Jump to ratings and reviews
Rate this book

রাজাকারের মন #1

রাজাকারের মন

Rate this book

Hardcover

2 people are currently reading
4 people want to read

About the author

Muntassir Mamoon

272 books42 followers
Muntassir Mamoon (Bangla: মুনতাসীর মামুন) is a Bangladeshi author, historian, scholar, translator and professor of University of Dhaka. He earned his M.A. and PhD degree from University of Dhaka.
Literary works

Mamoon mainly worked on the historical city of Dhaka. He wrote several books about this city, took part in movements to protect Dhaka. Among his historical works on 1971 is his Sei Sob Pakistani, in which many interviews with leading Pakistanis was published. Most of them were the leading Pakistani characters during the liberation war of Bangladesh.

জন্ম এবং পরিবার
মুনতাসীর মামুনের জন্ম ১৯৫১ সালের ২৪ মে ঢাকার ইসলামপুরে নানার বাড়িতে। তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার গুলবাহার গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মিসবাহউদ্দিন এবং মায়ের নাম জাহানারা খান। পিতামাতার তিন পুত্রের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। তিনি ১৯৭৫ সালে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী ফাতেমা মামুন একজন ব্যাংকার। মুনতাসির মামুনের দুই ছেলে মিসবাহউদ্দিন মুনতাসীর ও নাবীল মুনতাসীর এবং কন্যা রয়া মুনতাসীর।

কর্মজীবন
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই দৈনিক বাংলা/বিচিত্রায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন মুনতাসীর মামুন। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপক পদে কর্মরত আছেন। এর পাশাপাশি ঢাকা শহরের অতীত ইতিহাস নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন। এছাড়া তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ গবেষণা ইন্সটিটিউটে' সন্মানিক প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে ১৯৯৯-২০০২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কৈশর থেকে লেখালেখির সাথে জড়িত হয়ে ১৯৬৩ সালে পাকিস্তানে বাংলা ভাষায় সেরা শিশু লেখক হিসেবে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার পর অনুবাদ, চিত্র সমালোচনা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রচনা করেন অনেক বই। তাঁর লেখালেখি ও গবেষনার বিষয় উনিশ, বিশ ও একুশ শতকের পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশ ও ঢাকা শহর।

সাংগঠনিক কর্মকান্ড
স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ডাকসুর প্রথম নির্বাচনে মুনতাসীর মামুন ছিলেন সম্পাদক। একই সময়ে তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি। ডাকসুর মুখপত্র "ছাত্রবার্তা" প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদনায়। তিনি বাংলাদেশ লেখক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও যথাক্রমে প্রথম যুগ্ম আহ্ববায়ক ও যুগ্ম সম্পাদক। তিনি জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী এবং জাতীয় আর্কাইভসের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। ঢাকা নগর জাদুঘরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ঢাকার ইতিহাস চর্চার জ্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন সেন্টার ফর ঢাকা ষ্টাডিজ (ঢাকা চর্চা কেন্দ্র)। এ কেন্দ্র থেকে ঢাকা ওপর ধারাবাহিক ভাবে ১২টি গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি বাংলা একাডেমীর একজন ফেলো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিনেটের নির্বাচিত সদস্য হয়েছেন কয়েকবার। '৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির তিনি একজন প্রতিষ্ঠাতা ও সক্রিয় সদস্য। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ফাতেমা মামুন প্রতিষ্ঠা করেছেন মুনতাসীর মামুন-ফাতেমা মামুন ট্রাস্ট। এ ট্রাস্ট গরিব শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের নিয়মিত সাহায্য করছে।

সাহিত্য কর্ম
মুনতাসীর মামুনের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২২০+। গল্প, কিশোর সাহিত্য, প্রবন্ধ, গবেষনা, চিত্র সমালোচনা, অনুবাদ সাহিত্যের প্রায় সব ক্ষেত্রেই মুনতাসীর মামুনের বিচরণ থাকলেও ইতিহাসই তার প্রধান কর্মক্ষেত্র। ।


