দেশের ইতিহাসে সবচে মর্মান্তিক প্লেন দুর্ঘটনা। এয়ারপোর্ট থেকে টেকঅফের একটু পরেই মুখ থুবড়ে পড়লো প্লেনটা-যাত্রী ও ক্রু সহ পুড়ে ছাই হয়ে গেলো প্রায় ২০০ জন মানুষ। মাত্র একজন বেঁচে গেলো। সেলিম। প্লেনের কো পাইলট। ওর প্রেমিকা সুসমিও ছিলো ওই প্লেনে। তদন্ত হলো। অদ্ভুত তথ্য পরিবেশন করলো বন্ধু ইনভেস্টিগেটর মাহবুব খান- প্লেনে বোমা পাতা হয়েছিলো। কিন্তু তারচেয়েও অদ্ভুত কথা শোনালো প্লানচেট মিডিয়াম- শিকদার, অশরীরীরা ডাকছে সেলিমকে। ওদিকে রাজেন্দ্রপুরে একের পর এক ঘটে চলেছে অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য সব ঘটনা। শেষমেষ জবাব পাওয়া গেলো একদিন- কিন্তু সেটা না পাওয়াই বোধহয় ভালো ছিলো।
সেবা প্রকাশনীতে অনুবাদ করেছেন দীর্ঘকাল; নিবাস, নওগাঁ।
খসরু চৌধুরী ছোটবেলা থেকেই দক্ষিণ বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে জীবজন্তুর সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগ পান। ১৯৭১ সালের মহান মক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন কলেজ-ছাত্র অবস্থায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য অনুষদের ছাত্র অবস্থায় ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মামা শিকারি আকতারুজ্জামানের হাত ধরে সুন্দরবন গিয়ে ভালোবেসে ফেলেন জল-জঙ্গলার বাঘ। ১৯৮৫ সালে অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক রোববার পত্রিকায় সুন্দরবন সংক্রান্ত লেখা দিয়ে তার লেখার জগতে প্ৰবেশ। তারপর দেশের উল্লেখযোগ্য প্রায় সব কটি পত্রিকায় বাঘ বা সুন্দরবন নিয়ে লিখেছেন। ছাত্র রাজনীতি করেছেন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাংবাদিকতা করেছেন। দেশের অগ্রগণ্য বাঘ বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাঘ বাঘ রক্ষায় নিতয় চেষ্টা করে চলেছেন।
বইটা ১ম খন্ড পড়েছিলাম নাজিরুল ভাইয়ের থেকে নিয়ে পড়ে ২য় খন্ড আর না পাওয়ায় পড়া হয় নি।আজ পেয়ে গেলাম,যদিও ধার।দীর্ঘ দিনঊপরেই দেয়া আছে।মাথায় এখনো ঘুর পাক খাচ্ছে এই বইটাই!গত দিনেও একটা হরর পড়েছিলাম,সেই পরিমানের বিরক্তি লেগেছিল।এটা পড়ে অনেকটাই তৃপ্তি পেলাম যেন।
এই দুনিয়ায় সবচেয়ে ভয়ংকর দুর্ঘ টনা কোনটি? নদীর পানিতে ডুবে যাওয়া কিংবা বিমানের ভূ-পতন। আমার কাছে দ্বিতীয়টি সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর মনে হয়। একশ থেকে কোনো এক বস্তুর মাটির দিকে ধেয়ে আসার মতো গতিশীল আর কিছু হতে পারে না। আর যদি সেটি পূর্ণ শক্তিতে আছড়ে পড়ে, তবে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় সবকিছু। ইঞ্জিন জ্বালানির স্পর্শে দাউদাউ করে জ্বলে আ গুন। বহুদূর থেকে আ গুনের লেলিহান শিখা ভীতি ধরায়। যেন ঘোর অমঙ্গল নেমে এসেছে পৃথিবীতে। আর মানুষেরা? তাদের জীবনের গল্প কে শোনে? হয়তো শেষ সময়ে মৃ ত্যুকে কাছ থেকে দেখার আর্তনাদও ঠিকঠাক বেরিয়ে আসে না।
