর উইয়ার্ড লিটারেচার, সায়েন্স ফিকশনগুলো সময়ের থেকে অনেক বেশি এগিয়েছিল। এই ঘরানায় উনার লেখাগুলোকে বিট করবার মতো লেখা আমি এখনো পাই না। উনি চাইলে যে, থ্রিলারও ভালো লিখতে পারতেন সেটার প্রমাণ পাওয়া যায়, "কুহক" নামের এই বইটাতে।
এক বসায় পড়ে ফেলার মতো বই। এর অনন্য প্লট তখনকার সময়ের তুলনায় বেশ এগিয়েছিল। সাজেস্টিভ হিপনোথেরাপি নিয়ে এখন অনেক বই দেখা গেলেও সেসময় তেমন ছিল না। লেখনী হুমায়ূনীয় ধারার... উদ্ভট কিছু চরিত্র আর তাদের বিচিত্র স্বভাব, মানুষের মনের জটিলতা, প্রতারণা, হুটহাট কথা বলে চমকে দেয়ার মতো সব সিগনেচারই উপস্থিত। হুমায়ূন আহমেদকে অনেক সমালোচক বাজারি লেখক বলেন, কিন্তু আমার মনে হয় উনি ভালো একজন স্টোরিটেলার। খুব বেশি ডিটেইলিং না করে সুপারফিসিয়ালি গল্প বুনতে বুনতে গল্পের একদম মধ্যে চলে যান। হাসতে হাসতে শুনিয়ে দেন কঠিন কথা। স্পেশালি সাসপেন্সিভ অ্যাটমোস্ফিয়ার খুব ভালোমতো তৈরি করতে পারেন। ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট উনার অন্য বইগুলোর মতোই...কিছু কিছু ক্যারেকটার বেশ কমিক, কেউ খুব মানবিক, আবার কারো ভিতর দানা বেঁধে আছে কুটিলতা।
সবথেকে ভালো লেগেছে একজন বৃদ্ধ লোক আর মূক-বধির এক মেয়ের ইন্টারেকশন আর ব্যতিক্রমী এন্ডিংটা।
তবে এর এন্ডিং বা স্টোরিলাইন আরো বেশি অন্যরকম হতে পারতো, যদি উনি মানবিক ধাঁচে গল্পটা না বোনার চেষ্টা করে একটু ডার্ক কমেডি আর থ্রিলার জনরায় এটাকে নিয়ে আসতে চেষ্টা করতেন। চাইলেই নিশানাথ মাস্টারকে অ্যান্টাগনিস্ট বানিয়ে পাঠকের সাথে মাইন্ডগেম খেলা যেতো। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের এই ধরনের রচনাগুলোতে মানবীয় দিকটাই বেশি প্রকটভাবে ধরা দেয়...প্রকৃতি ব্যতিক্রম-অনিয়ম পছন্দ করে না,সে সবকিছু সাম্যাবস্থায় রাখতে চায়...এই নিয়ম মেনেই হয়তো লিখে গেছেন এসব আখ্যান।
শব্দখানা বেশ সাদামাটা,কিন্তু এর ক্ষমতা সম্মন্ধে আমরা নিতান্ত সাধারণ মানুষেরা যদি স্বল্পদৈর্ঘ্য আকারের একটা স্নেক পিক দেখতে পারতাম,আমরা আকস্মিক বাকরুদ্ধ হয়ে সেই "মনস্তত্ত্ব",ওরফে "সাইকোলজির" কাছে নতমস্তকে স্যারেন্ডার করতাম।হায়!কী মূর্খের স্বর্গে বাস করি আমরা।এর মতো এক মহাবিধ্বংসী অস্ত্র থাকতে আমরা মিছেমিছি রঙচঙা শোঅফ করা "ম্যাজিক্যাল পাওয়ার"পাবার জন্যে হন্যে হয়ে প্রার্থনা করি?সাধেই গোপাল ভাঁড় হাস্যমুখে গেয়ে যান " সাইকোলজি" এর জয়গান—"শক্তির চেয়ে বুদ্ধির জোর বেশি"!
সেই "মনস্তত্ত্বের" একটা দারুণ স্নেক পিক এই "কুহক"।
মাইন্ডরিডিংকে বলা যায় সেই মনস্তত্ত্বকে একটুখানি ছোঁয়ার চেষ্টা।মানুষের এই মস্তিষ্ক-মনকে বোধহয় এই কিবোর্ডে ফিচার করা সস্তা ইমোজি দিয়ে,কিংবা শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ বা উপসর্গ-প্রত্যয়-সমাসে ভেঙে বোঝা সম্ভব নয়।কিন্তু কোনভাবে সম্ভব।
সেই "কোনভাবেই" পঞ্চাশোর্ধ্ব নিশানাথ বাবু বুঝতে পেরেছিলেন;হোক না সেটা এক্সরে মেশিনের গোলযোগে আকস্মিক রেডিয়েশনের ওভারডোজে!
কেমন হয় বলুনতো?হঠাৎ করে আলাদীনের চেরাগ থেকে বিপুল পরিমাণে শক্তি পেলেন।সেই বিচ্ছিন্ন শক্তি দিয়ে আপনি কী গড়ে তুলবেন?নয়নজুড়ানো অমরাবতী,নাকি উপ্তপ্ত লাভার মতোন টগবগ করে ফুটতে থাকা দোজখ?
যেকোনো কিছুই হতে পারে।ভালো-মন্দ যা খুশি হতে পারে,মানুষ মাত্রই ভালো-মন্দের অধীন।ঠিক যেমন আইনস্টাইনের E=mc2 আর আমেরিকার হিরোশিমা-নাগাসাকি নিঃশেষকারী নিউক্লিয়ার বোমা।
কিন্তু?নিশানাথ বাবু যেন যথার্থ মানুষ,তাই নিজের জীবনের "সেকেন্ড চাইল্ডহুডে"এসে বড্ড শিশুসুলভ আদুরে মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে মানুষের মন-মস্তিষ্কে প্রবেশ করে যেন ছোট্ট শিশুর মতোন খেলে গেলেন,আপন মনের খেয়ালে....
