Jasimuddin (Bangla: জসীম উদদীন; full name: Jasimuddin Mollah) was a Bengali poet, songwriter, prose writer, folklore collector and radio personality. He is commonly known in Bangladesh as Polli Kobi (The Rural Poet), for his faithful rendition of Bengali folklore in his works.
He obtained his BA degree in Bengali from the University of Calcutta in 1929 and his MA in 1931. From 1931 to 1937, Jasimuddin worked with Dinesh Chandra Sen as a collector of folk literature. Jasimuddin is one of the compilers of Purbo-Bongo Gitika (Ballads of East Bengal). He collected more than 10,000 folk songs, some of which has been included in his song compilations Jari Gaan and Murshida Gaan. He also wrote voluminously on the interpretation and philosophy of Bengali folklore.
Jasimuddin started writing poems at an early age. As a college student, he wrote the celebrated poem Kabar (The Grave), a very simple tone to obtain family-religion and tragedy. The poem was placed in the entrance Bengali textbook while he was still a student of Calcutta University.
Jasimuddin is noted for his depiction of rural life and nature from the viewpoint of rural people. This had earned him fame as Polli Kobi (the rural poet). The structure and content of his poetry bears a strong flavor of Bengal folklore. His Nokshi Kanthar Maath (Field of the Embroidered Quilt) is considered a masterpiece and has been translated into many different languages.
Jasimuddin also composed numerous songs in the tradition of rural Bengal. His collaboration[4] with Abbas Uddin, the most popular folk singer of Bengal, produced some of the gems of Bengali folk music, especially of Bhatiali genre. Jasimuddin also wrote some modern songs for the radio. He was influenced by his neighbor, poet Golam Mostofa, to write Islamic songs too. Later, during the liberation war of Bangladesh, he wrote some patriotic songs.
Jasimuddin died on 13 March 1976 and was buried near his ancestral home at Gobindapur, Faridpur. A fortnightly festival known as Jasim Mela is observed at Gobindapur each year in January commemorating the birthday of Jasimuddin. A residential hall of the University of Dhaka bears his name.
He was honored with President's Award for Pride of Performance, Pakistan (1958), DLitt. by Rabindra Bharati University, India (1969) Ekushey Padak, Bangladesh (1976), Independence Day Award (1978).
গল্পগুলোর অনেকগুলোই আমাদের চেনা। দাদী,নানী বা বাড়ির গল্প ফাঁদতে পারে এমন কোনো বুড়োর কাছে শোনা। কিছুটা ভিন্ন বা পরিবর্তিত, কিন্তু বেশ কয়েকটি গল্প পড়ে মনে হবে-- আঃ! এ তো আগেই পড়া, কিংবা দাদুর কাছে শোনা। কাবুলিওয়ালার শখ করে কাঁঠাল খাওয়ার সে গল্প কে না শুনেছে! কিংবা গ্রাম্য চাষীর প্রথম আয়নাদর্শনের গল্প |উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর 'টুনটুনির বই' এর অনেকগুলো গল্পই এই সংকলনে আছে, একটু পরিবর্তিত ভার্সনে।
গল্পগুলোর অনেকগুলোই স্রেফ হাসি-তামাশার, আবার অনেকগুলোই মানুষের জীবনযাত্রার,আচরণের খুঁতকে কেন্দ্র করে সূক্ষ্ম বা স্থূলভাবে ব্যঙ্গ করা।আমাদের আশেপাশেই আমাদের সব কথায় সায় দেয়া, আর বিপদে পড়লে ভোল পালটানো ভন্ডের দল আছে। এদের নিয়ে গল্প 'রহিমুদ্দীর ভাইর বেটা', আরও আছে মাজারপূজা নিয়ে 'শেয়ালসা পীরের দরগা'। পড়লে বোঝা যায় এখন পর্যন্ত আমাদের জাতির বড় একটা অংশ গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসালেও, সেকালে মানুষের বিচারবুদ্ধি একদম খেলো ছিলো না।
লোকগীতি সংগ্রহ করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া হয়েছে কবির, আড্ডা হয়েছে নানা রকমের মানুষের সাথে, ভারী হয়েছে গল্পের ঝুলি। 'বাঙ্গালীর হাসির গল্প' তারই ফসল। কবি দাবী করেছেন, এই গল্পগুলোরই কয়েকটা ইওরোপ,আমেরিকা নানা দেশ ঘুরে এসেছে। চেকশ্লোভাকিয়া, গুজরাট, রাশিয়ায় অন্যরকমে, অন্য আঙ্গিকে প্রচলিত আছে।
হাসির গল্প বড্ড সংক্রামক। একটা পড়লে মনের ভিতরের হাঁসির পোকাগুলো কিলবিল করে আরেকটা আরেকটা করে সব একবারে পড়ে ফেলতে বাধ্য করে!