পুরস্কার
বাংলা একাডেমী পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, সিটি আনন্দ আলো পুরস্কার, একুশে পদক, নূরুল কাদের ফাউন্ডেশন পুরস্কার, হাকিম হাবিবুর রহমান ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক পুরস্কার, ইতিহাস পরিষদ পুরস্কা, অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, অলক্ত স্বর্ণপদক পুরস্কার, ডঃ হিলালী স্বর্ণপদক, প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৩), মার্কেন্টাইল ব্যাংক স্বর্ণপদক, এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অর্লিয়েন্স শহর তাঁকে 'অনারেবল ইন্টারন্যাশনাল অনারারী সিটিজেনশিপ' প্রদান করে।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (50%)
4 stars
0 (0%)
3 stars
1 (50%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 of 1 review
Profile Image for Ahsan uz zaman.
20 reviews5 followers
February 5, 2025
স্বীকার করতে দোষ নেই, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ আর এর পরবর্তী ইতিহাস সম্পর্কে শুধু মোটা দাগের ধারণা রাখতাম, আগ্রহ থাকলেও কখনো বিশদভাবে জানার প্রয়োজন বোধ করিনি। ভেবেছিলাম স্বাধীনতা পর্যন্ত ইতিহাস একটি মীমাংসিত বিষয়, ১৯৭১ এর আগে যাই ঘটুক, ৭১ এর পর থেকে সবাই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী, সুতরাং বর্তমানের দিকে নজর রাখাই যথেষ্ট।

স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পার করে আমার এই ভুল ধারণা ভেঙে গেলো।

আমি একা নই, আমার সমসাময়িক আরো অনেকেই স্বাধীনতার সংগ্রামকে সুদূর অতীত ভেবে, মীমাংসিত ধরে নিয়ে বর্তমান সমস্যা সমাধানের দিকেই নজর দিয়েছে, অতীত নিয়ে মোটা দাগের ধারণা অর্জনের চেয়ে বেশি কিছু করার প্রয়োজন বোধ করে নি। কিন্তু এতদিন পরে এসে আমার বোধোদয় হলেও তাদের অনেকের ই হয় নি, কারণ তাদের অনেকেই এখনো বর্তমানের সমস্যার সাথে অতীতের যোগসূত্র খুঁজে পায় নি।

কী সেই সমস্যা?

পাকিস্তান জন্মের পর ২০ বছরের ও বেশি সময় ধরে বাঙালিরা তীব্র রাজনৈতিক আর সাংস্কৃতিক আন্দোলন করলো। নির্বাচনে জিতলো। পশ্চিম পাকিস্তানীরা নির্বাচনের ফলাফল না মেনে চালালো গণহত্যা। নয় মাস ব্যাপী তীব্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর জন্ম হলো নতুন দেশের। স্বাধীন দেশের সংবিধানের প্রথম পাতাতেই লেখা হলোঃ

"আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খৃস্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের (সংশোধিত পাঠ) মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি।"

অথচ স্বাধীনতার মীমাংসা হয়ে যাওয়ার ৫০ বছর পরও এ দেশে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি এখনো বিদ্যমান, প্রবল প্রতাপে। দিন দিন যেন এই মানসিকতার মানুষের সংখ্যা আরো বেড়েই চলেছে। এমনকি সরকার ও গঠন করে ফেলেছে! ভাবা যায়? এক সময় যারা বাংলাদেশের জন্ম হওয়া ঠেকানোর জন্য সক্রিয় ভাবে কাজ করেছে, মানুষ হত্যা করেছে তারা বাংলাদেশের চালকের আসনেও পৌঁছে গিয়েছে!

কোন রাজনৈতিক দল ই এই দায় এড়াতে পারেনা।

বইয়ের মূল আলোচ্য বিষয় অবশ্য রাজনৈতিক দলের দায় খোঁজা নয়। এখানে উত্তর খোঁজা হয়েছে স্বাধীনতার পরও কেন স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি এখনো শক্তিশালী, কেন এরা মনে মনে বাংলাদেশের স্বাধীন হয়ে যাওয়াকে ঘৃণা করে এবং কেনই বা এদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিভাবে এত বছর পরও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দেশের মানুষের মনোজগতে আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে?

প্রথমেই আসি স্বাধীনতা বিরোধী চিন্তা বলতে আসলে কী বোঝায়?

স্বাধীনতা বিরোধী চিন্তাকে যদি সংক্ষেপে এক নামে ডাকি তা হচ্ছে 'পাকিস্তান আদর্শ'।

পাকিস্তান আদর্শ টা আবার কী?

