রহমান সাহেব মানুষ হিসেবে অদ্ভুত ধরণের । তার আত্মীয় স্বজন কেউ আছে কী না জানা যায় না । তিনি একা থাকেন । বেশীরভাগ সময়ই নিজের ভেতরে থাকেন । মানুষের সাথে মিশ্তে পছন্দ করেন না । তার এক অন্ধকার অতীত আছে । সে অতীতের অন্ধকার তাকে তাড়া করে ফেরে । এই বইয়ে রহমান সাহেবকে নিয়ে তিনটি রহস্য আছে । বিড়াল দেবতা, অবন্তীর মৃত্যু এবং বহুদিন বেদনায় , বহুদিন অন্ধকারে ।
গত বছরের শেষ দিকে কাফকা ক্লাব এর মাধমে লেখক মুরাদুল ইসলাম এর লেখার সাথে পরিচয় । থ্রিলার বই ছিল, ভালোই লেগেছিল । তবে অন্যান্য বাংলা মৌলিক থ্রিলার গুলোর বইটার পার্থক্য ছিল চোখে পড়ার মত । কারন লেখকের লেখায় থ্রিল এর পাশাপাহি দর্শন ও বেশ গুরুত্ব পায় । যা একটা অন্যরকম স্বাদ দেয় । এরপর পড়লাম তার লেখা গ্যাডফ্লাই । এটাও থ্রিলার এবং এটাও ভালো লেগেছিল । গতকাল তার তৃতীয় বই রহমান সাহেব ও তিনটি রহস্য হাতে পেলাম । এবার কোন উপন্যাস না । তিনটা গল্প আছে এটাতে । বিড়াল দেবতা, অবন্তীর মৃত্যু আর বহুদিন বেদনায় বহুদিন অন্ধকারে । তবে এখানেও একটু ভিন্নতা আছে, কারণ গল্প তিনটিই ধারাবাহিক । একটার পরে আরেকটা ঘটে । প্রথম গল্প বিড়াল দেবতা । এই গল্পেই মুল চরিত্র রহমান সাহেবের সাথে পরিচয় ঘটবে পাঠকদের । মাঝবয়সী একজন লোক রহমান সাহেব একা একা থাকেন । প্রচন্ড রকমের ধূমপায়ী । স্বভাবতই তার চরিত্রটা দেখে অনেকেই হয়ত বলে উঠবেন যে এ তো মিসির আলী থেকে কপি করা হয়েছে । আমাদের দেশের লেখকেরা , মানে নতুন কেউ যদি কোন চরিত্রের আবির্ভাব ঘটান তবে কেন জানি কিছু লোক ভাবে যে তারা নিশ্চিত ভাবে অন্য কোন লেখকের আইডিয়া কপি করছেন । যেমন গল্পে সাংকেতিক কিছু থাকলেই তার মানে হল যে লেখক ড্যান ব্রাউন এর থেকে "নকল' করছেন । এরকম পাঠকদের বলছি যে , না পড়ে এই গল্পের রহমান সাহেব কে জাজ করবেন না । কারন আমার কাছে কোনদিক থেকেই রহমান সাহেবের কারো সাথে মিল আছে এরকম মনে হয় নি । ইউনিক ই লেগেছে । তো গল্পে ফেরা যাক, রহমান সাহেব চাকরী করেন । তার আবার বিড়াল পালার শখ । কিন্তু তার পোষা বেড়ালটা হঠাত মারা যায় । এরপর তার হাতে ঘটনা ক্রমে এসে পড়ে বিড়ালের একটা মূর্তি । ভদ্রলোকের আবার বই পড়ার শখ, তার ঘর ভর্তি নন ফিকশন বই। সেখান থেকে মূর্তি সম্পর্কে জেনে আরো কৌতূহলী হয়ে উঠেন তিনি। তার রহস্যের সমাধান এর কাজে তাকে সাহায্য করতে থাকেন তার ই এক কলিগ সমীর । গল্প হিসেবে এটাকে আমি পাচ এ তিন দিব । আমার মনে ভূমিকা হিসেবেই এটাকে রাখা হয়েছে বইটিতে । এরপরে আসা যাক দ্বিতীয় গল্প অবন্তীর মৃত্যুতে । বই এর সেরা গল্প এটিই । মার্ডার মিস্ট্রি । রহমান সাহেবের দুই বাড়ি পরেই পাওয়া যায় এক মেয়ের লাশ । নিজ ইচ্ছেতেই রহস্যে জড়িয়ে পড়েন তিনি । এই গল্পেও রহস্যের পাশাপাশি দর্শন এর দেখা মিলবে কিছুটা । আছে প্রাচঈন মিশরীয় দেবি শেজমু এর সাথে