After Kadambari Devi,it is Mrinalini's turn.Ranjan Bandopadhyay has come out with yet another explosive masterpiece,this time being the mouthpiece through which Rabindranath Tagore's wife Mrinalini Devi's heart pours out. It is a must-have for all.
নাহ,বইটা পড়তে চাই না আসলে। রিভিউ টোকার (পড়ুন ঝাল ঝাড়ার) খাতিরে Wanna to Read ট্যাগালাম বাধ্য হয়ে।
রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখালেখির ব্যাপারে আমার ধারণা এমনিতেই অতিইই উচুঁ (!)। একবার কাদম্বিনী দেবী মানে বউদিকে নিয়ে রঙ্গরসময় চটি কিসিমের কেচ্ছা ফেঁদে তাঁর সাধ মেটেনি, এবার বউ নিয়ে পড়েছেন। রিসেন্টলি ফেসবুকে চোখে পড়েছিলো নূতন বউঠান নিয়ে লেখা ঐ চটি পড়ে জনৈক 'ঈয়াং' ছেলিবিটি আবেগ সামলাতে রুমালের বদলে বিচ টাওয়াল খুঁজছেন। ইমোশন কি আঁসূ, উফফ! ^_^
রবি ঠাকুরের বউ, বউদি, বান্ধবীদের নিয়ে কল্পকাহিনী রচনা ছাড়া স্যার রঞ্জন মৌলিক কিছু লেখার মতো রসদ খুঁজে পান না। হা হতোস্মি, লোকে তা কেনেও। খাইশটামি এট ইটস বেস্ট!
এই বই সম্পর্কে আসলে কিভাবে কি বলবো বুঝতে পারছিনা। বিতর্কিত বিষয় নিয়ে লেখা বই (!) নাকি বিতর্কিত বই (!) । যাই হোক! টাইম পাসের জন্য ভাল। কট্টর রবীন্দ্রপ্রেমী এবং কট্টর রবীন্দ্রবিদ্বেষী রা পড়ে দেখতে পারেন।
> বিখ্যাতজনরা নিজগৃহে কি চিরকালই উদাসীন থেকে যান? ঘরের চেয়ে বাইরে টান বেশী বোধ করেন। মৃণালিনীরা তাঁদের সহধর্মী হন ঠিকই কিন্তু সহমর্মী আর হয়ে উঠতে পারেননা। সে দোষ সেই সমাজের, সেই প্রথার, সেই সময়ের ,এবং অবশ্যই সেই মানুষগুলোর যারা সুযোগ থাকতেও তথাকথিত সংস্কারমুক্ত হতে পারেননি । অতবিখ্যাত হয়েও ঠাকুরবাড়ির ঠাকুররা মৃণালিনীদের অন্তপুরে আবদ্ধ করে রেখেছেন, একটু ছায়া দিতে পারেননি।
বইটা মৃণালিনীর জন্য পড়ুন। ভাল লাগবে। কিংবা ধরুন অল্প ভাল লাগল তখন কী করবেন...?
মৃণালিনী কে নিয়ে বাংলাদেশর প্রথমা থেকে "আমি মৃণালিনী নই" হরিশঙ্কর জলদাসের আরেকটি চমৎকার বই পড়ে দেখতে বলবো।
আমার পড়া এই লেখকের প্রথম বই কাদম্বরীর সুইসাইড নোট। তখন কাদম্বরীর জন্য এতো খারাপ লেগেছিলো যে লেখক এবং লেখার সব দোষ ত্রুটি তেমন নজরে পড়েনি। তবে এবার সেটা হয়নি। একই প্যানপ্যানে গল্প, রবীন্দ্রনাথ কাদম্বরীর প্রেম, আবার কোথা থেকে বলু মৃণালিনীর প্রেম শুরু হলো। মানে কি? উনি কি রবীন্দ্রনাথের কোনো জন্মে শত্রু ছিলেন? নাহলে এতো ফালতু, রগরগে, নিম্নমানের লেখা সম্ভব না। শুধু শুধু ইতিহাস বিকৃত করে উনার কি ফায়দা উনিই ভালো বুঝবেন।
শুধুমাত্র মৃণালিনীর জন্য ২ তারা দিলাম। আর লেখককে পারলে মাইনাস রেটিং দিতাম।
এই বইটি একটি বহুল চর্চিত বই। কিছু মানুষ বইটিকে ভালোবেসেছেন, কিছু মানুষ ভালোবাসেননি। তবে ব্যক্তিগত ভাবে যদি শুধু আমার কথা বলি তবে এটিকে আমি শুধুমাত্র একটি গল্পের বই হিসেবেই পড়েছি। এর সাথে বাস্তবের কোনো মিল আছে কি নেই আমি জানি না। এবার বইয়ের সারাংশে আসি।
মৃণালিনী দেবী কি সত্যিই তাঁর আত্মকথা লিখেছিলেন?