এমনই এক ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের অদূরে রাজেন্দ্রপুরে। আকাশ থেকে বিশাল বিমানটা ধেয়ে আসছে মাটির দিকে। একসময় সংঘর্ষ বাঁধে। জ্বলে ওঠে সবকিছু। শেষ হয়ে যায় সবকিছু। কয়েক মুহূর্ত আগে যারা এই পৃথিবীর আকাশে নিঃশ্বাস ছাড়ছিল, আজ তাদের জীবনের এখানেই ইতি। কিছুক্ষণ আগে যাদের নাম ধরে সম্বোধন করা হতো, তাদের এখন লাশ ছাড়া কিছু বলা হয় না। পোড়া একদল মাংসের দলা কেবল। জীবনের মূল্য এখানে কোথায়? হুটহাট এমন পরিণতি তো যে কারো সাথেই ঘটতে পারে। অনিশ্চিত এই ভবিতব্য নিয়েই আমাদের চলতে হয়।
একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘ টনা, সব যাত্রী মৃ ত। এমন অবস্থায় যদি দেখেন, সেই বিমানের ধ্বংসস্তূপ থেকে কোনো একজন এগিয়ে আসছে যার শরীরে একটাও আঁচড় লাগেনি। কেমন অনুভূতি হবে? হয়তো কোনো জাদুবলে কিংবা সৃষ্টিকর্তার দোয়ায় এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছেন। এমনই এক মানুষ সেলিম। বিমানের প্রতিটি যাত্রী যেখানে নিজেদের ইহলৌকিক জীবন হারিয়ে পরকালের পথে যাত্রার খোঁজ করছে, সেখানে অক্ষত অবস্থায় বেঁচে ফেরা অলৌকিক বটে। দ্বিতীয় জীবন পাওয়ার শামিল। কিন্তু এখানেই বিপত্তি। এমন এক দুর্ঘটনার পরও কী করে সেলিম বেঁচে গেল? এই রহস্য কেউ বুঝছি না। একই সাথে সেলিমও জানতে চাইছে এর পেছনে থাকা রহস্য। কেননা সেই মুহুর্তের ঘটনাগুলো স্মৃতি থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। উধাও হওয়া গল্পগুলো তাকে খুঁজে বের করতেই হবে। তার কেন যেন মনে হচ্ছে কিছু একটা তাকে ডাকছে। এই পৃথিবীতে বাড়তি জীবনযাপনের কথা তার নয়, তারপরও সে আছে। কেন আছে? কোন রহস্য সে বয়ে বেড়াচ্ছে? তার খোঁজ করতেই হবে। যে করেই হোক!
স্পিরিচুয়ালিজম কী জানা আছে? এমন এক প্রক্রিয়া, যেখানে আত্মার সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা যায়। যিনি করেন তাকে মিডিয়াম বলা হয়। এমন এক মধ্যস্থতাকারী দেখা করতে এসেছে সেলিমের কাছে। খুব অদ্ভুত কিছু গল্প বলে সে। এমন কিছু অনুভব করছে, যারা সেলিমকে চায়। মস্তিষ্কের ভেতরে প্রতিনিয়ত সে অমোঘ বাণী শুনে। শুভ অশুভর দোলচালে সে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে। তবুও সব বলে চলে সেলিমকে। সেলিম বাস্তববাদী মানুষ। এক অদ্ভুত ঘটনায় কেবল জীবন ফিরে পেয়েছে। অলৌকিকতায় বিশ্বাস করে না সে। এই পৃথিবীতে এমন অনেক অব্যাখ্যেও কিছু ঘটনা ঘটে, যার ব্যাখ্যা প্রচলিত নিয়মে করা যায় না। সেলিমের বিশ্বাস করতে পারছে না। আবার অবিশ্বাসও করা যাচ্ছে না। কী করবে সেলিম?
রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ঘটে চলেছে একের পর এক অদ্ভুত ঘটনা। মাছ ধরতে গিয়ে নিজ পুকুরে ডুবে হার্ট অ্যাটাকের শিকার এক মুদি দোকানদার। একজন অ্যান্টিক ব্যবসায়ীর অপকর্মের শাস্তি দিতে গিয়ে কোন মন্ত্রবলে নিজেও শিকারে পরিণত হয়েছে? স্বামীর সাথে নিজেও জানালা দিয়ে ছিটকে পড়ে রাস্তায়। স্কুল পড়ুয়া ছেলেটা কীসের কারণে ট্রেনের সামনে আত্ম হুতি দেওয়ার কথা চিন্তা করে? গির্জার পাদ্রী কেন ভয় পেয়েছে? এভাবে মানসিক ভারসাম্য হারানো যে স্বাভাবিক ঘটনা নয়। সব যেন এক সুতোয় গাঁথা। সেলিম দেখছে সবই। এই সব থামানোর এক ধরনের টান অনুভব করছে। সেই মিডিয়ামকে নিয়ে লক্ষ্যে ছুটে চলেছে। সাথে একজন ইমাম। অশুভ শক্তির বাঁধা আর শুভ শক্তির সাহায্যের মাঝে যেন নিজেই পথভ্রষ্ট সেলিম। তবুও লক্ষ্য স্থির করে রাখতে হয়, সেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু ফলাফল? পক্ষে আসবে তো?
▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
হরর জাতীয় বই পড়লে আজকাল তেমন একটা ভয় লাগে না। তার মধ্যেও অনেকদিন পর মনের মতো একটা হরর বই পড়লাম। ভৌতিক আবহ যেভাবে ফুটে উঠেছিল, তেমন কর্মকাণ্ড রহস্যের সৃষ্টি করেছিল— সেই রহস্যের শুরু প্রথম থেকেই। একেবারে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা তৈরি করে রাখতে পেরেছিল।
গল্পের শুরুটা একটি বিমান দুর্ঘটনা দিয়ে। যেখানে এ জাতীয় দুর্ঘটনা ঘটে, সে জায়গায় জনমনে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার হয়। মানুষ পুড়ছে, মরছে। অতৃপ্ত আত্মারা শান্তি পাচ্ছে না। এমন ধারণা অনেক ক্ষেত্রেই প্রচলিত। আর সেখান থেকেই ভয়ের সূচনা। লেখক তেমন ভয়ের যে আবহ তৈরি করেছেন এক কথায় অসাধারণ। সেই সাথে ভৌতিক যে কাজের বর্ণনা দিয়েছেন! ভয় পাওয়ার মতো।
বইটি যে সময়ে রচিত, তখনকার সময়ে এমন প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল না। ছিল না এমন মানুষ, যারা এমন দুর্ঘটনা দেখলে মোবাইল ফোন বের করে ক্যামেরা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। তাদের কাছে সাহায্যের আশা করা দুরাশা। তাই বলে সেই সময়েও যে সাহায্য করতে মানুষ এগিয়ে আসত তা কিন্তু নয়। বাঙালিরা বোধহয় জাতিগতভাবে তামাশা প্রিয়। বিপদে কেউ কেউ এগিয়ে এলেও অধিকাংশ মানুষের কাছে এসব কেবল গল্পের কাহিনি। এত মানুষের মৃত্যুর ভয়াবহতা বুঝতে না পারে একটি স্কুলের বাচ্চাদের কাছে তাই এসব গল্পের বিষয়। ভৌতিক ঘটনাগুলো কেবলই কাহিনি। যতক্ষণ না পর্যন্ত নিজে সেই অবস্থার মধ্যে পতিত হয়।
কথায় আছে, কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ। মানুষের মৃত্যুও কারো জীবনের সুখের কারণ। একটি ক্যামেরা নিয়ে ছবি তুললে তা হয়ে যায় এক্সক্লুসিভ। লাখে বিক্রি হয় ছবি। ফুলে ফেঁপে বড়োলোক হওয়া কে ঠেকায়? কখনো কি মাথায় ভাবনা এসেছে, মানুষের ক্ষতিতে ফায়দা লুটলে কোনো না কোনো সময় নিজেরও ক্ষতি হতে পারে? কে জানে? এছাড়া সমাজের বেশকিছু অসঙ্গতি দেখানো হয়েছে। কিছু প্রাপ্তবয়স্ক কাহিনি ছিল। সমকামিতা দেখানো হয়েছে, যা ভালো লাগেনি। কিংবা স্কুলে গিয়ে বুলিংয়ের শিকার হওয়া কারো অনুভূতি!