প্রথম খণ্ডে ৪ তারা দিলেও এটাই ৫ তারা দিচ্ছি তার অন্যতম কারণ এটায় আমাদের ছোটবেলা রঙিন করা মনের কথা’র শিল্পী ভাই মোস্তফা মনোয়ারের আঁকা ছবিগুলো একেবারে জীবন্ত; ছবিগুলো দেখেই গল্পের দৃশ্যটা মনে পড়তেই হাসি আসবে! যদিও প্রচ্ছদটা পছন্দ হয়নি। শুধু ছবি নয়, গল্পগুলোও চমৎকার।
একটা মরে আসা দুপুর। ভরপেট খাওয়ার পর মায়ের বিখ্যাত পিটুনির ভয়ে লক্ষ্মী ছেলের মতো বালিশে মাথা রেখেছি। কিন্তু ঘুম তো কিছুতেই আসছেনা। মন তখন খেলার মাঠে,আম জামের ডালে,গোল্লাছুট কিংবা এটাসেটা খেলার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। শত হাতছানির ডাকে সাড়া দিতে না পারায়, ছোট্ট ছেলেটার গলা অভিমানে বুজে আসে। মা'টা কিচ্ছু বুঝেনা। দুপুর পেরুলেই ঘুম পাড়ানোর পায়তারা করে।
মা বোধহয় সেই অভিমান টের পান৷ বুকের কাছটায় আরেকটু চেপে ধরে বলেন,'কিচ্ছা' শুনবি? বা কখনো ছেলেই 'কিচ্ছা' শোনার বায়না করে। শুরু হয় গল্প। আলো আঁধারির ঘরে,মায়ের গন্ধ মাখতে মাখতে, মায়ের গলায় ভর করে ছেলেটা নানান দেশে ঘুরতে থাকে। ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়েই হয়তো ছেলেটার চোখে ঘুম নামে। তারপর সময়ের নিয়মে ছেলেটা বড় হয়। তখনও নিয়ম করে দুপুর নামে,কিন্তু মায়ের কাছ থেকে আর গল্প শোনা হয়না তার। ছেলেটা মায়ের ঘ্রাণ,মায়ের গল্প থেকে ক্রমশই দূরে সরতে থাকে।
তারপর তার হাতে আসে জসীম উদ্দীনের 'বাঙ্গালীর হাসির গল্প'। ছেলেটা অবাক হয়ে খেয়াল করে,এগুলো আসলে মায়ের বলা সেসব গল্পের সংকলন। জসীম উদ্দীনের অক্ষরে,শব্দে বহুদিন পর ছেলেটা আবার মায়ের ঘ্রাণ পেতে থাকে। সেইসব গল্প,কমলা রঙের রোদের সেইসব দুপুর,মায়ের স্পর্শ, মায়ের ঘ্রাণ আর মায়ের গল্পে ছেলেটা ডুবতে থাকে।
২৪ টা গল্প। তার মধ্যে কিছু গল্প আগে শোনা। তাও সব গুলো পড়েছি। ভালো লেগেছে পড়ে। কয়েকটা পড়ে খুব হেসেছিও। সব মিলিয়ে বলতে গেলে ভালো। প্রথম খন্ডটা পড়ব সংগ্রহ করে।
ছেলেপিলেদের ঘুম পাড়ানোর দরকার হয় না কোন দেশে! সব অঞ্চলের মা-বাপদেরই একটা না একটা সময় ছোট বাচ্চাদের ঘুম পাড়াতে গলদঘর্ম হতে হয়। কত কত গল্প শুনাতে হয়, ছড়া কাটতে হয়। গল্পের ভান্ডারে টান পড়লে নতুন গল্প বানাতে হয়।
এ তো গেলো ছেলেদের কথা। গুমোট কোনো দুপুরে গেরস্থালী কাজের ফাঁকে আড্ডায় টুকিটাকি চুটকি, রম্যগল্প ভাঁজতে বুড়োরাও পিছিয়ে থাকে না। কিংবা মফস্বল-শহুরে লোডশেডিংয়ের রাতগুলোয় হাতপাখার ঘূর্ণনের সাথে সাথে দাদী-নানীদের বলে যাওয়া অতিপ্রাকৃত গল্পের আবেদন ছেলে-বুড়োর কাছে সমানই বোধকরি।
সোজা দৃষ্টিতে রসহীন, মামুলি কত গল্প গল্পকথকের উপস্থাপনা, অভিনয়ে সরস আর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এইসব গল্পই হলো রূপকথা, লোককথা, উপকথা আর চুটকি। লোকে মুখে ফিরতে ফিরতে রূপ বদলায়, ডালপালা গজায়, পুনর্জন্ম নেয় ভিন্ন আঙ্গিকে। হয়তো ভিন্ন কোনো ভাষায়।