বইটি মৃণালিনী দেবীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই লেখা হয়েছে। বর্ণনা করা হয়েছে তাঁর আঠাশ বছরের জীবন।
কেমন ছিল তাঁর ছেলেবেলা?
কেমন ছিল তাঁর রবি ঠাকুরের সাথে সংসার জীবন?
আঠাশ বছরের জীবনে কি ছিল তাঁর পরিচয়?
বইটিতে বর্ণিত হয়েছে কতখানি অবহেলিত ছিলেন তিনি। মূলত রবি ঠাকুরের বিরোধিতা করেই লেখা হয়েছে এই বই। কিন্তু ওই যে বললাম মৃণালিনী দেবীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা। তাই রবি ঠাকুরকে কবিগুরু হিসেবে নয়, সাধারণ মানুষ হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে। বর্ণনা করা হয়েছে স্বামীর কাছে তিনি ছিলেন কতটা ঠুনকো। এক সাধারণ বাড়ির মেয়ের হয়ে ওঠা ঠাকুরবাড়ির বউ। একটি অতি সাধারণ মেয়ে যার না ছিল রূপ আর না ছিল রবি ঠাকুরের বউ হওয়ার কোনো যোগ্যতা। সত্যিই তো, কোন মেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে না বলুন তো?
বইটি সম্পূর্ণ শেষ করার পর যন্ত্রণা ছাড়া আমার আর কোনো অনুভূতিই হয়নি। ঘটনা সত্যি মিথ্যে যায় হোক না কেন একটি মেয়ে হিসেবে বইটি পড়ে মন ভারাক্রান্তই হয়েছে।
চাইলে সকলেই পড়তে পারেন। তবে এটাই বলবো ব্যক্তিগত ভালোলাগা মন্দলাগা পাশে সরিয়ে রেখে শুধুমাত্র একটি গল্পের বই হিসেবেই বইটি পড়ুন। তাহলে হয়তো বইটি অন্য দৃষ্টিভঙ্গিতে আপনার কাছে ধরা দেবে।
রবীন্দ্রনাথের প্রতি লেখকের আলাদা ধরনের বিদ্বেষ খুবই স্পষ্ট! প্রতিটি মানুষ প্রতিটি ভূমিকায় নিখুঁত হবেন এমন আশা করাটা কতটুকু ঠিক, বলা খুবই কঠিন! যদি রবীন্দ্রনাথ খুবই সংসারী দায়িত্বশীল স্বামী হতেন তবে হয়তো এতকিছু লিখতে পারতেন না, আর একদিক থেকে দেখতে গেলে কবির এই ত্রুটিই সুযোগ করে দিলে একধরনের লেখকদের লেখার সুযোগ করে দেয়ার।
নিরপেক্ষ ভাবে লেখা হয়নি মনে হয়। উনার যতগুলো পড়েছি সবগুলোতেই একটু বেশি রং চং লাগানো মনে হয়েছে। আরও পড়াশোনা করলে হয়তো আমি বিষয়টা ধরতে পারবো আসলে কতটা ইতিহাস রঞ্জনবাবু লিখেছেন।
