Books can be attributed to "Anonymous" for several reasons:
* They are officially published under that name * They are traditional stories not attributed to a specific author * They are religious texts not generally attributed to a specific author
Books whose authorship is merely uncertain should be attributed to Unknown.
সে অনেক কাল আগের কথা। বর্তমান ইরানের নাম ছিল তখন পারস্য। এই পারস্য দেশের সুলতানের ছিল দুই সুযোগ্য পুত্র। বড় ছেলে শাহরিয়ার আর ছোট ছেলে শাহজামান। বৃদ্ধ বয়সে সুলতানের মৃত্যুর পর পারস্যের শাসনভার ন্যস্ত হয় শাহরিয়ারের উপর আর সমরখন্দের শাসনভার পান শাহজামান।
একবার শাহরিয়ার শিকার থেকে ফিরে স্ত্রীকে পরকীয়ায় লিপ্ত দেখেন নিজেরই এক দাসের সঙ্গে ৷ সাথে সাথে নির্দেশ দেন স্ত্রীর শিরশ্ছেদ করবার। এত বছরের পুরনো স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতায় নারী জাতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে শাহরিয়ার সিদ্ধান্ত নেন এখন থেকে তিনি শুধু এক রাত্রির জন্য সঙ্গিনী গ্রহণ করবেন। রাত শেষ হতেই হত্যা করবেন তাকে। এভাবে কোনো পরপুরুষ এর স্পর্শ পড়বে না স্ত্রীর উপর।
এভাবেই চললো বেশ কিছুদিন। শাহরিয়ার রাজ্যের কুমারী যুবতীদের বিয়ে করেন এক রজনীর জন্য। আর প্রভাতেই বেচারীদের গর্দান হারাতে হয়। এক সময় দেখা গেল রাজ্যে আর কোনো বিবাহযোগ্যা কুমারী অবশিষ্ট নেই। এ সময় এগিয়ে আসে শাহরিয়ারের খাস উজিরের কন্যা শাহরাজাদ। রুপে-লাবণ্যে, জ্ঞানে-গুণে যে অতুলনীয়। স্বেচ্ছায় সুলতানকে বিয়ে করতে রাজি হয় পিতার শত অনুরোধ উপেক্ষা করে। সন্ধ্যা হতেই সুলতানের সাথে বিয়ে হয়ে যায় শাহরাজাদের। এদিকে উজিরের চুল ছেড়ার উপক্রম। প্রত্যুষেই যে আদরের কন্যার শিরশ্ছেদ করবার নির্দেশ দিতে হবে।
ওদিকে শাহরাজাদের কিন্ত এ নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই। সুলতানকে ভোলাতে তার কাছে যে রয়েছে মোক্ষম এক অস্ত্র।
রাত পোহাতেই দেখা গেল শাহরাজাদ দিব্যি বেঁচে আছে। সুলতান সত্যিই শাহরাজাদের অস্ত্রে ঘায়েল। আলিফ লায়লা ওয়া লাইলা নামের সে অস্ত্রের কোপে পরবর্তীতে কুপোকাত হয়েছে আরো অনেক মানুষ। কার সাধ্যি এ অস্ত্রের হাত থেকে বাঁচার !
আমার মনে আছে খুব ছোট থাকতে প্রথম যেবার সাদাকালো টিভি দেখেছিলাম তা ছিল সিন্দবাদের একটা পর্ব। একটি পাখির চোখে তীর বিদ্ধ করতে হয় সিন্দবাদকে। আমার প্রথম কেনা বই ছিল ছোটদের আরব্য রজনী। এখনো বোধহয় বইটা আমার সংগ্রহে আছে। এই দুই প্রথমের কারণে আলিফ লাইলা ওয়া লাইলা বা এক সহস্র এক আরব্য রজনী আমার কাছে বিশেষ প্রিয়। শুধুমাত্র নস্টালজিয়ার কারণে নয়। এ তো সাধারণ কোনো উপাখ্যান না, এ হলো গল্পের ভুরিভোজ!
কি নেই এতে? গল্পগুলোর পরিধি ছড়িয়ে আছে ইরান, ইরাক, মিশর, তুরস্ক থেকে সুদূর চিন কিংবা ভারত পর্যন্ত। এক-একটি গল্প যেন শিল্পীর নিখুঁত তুলিতে আঁকা এক-একটি ছবি। ব্যাপ্তিতে,কাহিনী বিন্যাসে,কল্পনার অবাধ বিচরণে সৃষ্টি হয়েছে এক আশ্চর্য কল্পনা জগত, এ জগতে সম্ভব আর অসম্ভবের গতি। এখানে একদিকে রয়েছে গভীর প্রেম, ভালোবাসা, ত্যাগ, সাহস, বীরত্ব, মহত্ব, উদারতা, তারই পাশে রয়েছে জীবনের আর এক দিক। সেখানে মূর্ত হয়ে উঠেছে ব্যভিচার, ভোগ বিলাস, কামনা বাসনা, কুটিলতা, প্রতারণা, কৌতুকতা, নীচুতা ইত্যাদি। সহজ কথায় মানব চরিত্রের এমন কোনো দিক নেই যা এখানে ফুটে উঠেনি৷
শুধু মানব ই নয়। জিন, পশু পাখিদের কথাও বাদ যায়নি । আরব্য রজনীর শ্রেষ্ঠত্ব বোধহয় এতেই।
তুলি-কলম থেকে প্রকাশিত বিশাল সাইজের বইটিতে আরব্য রজনীর প্রায় সব গল্পই বোধহয় সংক্ষেপে এসেছে। তাই আরব্য রজনী নিয়ে বিস্তারিত জানতে এটি নয়। একটা গল্প বইয়ে দুবার এসেছে। আর শুরুতে ঠিক থাকলেও মাঝে দিয়ে অনেকগুলো গল্পেরই কিছু অংশ যে বাদ দেয়া হয়েছে তা বোঝাই যাচ্ছিল । সম্পাদনার অভাব ভালোভাবেই প্রতীয়মান। অবশ্য বিশেষ সমস্যা হয়না এতে।
বইটা সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। বেশ কিছু এক্সপ্লিসিট ছবি আছে যেগুলা সাদাকালো হওয়াতে রক্ষে। আর একটা ব্যাপার একটু দৃষ্টিকটু। কিছু হলেই চরিতগুলোর মনে যেন কিসের জোয়ার আসে আর বলে, " এসো এট্টু ফূর্তি করি।"
আর একটা সমস্যা আছে যা হয়তো অন্যদের তেমন পোহাতে হবে না। আমার শুয়ে বই পড়বার অভ্যাস। এ বই শুয়ে পড়া যায় না, বেশি ভারী !
এক সহস্র এক আরব্য রজনী তুলি-কলম মূদ্রিত মূল্যঃ ৬০০ টাকা