"খেলিছ এ বিশ্বলয়ে,বিরাট শিশু আনমনে"
ব্যতিক্রম:-তিনি ঐশ্বরিক নন,মানবিক।
কী অদ্ভুত এ মনের খেয়াল.....আর আমরা...
হুমায়ূন আহমেদ পুরো কাহিনীকে এক অদ্ভুতুড়ে রেশম সুতোয় বুনেছেন;খুবই স্মুদ,কিন্তু এক চিত্তাকর্ষক জটিলতায় ঘেরা।
সেই সাথে আবছা কুয়াশার মতোন থ্রিলারও কাহিনীকে আচ্ছাদিত করে রেখেছে, সবমিলিয়ে যেন যথার্থই এক "কুহক"!
তবুও যেন কোথাও কোথাও খুব একটা জমলো না;দই হবো হবো,কিন্তু দই নয়।
এই মনস্তাত্ত্বিক মাইন্ডরিডিং বা হিপনোটিজমের এক বৈপরীত্যময় দ্বৈরথ পেলে আরো খুশি হতাম;ভালো-মন্দের পারফেক্ট ব্যালান্স–লাও ৎসু এর " ইন-ইয়াং " চক্র.....
কিন্তু বইয়ের পাতায় পাতায় যে আমি অনাবিল আনন্দের ইন্দ্রজালে আবদ্ধ হচ্ছিলাম,না স্বীকার করে উপায় নেই!
থ্রিলার নয়, সামাজিক উপন্যাস নয়, কল্পবিজ্ঞান নয়, প্রেমের গল্প নয়। তাহলে এই বড়োগল্পটি ঠিক কোন গোত্রের? শীর্ষেন্দুর অদ্ভূতুড়ে সিরিজের কোন উপন্যাস থেকে অলৌকিক উপাদানগুলো সরিয়ে তার জায়গায় দিন বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা, লেখাটা করে দিন বড়োদের জন্যে, আর সহজ রেখেও গদ্যের ভাষাটা করে দিন দ্রুতগামী অথচ মায়াময়। বাংলায় এইভাবে অন্য কেউ কিছু লিখলে পাঠকের অনুগ্রহ তো পেতই না, বরং গালাগালি খেয়ে আত্মগোপন করত। কিন্তু হুমায়ূন? আরও একটি প্রাপ্তবয়স্ক-পাঠ্য ফ্যান্টাসি দিয়ে তিনি এবারও মাত করেছেন পাঠকদের।
নিশানাথ বাবুর বয়স ৫৫/৬০ হবে। থাকেন এককালের প্রিয় ছাত্র মহসিনের বাসায়। মহসিনের ছোট সংসার; স্ত্রী দীপা, দুই মেয়ে রাত্রি ও আলো আর এক ছেলে তুষার। আলোর মূক ও বধির, এই নিয়ে দীপা আর মহসিনের দুঃখ হয়। নিশানাথ বাবু এককালে মহসিনকে পড়িয়েছেন এখন পড়ান তুষার আর রাত্রিকে।
একদিন নিশানাথ বাবু যান এক্সরে করাতে। যন্ত্রের বেশ গোলযোগ হওয়ার কারণে মাত্রাতিরিক্ত রেডিয়েশন চলে যায় তার মাথার ভেতর দিয়ে। ডাক্তার আর এক্সরে অপারেটকারী মাসুদ অবাক হয়ে যায়, লোকটি বেঁচে আছে দেখে। কিন্তু এরপর থেকেই সমস্যা দেখা দেয়। নিশানাথ বাবু ডাক্তারের চেম্বারে থাকা অবস্থাতেই কিছু অনুভব করেন। চেম্বারে নাসিমা নামে এক অল্পবয়সী তরুণীও ছিল। তার মনের কথা সব জেনে ফেলেন। খুবই অদ্ভুত বিষয়!
বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর তার শরীর আরও খারাপ হতে থাকে। একরাতের মধ্যেই তার মাথার সব চুল পড়ে যায়, দাঁত খুলে পড়া শুরু হয়। এরমধ্যে তিনি নিশ্চিত হন যে, এক অস্বাভাবিক ক্ষমতাবলে তিনি মানুষের মস্তিষ্কের মধ্যদিয়ে ঘুরে আসতে পারেন; সবার মনের কথা জেনে ফেলেন। যদিও তার কাছে এই ব্যাপারটাকে অনৈতিক কাজ বলে মনে হয়। তিনি আলোর সাথে মনে মনে কথা বলে তাকে পড়ালেখা শেখান। দীপাকে দেখে তার মনে হয় মেয়েটির দেবী অংশে জন্ম, মেয়েটির সাথে খারাপ কিছু হওয়া উচিত নয়। এরই মাঝে একবার তিনি দাঁতের ব্যাপারে জানতে ডেন্টিস্টের কাছে যান, আবার তাকে এক্সরে করার জন্য যেতে হয়। তিনি আগের সেই ক্লিনিকেই যান। সেখানে গিয়ে মাসুদ আর ডাক্তারকে অবাক করে দেন। একদিন তিনি দেখেছিলেন মানুষের মস্তিষ্কের সামান্য পরিবর্তন করা যায়। তাই তিনি ডাক্তার আর নাসিমা মেয়েটির মস্তিষ্কে ঢুকে কিছু পরিবর্তন করে দেন (ভাল মানুষ বানানোর চেষ্টা আরকি!)