বইটির গাদা গাদা নেতিবাচক রিভিউ পড়ে পড়ে দেখবার সাধ হয়েছিল, একটা বই সম্পর্কে লোকের এত ক্ষোভ কেন? পড়ে দেখলাম এবং বুঝলাম বিষয়টা রবীন্দ্রনাথ বলেই মানুষের এত জ্বালা-যন্ত্রনা। বইটিকে অনেকেই অশ্লীল, চটি ইত্যাদি বলে বিবৃত করেছেন – কিন্তু বইটিতে আমাই অশ্লীলতা আদৌ কোথাও খুজে পেলাম না; এর থেকে ঢের ঢের নিম্ন রুচির বই বাজারে হট কেকের মতো বিকোয়। আর এটা পড়লেই বোঝা যায় এটা একটা ফিকশন, এর বাস্তব ভিত্তি নেই কোনও, লেখক তা দাবীও করেন নি কোথাও, কেঊ যদি তেমন ভেবে খেপে ওঠেন তাহলে তা কেবল সেই পাঠকের নিজের বালখিল্যতা বলা যায়... তবে লেখকের লেখা সুখপাঠ্য না বা সাহিত্য কীর্তিও বলা যায় না, তবে লেখা খারাপ বলে তাকে যা তা, অশ্লীল অথবা লেখক নোংরা এসব বলার কোনও অর্থ আমি খুজে পাই না। আর রবীন্দ্রনাথ শ্রদ্ধেও ঠিক আছে তাই বলে তাকে নিয়ে কোনও ফিকশন লেখা যাবে না বা পাঠকের পছন্দ না হলেই লেখকের বাপান্ত করবেন তার ক���নো অর্থও আমি খুজে পাই না...
প্রথমত এটাই বলবো লেখক ঠাকুর বাড়ির ব্যাপারে একটু বেশি জানতেন বা ওনার জানার আগ্রহটা হয়তো একটু বেশি ছিল। লাস্ট ওনার বই পড়েছি কাদম্বরী দেবীর সুইসাইড নোট ওই বইটি পড়েও একদম ভালো লাগেনি, এবং এই বইটির ক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম নয়। দুটি বইয়ের মধ্যে তফাৎ আমি সেই রকম পায়নি। . এই বইটিতে মৃণালিনী দেবী তার দুঃখের কথাই প্রকাশ করেছেন, যেই ভাবে কাদম্বরী দেবীর সুইসাইড নোট এ কাদম্বরী দেবী। দুজনেরই বক্তব্য সেই অনেকটা একই যে " রবি ঠাকুর কোনো তাদের হলেন না " কাদম্বরী দেবী একদিকে বলেছেন রবি ঠাকুর বিয়ের পর পাল্টে গেছেন, মৃণালিনী দেবী এক দিকে বলেছেন সে তার নতুন বউঠান কেই ভালোবাসতেন। আসলেই প্রশ্ন রবি ঠাকুর কার ? মানে আমরা যদি রবি ঠাকুরকে কবি হিসাবে চিনি আর সেই হিসাবে এই বই গুলো পড়ে যদি ভাবি তাহলে কোনোই মিল পাবো না, সাধারণ মানুষ হিসেবেই রবি ঠাকুর কে দেখা আমার মতে ভালো। ব্যাক্তিগত মতামত, আপনাদের মতামত জানতে আগ্রহী। . . . রেটিং :- 🔖🔖
মাত্র আঠাশ বছরের জীবনকালের উনিশ বছরের বিবাহিত জীবন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর। লেখক ও সাংবাদিক রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে উঠে এসেছে তাঁর গবেষণা লব্ধ বিশ্লেষণ, মৃণালিনী দেবীর মর্মস্পর্শী দাম্পত্য জীবন।
"আমি রবি ঠাকুরের বউ না হলে এই মানুষটিকে আমি চিনতেই পারতাম না।"
"নলিনী-ই কি মৃণালিনী নয়? আমার নাম শুনলেই যাতে তোমার জীবনের প্রথম প্রেমিকার কথা তোমার মনে আসে, তাই আমার নাম হলো 'মৃণালিনী'। আমি অন্য এক মেয়ের ছায়া হয়ে এলুম তোমার জীবনে।"
"কেন রবি ঠাকুর, কেন তুমি বিয়ে করলে আমাকে?"