বইটির সবচেয়ে যে বিষয় ভালো লেগেছে, তা হলো একটি বিমানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা। সবই লেখক দেখিয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। স্পিরিচুয়ালের বর্ণনাতেও লেখক মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। লেখকের লেখনশৈলি দারুণ। গল্প গতিশীল, কোনো মেদ ছিল না। পুরোটা সময় কাহিনিতে ছিলেন। গল্পের মোড় ঘুরেছে ভালোমতোই। কাহিনির বিল্ডআপে দারুণ কাজ দেখিয়েছেন। তবে সমাপ্তি নিয়ে আক্ষেপ আছে। যতটা দারুণ গল্পের শুরু আর মধ্যভাগ চল, ততটা দারুণ শেষ হয়নি। শুভ শক্তির পূর্ণতা দেওয়া হলেও যে অশুভ শক্ত ভীতি ছড়িয়েছিল, তা আড়ালে থেকে গেল।
ছোটখাটো চরিত্রের যতটুকু আসা দরকার ঠিক ততটুকুই ছিল। গুরুত্বপূর্ণ সব চরিত্রের মধ্যে সেলিম একেবারে ঠিকঠাক। আমি সে স্পিরিচু়য়ালিস্ট আর ইমাম সাহেবের আরেকটু ভূমিকা আশা করেছিলাম। ইনভেস্টিগেটর অফিসার মাহবুবও শেষে হারিয়ে গেল। যদিও শেষাংশে তার পরিণতি চমক ছিল। কিন্তু কীভাবে সেই জায়গায় সে গিয়েছিল, তার বর্ণনা দেওয়া হয়নি। আর শেষ দৃশ্যায়ন লেখক যেভাবে করেছেন সেটাও ভালো লেগেছে। তবে সেটা আরেকটু দারুণ হতে পারত।
▪️পরিশেষে, মৃত্যুই কি শেষ? না-কি শেষের শুরু? কোন পথে যাত্রা শুরু হয় তখন? মৃত্যুর পরের সে জীবন হয়তো নতুন জগৎ খুঁজে পায়। তবে পুরনো সে জগৎকে কি ভুলে যাওয়া যায়? হয়তো না। আর তাই শেষের পরও ভালোবাসা টিকে থাকে। টিকে থাকে আবেগ। এই জগৎ থেকে তা দেখানো যায়, ও জগৎ থেকেও ফিরে আসে। হয়তো অনুভব করা যায়, হয়তো না….
ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে টেক-অফ করার কিছুক্ষনের মধ্যেই একটা ডিসি ১০-৩০ বিমান ক্র্যাশ করে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে ১৭৯ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু'র মধ্যে অলৌকিকভাবে বেচে গেছে শুধুমাত্র একজন মানুষ। প্লেনটির কো-পাইলট। অন্যান্য সব যাত্রী এবং ক্রুদের শরীর এমনভাবে ঝলসে গেছে যে লাশ সনাক্ত করাও যায়নি। হাতে গোনা যে কয়টা লাশ সনাক্ত করা গেছে সেগুলা নিয়ে গেছে আত্মীয় স্বজনরা। বাকি লাশগুলো একটাও ঠিক অবস্থায় নেই। কোনওটার হাত নেই, কোনওটার মাথা নেই, মোটকথা সবার শরীরের অঙ্গ প্রতঙ্গ বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সেগুলা কোনওরকমে জানাজা পড়ে রাজেন্দ্রপুর কবস্থানে দাফন করা হয়েছে। কারও ধরের সাথে গেছে অন্য কারও মাথা, আবার কারও শরীরের সাথে অন্য কারও হাত পা।
প্লেন ক্র্যাশের পর এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ কাজে নেমে পড়ে। কিন্তু নানা রকম তদন্ত ও অনুসন্ধান করেও তারা প্লেন ক্রেশ হবার মত কোনও কারন খুঁজে পাচ্ছে না। সব ইন্সট্রুমেন্ট চেক করে দেখা হয়েছে, কোনও গোলমাল ছিল না। সবকিছুর আলামত শুধুমাত্র বোমা বিস্ফরণের সাথে মেলে। কিন্তু এতসব প্রযুক্তিকে ফাঁকি দিয়ে প্লেনে বোমা নিয়ে যাওয়াও কারও পক্ষে অসম্ভব। কোনও রহস্যেরই কিনারা করতে পারছে না তারা। তাছাড়া এত বড় বিস্ফোরণে প্লেনটা এমনভাবে দুমড়ে মুচড়ে গেছে যে একজনেরও বাঁচার সম্ভাবনা ছিল না। সেখানে কো-পাইলট কিভাবে বেঁচে গেল এটাও একটা রহস্য। কো-পাইলটের কাছেও তারা কিছু জানতে পারেনি, ক্র্যাশের পর থেকে সে ক্র্যাশের আগের দিন পর্যন্ত কোনও স্মৃতি মনে করতে পারছে না। অবশ্য এটাও ঠিক এতবড় একটা দুর্ঘটনা থেকে কেউ একা বেঁচে গেলে তার মাথা ঠিক রাখাও সমস্যা হয়ে পড়ে।।