আমরা বাঙ্গালীরা বরাবরই রসিক। কোনোকিছু নিয়ে ব্যঙ্গ, হাস্যতামাশা করতে আমাদের জুড়ি মেলা ভার। দিনে দিনে এ স্বভাবটি আরো প্রকট হচ্ছে।
বাঙলার লোকে মুখে প্রচলিত কিছু রম্যগল্প নিয়ে পল্লীকবি জসীম উদদীন দুই খন্ডে বের করেছিলেন 'বাঙ্গালীর হাসির গল্প'। প্রথম খন্ডে ২৭ এবং দ্বিতীয় খন্ডে ২৪, মোট ৫১টি রম্যগল্প নিয়ে এই সংকলন। প্রথম খন্ডটি বের হয়েছিলো ১৯৬০ সালে, দ্বিতীয়টি '৬৪ সালে।
এ গল্পগুলোর অনেকগুলোই আমাদের চেনা। দাদী,নানী বা বাড়ির গল্প ফাঁদতে পারে এমন কোনো বুড়োর কাছে শোনা। কিছুটা ভিন্ন বা পরিবর্তিত, কিন্তু বেশ কয়েকটি গল্প পড়ে মনে হবে-- আঃ! এ তো আগেই পড়া, কিংবা দাদুর কাছে শোনা। কাবুলিওয়ালার শখ করে কাঁঠাল খাওয়ার সে গল্প কে না শুনেছে! কিংবা গ্রাম্য চাষীর প্রথম আয়নাদর্শনের গল্প।
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর 'টুনটুনির বই' এর অনেকগুলো গল্পই এই সংকলনে আছে, একটু পরিবর্তিত ভার্সনে।
গল্পগুলোর অনেকগুলোই স্রেফ হাসি-তামাশার, আবার অনেকগুলোই মানুষের জীবনযাত্রার,আচরণের খুঁতকে কেন্দ্র করে সূক্ষ্ম বা স্থূলভাবে ব্যঙ্গ করা।
আমাদের আশেপাশেই আমাদের সব কথায় সায় দেয়া, আর বিপদে পড়লে ভোল পালটানো ভন্ডের দল আছে। এদের নিয়ে গল্প 'রহিমুদ্দীর ভাইর বেটা', আরও আছে মাজারপূজা নিয়ে 'শেয়ালসা পীরের দরগা'। পড়লে বোঝা যায় এখন পর্যন্ত আমাদের জাতির বড় একটা অংশ গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসালেও, সেকালে মানুষের বিচারবুদ্ধি একদম খেলো ছিলো না।
লোকগীতি সংগ্রহ করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া হয়েছে কবির, আড্ডা হয়েছে নানা রকমের মানুষের সাথে, ভারী হয়েছে গল্পের ঝুলি। 'বাঙ্গালীর হাসির গল্প' তারই ফসল। কবি দাবী করেছেন, এই গল্পগুলোরই কয়েকটা ইওরোপ,আমেরিকা নানা দেশ ঘুরে এসেছে। চেকশ্লোভাকিয়া, গুজরাট, রাশিয়ায় অন্যরকমে, অন্য আঙ্গিকে প্রচলিত আছে।
ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজ্যশাসন বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এদেশে আসা ভিনদেশীরা নিজেদের কিছু যেমন আমদানী করেছে, এখানকার কিছু নিয়েও গেছে। ঠিক কোনগুলো আমদানী, আর কোনগুলো রপ্তানির ফসল সেগুলো নির্ণয়ের দায়িত্ব বিশেষজ্ঞদের কাঁধে ছেড়ে দিলে আমাদের হাতে থাকে শুধুই দুই খন্ড 'বাঙ্গালীর হাসির গল্প'। শয়ে শয়ে বছর ধরে মুখে মুখে, ঘরে ঘরে, ফসল তুলবার না তুলবার মওসুমে, ক্লান্তির শান্তির সময়ে মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে যাওয়া এ গল্পগুলো আপনার মুখেও হাসি ফোটাতে ব্যর্থ হবে না। কিছু গল্প নেহাতই খেলো মনে হলেও অনেক গল্পকথকই অভিনয় আর উপস্থাপনার জোরে সেগুলোকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন নানা সময়ে।
