মধ্যযুগের ভারতীয় শহর সম্পর্কে গবেষণা যেটুকু হয়েছে তা বিক্ষিপ্তভাবে। বাংলা ভাষায় এর সংখ্যা আরও কম। ঐতিহাসিক শহরগুলির আলোচনার ক্ষেত্রে এই গ্রন্থটি, বলা যেতে পারে, পথিকৃতের ভূমিকা নেবে। কেননা বাংলায় এই জাতীয় গ্রন্থ এই প্রথম। লেখক দিল্লি, বিজয়নগর, মাণ্ডু, বিদর, গোয়া, গৌড়, সপ্তগ্রাম, সোনার গাঁ, লাহোর, আগ্রা, ফতেপুর সিক্রি, সুরাট, কালিকট, কোচিন, মুর্শিদাবাদ, চট্টগ্রাম, ঢাকা প্রভৃতি শহরের ইতিহাস অনুসন্ধান করেছেন সাম্প্রতিককালের ভৌগোলিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার আলোকে। এই শহরগুলির পরিকাঠামো, ঘর-বাড়ি তৈরির বৈশিষ্ট্য, জলের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা, অভিজাতদের হাভেলি ও রাজপরিবারের বিলাসবহুল প্রাসাদের বর্ণনার পাশাপাশি এদের উত্থান এবং অবক্ষয়ের দিকগুলিও আলোচিত হয়েছে এই গ্রন্থে। সুলতানি ও মুঘল সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের সঙ্গে বিভিন্ন শহরের ইতিহাসও যে জড়িত, তা সমকালীন দলিল-দস্তাবেজ, চিঠিপত্র, বিদেশি পর্যটকদের বিভিন্ন লেখা ও ভারতীয় ভাষার বিভিন্ন রচনাসূত্র অবলম্বন করে লেখক দেখানোর চেষ্টা করেছেন। ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ভারতীয় নগর সভ্যতার ইতিহাস এই গ্রন্থের সম্পদ।
অনিরুদ্ধ রায়-এর জন্ম ১৯৩৬। কলকাতায়। লেখা-পড়া ও পারিবারিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে বড় হয়েছেন। লেখকের পিতামহী ও পিসিমা দুই প্রখ্যাত লেখিকা-গিরিবালা দেবী এবং বাণী রায়। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইতিহাসে বি. এ. (১৯৫৬)। এম. এ. (১৯৫৮) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৬৭ সালে প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয় (সোরবোন) থেকে ডি. লিট.। বিষয় মুঘল সাম্রাজ্যে বিদ্রোহ ও দাঙ্গা। প্রথমে চারুচন্দ্র কলেজ ও পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ইংরেজি, ফরাসি ও বাংলায় লেখকের রচিত প্রবন্ধের সংখ্যা শতাধিক। ইংরেজি ও বাংলায় প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি। লেখক বর্তমানে ‘ভারতে ফরাসি’ বিষয়ে গবেষণায় ব্যাপৃত।
The book takes a look at the history of a number of Indian cities in the Middle Ages. and traces their raise and fall along with the fortunes of the kings that ruled over them, as well as the trade and commerce they participated in.