সামারি টাইপ, পুরোটাই স্পয়লার। এই বই পড়ার ন্যুনতম আগ্রহ থাকলে এটা পড়বেন না।
“What is important to you in your life? What do you want more than anything else?” I thought he might say “getting money,” or “staying out of jail,” which were the activities to which he devoted most of his time. Instead, without a moment's hesitation, he replied, “Oh, that's easy. What I like better than anything else is when people feel sorry for me. The thing I really want more than anything else out of life is people's pity.”
শহরতলীর এক হাই স্কুলের প্রিন্সিপল হানার (Hannah) বাবা, চমৎকার মানুষ, সবাই তাকে ভালো বলেই জানে, হানা আর তার মা তো ভালো জানেই, মাই-ডিয়ার লোক, উদার। সেই লোকই হঠাৎ একদিন খুন করে বসল, তাদের বাসাতেই। লোকটা ছিল অনুপ্রবেশকারী, হয়তো চুরি করতেই এসেছিল। দীর্ঘ আইনী প্রক্রিয়া শেষে তার জেল হয়ে গেল। যাকে খুন করা হয়েছে সে যদিও নিরস্ত্র ছিল কিন্তু সে ছিল চিহ্নিত অপরাধী, ড্রাগ এডিক্ট, সর্বোপরী খুন হওয়ার আগে জানলা ভেঙ্গেই ঘরে ঢুকেছিল। অতএব হানার বাবার তার পরিবারকে রক্ষা করতে খুন করাটা কি যুক্তিসঙ্গত নয়? চারদিকে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও কিন্তু শেষমেশ রায়ের পরিবর্তন ঘটেনি।
হানা, যে কিনা মেডিকেল স্টুডেন্ট, এসমস্ত ঘটনায় খুবই ডিপ্রেসড। লেখকের কাছে এসেছে রোগী হিসেবে, কিন্তু বলেছে, দেখ, আমি কিন্তু চিকিৎসা নিতে আসিনি, আমি শুধু কথা বলতে চাই। প্রতি সপ্তাহ��� কথা বলতে বলতেই বেরিয়ে আসলো, তার বাবাকে সে এতদিন যেভাবে চিনে এসেছে আসলে সে যে তা নয় সেটাই সে বুঝতে পারেনি। ছোট্টকালে একবার পরীক্ষায় খারাপ করেছিল বলে কয়েকদিন কথাই বলেনি। যদিও বলেছে, দেখ তুমি যদিও ছেলে না কিন্তু সব স্বাধীনতাই ভোগ করবে, আমি অন্যদের মত এত রক্ষণশীল না, কিন্তু দেখা যায় নিজের সিদ্ধান্তই সে তার উপর চাপিয়ে দিয়েছে, যেমন তার ডাক্তার হওয়া। তার মা একবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হস্পিটালাইজড হলেও একবারের জন্যও তাকে দেখতে যায়নি, বরং আসার পর বলেছে, তুমি আর কখনোই তোমার আগের রূপ ফিরে পাবে না। নিজেকে খুবই ছোট মনে হচ্ছিল যখন সে বলছিল, আমার বাবা একবার তার ক্লাসের এক মেয়েকে বলেছে, নিশ্চয় আজও ব্রা পরোনি, একা পেয়ে এক ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরা, তার ক্লাসের আরেক মেয়েকে কু … এই যে বাবার সম্বন্ধে এসব বলছে তার পরও কিন্তু সে বলছে নিশ্চয় তুমি আমাকে খারাপ ভাবছো?