শেষের দিকটায় উনার শরীর আরও খারাপ হয়ে যায়, যখন তখন অবস্থা আরকি! রাতের বেলায় মহসিন তার খোঁজ খবর নিতে গেলে তিনি বুঝতে পারেন মহসিনের আরেক রূপ। এই যে সাধা-সিধা ঠান্ডা মাথার মহসিনকে তিনি দেখেন কিন্তু তার মস্তিষ্কে পাওয়া গেল স্ত্রীকে হত্যা করার পরিকল্পনাকারী মহসিনকে যার ফলে সে ২য় বিয়ে করে তার বর্তমান সঙ্গিনীকে অনায়াসে বিয়ে করে আনতে পারবে। মহসিন যাওয়ার পর দীপা আসলে তিনি দীপাকে বলেন ঘরের সমস্ত ইস্ত্রী যেন তাকে দিয়ে যায়। দীপার মুখে এই কথা শোনার পর মহসিন স্তম্ভিত হয়ে যায়। তারমানে তার শ্যালিকা তৃণার কথাই সত্যি! বুড়োটি মনের খবর পড়তে পারে। (তৃণা ডাক্তার, নিশানাথ বাবুকে দেখতে এসে নিশানাথ বাবুর এই আশ্চর্য ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারে)
মহসিনের ধারণা হল বৃদ্ধ মানুষ দু'দিন আগে মরলেও অসুবিধা নেই। যাত্রা করলো তাকে বালিশ চাপা দেয়ার জন্য। নিশানাথ বাবু টের পেয়ে ভাবলেন দীপার সাথে খারাপ কিছু হতে দেয়া চলে নাহ! দেবী অংশে জন্ম মেয়েটার! তাই তিনি শেষবারের মতো মস্তিষ্কের স্মৃতি পরিবর্তনের কাজ শুরু করলেন। খুব বেশি সময় নেই হাতে ঐ নুসরাত জাহান নুশা নামের মেয়েটির সাথে জড়িত সব স্মৃতি মুছে ফেলতে হবে, দীপার জন্য প্রচুর ভালবাসা থাকবে এর জায়গায়। সময় কম! মহসিনও নিজের কাজ শুরু করে দিয়েছে। এই খুনের স্মৃতিও মুছতে হবে, একজন ভাল মানুষ এ ধরনের স্মৃতি নিয়ে বাঁচতে পারবে না।
পরদিন সকালে মহসিনের ঘুম ভাঙে একটু দেরিতে, সাথে থাকে দীপার জন্য একরাশ ভালবাসা.....
~১৬ এপ্রিল, ২০২১
This entire review has been hidden because of spoilers.
এক কথায় দুর্দান্ত। চমৎকার একটা উপন্যাসিকা শেষ করলাম। সায়েন্স ফিকশন সমগ্রতে বইটি স্থান পেলেও এটাকে ঠিক সাইন্স ফিকশন বলা যাবে না। প্যারাসাইকোলজিক্যাল- সাসপেন্স থ্রিলার বললেই ঠিক হবে। ছোট্ট পরিসরে দুর্দান্ত একটা গল্প দুর্দান্তভাবে বলেছেন গল্পের জাদুকর। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এক বসায় শেষ করার মতো একটা থ্রিলার। হাইলি রেকমেন্ডেড।
সাইকোলজি ঘরানার বেশ অদ্ভুত একটা গল্প। নিশানাথ বাবুর গল্প। এক্সরে মেশিনের গোলমালে উচ্চ রেডিয়েশন মাথায় গিয়ে তিনি এক অদ্ভুত ক্ষমতা অর্জন করেছেন। তিনি মানুষের মনোজগতে প্রবেশ করতে পারেন, সেইসাথে ট্যালিপ্যাথিও পারেন। আমার বেশ ভালো লাগলো। একজনের মুখে প্লট শুনে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগায় পড়ে ফেললাম। সুখপাঠ্য, কেমন মায়া মায়া লাগে।
প্রায় দুইমাস পর কোনো বই পড়লাম। সাই-ফাই মোটেও আমার পছন্দের জনরা না। তবে এইটা আমার পড়া আগের সাই-ফাই গুলো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের ছিলো। দারুণ উপভোগ করেছি।
জেরিন আপু ২০২১ এর শুরুর দিকে বইটা রেকমেন্ড করেছিলেন। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী দেখে নাক কুঁচকায়ে এতোদিন ধরি নাই। তবে এখন এই চমৎকার বইটার জন্য আপুকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ;)
কদিন আগে গুডরিডসে পরপর কজনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা সম্বলিত রিভিউ দেখে বইটা পড়লাম। শুরুতে ভালোই লাগছিলো; মিসির আলি টাইপ একটা ভাইব পাচ্ছিলাম। কিন্তু এক পর্যায়ে যেয়ে দেখলাম বইয়ের গল্পটা খুবই ন্যারো হয়ে যাচ্ছে। বইয়ের প্রোটাগনিস্টকে লেখক 'লার্জার দ্যান লাইফ' টাইপ ফিগার বানিয়ে দিলেন। আর তাতে করে গল্পের বাকি সব চরিত্র আর কাহিনী গেলো উবে।
গল্পে একটা ছোট বাচ্চা মেয়ের উপস্থিতি আছে (আলো), যে কিনা সন্ধ্যার পর থেকে নিজের বাবাকে দেখলে ভয় পায়৷ কেনো? বাচ্চাটা কি সেক্সুয়ালি হ্যারেসড হয়েছিলো? আমি বাচ্চাটার এ আচরণের ব্যাখ্যা আশা করেছিলাম। সেই অপেক্ষা করতে করতে দেখলাম বই শেষ হয়ে গেলো। বইয়ে আরো কিছু চরিত্রকে টেনে এনে যেনো ঠুস করেই গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যাখ্যা নেই, কিছু নেই!এর কারণ কি? কেবলই একটা ইন্সট্যান্ট সাসপেনশন ক্রিয়েট? এটা কাইন্ড অফ একটা Deceptive লেখনী।