একটু পিছন থেকে শুরু করি।

দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে উপমহাদেশ ভাগের আগে মুসলমানদের অবস্থা হিন্দুদের তুলনায় যথেষ্ট দুর্বল ছিল। বেশিরভাগ সুযোগ সুবিধার অধিকারী ছিল হিন্দুরা, মুসলমানরা অনেকাংশেই বঞ্চিত। পাকিস্তান জন্মের পর মুসলমানরা সম্পদ গড়ার সুবিধা পায়। বাঙালিরাও সুযোগ পাবে ভেবেছিল কিন্তু তারা দেখতে পেল ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে মাত্র, পশ্চিম পাকিস্তানিরা সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য ধরে রেখে বাঙালিদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। যে মুসলিম জাতীয়তাবাদের সমর্থনে পাকিস্তানের জন্ম সেখানে থেকে বাঙালিরা সরে যায়, জন্ম হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদের।

বেশির ভাগ মানুষ ই সরে গেলেও সবাই অবশ্য যায় নি। তাদের কথায় একটু পর আসছি।

এদিকে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী মুসলিম জাতীয়তাবাদের ধারক হিসেবে ইসলামকে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছিল।

পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী অর্থ ও ক্ষমতার কেন্দ্র হাতছাড়া করতে নারাজ। কিন্তু মুখে তো আর এসব বলা যায় না, তাই তারা নিজেদের দ্বিজাতিতত্ত্বের সমর্থক হিসেবে উপমহাদেশে ইসলামের রক্ষাকর্তা বলে প্রচার করতে লাগলো। উদ্দেশ্য ও সমীকরণ সহজঃ শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মানেই ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। আর ইসলাম বিরোধীতা মানেই ভারত সমর্থক। ইসলামের প্রতীক পাকিস্তান, হিন্দুত্বের প্রতীক ভারত। সুতরাং পাকিস্তানী শাসকের বিরোধীতার মানে হচ্ছে হিন্দুত্বের সমর্থন, ভারতের দালালি। পরে যখন সামরিক শাসন ধীরে ধীরে পাকিস্তানে জেঁকে বসতে লাগলো তখন রাজনীতিতে পাকিস্তানের সামরিক কালচারের উপাদানগুলোও যুক্ত হতে লাগলো - সামরিক বাহিনী ইসলামি রাষ্ট্রের অন্যতম রক্ষাকর্তা, ইসলামি পাকিস্তানের শত্রু হিন্দু ভারত আর রাজনীতিকে দুর্বল করার অংশ হিসেবে ছড়াতে লাগলো সামরিক বাহিনী সৎ, রাজনীতিবিদরা অসৎ। (বয়ান পরিচিত মনে হচ্ছে?)

বহু বাঙালি তাঁবেদাররাও এর সমর্থন দিত। কারা এরা? মুসলিম লীগ আর জামায়াত এর মাঝে উল্লেখযোগ্য - এরা ধর্মের মোড়কে রাজনীতি করে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বৈধতা দিত কারন তাদের ক্ষমতা ও সুবিধার অংশীদার ছিল এসব দল, প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শাসকগোষ্ঠীর পছন্দের হাতিয়ার।

এই ছিল তখনকার পাকিস্তান। এই পাকিস্তান আদর্শ ছিল (এখনো আছে) সম্পদ অল্প কিছু গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত করে রাখার জন্য রাজনীতিকে দুর্বল করে জনগণের শক্তিকে দুর্বল করা, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আমলাতন্ত্র আর সামরিক বাহিনীর শক্তির আশ্রয় নেয়া আর নৈতিক বৈধতার জন্য ধর্মের মোড়কে দেশ শাসন করা, যাতে করে কেউ বিরোধীতা করলে তার বিরুদ্ধে নিরন্তর মিথ্যাচার করে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে ভারতীয় আর হিন্দুত্বের দালাল তকমা দিয়ে গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে ফেলা যায়, কেউ যাতে হুমকি না হয়ে উঠতে পারে। এভাবে পরিচালিত দেশ আদতে পঙ্গু, দেশের সুস্থ বিকাশ ঘটতে পারে না, অর্থনৈতিক সক্ষমতাও অর্জন করতে পারে না। যতটুকু সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হয় তাও আবার অবসরপ্রাপ্ত আমলা-সামরিক কর্মকর্তাদের কব্জায়, ব্যবসায়ীরা সেখানে একটা আলাদা গোষ্ঠী, সরকার জনগণের চেয়ে তাদের সুবিধা দেখতেই আগ্রহী বেশি। অর্থের জোগানের জন্য এরা দেশের সক্ষমতা না বাড়িয়ে দেশকে সাহায্য নির্ভর করে রাখে এবং দেখাতে চায় যে তাদের ছাড়া সাহায্য আনা অসম্ভব, তাই তারা অপরিহার্য। সাহায্য পেতে গেলে পরাশক্তির গোলামি করতেও দ্বিধাবোধ করে না, ভাড়াটে মাস্তান হিসেবে খাটতেও আপত্তি করে না। বিশ্বাস না হলে পাকিস্তানকে লক্ষ্য করুন ভালো করে।

