একটি গল্প ও দু'টি উপন্যাস। 'পঞ্চশরের একটি কম' গল্পের আদি-অন্ত ছেয়ে আছে এক মিষ্টি প্রেমের আবহে। 'গভীর রাতে দীঘির ধারে' উপন্যাসের কাহিনী জুড়ে এক আধিভৌতিক বাতাবারণ। 'কর্ণ-রুমাবউদি সংবাদ'উপন্যাসের নায়িকা রুমাবউদির আছে মহাভারতের কুন্তীর মতো এক গোপন ভুবন।
তিনটি নভেলা নিয়ে এই বই৷ প্রথমটির শুরুটা ভাল হয়েছিল। সুন্দর নীললোহিতীয় গদ্য। এটির সমাপ্তিতে তাড়াহুড়ো না করলে বেশ ভাল জিনিস হতে পারতো৷ বাকি দুইটা তেমন কাজের কিছু না।
বছরের প্রথম দিন এই বইটা পড়ে শেষ করলাম। এতে তিনটে ছোট ছোট উপন্যাস আছে।
প্রথম উপন্যাস - 'পঞ্চশরের একটি কম' গল্পের আদি অন্ত ছেযূআছে একটি মিষ্টি প্রেমের আবহে। প্রথমাকে ভালোবাসতে চায় আলোকচিত্রী প্রীতম। তার কাছে খবর আছে মায়ের সঙ্গে প্রথমা বেড়াতে গেছে ঝাড়গ্রামের কাছে চিলকিগড়ে। সেখানে শোভন রাযও গেছে। এই লোকটি জুনের সঙ্গে ভাব জমাতে চায়। প্রীতম ওর বন্ধু নীললোহিতকে পাঠাল চিলকিগড়ে জুন আর শোভনের মেলামেশা কতদূর গড়িয়েছে দেখার জন্য।
দ্বিতীয় উপন্যাস - 'গভীর রাতে দিঘির ধারে' উপন্যাসের কাহিনী জুড়ে এক আধিভৌতিক বাতাবরণ। ঝরনামাসি, রবীনমেসো, আর তাদের ছেলেমেয়ে টিনা এবং রণের সঙ্গে নীললোহিত বেড়াতে এসেছে পাড়াগাঁ ভোলানাথপুর। এখানে রবীনমেসোর পূর্বপুরুষদের বিশালবাড়ি। ওরা আসার পর থেকেই বাড়িটায় ঘটতে থাকে নানা ভৌতিক কান্ড।
তৃতীয় উপন্যাস - 'কর্ণ-রুমা বউদি সংবাদ' ডায়মন্ড হারবারের কাছে নির্জন গ্রামে, একটি বাড়ির তিনতলায়, নীললোহিত চকিতে দেখে ফেলল রুমাবউদিকে। ভদ্রমহিলা এখানে কেন? একটি কচ্ছপ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নীললোহিত ঢুকে পড়ল সেই রহস্যময় বাড়িতে।
তিনটি উপন্যাসি মাঝারি মানের। নীললোহিত ভক্ত বলের সংগ্রহ করে পড়লাম। আহামরি কিছু না। রেটিং - ২/৫
নীললোহিত, যার বয়েস সাতাশের বেশি বাড়ে না, যে কোন চাকরী করে না, করতে চায় না, খোঁজেও না, কেউ দিলেও পালাই পালাই করে। তার একটি পছন্দের মেয়ে আছে, মুমু সম্পর্কে নীললোহিত যার কাকা হয়, কিন্তু আসল কাকা নয়, সেই মেয়েটি আর নীললোহিতের মধ্যে একটা অদ্ভুত রসায়ন আছে। এছাড়া প্রায় প্রতিটি উপন্যাসেই উঁকি দেয় নতুন কোনো নারী। তাদের সাথে নীললোহিতের প্রেম হয় না, তবে ঘনিষ্ঠতা হয়, তবে কখনোই তা এগোয় না। নীললোহিত মাঝে মধ্যেই বেড়িয়ে পড়ে ঝাড়খন্ড, বিহার বা বাংলার কোন মফস্বলে। ট্রেন থেকে নেমে পড়ে অচেনা জায়গায়, হঠাৎ করে চলে যায় কোন বন্ধুর বাড়িতে, অথবা গিয়ে পড়ে কোন অচেনা শহরে। নীললোহিত নিত্য নতুন প্রেমে পড়ে কোন কিশোরীর, অথবা কোন তরুণীর, সম্পর্কে মাসি-পিসি গোছের কেউও রেহাই পায় না। সে ঘুরে এসেছে তিন সমুদ্র আর সাতাশ নদী, পাড়ি দিয়েছে আটলান্টিক, প্রেমে পড়েছে মার্গারিটের, আবার তার আছে একটা দিকশূণ্যপুর, যার ঠিকানা বাইরের কেউ জানেনা, য়েখানে সবাই যেতে পারে না, সে এক আলাদা জগত, সেখানে আছেন বন্দনাদি আর আরও অনেকে। নীললোহিত মানে বাউন্ডেলেপনা, কোন মানে নেই কিছুর। নীললোহিতের মুখে কোন আগল নেই, নেই মনেও। হিমু চরিত্রটি হুমায়ুন সম্ভবত নীললোহিত থেকেই সৃষ্টি করেছিলেন। নীললোহিতের মধ্যে পাগলামি আছে তবে তা হিমুর থেকে কম, হাস্যরসও কিঞ্চিৎ কম, দুটোই অবাস্তব চরিত্র, তবে নীললোহিত বোধহয় বাস্তবতার একটু কাছে। এই বইয়ের দুটি নীললোহিত সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলার নেই। হঠাৎ করেই শেষ, বোঝা যায় পূজা বার্ষিকী গোছের কিছুর জন্য ফরেমায়েশী লেখা। পড়ার দুদিন পরেই নির্ঘাত ভুলে যাওয়ার মতো। আমার এককালের প্রিয় চরিত্র নীললোহিত, তবে এই বইয়ের উপন্যাসগুলো সেরার তালিকায় পড়বে না একেবারেই। সবার মধ্যেই হয়তো একটা নীললোহিত আছে, আমি তো নিজের মধ্যে খুঁজে পাই। আপাতত দুই তারার বেশি দিতে পারলাম না, দুঃখিত নীললোহিত।