এটা সম্ভবত সায়েন্স ফিকশন জনরার। বইটার কলেবর যদি আরেকটু বড় হতো তাহলে হয়তো বইটা আরেকটু গোছানো হতো। মাত্র ৬২ পৃষ্ঠার বইটা আল্টিমেটলি ফাঁপা একটা ফিকশন বলেই মনে হয়েছে।
আজকের দিনে পড়া ৩ নাম্বার বই । এবং গত কিছুদিনের ভিতরে পড়া সেরা একটা বই ( দ্যা ক্রাই অফ দ্যা ডোভ সেকেন্ডে থাকবে) এইটা আসলে একের ভিতরে অনেক কিছু - সায়েন্স ফিকশন , সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার , প্যারানরমাল । আমি এত দিন জানতাম আমি হুমায়ূন আহমেদের সব বই পড়ে ফেলছি । দেখাই যাচ্ছে এই বইটা আগে পড়ি নি এন্ড পড়ার পর আফসোস হচ্ছে কেন আগে পড়ি নি !!! বইটা শেষ করার পর যে জিনিসটা প্রথম লাগল আমি হুমায়ূন আহমেদকে আসলে প্রচুর মিস করি । এই রকম বই আসলে ওনার পক্ষেই লিখা সম্ভব।
উপন্যাসিকার ৯৯% চমৎকার হলেও শেষটা একদমই দূর্বল লেগেছে। একেবারে দুম করে শেষ হয়ে গিয়েছে আর শেষটা একদমই টিপিক্যাল। তবে হ্যাটস অফ টু হুমায়ূন আহমেদ। কি অদ্ভূত একটা প্লট লিখে গেছেন তিনি।
'Lucy' নামের একটা সিনেমা আছে। সিনেমার মূল তারকা স্কারলেট জোহানসন। বিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের ডিএনএ তে সেই সৃষ্টির শুরু থেকে সকল তথ্য জমা করা আছে। সেই তথ্য আমরা জানিনা। Lucy সিনেমাতে দেখানো হলো এক বিশেষ ড্রাগের এক্সেস ওভারডোজে লুসির ভয়ানক পরিবর্তন হতে থাকে। মানুষের মস্তিষ্ক এক আজব বিষয়। সেই পূর্ণ মস্তিষ্ক সে ব্যবহার করে ফেলে ডিএনএ-তে লুকানো সব তথ্য দিয়ে। তাতে ঘটতে থাকে অত্যাশ্চর্য সব ঘটনা। সে দেখা পায় তার সৃষ্টির।
কুহক শব্দের অর্থ জাদু/ঐন্দ্রজালিক। হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'কুহক' একটা ফ্যান্টাসি উপন্যাস, তবে সায়েন্স আশ্রিত বলে আমরা এটাকে সায়েন্সফ্যান্টাসি বলতে পারি। এটাকে সাইকোলজিক্যাল জনরার বই বলা যায় না আসলে, তবে সেরকম এলিমেন্ট উপস্থিত। কুহকের গল্পটা Lucy-সিনেমার গল্পটার মত। কোনো ভাবে এক্সটার্নাল কিছুর সাহায্যে মানুষের ডিএনএ চাকে নাড়া দেয়া গেলে কি ঘটবে, সেরকম একটা গল্প। বৃদ্ধ নিশনাথ বাবুর জীবনে ঘটে যায় এমন একটা ঘটনা। একজন সাধারণ মানুষ এক্সরেতে ২০মিলিরেম রেডিয়েশন নিতে পারে। ভুলবশত এই বৃদ্ধ মানুষটার ভেতর দিয়ে কমপক্ষে দশ হাজার মিলিরেম রেডিয়েশন চলে যাবার পর থেকে তার সাথে সাইকেডেলিক ব্যাপার স্যাপার ঘটা শুরু করে। তিনি মানুষের মনের কথা বুঝতে পারেন। এমনকি মানসিকতা, স্মৃতিও পরিবর্তন করে দিতে পারেন। তবে এমন ক্ষমতা নিশিনাথ বাবুর জীবন নিংড়ে নেয়। হুমায়ূন আহমেদ সাধারণত এমন গুরুতর ব্যাপার নিয়ে তার ঢংয়ে মানবীয় গল্প লেখেন। যে গল্পে মায়ার ছড়াছড়ি। গল্পের শেষে এসে দেখা যায় একটা সুন্দর সংসার লণ্ডভন্ড হয়ে যায়, আর পাঠকের মনে সৃষ্টি হয় ক্ষত।
এই গল্পে হুমায়ূন আহমেদ নিজের এলেবেলে গপসপ কম করেছেন বিধায় এই বইটা চমৎকার লেগেছে পড়তে। তিনি লেখক হিসেবে সামাজিক উপন্যাসের বাইরের জনরা গুলোতে এত বেশিই শক্তিশালী, এখন পর্যন্ত বাংলায় এমন লেখক পাওয়া কঠিন। ইদানীং খুঁজে খুঁজে সেসব বাদ পড়ে যাওয়া ব্যতিক্রম বইগুলো পড়ছি। ভালো লাগছে।
এই বইটা আমার অনেক আগে পড়া। আমি সাধারণত সায়েন্স ফিকশন এড়িয়ে যাই। তবে হুমায়ুন আহমেদের শূন্য আমার অতি পছন্দের একটি বই। আসলে আমি বই পড়ে নাম ভুলে যাই। অনেকদিন পরে আবার পড়তে গিয়ে কাহিনী চেনা লাগে তখন বুঝি যে পড়েছি। কাল রিজওয়ান খলিল ভাইয়ার রিভিউ দেখে কুহক পড়তে বসলাম এবং আবিষ্কার করলাম এটা অনেক আগের পড়া আর আমার বেশ ভালো লেগেছিলো। মানুষের মাথ���র ভিতরে ঘটে চলা ব্যাপার স্যাপার যদি সত্যিই জানা যেতো আর নেগেটিভ ব্যাপার গুলো যদি সত্যিই বদলে দেয়া যেতো! মানুষের উপরের চেহারা যে আসলে কতোটা ধোঁকা দেয় সেটা হুমায়ুন আহমেদ বরাবরের মতোই খুব সাবলীল ভাষায় বলে দিয়েছেন। :)