বলতে পারেন, এতদিন পরে তো আর পাকিস্তানের সাথে মিলে যাওয়া সম্ভব নয়। তো এই আদর্শ ধরে রাখার ফায়দা কোথায়?

পাকিস্তান আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য পাকিস্তানের সাথে মিলে যাওয়াটা আবশ্যক নয়। পাকিস্তানের সাথে মিলে যাওয়া সম্ভব না হলেও পাকিস্তান আদর্শ অত্যন্ত লোভনীয় বিষয়। অর্থ ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার এই খেলা খেলার জন্য রাজনীতিকে গণমানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করা অত্যন্ত জরুরী। তার জন্য প্রয়োজন নিরন্তর মিথ্যাচার দিয়ে মানুষের মনোজগত দখল করা।

এই ফাঁদ থেকে বেঁচে থাকতে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি রাজাকারের মন বোঝা অতীব প্রয়োজন। কেননা রাজাকারেরা আজও সক্রিয় এবং একই ধারায় কাজ করে চলেছে। মুক্তির সংগ্রাম আজ সুদূর অতীত হওয়ায় আমরা ভুল���ই গিয়েছি কীসের জন্য ছিল এই সংগ্রাম। এই কাজটিই করেছেন মুনতাসীর মামুন তার বইয়ে। কিন্তু কিভাবে? রাজাকার বা স্বাধীনতাবিরোধীরা তো প্রকাশ্যে তাদের উদ্দেশ্য স্বীকার করে না, কোথাও লিখেও রাখে নি তাদের কার্যপদ্ধতি, তাহলে এসব জানার বা বোঝার উপায় ই বা কী?

স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিদের একটি নির্দিষ্ট এজেন্ডা আছে, ওদের মনোভাব একই ধাঁচের, ওরা সর্বদা একই লক্ষ্যে কাজ করে। সেটা বের করে আনার জন্য লেখক বারোজন রাজাকার ও স্বাধীনতা বিরোধীদের লেখা জীবনী নিয়ে আলোচনা করেছেন। বইগুলোর মূল বিষয় তারা বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে কিভাবে দেখছে, তাদের কাজকর্মের সাফাই বিশেষ করে একাত্তরে। প্রত্যেকের বয়ানের মাঝেই এক্কটা কমন প্যাটার্ন আছে, লেখক এই প্যাটার্নগুলোই সামনে নিয়ে এসেছেন। এই প্যাটার্ন গুলোই রাজাকারের মন, বইটি শেষ করে আশে পাশে খেয়াল করলেই টের পাবেন, এদের অস্তিত্ব এখনো শক্তিশালী।

প্যাটার্নগুলোর ছোট্ট ছোট্ট উদাহরণ তুলে ধরি কয়েকটাঃ

"ইন্ডিয়ান আর্মি এই দেশকে যুদ্ধে পরাজিত করে আনুষ্ঠানিকভাবে এটা দখল করতে আসছিলো। এর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানবাসীদের বা যারা এখন নিজেদের বাঙালী বলতে শুরু করেছিলো তাদের গৌরবের কি থাকতে পারে ? এরা ইচ্ছা করে একটা বিদেশী শক্তির কাছে দেশকে তুলে দিতে যাচ্ছিলো এবং এর নাম দিয়েছিলো স্বাধীনতা।" ~~~সাজ্জাদ হোসায়েন

