ভালো-বাসার বারান্দা ঠিক বই নয়, নবনীতা দেবসেন 'প্রতিদিন' খবরের কাগজের রবিবারের ম্যাগাজিনের জন্য সাপ্তাহিক একটা কলাম লিখতেন - কিছুমাত্রায় স্মৃতিচারণা, কিছুমাত্রায় ব্লগ - ( লেখেন'ও হয়তো এখনো ? ) - কলকাতায় যখন যাই তখন পড়ে'ওছি দুএকটা কিস্তি, সেটার'ই বই সংস্করন. স্বাধীনতা-উত্তর কলকাতা সম্বন্ধে আমার বরাবর'ই কিছুটা কৌতূহল আছে, কিন্তু নকশাল-পূর্ব সময়ের ব্যাপারে যা পাই সেটা যৎসামান্য - হয়তো আমি'ই খুব একটা খুঁজেপেতে পড়িনি। প্রথম যে দুএকটা লেখা পড়েছিলাম “রোববার প্রতিদিন'এ” সেগুলো আবার ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গোড়াপত্তনের সময় নিয়ে । আমার শ্বশুরমশাই - গল্প করতে ভালোবাসেন, টেবিল চাপড়ে অনেক জিনিস নিয়ে আলোচনা তথা সমালোচনা করতেও। তাঁর কাছ থেকে সেই সময়ের কলকাতার কিছু গল্প শুনেছি । তিনিও ঘটনাক্রমে যাদবপুরের ছাত্র - যদিও তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং এর - এবং পরে কিছুদিনের জন্য অধ্যাপকও ছিলেন - মোটামুটি নবনীতা দেবসেন-এর সমসাময়িক (এক দুই বছর আগে কি পরে হবেন হয়তো) - তাঁর কাছ থেকেই যাদবপুরের ব্যাপারে কিছু শুনেছি . আমার স্ত্রী-ও যাদবপুরেই পড়েছে, সেজন্যে যাদবপুরের ব্যাপারে পড়তেও আপত্তি নেই। সেজন্যেই বইটা পড়ে ফেললাম .
খুবই চিত্তাকর্ষক লেখা. নবনীতা বাংলা তথা ভারতের একজন বিশেষ বাগ্মী ব্যক্তিত্ব , কিন্তু এই লেখা টায় সাধারণ জীবনযাত্রারই বেশি প্রতিফলন. তাঁর বাড়ি (যার নাম ভালো -বাসা), আর সেটার বারান্দা থেকে জীবনদর্শন - সেই হলো ভালো-বাসার বারান্দা। লেখিকা আপনার আমার মতন সাধারণ মানুষের জন্যেই লিখেছেন এই ছোট ছোট ঘটনাগুলো . Inside jokes বা secret handshake টাইপের জিনিস বড় একটা নেই. আর ওই যে 1950-2000 কলকাতার নানা ঘটনা, নানা বর্ণময় চরিত্রের ব্যাপারে আলোচনা, এটা তো এক বিশেষ প্রত্যক্ষদর্শী (এবং শুধু প্রত্যক্ষদর্শী কেন, রীতিমতো এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের) ছাড়া যে কেউ লিখতে পারবেন না। মোটামুটি 1950-2000 এর কলকাতার বিখ্যাত অনেকেই আছেন এখানে . ব্লগ টাইপের লেখা বলেই - কলকাতার তথা বাঙালির এক বিশেষ সময়ের মানুষের জীবনযাত্রার দলিল হওয়া সত্ত্বেও বেশ ফুরফুরে রম্যরচনা টাইপের এক একটি লেখা - পড়তে খুবই ভালো লাগলো.
Nabaneeta Dev Sen is a national treasure. পড়ে ফেলুন বইটা । ভালো লাগতে বাধ্য ।