What do you think?
Rate this book


484 pages, Hardcover
First published January 1, 2016
প্রিভিলেজ কথাটা রেহমান সোবহানের জীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে ব্যবহার করাটা যুক্তিযুক্ত, তিনি নিজেই স্বীকার করেন। উচ্চবংশীয় মা আর উচ্চপদস্থ বাবার কল্যাণে তাঁর জীবনের শুরুতেই অনেকগুলো দরজা খুলে গিয়েছিলো। নিজের মেধা দিয়ে সেগুলোর সদব্যবহার করে তিনি পৌঁছে যান কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতক শেষে লোভনীয় সুযোগগুলো দূরে ঠেলে যখন উর্দুভাষী এই যুবক অচেনা ঢাকা শহরে আসার সিদ্ধান্ত নেন, তখনই বোধহয় নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সাথে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির এক তরুণ শিক্ষক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গন্ডিতে আবদ্ধ না থেকে নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে যেভাবে সম্পৃক্ত হলেন, এই যাত্রার বর্ণনাটা খুব চিত্তাকর্ষক। সে সময়কার আমলাতন্ত্র, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আর প্রাদেশিক-কেন্দ্রীয় রাজনীতির সূক্ষ্ম বর্ণনাগুলো ইতিহাসের বিচারে বেশ দামী। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে বৈষম্যকে গবেষণালব্ধ তথ্য দিয়ে প্রমাণ করে সাধারণ মানুষদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সে প্রজন্মের অর্থনীতিবিদদের সফল প্রচেষ্টার বর্ণনা পড়লে শিহরণ হয়। ৬৬ তে ছয় দফার খসড়া প্রস্তুত, ৭০ এ নির্বাচনের ইশতেহার রচনা আর সবশেষে ৭১ এ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের দূত হয়ে বিশ্বদরবারে জোর প্রচেষ্টা- রেহমান সোবহানের বর্ণনা গিয়ে শেষ হয় সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে।
অমিতাভ সেনগুপ্তের অনুবাদ বেশ সাবলীল। তবে অনুবাদক যে বাংলাদেশি নন তার কিছু ছাপ রয়ে গেছে লেখায়, বিশেষ করে ছাত্রলীগ আর ছাত্র ইউনিয়নের জন্য লেখকের ব্যবহৃত সংক্ষিপ্তরূপ EPSL আর EPSU অনুবাদেও অবিকৃত রেখে দেওয়ায়।