“বাস্তবিক পক্ষে মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ন'মাসে ক'জন নিহত হয় তার কোনো জরিপ হয়নি। একদিকে যেমন বলা হলো যে পাকিস্তান আর্মি ৩০ লক্ষ বাঙালীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, অন্যদিকে শেখ মুজিব ঘোষণা করেন যে ৩ লক্ষ নারীর ইজ্জতও তারা নষ্ট করেছে। এবং প্রথম প্রথম এসব নির্যাতিত মেয়েদের পুনর্বাসন এবং বিবাহের ব্যবস্থা করা হবে এ আশ্বাস দেওয়া হয়। এসব বীরাঙ্গনাকে গ্রহণ করতে তরুণরা যাতে ইতস্ততঃ না করে সে পরামর্শ তারা পেয়েছিল । এক পর্যায়ে এদের জন্য ঢাকায় এক আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। তখন শুনেছি শত খোঁজখবর করেও এ রকম বীরাঙ্গনার সন্ধান পাওয়া যায়নি I দেশের বিভিন্ন পতিতালয় থেকে দু'একজন মেয়েকে এখানে হাজির করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত যখন দেখা গেলো যে এ রকম বীরাঙ্গনার সংখ্যা একশতেও উঠছে না তখন চুপচাপ করে এ প্রকল্প পরিত্যাগ করা হয়। এ সম্বন্ধে আর কোনো উচ্চবাচ্য শুনিনি। তবে শেখ মুজিবের আমলে যেমন এখনও তেমন পঁচিশে মার্চ বা ১৬ই ডিসেম্বর সম্পর্কিত অনুষ্ঠানে তিন লক্ষ মা বোনের নির্যাতনের উল্লেখ থাকে।" ~~~সাজ্জাদ হোসায়েন

"সাজ্জাদ, জেনারেল নিয়াজির মতো হানাদার বাহিনীর সেনাপতিদের প্রশংসা করেছেন। তাদের 'দৃঢ়তা' তাঁকে মুগ্ধ করেছে। রাজাকারদের অধিকাংশ ছিল মাদ্রাসার ছাত্র। এদের তিনি প্রশংসা করেছেন। মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রশংসা করেছেন। লক্ষণীয় যে, তিনি নিজে কিন্তু মাদ্রাসা ত্যাগ করেছিলেন এবং নিজ সন্তানদের মাদ্রাসায় পড়াননি। একজন রাজাকার তাঁকে জানিয়েছিল, ১৯৭১ সালে সে আগরতলা গিয়েছিল ছদ্মবেশে এবং নিজের চোখে দেখেছে কীভাবে দাড়িওলা মুসলমানদের পাকিস্তানের সমব্যথী মনে করে ধরে এনে কালীর সামনে বলি দেয়া হতো। এ অভিজ্ঞতা সে রাজাকারের মন আরো ইস্পাতদৃঢ় করে তুলেছিল, পূর্ব পাকিস্তানকে যারা দখল করেছে তাদের থেকে মুক্ত করতে।"

“তাই বলেছিলাম বাংলাদেশের মাটি ধর্মের জন্য; অধর্মের জন্য নয়। ধর্মের বীজ বপন এ দেশে যত সহজ অন্য মতবাদের বীজ তত সহজ নয়। বুদ্ধিজীবীদের মাথা ওয়াশ হলে এ দেশের সাধারণ মানুষকে ইসলামী আন্দোলনের জন্য, আল্লার দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য মরণপাগল করে তোলা দুরূহ কিছু নয়।” তা হলে দেখা যাচ্ছে, বুদ্ধিজীবীরাই সবকিছুর প্রতিবন্ধক । এবং এ কারণেই খালেক মজুমদাররা বুদ্ধিজীবীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে দেশ বুদ্ধিজীবীশূন্য করে দিতে চেয়েছে ।

“হযরত মোহাম্মদ (সঃ)কে শত্রুর হাত থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য করতে হয়েছে গুহায় আত্মগোপন । যথোচিত আত্মগোপনে আছে বীরত্ব ও মহত্ত্ব আত্মসমর্পণে আছে কাপুরুষতা আর আত্মহত্যায় আছে ঘৃণ্য মানসিকতা। অতএব আল্লাহকে স্মরণ করে আপাতত হারিয়ে যাও।” আয়েন উদ-দীন তো কাপুরুষ নন সুতরাং তিনি হারিয়ে যেতে চাইলেন । সোজা বাংলায একজন রাজাকার ১৬ ডিসেম্বরের পর জানের ভয়ে পালাচ্ছিল। সেটিই স্বাভাবিক। কিন্তু বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে, যুক্তি দিয়ে আয়েন উদ-দীন বোঝাতে চেয়েছেন পৃথিবীর মহামানবরা বিশেষ বিশেষ সময়ে পালিয়েছিলেন। তাদের অনুসরণ করেই তিনি পালালেন।