গল্পটি আসলে নিশানাথবাবুকে কেন্দ্র করে। নিশানাথ বাবুর কিছুদিন ধরেই একটা জটিল সমস্যা হয়।বিনা কারণেই তার চুল ও দাঁত পড়ে যায়। আর একটা জিনিস তিনি অনুধাবন করেন যে তিনি মানুষের মাথার ভেতর ঢুকে যেতে পারেন এবং সবার মনের কথা, ভাবনা চিন্তা জেনে যেতে পারেন।
গল্পটা যে কোন ঘরানার তা বলা মুশকিল।নিজেকে পড়ে দেখতে হবে। এটুকু বলতে পারি ভালো লাগবে।শেষটা শ্বাসরুদ্ধকর, কি হয় কি হয় ব্যাপার। নিশানাথ বাবু মৃত্যু না হলে কি ক্ষতি ছিল, দুঃখ পেয়েছি খুব। সত্যিই যদি এমন ক্ষমতা আমার থাকতো সবার মনের কথা জেনে যেতে পারতাম 😌, কত খারাপ মানুষকে ভালো পথে নিয়ে আসা যেত।
উপন্যাস টা মেটাফিজিক্যাল আর সাইকোলজির দারুন একটা কম্বিনেশন। কিন্তু পুরোপুরি যেন শেষ হলো না। না পাওয়ার ভাবটা ঠিকই গতানুগতিক ভাবে হুমায়ূন স্যার দিয়ে গেলেন।
টিপিকাল হুমায়ুন থেকে আলাদা। কোনো হিমু টাইপ বিরক্তিকর পাগলাটে উড়নচণ্ডী চরিত্র নাই।হুমায়ুনের বইয়ে মূল গল্পের থেকে অনেক অপ্রয়োজনীয় উপ-গল্পও বের হয়। সেগুলো অবশ্য তার লেখার গুনে পড়তে বিরক্তি লাগে না,তবে মূল গল্প তার টানটান ভাব হারায়। এ বইটায় বাড়তি একটা লাইনও নেই।
কিছুটা সুপারন্যাচেরাল সাই ফাই টাইপের গল্প। অসাধারণ বললেও কম বলা হবে। মাত্র ৬২ পৃষ্ঠার পুরো বইটা জুড়ে থ্রিল ছিলো।
আমার প্রায়ই মনে হয় হুমায়ুন আহমেদ তার লেখা নিয়ে খুব বেশি সিরিয়াস ছিলেন না। তার ছবি/নাটক বানানো দরকার,এজন্যে টাকা দরকার তাই যেমন তেমন একটা বই কয়েকদিনে লিখে ফেলতেন বা সামনে বইমেলা... প্রকাশকের তাগাদায় হুট হাট একটা কিছু লিখে ফেললেন। উনি যদি সিরিয়াসলি লিখতেন.... উনার ৩০০+ বইয়ের সংখ্যা আরো দুশো কমে যদি একশোটা 'সিরিয়াস' লেখনির বই হতো তাহলে বাঙালি জাতি হয়তো বা আরেকটা নোবেল পেয়েও যেতে পারতো। এই ভাবনাটা অনেকের কাছে হাস্যকর ঠেকতে পারে।তবে আমি এটাই মনে করি। বাংলা সাহিত্যে এতো প্রতিভাবান লেখক এক রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর বোধ করি কেউ নেই। হুমায়ুন এমনই গল্পের জাদুকর ছিলেন তার সাধারন কথাগুলোই গল্প হয়ে যেতো। পৃথিবীর আর কারো আত্মজীবনী গুলো এতোটা সুখপাঠ্য কিনা আমার জানা নেই যতটা হুমায়ুনের কাঠপেন্সিল,বলপেন,ফাউন্টেনপেন,...
ভালো ছিল। কিন্তু একটা জায়গায় বিবর্তনবাদকে হুমায়ূন আহমেদ সমর্থন করেছেন যেটা ভালো লাগে নি। ঔ টুকু না করেও হয়তো অন্যভাবে ও লিখা যেত। বিবর্তনের ধারণাটা পুরো বাদ দিয়েও লিখা যেত।
নিশিনাথ বাবুর বয়স ৬০ এর মতো। থাকেন এককালের ছাত্র মহসিনের বাসায়, তার দুই ছেলে-মেয়েকে পড়ান। আসল কাহিনী শুরু হয় যেদিন নিশিনাথ বাবু মাথাব্যথার কারণে এক্সরে করাতে যান ওই থেকে। এক্সরে করে বাড়ি ফেরার পর ধীরে ধীরে নিশিনাথ বাবুর বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে থাক, যেমন- মাথার চুল সব হুট করে পড়ে গেলো, আবার সব দাঁত খুলে পড়তে লাগলো। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, নিশিনাথ বাবু যে কারো মাথার ভিতর ঢুকে যেতে পারতেন! মানে কে কি ভাবছে বা কার মস্তিষ্কে কি কি আছে তা তিনি বুঝতে পারতেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অবশ্য তিনি কয়েকটা ভালো কাজ করে গিয়েছেন।
এমন করে যদি কারো মাথার ভিতর ঢুকে পড়া যেত, তাহলে খুবই সমস্যা হতো আবার কে ভালো আর কে মন্দ তা সহজেই বুঝা যেতো। সবকিছুরই ভালো মন্দ দিক থাকে। কারো মনের ভেতরটা জেনে ফেললে সব রহস্য শেষ। হুমায়ূন আহমেদ কিছু বই এত সুন্দর করে কেনো লিখেছেন কি জানি৷ পড়ি আর ভাবি, আসলেই হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন? ওনার যে কয়টা বই ইদানীং পড়েছি সবই আসলেই সুন্দর!