আমাদের চিরচেনা গ্রাম বাংলায় যুগ যুগ ধরে প্রচলিত রম্য গল্পগুলোকে দুই খন্ডে মলাটবদ্ধ করেছেন পল্লীকবি জসীম উদ্দীন। ছোটবেলা থেকে এই গল্পগুলো আপনি হয়তো অনেক জায়গায় শুনে থাকবেন বা কোথাও পড়েও থাকবেন। কিন্তু এখন আবার বইয়ের পাতায় নতুন করে পড়তে একটুও খারাপ লাগবে না। ভীষন মজার ছোট ছোট গল্প সব।
হাসির গল্প হলেও প্রতিটি গল্পেই শিক্ষণীয় কিছু না কিছু মিশে আছে হাস্যরসের সাথে। আমার কাছে প্রথম খন্ডের থেকে দ্বিতীয় খন্ডের গল্প গুলো বেশি মজার লেগেছে। হা হা হো হো করে অট্টহাসি হাসার মত না হলেও রম্য গল্পের সংকলন হিসেবে সার্থক এই বইটা। কাজের ফাঁকে রিফ্রেশমেন্ট হিসেবে চট করে কয়টা গল্প পড়ে নেয়ায় যায়। আর বাচ্চাদের গল্প শুনানোর জন্য তো দারুন একটা বই।
ছোট বেলায় বইয়ে উল্লিখিত গল্পগুলো আমাদের কল্পনার জগৎকে রাঙিয়ে রাখতো। এখন এই গল্পগুলো নিতান্ত তুচ্ছ মনে হলেও এক সময় এগুলোই মাস্টারপিস লাগতো। আহা সেই সময়গুলো!!!!
বইয়ের নামঃ বাঙালির হাসির গল্পঃ দ্বিতীয় খণ্ড লেখকঃ পল্লীকবি জসীম উদদীন ধরণঃ হাস্যরসাত্মক লোককাহিনী, রম্য সাহিত্য প্রথম প্রকাশঃ ১৯৬৪ প্রকাশনীঃ পলাশ প্রকাশনী মোট পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১২১
ছেলেবেলায় দাদী-নানির কোলে শুয়ে যেরকম গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যেতাম, ঠিক তেমনই কিছু নির্মল হাস্যরসে টইটম্বুর এই বইটি। প্রথম খণ্ড পড়ে ফেলেছিলাম সেই ছোট্টবেলাতেই, আর আজ দ্বিতীয় খন্ডটি পেয়ে লোভ সামলাতে পারলাম না।
প্রথমেই বলে রাখি, কবি জসীম উদদীনের একমাত্র পরিচয় কিন্তু একজন পল্লীকবি হিসেবেই নয়। তিনি একাধারে একজন পল্লীগীতিকার, লোককথা সংগ্রাহকও বটে। পল্লীগাঁয়ের প্রতিটি মানুষ, তাদের জীবনধারা ও আচার আচরণের সাথে বাংলার অপরূপ রূপবৈচিত্র্য ও আঁকাবাঁকা ধূলোমাখা মেঠো পথকে তিনি আপন করে নিয়েছেন নিবিড়চিত্তে। আবহমান গ্রামবাংলার প্রতিটি মানুষের ব্যস্ত কর্মজীবনে সংগ্রাম ছাড়াও যে উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা, নির্মল রসবোধ এবং বাকচাতুর্যতা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলো, এই বইয়ের ২৪ টি গল্পের মাঝে লেখক ভোলেননি সেগুলো ফুটিয়ে তুলতে।
বইটির গল্পগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আট কলা, বোকা সাথী, হেনতেন, নবাব সাহেবের দুর্গাপূজা দর্শন, একটা কথায় এত, চৈত্র মাসের মশ্লা পৌষ মাসে, পুতা লইয়া যাও, ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখনি ইত্যাদি। প্রতিটি গল্প তিনি সংগ্রহ করেছেন পল্লীগাঁয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে। কখনোবা নিজ জন্মস্থান ফরিদপুর, কখনো যশোর, আবার কখনোবা অসহযোগ আন্দোলনের সময়টিতে কলকাতা গিয়েও শুনে এসেছেন এসব গল্প! স্বাভাবিকভাবেই, লোককাহিনীর ধর্ম অনুসারে এসব গল্প বিভিন্ন ডালপালা মেলেছে, মানুষের মুখে মুখে ঘুরতে ঘুরতে নানান মোড়, বাঁক নিয়েছে, পেয়েছে বিভিন্ন রূপ ও মাত্রা।