"আওয়ামী লীগ বিহারীদের ওপর 'বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড' ঘটিয়েছে। গণউত্তেজনা সৃষ্টি করে শত শত ইপিআর, সেনাবাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গকে ছাগলের মতো হত্যা করা হয়েছে। এর পরও সশস্ত্র বাহিনী তাদের হত্যাকারীকে চুমু খাবে? এমনটি হবে না জেনেই আওয়ামী লীগ ইচ্ছা করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। তারা চেয়েছিল সেনাবাহিনী জনগণকে অত্যাচার করুক। তাহলে তারা হিন্দুস্তানে যেতে বাধ্য হবে। এই দুর্বলতার সুযোগে তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে অস্ত্র ।”~~~আমিনুল

“একাত্তরের যুদ্ধকালীন সময়ের কোন হিন্দুর বাংলাদেশে থাকার কথা নয় । অথচ তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুসলমানদের ছদ্মাবরণে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন । কালামে পাকের অনেক সূরা অর্থসহ তাঁর জানা । নামাজের নিয়ম- পদ্ধতি ছিল তাঁর নখদর্পণে। একাত্তরে তিনি বিভিন্ন মসজিদে নামাজ পড়িয়েছেন । এমনকি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট মসজিদে ইমামতি করেছেন বলেও তিনি আমাকে জানান। পাকিস্তান ভেঙ্গে যাওয়ার অনেক আগে থেকে তিনি হিন্দুস্তানের সপক্ষে গোয়েন্দাবৃত্তিতে নিয়োজিত থেকে ‘লরেন্স অব এরাবিয়ার' মতো বাংলাদেশের মুসলমানদের মগজে ঘুণ ধরিয়েছেন। ভাল মানুষগুলোকে পাকিস্তানের শত্রু চিহ্নিত করে হত্যা করিয়েছেন। এ দেশের তথ্য হিন্দুস্তানে পাচার করেছেন। তার মুসলিমবিদ্বেষী জঘন্য মনোবৃত্তির প্রকাশ আমরা দেখেছি কারাগারের অভ্যন্তরেও। এখানে মুসলমান অবুঝ তরুণদেরকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।"~~~আমিনুল

"রাজনীতি থেকে দেশ এবার পার্লামেন্টের রাজনীতির মুখে এসে থমকে দাঁড়াল । নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটাধিক্যের অধিকারী হয়ে নিজের মর্যাদা ও স্থান সম্পর্কে নিশ্চিত থেকে গণপরিষদের অধিবেশনের দিনটির জন্য ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা না করে ৬ দফার উপর আপোষ নেই এই মর্মে হুমকি ছাড়লেন শেখ সাহেব । দুনিয়ার কোন দেশের সামরিক বাহিনী এরূপ অবস্থায় চুপ থাকতে পারে না। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে অরাজকতা গোটা প্রদেশকেই ছেয়ে ফেলে।"~~~সা'দ আহমেদ

“বিবদমান পক্ষ ছিল দু'টি- আওয়ামী লীগ ও সামরিক সরকার । উভয় পক্ষের ভুল-ত্রুটিতে যে বর্ণনাহীন সমসার উদ্ভব হলো। তার অন্তত মানবীয় দিকটার প্রতি দৃষ্টিপাত করা অন্যান্য দলগুলির জন্য রাজনীতির উর্ধে একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসাবে দেখা দিল । বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত লাশগুলোর সৎকার করা, গৃহহীনদের মাথা গুজবার ঠাঁই করে দেওয়া, সর্বহারাদের এক মুঠো অন্নের ব্যবস্থা করা, ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া, মানুষের ঘরে ফিরে আসবার ব্যবস্থা ইত্যাদি অত্যন্ত জরুরী কাজ বলে মনে হলো। এইসব কাজের সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িত ছিল। তাই মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে নিরাপত্তার আশ্বাস লাভ করাই ছিল একমাত্র পথ । এই বিশেষ প্রয়োজনেই গড়ে উঠল শান্তি কমিটি । অরাজনৈতিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে। সামরিক সরকারের স্বার্থ নয় বরং জনসাধারণের স্বার্থেই দ্রুত স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে নিয়ে আসার প্রয়োজন ছিল । শান্তি কমিটির উপরোক্ত কাজগুলো একদিকে দুর্দশাগ্রস্থ জনসাধারণের কষ্ট��ে লাঘব করেছ, স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সহায়তা করেছে—অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর রোষানলের তীব্রতাকে কমিয়ে দিয়েছে।”~~~সা'দ আহমেদ

