এপারটা যেন একটা ধানক্ষেত। সেখানে একটি বিকেলে বেড়াতে আসা। এসেই কিছু মানুষ ব্যস্ত—ধান কাটে, বিক্রি করে—বাড়ি কেনে, গাড়ি। অলস সময় কাটায় কেউ—চিত্ত বিনোদনেই বিকেল শেষ।
খুব অল্প কিছু মানুষকে দেখা যায় এপার থেকে শস্য বোঝাই করে নৌকা ওপারে পাঠাতে। ‘ওপারের মানুষ আমরা’, তারা বলে, ‘এপারেতে এত সামান্য সময়ের জন্য আসা, এটুকু সময়ে যা যোগাড় করতে পারি তা দিয়ে ওপারের অনন্ত জীবন কাটবে আমাদের।’
ওপারটাই সত্য। আসল। স্থায়ী। ওপারটাই কাম্য। এই বইটাতে তাই ওপারের-ই গল্প।
জন্ম চট্টগ্রামে। শৈশব ঢাকায়, কৈশোর আবুধাবিতে। পরিণত বয়সে ভারতে এবং বিয়ের পর আবার চট্টগ্রামে ফিরে আসা। দীর্ঘদিন কানাডায় প্রবাসজীবন কাটিয়ে বর্তমানে মালয়েশিয়াতে বসবাস করছেন।
আদর্শিক, উদারপন্থি এবং জ্ঞানানুসন্ধানী পরিবারে রেশমের গুটির মতো নিরাপদ ও পরিশীলিত পরিবেশে বেড়ে ওঠা।
জীবনের পরবর্তী অংশে বন্ধুবান্ধব, পেশা, বিয়ে ইত্যাদির কারণে ব্যাপক সামাজিক সংস্পর্শে আসা। মূলত মুখচোরা বইপোকা। নানা রঙের অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে কিছু তুলে ধরার প্রয়াস এবং সমাজের নানান দিক দিয়ে চিন্তাশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্যই মাঝেমধ্যে টুকটাক লেখালিখি ।
ইংরেজিতে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করে শিক্ষকতা করলেও বিশ্বসাহিত্য ও জ্ঞানের যকোনো অঙ্গনে বিচরণে আপত্তি নেই। ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব চিটাগাং-এ শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন।
আবুধাবিস্থ ‘ইয়াং টাইমস’ ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখিকা হিসেবে লেখার হাতেখড়ি। মাঝে বহুদিন পড়াশোনায় মগ্ন থাকার পর ছাত্র-ছাত্রীদের চাপাচাপিতে আবার লেখালিখিতে ফিরে আসা।
রেহনুমা বিনতে আনিস ম্যাডামের " ওপারে" বইটি ওনার অপর বই " নট ফর সেল" থেকে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। এক কথায় অসাধারন লেগেছে। সে বাস্তব সত্য মৃত্যুকে আমরা ভুলে বসে আছি সেটির ব্যাপারে মনে চিন্তার উদ্রেক উঠানোর জন্য বাঙলা ভাষাবাসিদের জন্য এই বইটি "Must Read" ক্যাটাগরিতে আমি নিঃসন্দেহে রেখে দিতে পারি।
ওহে! তোমার মশক থেকে প্রতি মুহূর্তে চুইয়ে পড়ছে জীবনের নির্যাস। এর একেকটি ফোঁটায় তুমি প্রস্ফুটিত করতে পারতে মরুভূমিতে পুষ্পোদ্যান; পাহাড়ের বুক চিরে ছোটাতে পারতে বেগবান নদী, ওই নীলাকাশটা ভাসিয়ে দিতে পারতে সাতরঙা আলোয়! তবে এই পড়ন্ত বিকেলের হলুদাভ আলোয় চোখ মুদে কীসের ধ্যানে মগ্ন হয়ে আছ তুমি? তোমার মশকের পানি যে ফুরিয়ে এল! দিন না হয় গেলই, অন্তত গোধূলীর লগ্নটি কি তুমি রাঙিয়ে দিতে চাও না তোমার নিজের রঙে?
তারপরও মশকের পানি ফুরিয়ে যাবে, গোধূলির রং হারিয়ে যাবে, অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে এই পৃথিবীটাও। কিন্তু স্রষ্টার সামনে দাঁড়িয়ে তুমি বলতে পারবে, ‘তোমার সৃষ্টি আমি অর্থহীন প্রতিপন্ন করে আসিনি, একটি দিনের জন্য আমি জ্বলে উঠেছিলাম আপন আলোয়।'
অসাধারণ একটা বই এক কথায়। অনেক অপেক্ষা করেছি বইটা পড়ার জন্য। অবশেষে! বইয়ের নামটাই কেমন যেন মায়া জাগানো। ওপারে! প্রতিটা লেখাই যেন জীবনের চরমতম সত্য কিন্তু যাকে আমরা সবসময় এড়িয়ে চলতে চাই -সেই মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আশেপাশের প্রতিটি মৃত্যু ই যে আমাদের সবার জন্যেই এক একটা Reminder... এ মৃত্যুগুলো যেন বার বার এটাই বোঝাতে চায় 'Turn to your Lord before you return to Him' তবুও কী আমরা ফিরে আসব না?