কিছু গল্পের সাথে পাঠকরা হয়ত রুশ, চীনা, মধ্যপ্রাচ্য, গ্রীকসহ প্রভৃতি দেশ ও জাতির উপকথার কিছু সাদৃশ্য খুঁজে পাবেন; যেমন টিপটিপানি, কোনদেশে বোকা নাই, জোলার বুদ্ধি ইত্যাদি। সেগুলো সম্পর্কে লেখক তাঁর “বাঙালির হাসির রূপকথাঃ প্রথম খণ্ড” বইটিতে উল্লেখ করেছেন যে, বড় বড় পণ্ডিতদের মতবাদ অনুযায়ী আগে আমাদের প্রাচীন বঙ্গ-ভারত থেকে লোককথাগুলো বিভিন্ন উৎসের সাহায্যে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে, এবং পাশাপাশি আমরা গ্রহণ করি ঈশপের শিক্ষণীয় গল্পগুলো। আর তাছাড়া বইটির “শেয়ালের পাঠশালা” ও “পান্তাবুড়ি” গল্পগুলো সম্পর্কে জানেননা বা শোনেননি এমন মানুষও বোধহয় কম পাওয়া যাবে।
পল্লীকবি জসীমউদদীন যে শুধু গল্পগুলো সংগ্রহ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন তা নয়; বরং তিনি প্রতিটি গল্পের প্রতিটি বাক্যে বাক্যে আমাদেরকে তৎকালীন বাংলার মানুষের চরিত্রের সরলতা, নির্মলতা এবং জীবনসংগ্রামে তাদের অপরিহার্য ভূমিকাও উপস্থাপন করেছেন। লেখক একইসাথে গল্পকথকদের বাচনভঙ্গি, তাদের গল্প বলার ধরণ এবং অভিব্যক্তিও পর্যবেক্ষণ করেছেন; এবং গল্পের প্রতিটি চরিত্রের মাঝে সেই অভিব্যক্তির অনুপ্রবেশ ছিলো বেশ সফল।
পরিশেষে এটুকু বলব যে, সকল শ্রেণীর সকল বয়সের মানুষের জন্য এই সরেস, মেদহীন হাস্যরসসমৃদ্ধ বইটি লেখার পেছনে লেখকের উদ্দেশ্য এটিই যে, সকলে যেন আবহমান গ্রামবাংলার সেই সারল্যের খানিক পরিচয় পায়, পরিচয় পায় গ্রামীণ মানুষের চারিত্রিক নির্মলতার। বইটি হাতে নিলে সময়টি যে ভালো কাটতে বাধ্য, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।
ছোটবেলায় বাবা-মায়ের কাছ থেকে শোনা গল্পগুলো আবারো স্মৃতি রোমন্থন এর মতো আবারো উঠে এলো বইয়ের পৃষ্ঠায়। বইটি পড়তে পড়তে পুরো এক ঘন্টা যেন ঘোরের মধ্যে ছিলাম। ছোটবেলার সেই পান্তা বুড়ি, শেয়াল পণ্ডিত, কুঁজো’র গল্প, বাঘের গল্প সব স্মৃতি ভাসছিলো চোখের পর্দায়। সাধু ভাষায় লিখিত বইটি তেমন বড় না হলেও, মানুষকে নস্টালজিক করে দিতে এর জুড়ি নেই!
যেনো আশ্চর্য কোনো জগৎ থেকে ঘুরে এলাম। অতি সাধারণ কথামালা,প্রচলিত বয়ান, মুখে মুখে রটে যে কথা- উপকথা—তারই মধ্য দিয়ে যেনো বিচিত্র সব সময় এবং বিচিত্র সব সমাজ সমষ্টির সহিত দেখা হইয়া গে���ো।
আমার বড়ো সৌভাগ্য,রহিম শেখ, জোলা,ঘুঘু এবং সর্বোপরি ফাঁদের সাথেও দেখা হয়ে গেলো। ঘুঘু তো দেখেছি বহুদিন আগেই,অবশ্য অল্প সময়ের জন্য। ফাঁদ প দেখা হয়ে গেলো।
প্রথম খন্ডের মত দ্বিতীয় খন্ড পড়েও হাস্যরস উপভোগ করেছি। নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ভালো একটি বই। কিছু বই আছে যেগুলো একশ বছর পরেও মানুষ পড়বে। এটা তেমনি একটা বই।
I prefer this one over the earlier part, because I think the stories are more suited for adults and has a bit more depth in them. I wish more editions would've came out.