স্পয়লারঃ (আতঙ্কিত হউন)- নিশানাথ চক্রবর্তীঃ মহসিন সাহেব এর বাসার প্রাইভেট টিউটর। এক্স রে করাতে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়েন। তাঁর মাথার ভিতর দিয়ে পাস করে অতি উচ্চমাত্রার রেডিয়েশন (১০০০০ রেম)। তাৎক্ষনিক ভাবে একটি বীভৎস দৃশ্যের অবতারণা হেতু তাঁর মৃত্যু বরণ করার কথা ছিল। কিন্তু আশ্চর্য ভাবে সে যাত্রায় বেঁচে যান তিনি। নিজের ভিতর অনুভব করা শুরু করেন টেলিপ্যাথিক ক্ষমতার। আলোঃ মহসিন সাহেব এর তিন বাচ্চার মধ্যে সব চেয়ে ছোট । জন্ম থেকেই মূক ও বধির। কারো সাথে কথা বার্তা বা ভাবের আদান প্রদান করতে না পেরে, সর্বক্ষণ মনমরা হয়ে থাকে। দীপাঃ মহসিন সাহেব এর স্ত্রী। অত্যন্ত বিনম্র গৃহকর্ত্রী এবং মমতাময়ী জননী। মহসিন সাহেবঃ এক জন ভদ্রলোক। মতান্তরে একজন .............. (অনেক স্পয়লার হইল, আর না)।
অন্যের মাথার মধ্যে ঢুকে পড়তে পারা এবং তার সকল চিন্তা-ভাবনা জেনে যাওয়া, তার স্মৃতিগুলো একদম বইয়ের পাতার মতো পড়তে পারা এই ব্যাপারটা কি fascinating মনে হয়।
কিন্তু মানুষের মনের জগৎ আলো-অন্ধকারের জগৎ। কারো জগৎ টা একদম আলোকিত, আর কারো জগৎ একদম অন্ধকার। কারো জগতে অন্ধকার ই বেশি, কিন্তু তাও কিছুটা হলেও আলো থাকে। কারো জগতে অনেক আলোর মাঝে আবার একটু অন্ধকার থাকে। এই অনেক আলোর মাঝে একটু অন্ধকার থাকলে, নিজের প্রয়াসে সেই অন্ধকারটুকু কাটান দিয়ে পুরো জগৎকেই আলোকিত করা যায়। কিন্তু যার মাথার ভেতরের পুরোটাই অন্ধকার? লোভ-লালসা, ক্রোধ, হিংসা, ঘৃনা, অন্যের জন্যে খারাপ চাওয়ার বাসনা - এসব কিভাবে কাটান ���েওয়া যাবে? জীবন তো আর "কুহক" না এবং সেখানে তো নিশানাথ বাবুর মতো মানুষ থাকে না। যিনি অন্যের মাথার ভালো-খারাপ সব চিন্তাভাবনা, নতুন পুরোনো সব স্মৃতি পড়তে পারেন এবং নিজে একজন আলোকিত মানুষ বলে সবাইকে সেভাবে দেখতে চান এবং তাই তিনি চেষ্টা করেন তার এই ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অন্যের অন্ধকার দিক মুছে দিতে, তাকে আলোর দিকে নিয়ে আসতে। কিন্তু এই নিশানাথ বাবুও অস্থির হয়ে যান, হতভম্ব হয়ে যান, যখন তিনি দেখেন তার প্রিয় ছাত্র মহসীন যাকে তিনি অতি ভালো ও হৃদয়বান মানুষ হিসেবে জেনেছেন তার পুরোটাই ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করা এক প্রকার ভণিতা, আসলে মহসীন এর মনের জগতে কোনো আলো নেই, পুরোটাই অন্ধকার। কিছু কিছু ভণিতা কখনোই বোঝা যায় না, ধরা যায় না। আবার কিছু মানুষের মনে এতোই আলো থাকে যে তাদের দিকে তাকালেই, তাদের উপস্থিতিতেই তা বোঝা যায়, মাথার ভিতরে প্রবেশ করে তা জানতে হয় না। যেমনটা মহসীন এর স্ত্রী দীপা। দীপা যেখানেই যায় সেখানটাই আলোতে ঝলমল করে উঠে। ঠিক সেরকমটাই মহসীন ও দীপার তিন সন্তান। রাত্রি, তুষার ও আলো। এই তিনজনই আলোয় ঝলমল করা মানুষ। চারজন আলোয় ঝলমল করা মানুষ যারা যেখানে সেখানটাই আলোকিত হয়, কিন্তু অন্যজন অন্ধকারে ডুবে যাওয়া মানুষ যাকে দেখলে সেই অন্ধকার এর গভীরতা ঠাহর করা যায় না। এইজন্যই মাঝেমধ্যে আমি ভাবি আমার যদি মানুষের মনের কথা বুঝতে পারার একটা সুপারপাওয়ার থাকতো! যদি থাকতো! আশেপাশে কত মানুষ আছে যারা অন্ধকারের ছায়া নিয়ে ঘুরাফেরা করে কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না, তাদের চিনতে পারি না কারণ কারোর চিন্তাভাবনায় প্রবেশ করার সুপারপাওয়ার আমাদের নেই। আবার আশেপাশে অনেক এমন মানুষ আছে যাদের মনের আলোর গভীরতা অন্ধকারকেও হার মানায়, কিন্তু তারা যে আলোর পথের পথিক তা কি আমরা সবসময় বুঝতে পারি? আলোয় ঝলমল করা মানুষরা ভালো থাকুক। তাদেরকে যারা চিনতে পারে তারাও ভালো থাকুক।🌸✨
