এখনো রূপকথার গল্প পড়তে ভীষণ ভালো লাগে। যদিও এসব গল্পে লজিক খুঁজতে গেলে বিপদ। তবে প্রতিটি গল্পেই কিছু না কিছু শিক্ষা আছে। ১০ টি ছোট ছোট গল্প যার প্রতিটিই উপভোগ্য।
ছোট অসহ্য সুন্দর ১০টি গল্প রয়েছে বইতে। ৬১ পৃষ্ঠার এই ছোট বইটা দিয়ে সকালের নাস্তা করলাম। ওহহহহম শান্তি শান্তি, মহা শান্তি।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের "রূপকথা সিরিজ" এর বইগুলো সংগ্রহ করেছি। প্রতিদিন সকালে একটা একটা করে সবগুলো পড়ে শেষ করে ফেলব। তারপর আমার পিচ্চি দুই ভাইয়ের জন্য বাসায় পাঠিয়ে দিব বইগুলো।
পশু-পাখি, অরণ্য, পাহাড়, সমুদ্র এসব চরিত্রদের রূপকের সাহায্য নিয়ে দুনিয়ার সমস্ত মানুষের মনের হাসি-কান্নার, সুখ-দুঃখের গল্প বলাই রূপকথার উদ্দেশ্য।
এই বইয়ের গল্পগুলো কে বা কারা লিখেছেন বা অনুবাদ করেছেন? কোন ভাষা থেকে মূল গল্প নিয়ে অনুবাদ করেছেন বা বাংলা রূপান্তর করেছেন? এই গল্পগুলোর সোর্স কী? না, এইসব কোন প্রশ্নের উত্তর এই বইয়ের কোথাও লেখা নেই। শুরুতে সম্পাদক সাহেব যেই ‘গ্যানগভ্ভো’ সম্পাদকীয় লিখেছেন সেখানেও এই সব ‘আজাইরা’ তথ্য দেয়া নেই। নানা দেশের রূপকথা পড়ার অভ্যাস যাদের আছে তারা নিশ্চিতভাবে জানেন এখানকার কিছু গল্পের উৎস স্ক্যান্ডিনেভিয়া বা নর্ডিক অঞ্চল নয়। গল্পের চরিত্র, পরিপার্শ্ব, উপাদান, প্রাণী ও বৃক্ষকুল ইত্যাদি ভালোভাবে খেয়াল করলে রূপকথা না পড়া মানুষ পর্যন্ত বুঝবেন স্ক্যান্ডিনেভিয়া বা নর্ডিক অঞ্চলের সাথে এই গল্পগুলোর কোন সম্পর্ক নেই। সম্পাদক-প্রকাশকরা নিজেদের ‘মহাগ্যানী’ আর পাঠকদের মহামূর্খ ভাবলে এমন বাটপারি করতে পারেন।
মোবাইল ফোন অপারেটরদের বিজ্ঞাপনে চোখে দেখা যায় না এমন সাইজের তারকা মেরে ডিসক্লেইমার দেবার যে কু-রীতি আছে সম্পাদক সাহেব নিজের লেখার শেষ পর্যায়ে অমন একটা কিছু বলতে চেয়েছেন। তার ভাষাতেই বলি,
“নরওয়ের পরিবেশ ও জনজীবন আমাদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মূল গল্পে বরফঢাকা পাহাড়ি প্রান্তরের যে ছবি আঁকা হয়েছে আমরা অধিকাংশ গল্পে সেই মূল আবহ অক্ষুণ্ন রাখতে চেয়েছি। কোনো কোনো গল্পে সেই আবহের ছাপ না পেয়ে পাঠক বিড়ম্বিত হতে পারেন। আমরা সেখানে গল্পগুলোতে সর্বজনীন দেশ ও কালের স্বাদ দিতে চেয়েছি।“
এই ডিসক্লেইমার থেকে কী বোঝা গেল? আদৌ কি কিছু বোঝা গেলো? তবে এটুকু বোঝা গেলো লেখক/অনুবাদকের নাম, সোর্স এগুলো কেন উল্লেখ করা হয়নি।
প্রচ্ছদশিল্পী ধ্রুব এষ যে মানের কাজ এখানে করেছেন আর অলঙ্করণ শিল্পী সৈয়দ এনায়েত হোসেন অলঙ্করণের নামে যা কিছু দাগাদাগি করেছেন তাতে উভয়ের রিটায়ারমেন্ট কামনা করছি।
যে সব পাঠক নব্বই টাকা খরচ করে এই বইটা কিনেছেন তাদের জন্য সমবেদনা রইল। বাজারে সওদা করতে গেলে ভূষিমালের দোকান চিনে রাখুন।