কিছুটা যোগাযোগ ও । তবে একটা আক্ষেপের বিষয় একটু চেষ্টা করলেই এটাকে একটা পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসে রূপ দেয়া যেত । তৃতীয় গল্পটাও মার্ডার মিস্ট্রি । তবে এটার প্লট ইউনিক কিছু নয় । কিন্তু ভালো লেগেছে পড়ে । এটাকেও উপন্যাস করা যেত, কিন্তু লেখকের যেরকম ইচ্ছে । গতবে বইয়ে অনেক জায়গায় বলা আছে রহমান সাহেবের অতীতের কথা, কিন্তু কি সেই ভয়াবহ অতীত সে সম্পর্কে কোন ধারণা দেয়া নেই । আমার ধারণা সামনে আরো বই পাবো রহমান সাহেবকে নিয়ে । সবমিলিয়ে উপভোগ্য একটি বই । মুরাদুল ইসলাম ভাইয়াকে আবারো ধন্যবাদ গতানুগতিক ধরণ থেকে বের হয়ে অন্যরকম কিছু থ্রিলার লেখার জন্যে । আগামী বই এর জন্যে অপেক্ষায় রইলাম । আর হ্যাঁ, দুর্দান্ত একটা প্রচ্ছদের জন্যে প্রান্তদাকে যদি ধন্যবাদ না দেই তাহলে অন্যায় হয়ে যাবেন । আশা করি বইটা যারা পড়বেন, কিনেই পড়বেন।
অদ্ভুত একজন মানুষ রহমান সাহেব। নিভৃতচারী,সাধারন চাকুরীজীবী,বইপড়ুয়া, অতি মাত্রায় ধুমপায়ী এবং কিছুটা গাজাসক্ত - এর বাইরে তার সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়না। তিনি কোন গোয়েন্দা নন কিন্ত ঘটনাচক্রে জড়িয়ে পড়েন রহস্যের জালে।একে একে অবতরণ ঘটে তিনটি রহস্যময় ঘটনার । সহচরী,অফিসের সহকর্মী অথবা সহকারী যেভাবেই বলা হোক, সমীর বাবুকে তার পাশে দেখা যায় প্রতিক্ষেত্রেই।
এবার বইয়ের আলোচনায় আসি।কাফকা ক্লাব এবং গ্যাডফ্লাই এর পর লেখকের এই বইয়ে উপস্থাপনাভঙ্গি আগের চেয়ে অনেক সাবলীল লেগেছে, এজন্য প্রশংসা করতেই হয়। চরিত্র গঠনের দিক থেকে রহমান সাহেব চরিত্রটি বেশ আকর্ষণীয়। শুরুর দিকে কিছুটা অস্পষ্টতা অনুভব করলেও আস্তে আস্তে রহমান সাহেবের স্বাতন্ত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠতে থাকে।
বইটিতে গল্পের সংখ্যা তিন। বিড়াল দেবতা, অবন্তীর মৃত্যু, বহুদিন বেদনায় বহুদিন অন্ধকারে। বিড়াল দেবতা গল্পটি প্রাচীন মিশরের এক বিড়ালদেবীর মূর্তিপ্রাপ্তি কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। আমার কাছে খুব একটা ভাল লাগেনি, রহস্য সমাধানের অংশটা কিছুটা cliche লেগেছে- অবশ্য সেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত।
দ্বিতীয় গল্প অবন্তীর মৃত্যু, অসাধারণ প্লট । গল্পের শুরুতেই অবন্তী নামের একটি মেয়ের লাশ পাওয়া যায়, বাচ্চা ছেলে তমাল খেলতে গিয়ে মাঠের ধারে দেখতে পায় লাশটা প্রথমবারের মত। তমালের বাবা এবং তমালের পূর্বপরিচিত অবন্তী। কিন্তু তারপরেও তমালের বাবা আহমেদ শরীফ কি যেন লুকাতে চান। রহস্য ঘনীভূত হতে থাকে, সন্দেহের তালিকায় জড়াতে থাকেন অনেকে। এগল্পে আছেন প্রাচীন মিশরের দেবতা শেজমুর অস্তিত্ব, আছেন রফিক আমজাদ নামক একজন প্রাক্তন থ্রিলার লেখক। খুবই গোছানো চমৎকার প্লট কিন্তু অভিযোগ একটাই, এটি হতে পারত একটি পুরনাংগ উপন্যাস। ছোট পরিসর এবং সীমিত বর্ণনার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই পাঠক নিজেকে বঞ্চিত মনে করতে পারেন।