"যে স্ত্রীর অন্তরের মধ্যে অন্য পুরুষের ভাবনা, তাকে বুকের কাছে ধরে রাখার যন্ত্রণা কতদিন সহ্য করতে পারব? যে আশ্রয় চূর্ণ হয়ে গেছে তার ভাঙা ইঁট কাঠগুলো আমাকেই বাকি জীবন কাঁধে করে বয়ে বেড়াতে হবে?"
আমি রবিঠাকুরের বউ রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় পত্রভারতী মম: ১৫০/-
এই আত্মকথা লেখকের কল্পনাপ্রসূত। সেই সময় রবীন্দ্রনাথ এবং ঠাকুরবাড়ির ব্যক্তি এবং ব্যক্তিগত কতকগুলো ঘটনা, জীবন এর দাড়িয়ে রয়েছে মৃণালিনী দেবীর এই আত্মকথা যা লেখকের দ্বারাই প্ররচিত।
এখানে যে ঘটনা গুলো ব্যক্ত হয়েছে। সেই ঘটনাগুলোর কথা আরো অনেক বইতে পাই। মৃণালিনী দেবীর দিক থেকে সেগুলোর বাছ বিচার করা হয়েছে। তার দিক থেকে ঘটনা গুলো মর্মস্পর্শী। বইটা পড়লে তার জন্য দুঃখ হয়।
তবে এই বইতে কাদম্বরী দেবীর আত্মহননের পরের যে ঘটনাগুলো দেখলাম, সেগুলো আরেকটা বইয়ের সাথে মিল খেলো না।
আমার কাছে, এই ফিকশন বইটির একমাত্র আকর্ষন, মৃণালিনী দেবীর সহধর্মিণী হয়েও সহমর্মিনি না হতে পারার ঘটনা আজও সমাজে খুব বেশি ভাবে বর্তমান।
অনেক কিছুই বানোয়াট লেগেছে। হাসবেন্ড যতই ভালো হোক নিজের বউয়ের কাছে নিজের পাস্ট এভাবে বসে বসে এক্সপোস করে না! আর ভবতারিণী যাকে ঠাকুরবাড়ির লোকেরা মৃণালিনী নাম দিয়েছিল, সেও কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ভাইয়ের ছেলের সাথে আটকে যাচ্ছিল! ভাগ্গিস বলেন্দ্রনাথ বাবা কাকিমার প্রেমে ডুবার আগেই রোগে ডুবে মারা গিয়েছিলো। অনেক সত্যমিথ্যা- সাদাকালো মেশানো একটা লিখা। কাদম্বরির সুইসাইড নোট, ঠাকুর বাড়ি নিয়ে অনেক লিখা পড়ে ফেলায় অনেক জায়গায়ই রঞ্জন দাদা ফাঁকি দিতে পারেন নি। ধরা পড়ে গেলে কিছু জিনিস পানসে হয়ে যায়; লিখাটা এখন এমন ঠেকছে।
আমি জানি না বইয়ের কতটুকু সত্য আর কতটুকু লেখকের কল্পনা। শুধু জানি, এখনো সমাজে ঘরে ঘরে বাস করে মৃনালীনিরা। প্রেমিকা হবার স্বপ্ন দেখা শত সহধর্মিণীর বিষাদ জীবন।
বইটা পড়তে পড়তে নিজেকে মৃনালীনি দেবীর স্থানে কল্পনা করতে লাগলাম আর মনে মনে বার বার বললাম,
সৃষ্টিকর্তা, আমাকে পাঠিয়ো সেখানে যেখানে ভালোবাসা সবটাই হবে আমার। গল্প হোক আর সত্যি, এই কষ্ট নেবার ভাগ্য আর কারও না হোক।