হানার মায়ের কাছে বিচিত্র সব ফোন কল/মেসেজ আসতো, যেগুলোতে তার বাবাকে ড্রাগ ডিলার হিসেবে অভিযুক্ত করা হতো। সত্যিই কি তাই? হানা জেলে দেখা করতে গিয়েছিল। জিজ্ঞেস করেছিল, বাবা সেই লোকটা কী খুঁজতে এসেছিল? এভাবেই বেরিয়ে আসলো, মোটেই সে অনিচ্ছাকৃতভাবে খুন করেনি, এর আগেও সে খুন করেছে এবং স্যোসিওপ্যাথ হিসেবে তার যে বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার তাও আছে। আপাত দৃষ্টিতে সমাজের কাছে ভালো একটা মানুষ কিন্তু এবিউজার, খুনী, ড্রাগ ডিলার, এবং এ সমস্ত কাজের জন্য তার কোন অনুশোচনা নেই। বহু বছর পরে হানার বাবা-মার বিচ্ছেদ হয়েছিল, উনিশ বছরের তারই সাবেক ছাত্রীর সাথে যৌন সম্পর্কের কারণে। আর হানা যদিও ডাক্তার হয়েছিল কিন্তু যেহেতু এটা ছিল তার বাবার ইচ্ছা, সেজন্য সে পরে ল’ স্কুলে ভর্তি হয়েছিল।
*
সিডনি, একজন পারফেক্ট academician। কখনো ভাবেনি সে বিয়ে করবে। কিন্তু তাই করে বসল। সিডনি বলছিল লেখককে, কে এটা বিশ্বাস করবে লুক তাকে বিয়ে করেছে একটা বড় সুইমিং পুলের জন্য! সিডনি ভাবতে পারেনি তার প্রেমে পরবে কেউ। নিজেকে সে সুন্দরী বলে না, তার উপর তার জীবনটা হচ্ছে গবেষণাময়। তো, পাইলাম পাইলাম, আমার টাইপ ছেলে! বিয়ের কিছুদিন পর সে বুঝতে পারল সে মা হতে যাচ্ছে। আমার মধ্যে নতুন একটা জীবন, ওয়াও। মোটামুটি এ সময় থেকেই তার জীবন অতিষ্ট হয়ে গেল। লুক (Luke), সিডনির মত এত উত্তেজিত ছিল না, আরে তোমাকে তো বিশ্রী দেখাচ্ছে, ম্যাঁ। সে চাকরি ছেড়ে দিল, বলল, ডিপ্রেশনে ভুগছে। সিডনি অন্যদের বলায় তারা বলল, হয় এরকম হয়, হবু বাবারা অনেক সময় ডিপ্রেশনে ভুগে। এসময় সে তার প্রিয় পুলে সময় কাটাত, টিনেজদের মত কম্পিউটার গেইম খেলত, বিচিত্র এক শখ হয়েছিল তখন, লিথোগ্রাফ সংগ্রহের, একসময় ফুরিয়েও গেল। বাচ্চা হল, কিন্তু লুক তার দিকে ফিরেও তাকায় না, বাচ্চা এত কাঁদে কেন, এই শান্ত কর তো। যথারীতি ‘জ্ঞানী’ মানুষেরা জ্ঞান দিল, আসলে মাঝে মাঝে দেখা যায় নতুন বাচ্চাদের সাথে বাবাদের দুরত্ব তৈরী হয়, আসলে তারা ঠিক কমফোর্ট ফিল করতে পারে না শুরুতে, চিন্তা করো না, সব ঠিক হয়ে যাবে। [এসব ব্যাপার যদিও সত্য, কিন্তু এক্ষেত্রে প্রযোজ্য না আরকি।] লুক বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়াত, সাতার কাটতো, ম্যাগাজিন পড়ে সময় কাটাতো। বেবিসিটার অবাক হয়ে সিডনিকে বলেছিল, এ কেমন বাবা? অবস্থা আরো খারাপ হওয়ায় একসময় বিয়ে বিচ্ছেদ হল। কিন্তু লুকের কী অবস্থা? সে কিন্তু ঠিকই পুলে এসে বসে থাকতো, সিডনি নিষেধ করলেও না, এমনকি সে ছেলের সাথে কিছুটা সময়ও কাটাত। সে কি আসলেই তার ছেলে ভালোবাসতে শুরু করেছিল? উঁহু, .... এটা হচ্ছে অন্য মাত্রার উপেক্ষা, স্ত্রীকে তো বহু আগে থেকেই চুড়ান্ত মাত্রায় অগ্রাহ্য করতে শুরু করেছিল।
তো লুকও কিন্তু একাডেমিক লোক ছিল, সিডনির সাথে বিয়ের আগে সে কোন বিয়েও করেনি, এবিউজারও ছিল না, ক্ষমতা বা সম্পদের প্রতি লোভও ছিল না, কিন্তু সে সামাজিক সম্পর্ক ব্যাপারটাই বুঝতো না, নৈতিকতা কী তা তার ধারণাতেই ছিল না, সে তার স্ত্রীকে ব্যবহার করেছে নিজের নিরাপদ জীবনের জন্য, পরবর্তীতে বাচ্চাকেও করতে চেয়েছে।