তৃতীয় গল্প,বহুদিন বেদনায় বহুদিন অন্ধকারে। সামিয়া জাহান অদিতি একজন নারীবাদী এনজিও কর্মী রহস্যজনকভাবে খুন হন। তার লাশ পাওয়া যায় হোটেল থেকে বেশ খানিকটা দূরে। যদিও হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী আগের রাতে তার জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় হোটেল থেকে বের হওয়ার দৃশ্য চোখে পড়েনা। মৃতদেহে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়,সেখান থেকে সংগ্রহ করে রাখা হয় দুষ্কৃতিকারীর শুক্রাণু থেকে পাওয়া ডি.এন.এ. স্যাম্পল । মাসখানেক আগে ধর্ষিত এবং নিহত ইন্দ্রানী সেনের দেহ থেকে পাওয়া শুক্রানুর ডি.এন.এ. স্যাম্পলের সাথে তা হুবুহু মিলে যায়। তাহলে কে করে চলেছে একের পর এক নৃশংস হত্যাকান্ড। বেরিয়ে আসে অতীতের এক গোপন ইতিহাস , সে ইতিহাস প্রতিহিংসার, প্রতিশোধের।
আশা করছি, খুব শীঘ্রই রহমান সাহেবকে আবার পাব নতুন কোন রহস্যের সমাধানে। তবে একটা অনুরোধ থাকবে, সেটা হচ্ছে গল্প/ উপন্যাসের পরিসর বাড়ানোর অনুরোধ। রহস্য জমে উঠতে উঠতেই যদি পরিণতি চলে আসে, তখন কেমন যেন একটা ভোঁতা অনুভূতি হয়। রহমান সাহেবের মত অসাধারন একটি চরিত্রের স্রষ্টা হিসেবে লেখককে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন।
রহমান সাহেব গোয়েন্দা নন। ছোট শহরে সাধারণ একটা চাকরি করেন। অসামাজিক গোছের এই মানুষটা বেশিরভাগ সময়ই নিজের ভেতরে থাকেন, মেশেন-টেশেন না তেমন কারো সাথে। বই পড়েন অনেক, তবে গল্প-উপন্যাস পড়েন না। অস্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং ভয়ংকর রকমের কৌতূহল তাকে টেনে নিয়ে যায় তিনটি রহস্য সমাধানে। সঙ্গী অফিসের কলিগ এবং একমাত্র বন্ধু সমীর বাবু। লেখক এ তিনটি রহস্যকে তিনটি গল্পের আকার দিয়েছেন বইটাতে। মিসির আলীর সাথে রহমান সাহেবের তেমন কোন মিল নাই।
প্রথম রহস্য- 'বিড়াল দেবতা' গুজবে পরিপূর্ণ স্থানীয় একটা হানাবাড়িতে ঘুরতে যে���়ে একটা বিড়ালের মূর্তি খুঁজে পেলেন রহমান সাহেব ও সমীরবাবু। প্রাচীন মিশরের বিড়াল দেবতা বাস্টের মূর্তি। সাথে করে বাড়িতে নিয়ে আসা হলো মূর্তিটাকে। এ খবর রহস্যজনকভাবে ছড়িয়ে পড়লো চারিদিকে। এরপর একে একে রহমান সাহেবের বাসায় ভিড় জমাতে শুরু করলো মূর্তিটি কিনতে বেপরোয়া বিভিন্ন টাইপের মানুষজন। ফলশ্রুতিতে মূর্তি চুরি। তারপর তদন্ত শুরু...। রহস্য তেমন না জমলেও, এ গল্পটা দর্শন এবং ইনফরমেশনে ভরপুর।
দ্বিতীয় রহস্য- 'অবন্তীর মৃত্যু' একদিন হঠাৎ রহমান সাহেবের বাসার পাশের দেয়ালঘেরা বাড়িটার পেছনের জঙ্গলে একটা লাশ পাওয়া গেল। নীল চাদরে ঢাকা একটা মেয়ের লাশ। লাশের গলা কাটা কিন্তু মাথা ধড় থেকে আলাদা করা হয়নি। মেয়েটা অবন্তী; রহমান সাহেবের পূর্ব পরিচিত। তদন্তে নামলেন তিনি। দৃশ্যপটে অনেকগুলো চরিত্র। রহস্য ক্রমশ জটিল হতে শুরু করলো...। মার্ডার মিস্ট্রি। এ বইয়ে আমার সবথেকে পছন্দের গল্প।
