কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
১৯৬৭ সালে প্রকাশিত এই বইটি ছিল আমার পড়া প্রথম সেবার গল্প সংকলন, পড়ে রীতিমত বুদ হয়ে গিয়েছিলাম কয়েকটা গল্পের অসামান্য সব রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারে আর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাজী আনোয়ার হোসেনের ঝরঝরে তরতরে ভাষার। ক’দিন আগেই দেওয়া এক পোষ্টে ‘পঞ্চ রোমাঞ্চ, ছায়া অরণ্য, তিনটি উপন্যাসিকা’ এই তিন গল্প সংকলন নিয়ে দেওয়া পোষ্টে এই বইটির কথা উল্লেখ করেছিলাম, অনেক বন্ধুই অবশ্য এটিকে অন্য ৩টির কাতারে রাখতে চান নি, তবুও প্রথম পড়ার প্রেমও থাকতে পারে, এই বইয়ের কয়েকটি গল্প সারা জীবনই আমার সাথে সাথে ফেরে।
সবচেয়ে বেশী রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম রিচার্ড কর্নেলে গল্প অবলম্বনে লেখা ‘সবচেয়ে বিপদজনক শিকার’ পড়ে, কী এক থরথর অবস্থা, কোন দিকে গল্প এগোচ্ছে জানতে পেরে মনপ্রাণ শিউরে উঠেছিল, শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিঃশ্বাস বন্ধ করে পড়ে গিয়েছিলাম একাগ্র চিত্তে। এখনো পড়ি, সেই ভাবেই।
এরপ্রে বিশেষ প্রিয় ছিল ‘সর্বনেশে পিঁপড়ে’ গল্পটা, যেখানের নায়ক লেলিনজেনের ভক্ত হয়ে গেছিলাম তার অদম্য সাহস আর অকুতোভয় মনোবলের। এখনো শিহরিত হই বটে গল্পটা পড়লে।
ভালো লেগেছিল এক জীববিদ অভিযাত্রীর কুয়াব্যাণ্ডান মাকড়শার নমুনা সংগ্রহের কাহিনী নিয়ে ‘বাঁশের ফাঁদ’ গল্পটি।
আর বিশেষ ভাবে জীবনে উপকৃত হয়েছিলাম জ্যাক লন্ডনের ‘টু বিল্ড আ ফায়ার’ অবলম্বনে লেখা অগ্নি-প্রত্যাশা পড়ে, সেখানেই প্রথম শুনেছিলাম যে হিমাংকের নিয়ে ৫০ ডিগ্রীরও বেশী ঠাণ্ডা পড়লে থু থু ফেললে তা সশব্দে ফেটে যায়! জীবনে বহু বার প্রবল ঠাণ্ডায় যখন হাত জমে যাচ্ছিল তখন এই গল্পের স্মৃতি কিছুটা হলেও উষ্ণতা জুগিয়েছে ভিতর থেকে। এটি বইটির প্রজাপতি প্রকাশনের হার্ড কভার সংস্করণ। ২০০৪ সালে ছাপা।
বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন অনুবাদকের বাবা বিখ্যাত মনিষী কাজী মোতাহার হোসেন।
প্রথম এই বইয়েই পড়েছিলাম রিচার্ড কনেলের দ্য মোস্ট ডেঞ্জারাস গেম অবলম্বনে সবচেয়ে বিপদজনক শিকার। গল্পটা আমার মাথায় এতটাই ঢুকে গিয়েছিল, আমি আমার বইয়ের নামটাও দ্য মোস্ট ডেঞ্জারাস গেম রেখেছি। দীর্ঘদিন পর আবারও এই বইটা পড়ে কৈশোরের রোমাঞ্চ অনুভূত হলো।
আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল বলেই বোধ হয় সেবা'র সেলে এই বইটির সঙ্গে দেখা হয়েছিল। এখন এই বইটি পাওয়া যায় কিনা সেই বিষয়ে আমি সন্ধিহান। বিভিন্ন স্বাদের আসাধারণ ছয়টি বিদেশি গল্পের সংকলন এটি
' ছয় রোমাঞ্চ ' বইটা মূলত ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের রহস্য গল্পের সংকলন। প্রত্যেকটা গল্পই বিদেশি গল্পের অনুবাদ। কাজী আনোয়ার হোসেনের অসাধারণ অনুবাদের কারণে গল্পগুলো হয়ে উঠেছে আরও বেশি মনোমুগ্ধকর ও উপভোগ্য।
ছোট পরিসরের গল্প। একদমই ভালো লাগেনি আমার। রহস্যের উপাদান এতে ছিল না বললেই চলে। তবে শেষের টুইস্টটা ভালো!
৩.সর্বনেশে পিপড়েঃ ৫/৫
গল্পের কনসেপ্টটা যে ইউনিক,সেটা মানতেই হবে। মানুষ বনাম পিপড়ের যুদ্ধ ভীষন উপভোগ করেছি। পিপড়েরা যে খুব বুদ্ধিমান তা আগেও জানতাম। এই গল্প পড়ে তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারলাম। দুর্দান্ত গল্প!
৪.উত্তপ্ত আগস্টঃ ২.৫/৫
ছোট পরিসরের হলেও অত্যন্ত ভালো প্লট এই গল্পটার। ভেবেছিলাম ক্লাইম্যাক্সে কোন টুইস্ট থাকবে। কিন্তু এন্ডিংটা সেরকম না হয়ে সাদামাটা হওয়ায় বেশ হতাশ হয়েছি। আরও ভালো হতে পারতো!
৫.অগ্নি প্রত্যাশাঃ ৪/৫
প্রচন্ড তুষারপাতের মধ্যে আটকে পড়া একটি লোক ও তার কুকুরের বেঁচে থাকার আখ্যান নিয়ে রচিত এই গল্পটা। দারুন লাগলো গল্পটা পড়ে। লেখকের বর্ণনা এতটাই জীবন্ত যে পড়ার সময় মনে হচ্ছিল আমিও বুঝি সেই তুষারপাতে আটকা পড়েছি। অসাধারন ছিল!
৬.সবচেয়ে বিপদজনক শিকারঃ ৫/৫
এই সংকলনের সবচেয়ে সেরা গল্প এটিই। সারভাইভাল থ্রিলারের কাতারে ফেলা যায় গল্পটাকে। ক্লাইম্যাক্সের শিকারি বনাম শিকারের খেলাটা আগাগোড়া উপভোগ্য ছিল। সব মিলিয়ে,খুব ভালো লেগেছে।
বিভিন্ন স্বাদের ছয়টি বিদেশি গল্পের সংকলন থেকে বিদেশী রোমাঞ্চকর গল্পের একটা নমুনা পাওয়া যাবে। রবাহূত, সর্বনেশে পিপড়া আর সবচেয়ে বিপজ্জনক শিকার - এ তিনটে যা ভালো লেগেছিল।
অনুবাদ স্বাভাবিক এবং সাবলীল।
৬/৭ বছর আগে পড়লে রেটিং এর ব্যাপারটায় চার/পাঁচ তারকা দেওয়া যেতো।
এ সংকলনের বেস্ট গল্প হচ্ছে *সবচেয়ে বিপজ্জনক শিকার। দুর্দান্ত একটা গল্প। অগ্নি প্রত্যাশা, সর্বনেশে পিপড়ে, উত্তপ্ত আগস্ট এ ৩ টে গল্পো খুব ভালো। রবাহুত কম ভালো লেগেছে। সবচেয়ে ছোট গল্প।