নাম: কুহক লেখক: হুমায়ূন আহমেদ জনরা: সায়েন্স ফিকশন প্রচ্ছদ: বিদেশী চিত্র অবলম্বনে প্রকাশনী: প্রতীক প্রকাশনা প্রথম প্রকাশ: বইমেলা ১৯৯১ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪ মুদ্রিত মূল্য: ১২০/-
❝হিটলারের সময় কন্সেনট্রেশন ক্যাম্পের কিছু বন্দীকে নিয়ে পরীক্ষা চালান হয়েছিল। ঠিক এক্সরে না হলেও মোটামুটি ধরনের শক্তিশালী ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ দীর্ঘ সময় ধরে মাথার ভেতর দিয়ে চালান হয়েছিল। এই পরীক্ষার ফলাফল কখনো প্রকাশ করা হয় নি। অথচ জোর করে বন্দীদের উপর অন্য যে-সব পরীক্ষা চালান হয়েছে তার সব ফলাফলই সযত্নে রাখা আছে। মস্তিষ্কের উপর রেডিয়েশনের প্রভাবের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হল না কেন? রহস্যটা কোথায়?❞
মাসুদ খুবই বিরক্ত। ছোটখাটো সমস্যা হলেই ডাক্তাররা আজকাল এক্স-রে করতে পাঠিয়ে দেয়, রোগীরাও আবার তা মান্য করে। ফলস্বরূপ এক্সরে ইউনিটের এত ভিড়! যা একাই তাকে সামলাতে হচ্ছে। তবে যে শুধু রোগীদের উপর বিরক্ত এমনও না ইউনিটের ডাক্তার সাহেবও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করে না। এমন সময় স্লিপ হাতে এগিয়ে আসেন নিশানাথ বাবু। বদমেজাজি এই এ্যাসিস্টেন্ট তখনও জানতো না এই এক্স-রের বদৌলতে নিশানাথ বাবুকে যে আর সহজে ভুলতে পারবে না সে...
কিছু তো বদলে গেছে। কিন্তু কী? নিশানাথ বাবু প্রথমে বিপাকেই পড়ে যান। মনে হতে থাকে তিনি অন্যদের মনের কথা শুনতে পারছেন! এও কী সম্ভব? কিন্তু কীভাবে? ঘুম থেকে উঠে আবিষ্কার করেন মাথার সব চুল একরাতের ব্যাবধানে পড়ে গেছে! মহসিন সাহেবকে একসময় পড়াতেন নিশানাথ বাবু। এখন পড়ান তার ছেলেমেয়েদের। পরিবার বলতে যেন এখন তারাই।
সাদাসিধা জীবনে যেন তান্ডব শুরু হয়! দাঁতও পড়ে যেতে থাকে। হঠাৎ জ্বর হয় তো নিমিষেই উধাও-ও হয়ে যায়। এইদিকে নিশানাথ বাবু বুঝে গেছেন তার এই আশ্চর্য ক্ষমতা প্রাপ্তি কমিয়ে দিচ্ছে তার আয়ুকাল, শীঘ্রই মারা যেতে চলেছেন তিনি! কিন্তু তার আগে তিনি বদলিয়ে দিতে চান কিছু জীবন। পারবেন কী সাধাসিধে বৃদ্ধ এই মানুষটি এমন অসম্ভব কাজটি করতে? আদতে অসম্ভব মনে হলেও কি তার জন্য অসম্ভব?
সায়েন্স ফিকশন শুনলেই মনের কল্পপটে ফুটে ওঠে ভবিষ্যতের কোনো সময় নয়তো টাইম মেশিন, রোবট তো আবার কখনও বিজ্ঞানের জটিল মারপ্যাঁচ। কিন্তু ❝কুহক❞- এ এমন কিছু নেই বললেই চলে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে এক্স-রে রেডিয়েশনের প্রভাবের(মাত্রাতিরিক্ত) ফলাফলের উপর বেজড করে ছোট একটি গল্প। আশ্চর্যজনক ক্ষমতা প্রাপ্তির ফলে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর যোগসূত্র দেখানো হয়েছে পুরো বই জুড়ে।
❝নিশানাথ বাবু জানেন না অন্যের মাথার ভেতর চলে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি কী। তিনি শুধু জানেন যে তিনি তা পারেন। সেই গহীন কূপের ভিতরে তিনি যখন নামেন তখন তাঁর রোমাঞ্চ বোধ হয়। কুয়োর দেয়ালগুলিতে থরে থরে কত কিছুই না সাজান-- মানুষের স্মৃতি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। কুয়োর গহীন থেকে উঠে আসে মানুষের চিন্তা, কল্পনা ও ভাবনা। একই সঙ্গে এক জন মানুষ কত কিছু নিয়েই না ভাবতে পারে।❞
হুমায়ুন আহমেদের বিভিন্ন জনরা পড়া হলেও সায়েন্স ফিকশন পড়া হয়েছে কমই। ❝ফিহা সমীকরণ❞ দিয়েই শুরু ওনার সাইফাই পড়া। তবে ❝কুহক❞ পড়ার সময় কেন জানি মনে হচ্ছিল না যে সায়েন্স ফিকশন পড়ছি। সম্ভবত প্রচলিত ধারার সাইফাইয়ের মতো না আবার সায়েন্স তেমন হাইলাইটও হয়নি। ব্যক্তির সাইকোলজিক্যাল টার্ম আর জীবনের দিকটাই বেশিই আলোচনা করা হয়েছে তুলনামূলক। শুরুটা দারুণ কিন্তু শেষটা আরও ভালো হতে পারতো, তাড়াহুড়োর একটা ছাপ আছে। নিশানাথ বাবুর আলোকে পড়া শেখানোর ব্যাপারটা ডিটেইলসে হলো আরও জমতো। ওভারঅল মোটামুটি লেগেছে। তবে মজার বিষয়টা হলো গল্প বলার ধরন বেশ সোজা। পড়ে গেছি টানা এজন্য।
