What do you think?
Rate this book


392 pages, Hardcover
Published January 1, 2010
“সান্দারদের উৎপত্তির ইতিহাসটা কনকের কল্পনাজাত। সেখানে সে লিখে রেখেছে নিজের মন্তব্য। এরা নাকি কোনোকালে বাঙালির নৌ-সৈন্য ছিলো। বাঙালির যেদিন নৌ-সৈন্য রাখার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল এদের একদল হয়েছিল জলের ডাকাত আর একদল হলো যাযাবর। কিংবা যখন বাঙালির শানিত ইস্পাতের প্রয়োজন ছিলো তখন এরাই শানদার ছিলো।
আর যাই হোক, এরা যে যাযাবর সে বিষয়ে কনক নিঃসন্দেহ হয়েছে।”
“সেই বিশ্বব্যাপী অনাহারের দিনের আগেও সুরোর মতো যারা তাদের অনাহারের দিন ধানের ঋতুগুলির মধ্যেও ইতস্তত ছড়ান থাকতো। পৃথিবীতে সে একা। তার বাবা বেলাতআলির মৃত্যুর পর সে কি করে খুঁট খেয়ে কি করে বারো থেকে আঠারোতে সম্পূর্ণ একা একা পৌঁছেছিল, ভাববার বিষয়।”
“পৃথিবীতে থাকার মধ্যে মাধাইয়ের এক বুড়ি মা ছিল। যতদিন মাধাই গ্রামে ছিলো মায়ের সঙ্গে তার সদ্ভাব ছিল না। বুড়ি যদি ক্ষুধার মুখে ভাতের থালা এগিয়ে দিতে না পারত মাধাই তাকে মারতো ধরে ধরে। আলসের বেহদ্দ ছিল সে। কিন্তু গ্রামে অনাহার এসেছে এই খবর পেয়ে সে গিয়েছিল রেল-কোম্পানির-দেওয়া চালডাল নিয়ে মায়ের জন্য। সংবাদটা কেও তাকে দেয়নি। মায়ের পরিত্যক্ত ভাঙাচোরা থালাবাসন, ছেঁড়াখোঁড়া কাপড়চোপড় ঘটনা রাষ্ট্র করে দিয়েছিলো। ধূলায় আচ্ছন্ন ক্লান্তমুখ চোখের জলে আবিল করে সে ফিরে আসছিলো। পথের ধারে পড়েছিলো সুরো। মায়ের বুভুক্ষু আত্মার তৃপ্তি হয়েছিলো কিনা কে জানে, মাধাইয়ের শুন্যিভূত আত্মা একটা অবলম্বন পেয়েছিলো।”.
“সে সময় কনকদারোগা একটা ভুল করে ফেলেছিলো, সে সত্যি তদন্তে বার হয়েছিলো। বুধেডাঙ্গা অবধি ঘোড়া ছুটিয়ে যদি থামতো, তাহলেও হতো। বুধেডাঙ্গা ছারিয়ে চিকন্দির সীমায় পৌঁছে সে ব্যাপারটার মুখোমুখি হয়েছিলো।
-ও বাবা, বাবা, সোনা আমার-
ঘোড়া থামিয়েছিল কনক, তার কানে গেলো—ঐ সোনার মুখে ভাত দিতে পারলাম না রে, বাবা।
থিয়েটার দেখা সংহত শোক নয়, সিনেমায় শোনা মার্জিত বেদনার হেঁচকি নয়, অসংস্কৃত বেদনার বিকৃত উচ্চারন।
কনকদারোগার বুকের গোড়াটা উল্টে উল্টে যেতে লাগল, অশ্রুগ্রন্থিগুলো ফুলে ফুলে উঠতে লাগলো। চোখের জল পুরোপুরি চাপতে পারলো না সে। ঘোড়ার মুখ ফিরিয়ে কনক পালিয়ে এসেছিলো।”
“আমার লেখার সঙ্গে যারা পরিচিত, তারা লক্ষ্য করে থাকবে, আমি রাজা, রানী, জমিদার, জোতদার, মধ্যবিত্ত, প্রলেটারিয়েট, লুম্পেন প্রলেটারিয়েট, কারো কথাই অবহেলা করিনি, গোটা সমাজের সকলের কথাই বলেছি, সমান সহানুভূতি দিয়ে সকলের সমস্যা বলতে চেষ্টা করেছি। এমনকি তাদের কথাও বলতে চেষ্টা করেছি যারা ভাষার অভাবে নিজেদের অনুভূতিগুলিকেও প্রকাশ করতে পারে না।”
“এমনি সময়ে রামচন্দ্রের কাছে একখানা চিঠি এলো। তাকে কেও চিঠি লিখবে এটা বিশ্বাস করাই কঠিন। অবশেষে ডাকপিয়ন যখন বলল খামে নবদ্বীপের ছাপ আছে তখন মনে হল তার এ নিশ্চয়ই কেষ্টদাসের চিঠি।”
“চিন্তা করেও সুখ। তার জমির পাশেই থাকবে গঙ্গা, আর গঙ্গা পাড় হলেই নবদ্বীপধাম। আর কী চাই পৃথিবীতে?
… সনকা বলল—সগগে যায়েও ধান ভানবা?
‘সে-কাম তো তোমার, সুনু। আমি খানটুক জমি পাই, নিবো। সন্ন-বন্ন অস্মিতের দানা ফলবি সে জমিতে। সেখানে আমি দিব চাষ আর তুমি ভানবা ধান।’”
...সমাপ্ত...