তৃতীয় রহস্য- 'বহুদিন বেদনায়, বহুদিন অন্ধকারে' শহরের দাড়িয়াপাড়া নামক এলাকায় এক ভদ্রমহিলার বীভৎস লাশ পাওয়া গেল। কোন ধরণের সূত্র খুঁজে বের করতে ব্যর্থ পুলিশ। মৃত্যুর আগে ভদ্রমহিলা সাহারা হোটেল নামে শহরের বেশ নামকরা একটা আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন। সাহারা হোটেলের ম্যানেজারের অনুরোধে রহমান সাহেব কেসটার তদন্ত শুরু করলেন। একে একে বেরিয়ে এলো চমকপ্রদ কিছু তথ্য। মাস তিনেক আগে ঠিক একই ভাবে খুন হয়েছিল প্রায় কাছাকাছি বয়সের আরেকজন ভদ্রমহিলা। সিরিয়াল কিলার, নাকি অন্যকিছু? এদিকে পুলিশের মানসিক হাসপাতালে বন্দী এক পাগল-কবির অসংলগ্ন কথাবার্তায় রহমান সাহেব কি কোন ক্লু খুঁজে পেলেন...? মার্ডার মিস্ট্রি। রহস্য ভালোই জমছিলো, তবে বেশ কিছু জায়গায় খাপছাড়া খাপছাড়া মনে হইছে। মোটের উপর ভালো।
থ্রীলার যে কতটা হাস্যকর হতে পারে আর মাঝে মধ্যে কি বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে তা এই বইটা না পড়লে বুঝতাম নাহ। বয়সে তরুণ এই লেখক চেষ্টা করছেন ভালো কিছু লিখতে এবং সেটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে চেষ্টায় যে ত্রুটি রয়েছে তাও বুঝা যায় স্পষ্টভাবেই।
লেখার ধরণ সহজ; কিন্তু লেখক প্রায় সব চরিত্রের ডায়লগই একই রকম ভাবে রচণা করেছেন। রহমান সাহেব চরিত্র ব্যাতিত পার্শ্ব -চরিত্রগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি । সমীরবাবুর চরিত্রটির বিকাশের আরো সুযোগ ছিল। এমনকি রহমান সাহেবে চরিত্রটিকেও আরো ভালোভাবে গড়া যেত। ডায়লগ বা কথোপকথোন খুবই কাঁচা ছিল।
প্রথম গল্পটিতে বেশ কিছু অধ্যায় আছে, যা না থাকলেই বরং ভালো হত। শুধু শুধু পৃষ্ঠা বাড়ানোর জন্যেই মনে হয় ঐ কয়েকটা অধ্যায় জুড়ে দেওয়া । দ্বিতীয় গল্প থেকে যে রফিক আমজাদ চরিত্রটিকে দেখতে পাই, তা হয়তঃ লেখক ডিসি কমিক্সের "জোকার" চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সৃষ্টি করেছেন। ব্যাপারটা খারাপ নাহ। কিন্তু আশা করবো এই সমীর চরিত্রটির মতন এই রফিক আমজাদেরও যেন বাজে ক্যারেক্টার ডেভেল্পমেন্ট না হয়।
বইটির প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে। ছোট্ট পেপারব্যাক বই যা সহজের বহনযোগ্য। আশা করছি, লেখক তার সেরাটা দিয়ে তার পরবর্তী রচণা আমাদেরকে উপহার দিবেন। আগামী্র জন্যে শুভকামণা।