এইদিকে আবার প্লেন ক্র্যাশের পর থেকেই রাজেন্দ্রপুরে ঘটতে থাকে অস্বাভাবিক সব ঘটনা। নিজের পুকুরে ডুবে মারা যায় পুকুরের মালিক। মৃত্যুর সময় তার চোখ মুখের ভয়বঙ্কর চাউনি দেখে বোঝা যায় সে ডুবে মরেনি, ভয়ে হার্ট এটাক হয়েছে। মেইন রোডের পাশের এক ফ্ল্যাট থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যায় এক দম্পতী। গির্জার ভেতর ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় পাদ্রী। স্কুলের এক ছাত্র ট্রেনে কাটা পড়ে। মসজিদের নামাজের বিছানা উলটে যায়, মসজিদের দেয়ালে রক্তের ছোপ দেখা যায়। কুরআন শরীফের গিলাফ কেটে কুটি কুটি করে রাখে কেউ। কোনও কারন ছাড়াই একটা দোকান এবং গির্জায় আগুন লেগে যায়। এসব কিসের আলামত? তবে কি..........
সবকিছুর রহস্য উদঘাটন করতে মাঠে নামে ক্র্যাশ থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র কো-পাইলট। তার সাথে থাকে একজন স্পিরিচুয়ালিস্ট এবং রাজেন্দ্রপুর মসজিদের ইমাম সাহেব। যদি সাহস থাকে ভয়কে মোকাবেলা করার, আপনারাও ওদের সঙ্গী হতে পারেন।
যারা রেগুলার হরর বই পড়েন, তাদের কারো এই বইটা মিস যাবার কথা না। তারপরেও যদি ছুটে যায়, তবে শীঘ্রই নিয়ে বসে যাণ। তবে সেবা থেকে বের হওয়া এই বইটা এখন আর কোথাও পাওয়া যায় বলে মনে হয় না। নীলক্ষেতের পুরনো দোকানগুলোতে ঘাটলে পাওয়া যেতে পারে। এত চমৎকার একটা বই কেন যে সেবা রিপ্রিন্ট করে না কে জানে! বইটা বের হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, লিখেছিলেন খসরু চৌধুরী। যদি কারো কাছে বইটা থাকে তবে বাকিদেরও পড়ার সুযোগ করে দেবেন প্লিজ।
সেবা প্রকাশনীর 'প্লেন ক্র্যাশ' বইটা খুব সম্ভবত কোন বিদেশি বইয়ের অ্যাডাপ্টেশন। ফ্ল্যাপে কাহিনী সংক্ষেপ পড়ে আগ্রহ জেগেছিলো বইটা পড়ার। তাই আর দেরি না করে পড়ে ফেললাম।
বইটা পড়ার পর শুধু একটা কথাই বলবো— আমি হতাশ,প্রচন্ড রকমের হতাশ। উপন্যাসের প্লটটা নিঃসন্দেহে অসাধারন। লেখকের গল্প বলার ধরনও অতি চমৎকার। বিশেষ করে প্রোলগের কথা উল্লেখ করবো। প্রোলগ পড়ে আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিলো শতগুনে। গল্পের শুরুটা ছিল বেশ,একের পর এক রহস্যময় ঘটনার দ্বারা লেখক বেশ সলিড বিল্ডাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্লাইম্যাক্সে গিয়ে হযবরল করে ফেললেন সবকিছু। এত ভালো গল্পের এরকম জঘন্য এন্ডিং আমি শেষ কোন বইয়ে পড়েছি তা মনে করতে পারছি না।
লেখক ক্লাইম্যাক্সে সব রহস্যের সমাধান করতে পারেননি,উল্টো এমন একটা কারন দেখিয়েছেন যা অযৌক্তিক ও হাস্যকর। যতটা আশা নিয়ে শুরু করেছিলাম ঠিক ততটাই হতাশ হলাম বইটা পড়ে।