বইয়ের বলার মতো আরেকটা পয়েন্ট হলো চরিত্রায়ন। চরিত্রগুলোকে ধোঁয়াশা রেখে ধীরে ধীরে পাঠকের সাথে পরিচয় করানো হয়েছে। কিছু চরিত্র তো হুট করেই বদলে গেছে আর টুইস্ট কিন্তু সেখানেই। বিশেষ করে মহসিনের ক্ষেত্রে। নিশানাথ বাবু পছন্দের চরিত্র। লজিক আর হিউমারের মিশ্রণ চরিত্রটাকে পূর্ণতা দিয়েছে। নিশানাথ বাবুর সাথে তুষার-রাত্রি-আলোর বন্ডিং দারুণ লেগেছে। রাত্রি চরিত্রটাও বেশ মজার।
নীশানাথ, একজন নির্মল মনের গোবেচারা বৃদ্ধ, তার এককালের ছাত্র মহসিনের বাসায় অনেকটা আশ্রিতের মতন-ই থাকেন, বিনিময়ে মহসিনের ছেলে-মেয়েদের পড়ানোর গুরুদায়িত্ব বহন করতে হয় তাকে। একদিন সাইনাসের জটিলতা সমাধানে এক্স-রে করতে গেলেন তিনি, কিন্তু তখনই ঘটল বিপত্তি–যান্ত্রিক ত্রুটির জন্যে।সহনীয় মাত্রার চেয়ে সহস্র গুণ তেজস্ক্রিয় রশ্মি এফোড়-ওফোড় করল তার মস্তিষ্ককে। হলেন খানিকটা অসুস্থ, তবে সাথে পেলেন মানবমনের আনাচে-কানাচেতে বিচরণ এবং চিন্তাচেতনায় সূক্ষ্ম পরিবর্তন সাধনের অলৌকিক ক্ষমতা। কী করতে চলেছেন তিনি এই ক্ষমতা দিয়ে? কী হতে চলেছে তার সাথে সামনে?
খানিকটা সাইকোলজি, সায়েন্টিফিক বিষয়, আবেগ আর অদ্ভুত কল্পনাশক্তির উৎকৃষ্ঠ উদাহরণ কুহক। হুমায়ূন স্যারের সাই-ফাই আর উইয়ার্ড ফিকশন আমার বরাবরই পছন্দের। যত্থারীতি এবারের উপস্থাপনাও ছিল অসাধারণ। ভিন্নধর্মী চরিত্র, তাদের চিন্তাধারা এবং আবেগে আঁচড় কাটানোর বিষয়গুলি সাবলীল কিন্তু প্রকটভাবে ধরা দিয়েছে।মুক ও বধির আলো চরিত্রটার খুঁটিনাটি দিক বেশ লেগেছে। মানুষের মন এবং বাহ্যিকতার ভিন্নতা লেখক সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। চরিত্রায়নে হুমায়ুন স্যারের চেয়ে সেরা কেউ নেই, চরিত্রগুলো প্রতিটা যেন আমাদের সমাজকেই তুলে ধরে; পরকীয়া, নারীলিপ্সা, অন্ধকার জগতে বিচরণ–সবই গল্পকে জীবন্ত বানিয়েছে। চাইলে ডার্ক বানানো যেত কাহিনী, তবে নীশানাথ বাবু ক্ষমতার মাধ্যমে সর্বদা ভাল�� পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন, লেখক থ্রিলের বদলে হয়তো সুন্দর মেসেজ দেয়াকেই ফোকাস করেছেন। শেষে অপ্রত্যাশিত সমাপ্তি হয়েছে, হ্যাপি এবং স্যাড এন্ডিংয়ের মিশ্রণে একরাশ শূণ্যতা আচ্ছন্ন করেছে আমায়। সেই সময়ের হিসেবে বিবেচনা করলে বইটা নিঃসন্দেহে কিংবদন্তিতুল্য ছিল। হুমায়ুন স্যারের বেশ কিছু কাজ আন্তর্জাতিক মানের, যদি সেসব বিশ্ব দরবারে পৌঁছানো যেত, নিঃসন্দেহে বিশ্ব-সাহিত্যেও অমর হয়ে থাকতেন তিনি। তার কল্পনাশক্তি এবং চরিত্রায়নের ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী তিনি নিজে-ই।
(বইয়ের শেষদিকে মারাত্মক প্লটহোল ছিল, যা বেশ সূক্ষ্ম। চাইলেই সমাপ্তিটা নষ্ট করার ক্ষমতা রাখে প্লটহোলটা। তবুও আমি তা না দেখার ভান করব। হুমায়ূন স্যার সময়ের আগে এতকিছু দিয়েছেন আমাদের, তাই এত গভীরে বিবেচনা করা কৃতঘ্নতার শামিল বৈকি!)
মহসিন সাহেব এর বাসার প্রাইভেট টিউটর নিশানাথ বাবুর এক্স রে করাতে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়েন।তাঁর মাথার ভিতর দিয়ে পাস করে অতি উচ্চমাত্রার রেডিয়েশন (১০০০০ রেম)।মারা যাওয়ার বদলে টেলিপ্যাথিক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে যান তিনি।তিনি মানুষের মাথার ভেতর ঢুকে যেতে পারেন এবং সবার মনের কথা, ভাবনা চিন্তা জেনে যেতে পারেন।মহসিন সাহেব তার স্ত্রী দীপাকে হত্যার পরিকল্পনা করলে নিশানাথবাবু টের পেয়ে যান এবং এটা বুঝতে পেরে মহসিন সাহেব তাকে হত্যা করেন তবে মৃত্যুর আগে মহসিনের বাজে দিকগুলো এবং তাকে হত্যার স্মৃতি মুছে দিতে সক্ষম হন।