*
বইয়ে স্যোসিওপ্যাথদের মোকাবেলা করার জন্য তেরটা নীতি আছে। কয়েকটা উল্লেখ করাই যায়।
১. প্রথমেই স্বীকার করে নিতে হবে যে, কারো কারো মধ্যে নৈতিকতার কোন ধরণের বালাই থাকে না।
২. লোকের সামাজিক মর্যাদা কি রকম, সে ডাক্তার নাকি শিক্ষক, তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা না করে নিজের স্বহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে তার মূল্যায়ন করা উচিৎ।
৩. যেকোন ধরণের সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, একবার যদি মিথ্যা বলে বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বা দায়িত্বে অবহেলা করে, তবে সেটা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই যায়, কিন্তু দুইবার একই ভুল করলে সেটাকে সিরিয়াসলিই নিতে হবে এবং তিনবার যদি করে তবে সম্পর্কচ্ছেদই কাম্য। [রুল অব থ্রিজ]
৪. দেখা গেছে, দশজনের মধ্যে ছয়জনই অন্ধভাবে কর্তৃপক্ষের হুকুম মেনে নেয়। এ কাজ করা যাবে না, সংশ্লিষ্ট জনকে জেরা করতে হবে, বিশেষত তাদেরকে যারা মনে করে নৈতিকতাকে পাশ কাটানোই সমস্যা সমাধানের উপায়।
৫. প্রশংসা অবশ্যই ভালো বিষয় কিন্তু অতিপ্রশংসা/চাটুকারিতাকে সন্দেহের চোখেই দেখতে হবে।
৬. এতকালের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি খারাপ কাজ করলে তা মেনে নিতে অনেকের কষ্ট হয়। কিন্তু প্রয়োজনে শ্রদ্ধাবোধের পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
৭, ৮. স্যোসিওপ্যাথের পরিকল্পনার অংশ হওয়া যাবে না। এড়িয়ে চলে নিজেকে রক্ষা করাই শ্রেয়।
৯. খুব বেশি সহানুভূতিশীল হলে তো সমস্যা!
১০. যখনই বুঝতে পারবেন উদ্দিষ্ট ব্যক্তি একজন স্যোসিওপ্যাথ, তখন নিজেকে বোঝাবেন, যা হওয়ার নয় তা নিয়ে অযথা কষ্ট করা কেন?
*
এই বইয়ে স্কিপ, ডোরিন, লুক, হানার বাবা, টিলি, এই পাঁচজনের কাহিনী আছে। স্কিপ ছোটবেলায় ব্যাঙ মারত, প্রথমদিকে ধরে ধরে কাঁচি দিয়ে, পরবর্তীতে আতশবাজী দিয়ে, নৃশংস পদ্ধতিতে। বড় হয়ে মানুষ মারেনি তবে কর্পোরেট শার্ক হয়েছে। বিয়ে করেছে প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়াতে, স্ত্রী/বাচ্চাদের প্রতি কোন দায়িত্বই অনুভব করেনি, বিশ্বাসযোগ্যভাবে মিথ্যা বলতে পারত, মানুষকে খুব সহজেই প্রভাবিত করতে পারত, ক্ষমতার জন্য যেকোন কিছুই করতে পারত। ডোরিন একজন সাইকালজিস্ট। নিজেকে সেরা মনে করত। শুধুমাত্র ‘ওটার একমাত্র যোগ্য আমিই’/সহকর্মী যাতে হীনমন্যতাবোধে ভোগে সেজন্য একজন রোগীর জীবন বিপন্ন করতেও সংকোচ বোধ করেনি, মিথ্যা বলে শিক্ষানবিশকে হয়রানি করতেও না। এখানে একজন নন-স্যোসিওপ্যাথ জো’র কাহিনীও আছে। একটা মিটিং এর জন্য কয়েকদিনের প্রস্তুতি নিয়েও শেষ পর্যন্ত যায়নি, ফিরে এসেছে, তা নাহলে যে তার কুকুর দুইদিন ধরে না খেয়ে থাকতো। আর ডোরিন? টিলি? টিলি বলেছিল তার প্রতিবেশীকে, তোমরা চুল্��িতে কাঠ জ্বালাবে না, আমার এলার্জির সমস্যা আছে, প্রতিবেশী তার বাড়ির সামনে গাড়ী পার্ক করেছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে, আর বেচারা গ্রাউন্ডহকের ব্যাপারটার কথা কি বলবো!