রহমান সাহেব গোয়েন্দা নন। ছোট শহরে সাধারণ একটা চাকরি করেন। অসামাজিক গোছের এই মানুষটা বেশিরভাগ সময়ই নিজের ভেতরে থাকেন, মেশেন-টেশেন না তেমন কারো সাথে। বই পড়েন অনেক, তবে গল্প-উপন্যাস পড়েন না। অস্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং ভয়ংকর রকমের কৌতূহল তাকে টেনে নিয়ে যায় তিনটি রহস্য সমাধানে। সঙ্গী অফিসের কলিগ এবং একমাত্র বন্ধু সমীর বাবু। লেখক এ তিনটি রহস্যকে তিনটি গল্পের আকার দিয়েছেন বইটাতে। প্রথম রহস্য- 'বিড়াল দেবতা' গুজবে পরিপূর্ণ স্থানীয় একটা হানাবাড়িতে ঘুরতে যেয়ে একটা বিড়ালের মূর্তি খুঁজে পেলেন রহমান সাহেব ও সমীরবাবু। প্রাচীন মিশরের বিড়াল দেবতা বাস্টের মূর্তি। সাথে করে বাড়িতে নিয়ে আসা হলো মূর্তিটাকে। এ খবর রহস্যজনকভাবে ছড়িয়ে পড়লো চারিদিকে। এরপর একে একে রহমান সাহেবের বাসায় ভিড় জমাতে শুরু করলো মূর্তিটি কিনতে বেপরোয়া বিভিন্ন টাইপের মানুষজন। ফলশ্রুতিতে মূর্তি চুরি। তারপর তদন্ত শুরু...। রহস্য তেমন না জমলেও, এ গল্পটা দর্শন এবং ইনফরমেশনে ভরপুর। দ্বিতীয় রহস্য- 'অবন্তীর মৃত্যু' একদিন হঠাৎ রহমান সাহেবের বাসার পাশের দেয়ালঘেরা বাড়িটার পেছনের জঙ্গলে একটা লাশ পাওয়া গেল। নীল চাদরে ঢাকা একটা মেয়ের লাশ। লাশের গলা কাটা কিন্তু মাথা ধড় থেকে আলাদা করা হয়নি। মেয়েটা অবন্তী; রহমান সাহেবের পূর্ব পরিচিত। তদন্তে নামলেন তিনি। দৃশ্যপটে অনেকগুলো চরিত্র। রহস্য ক্রমশ জটিল হতে শুরু করলো...। মার্ডার মিস্ট্রি। এ বইয়ে আমার সবথেকে পছন্দের গল্প। তৃতীয় রহস্য- 'বহুদিন বেদনায়, বহুদিন অন্ধকারে' শহরের দাড়িয়াপাড়া নামক এলাকায় এক ভদ্রমহিলার বীভৎস লাশ পাওয়া গেল। কোন ধরণের সূত্র খুঁজে বের করতে ব্যর্থ পুলিশ। মৃত্যুর আগে ভদ্রমহিলা সাহারা হোটেল নামে শহরের বেশ নামকরা একটা আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন। সাহারা হোটেলের ম্যানেজারের অনুরোধে রহমান সাহেব কেসটার তদন্ত শুরু করলেন। একে একে বেরিয়ে এলো চমকপ্রদ কিছু তথ্য। মাস তিনেক আগে ঠিক একই ভাবে খুন হয়েছিল প্রায় কাছাকাছি বয়সের আরেকজন ভদ্রমহিলা। সিরিয়াল কিলার, নাকি অন্যকিছু? এদিকে পুলিশের মানসিক হাসপাতালে বন্দী এক পাগল-কবির অসংলগ্ন কথাবার্তায় রহমান সাহেব কি কোন ক্লু খুঁজে পেলেন...? মার্ডার মিস্ট্রি। রহস্য ভালোই জমছিলো, তবে বেশ কিছু জায়গায় খাপছাড়া খাপছাড়া মনে হইছে। মোটের উপর ভালো। বি দ্র- মিসির আলীর সাথে রহমান সাহেবের তেমন কোন মিল নাই।
শেষ করলাম বইটি আবার। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পড়া। খুব কম বইই আমি পুনঃপাঠ করেছি। এটাও তেমন। প্রথম বারের পড়াটাও অনেক আগের। তাই এবার পড়তে গিয়ে গল্পগুলো আবার নতুন লেগেছে। রহমান সাহেব চরিত্রটি ভালো লেগেছে। রহমান সাহেবের গল্পগুলো আরো আসুক। ২০১৫ তে প্রথম প্রকাশ এই বই ৫ বছর হয়ে গেলো রহমান সাহেবকে নিয়ে নতুন বই কি হবে না?
🔴 পড়ে খুব একটা মজা পেলাম না, তেমন রোমাঞ্চকর গল্প ও নয়,আমার মনে হচ্ছে বইটির মাধ্যমে নতুন এক ধরনের মাদক এর প্রচার চালানো হচ্ছে এটি বাংলাদেশে নতুন। লেখক নিজেও এই নেশায় আসক্ত।