"মহা বাংলাদেশ কায়েমই ভারতীয় বাঙ্গালীদের বাঁচার উপায়-

তবে এখনও উপায় আছে আমরা যেমন পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন হয়েছি তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশের আশেপাশে যত বাংলা ভাষাভাষী ক্ষুদ্র রাজ্য আছে যেমন পশ্চিমবঙ্গ, সাবেক কুচবিহার, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে যে সব বাংলা ভাষাভাষী সকলে মিলে ভারত থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন বাংলাদেশের সাথে একত্রে মিলেমিশে এক অখণ্ড ও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধশালী মহা বাংলাদেশ গঠন করা যায়। আবারও দুনিয়ার বুকে সকল বাংলাভাষাভাষীদের নিয়ে এক মহাজাতি আসলে সুপ্রতিষ্ঠ করা যায়। যদি হিন্দু মুসলিম ও বৃটিশ আমলের সকল ধর্মাবলীরা (হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান) একত্রে সুখে দুখে এক বাংলাদেশের মাটিতে বসবাস করতে পারে তবে আজও পারবে।"

তার পরই আবার বলছেন "আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় পশ্চিম বাংলার ভাইবোনেরা আমাদের যে সর্বতোরকম সাহায্য করেছেন, প্রায় ১কোটির মত উদ্বাস্তু বাঙ্গালীদের খাদ্য বাসস্থান সহ সার্বিক সাহায্য করেছিলেন তা আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করছি। আজ যদি সীমান্তের ওপারের বাংলা ভাষাভাষী ভাইবোনদের প্রয়োজন হয় তবে বাংলাদেশ ততোধিক যথা সর্বস্ব দিয়ে বাঙ্গালীদের কাছে এ দেশের ঋণ পরিশোধের আপ্রাণ চেষ্টা করতে এতটুকু কুণ্ঠিত হবে না।"~~~মোহাম্মদ আফসারউদ্দিন

আল-বদররা ছিল ডেথ স্কোয়াড। রাজাকার বাহিনীর পরপরই এটি গঠিত হয়। আল-বদর বাহিনীকে অস্ত্রশস্ত্র ও অন্যান্য উপকরণ হানাদার বাহিনীই যুগিয়েছে। রাও ফরমান আলির নোটে আল-বদরদের উল্লেখ আছে। আল-বদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন বর্তমান জামায়াত ইসলামের নেতা মতিউর রহমান নিজামী। ৭ নভেম্বর ১৯৭১ সালে তারা ‘আল-বদর দিবস' পালন করে। ১৪ নভেম্বর ১৯৭১ সালে নিজামী দৈনিক সংগ্রাম'-এ আলবদর বাহিনী সম্পর্কে লেখেন—

“...আমাদের পরম সৌভাগ্যই বলতে হবে। পাকসেনার সহযোগিতায় এদেশের ইসলাম প্রিয় তরুণ ছাত্র সমাজ বদর যুদ্ধের স্মৃতিকে সামনে রেখে আল-বদর বাহিনী গঠন করেছে। বদর যুদ্ধে মুসলিম যোদ্ধাদের সংখ্যা ছিল তিন শত তের। এই স্মৃতিকে অবলম্বন করে তিন শত তের জন যুবকের সমন্বয়ে এক একটি ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বদর যোদ্ধাদের সেইসব গুণাবলীর কথা আমরা আলোচনা করেছি, আল-বদরের তরুণ মুজাহিদদের মধ্যে ইনশাআল্লাহ, সেই সর্বগুণাবলী আমরা দেখতে পাব।”

ভাবুন একবার, ডেথ স্কোয়াডের কাজকে জায়েজ করতে এরা মুসলমানদের ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধকে পর্যন্ত টেনে এনেছে, ধর্ম এদের কাছে মানুষকে বিভ্রান্ত করার হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই না।

এই বইটা টেক্সট বুক হওয়া দরকার ছিল। অবশ্য পাঠ্য।
Displaying 1 of 1 review

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.