তো এই লোকগুলো দেখতে-শুনতে সাধারণ মানুষের মতই। হলিউডি মুভির মত এরা শুধুমাত্র খুন/ধর্ষণ/ডাকাতি করেই বেড়ায় না। পরিসংখ্যান মতে আমেরিকার 4% স্যোসিওপ্যাথ, যারা কি না এন্টিস্যোশাল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডারে ভোগে। Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders IV মতে নিচের সাতটা বৈশিষ্ট্যের অন্তত তিনটা থাকলে APD আছে বলে সন্দেহ করতে হবে।
১. সামাজিক আদর্শ/নীতি মেনে না চলা।
২. প্রতারণাপূর্ণ আচরণ করা, নিজের উদ্দেশ্য সাধনে যেকোন কিছু করা।
৩. কোন ধরণের পরিকল্পনা না করে আবেগ বা ঝোঁকের বশে কাজ করা।
৪. খুব সহজে রেগে যাওয়া, আগ্রাসী মনোভাব।
৫. নিজের বা অন্যের নিরাপত্তার ব্যাপারে গা-ছাড়া ভাব।
৬. ধারাবাহিক দায়িত্ববোধহীনতা।
৭. কাউকে আঘাত করে বা কারো সাথে খারাপ আচরণ করার পরও কোন ধরণের অনুশোচনা বোধ না করা।
কিন্তু এটাই কি শেষ? তা হলে তো পৃথিবীর সবাই ডাক্তার হয়ে যেতে পারতো। :D এই বইয়ে আরো অনেক কিছু আছে। নৈতিকতা কি, কিভাবে উদ্ভব হল, বিবর্তনীয়/সাইকোলজিক্যাল ব্যাখ্যা, নানা ধরণের সাইকোলজিক্যাল পরীক্ষণগুলো চমৎকার লাগে পড়তে। অ্যাটাচমেন্ট ডিজঅর্ডার নামের একটা ব্যাপার জানলাম। যথারীতি ভয়ঙ্কর। লেখক বেশ চমৎকার ভঙ্গীতে গল্প করেছেন। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে নিজের আলোচনা, একটু-আধটু বিজ্ঞান। বইটা চমৎকার, ধুমধাম পড়ে ফেলার মত। [যদি মাঝে অন্যকোন বই না পড়েন :3] তবে একটা কথা, লেখক যেভাবে নিজকেন্দ্রিকতাকে উপস্থাপন করেছেন, ওয়েস্টার্ন কালচার ভালো না তেমন, এজন্যই ওখানে স্যোসিওপ্যাথ বেশি, অ্যাম্বিশাস লোকদের স্যোসিওপ্যাথ হওয়ার সম্ভাবনা, তা তেমন ভালো লাগেনি। টিলির ঘটনাটা লেখকের বানানো, এইজন্যই পুরো অধ্যায়টাই কেমন জানি। টিলির মত মানুষ অহরহ আছে মনে হয় ;) । এবং যুদ্ধ/গণহত্যা সম্পর্কিত নৈতিকতা নিয়ে যা পড়েছি তা দিয়ে গণহত্যার অপরাধীদের মানবিক চোখে দেখবো নাকি চিন্তা করছি। ;)
কাল থেকে মনে হয় শুধু স্যোসিওপ্যাথ দেখবো। ;)